Skip to main content

Posts

দেশের প্রথম মহিলা চিকিৎসক কাদম্বিনী গাঙ্গুলী ।। বিপ্লব গোস্বামী

কাদম্বিনী গাঙ্গুলী ছিলেন দেশের প্রথম মহিলা চিকিৎসক।উনবিংশ শতকের  ভারতীয় রক্ষণশীল সমাজের গোঁড়ামিকে তোয়াক্কা না করে  চিকিৎসা শাস্ত্রে শিক্ষিত হয়ে নিজেকে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম মহিলা চিকিৎসক হিসেবে  প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি। তিনি যে শুধু  দেশের প্রথম মহিলা চিকিৎসক তা নয়।তিনি ছিলেন দেশের প্রথম মহিলা স্নাতক ডিগ্রী অর্জনকারী দুজনের মধ‍্যে একজন।         কাদম্বিনী গাঙ্গুলীর জন্ম ১৮৬১ সালে বিহারের ভাগলপুরে।তাঁর পৈর্তৃক বাসস্থান বর্তমান বাংলাদেশের বরিশালের চাঁদসি গ্ৰামে।তাঁর পিতা ব্রজকিশোর বসু ছিলেন পেশায় একজন শিক্ষক।তিনি বিহারের ভাগলপুর  বিদ‍্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন।তিনি চাকুরী সূত্রে ভাগলপুরে থাকতেন।সেখানেই কাদম্বিনীর জন্ম।          কাদম্বিনীর বাবা ব্রজকিশোর ছিলেন নারীশিক্ষা আন্দোলনের সমর্থক।তিনি ও অভয়চরণ মল্লিক ভাগলপুরে মহিলাদের অধিকারের জন‍্য আন্দোলন করেছেন।তারা ভগলপুরে নারীদের অধিকার আদায়ের জন‍্য মহিলা সমিতি স্থাপন করেছিলেন।তিনি চেয়েছিলেন নিজের মেয়েকে পড়িয়ে উচ্ছ শিক্ষায় শিক্ষিত করবেন ।এই স্বপ্ন নিয়ে তিনি কাদম্...

কবিতা ।। চাইছি তোমায় স্বাধীনতা ।। মহুয়া বসু সিনহা

অকাল রক্তস্রোতের শুকিয়ে  যাওয়া  দাগ বুকে, পত্পত্ করে উড়ছে একটি  স্বাধীন  পতাকা । তবুও, লঙ্কাক্ষেতের জ্বালাধরা দুটো হাত চকখড়ির স্বপ্ন  হাতড়ায়, ইঁটভাটার  পিচ্ছিল  কাদায় অলিখিত  রয়ে যায় গোল্লাছুটের স্বাধীনতা । পুরুষালি  রঙীন ঠোঁটদুটোর আকাশ  ছড়ানো  রামধনু ইচ্ছে ;ঘরের আয়না-গারদে বন্দী। সহবাস বন্দী রমণীয় শরীরে লেখা হয় না, "না"এর প্রতিশ্রুতি। নরখাদকের খাবলে নগ্ন ক্ষতগুলো আজও খুঁজে ফেরে দ্রৌপদীর বস্ত্র। হাতের নিঃসঙ্গ শিরা উপশিরায় ;একটু উষ্ণতার খোঁজ । কোন  এক স্বাধীন  দেশে গরাদবন্দী শব্দেরা, আজও তোমায় খুঁজে ফেরে "স্বাধীনতা ।"

কবিতা || অধীনতামূলক || জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়

পরাধীনতার সংজ্ঞা লেখার জন্য করোনাদগ্ধ শিশুমুখ দেখি ভেসে ওঠে জলবন্দি মানুষের অসহায় জীবন বেহুলার ভেলা রাস্তায় পা দিলেই ওরা বলে, এ তোমার নয়, সাবধান! খাঁচার পাখির কাছে শিখেছি স্বাধীনতার মানে আকাশ মানে মুক্তি বাতাস মানে সম্পদ সবুজ মানে প্রাণ জল মানে উদারতা আগুন মানে উদাত্ত বিবেক পাখি হতে চেয়ে শিখি ভাষার কৌশল ওরা বলে স্বপ্ন দেখা বারণ তবু মন মানে না স্বাধীনতার স্বপ্নে অজস্র ফাঁকি ফায়ারিং স্কোয়াডের ঝাঁঝরা দেহ খেরোর খাতার রক্ষাকবচ যাদের স্বেচ্ছাচারের লাইসেন্স দেয় সেইসব রাক্ষসের খিদে এখনো তো লুটে চলে খাদ্য জল সঞ্জীবনী সুখ অধীনতামূলক মিত্রতার কূটনীতি অজস্র ক্রীতদাস তৈরির কারখানা অনুমতি ছাড়া শ্বাস কাশ নিদ্রা মৈথুন সব বন্দি কিছু ধারার শিকলে দুশ্ছেদ্য শিকল ================= জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় গোপেশ্বরপল্লি,বিষ্ণুপুর,বাঁকুড়া - ৭২২১২২ কথা : ৭০০১৪৫৬৭২১/৯৭৩২২৩৭৬০৮ ই-মেইল : chattopadhyayjayanta59@gmail.com  

অধিনায়ক হে... ।। জগবন্ধু হালদার

  আজব হুন্ডি কোনো অদৃশ্য ইশারায় টিকি ধরে টেনে লাইনে ফ্যালে রোজ দুর্যোগে টাল সামলানো দায় কে রাখে হেরো দেইজির খোঁজ । প্রতিবেশী হাঁকে, হাসেও সঠিক মাপে লাগাম, লাটাই হাতে মাতব্বর ঘোরে দুয়ারে রেশন অঢেল সুখ-এক লাফে , স্বার্থক স্বাধীনতা -- পঁচাত্তরে ! ঋণ বাড়ে, সাঁঙোড় যাচ্ছে ডুবে জানি  খিদে আর জেদে অহর্নিশ ঘেমে তড়পা ধরেই তবু প্রাণপণ টানি নইলে গোহারা এই হুড়োহুড়ি গেমে । জীবন দু'বেলা পোড়া লঙ্কা দিয়ে মেড়ে কালের নামতা শেখায় অনটনে ঠুকে তবু  ত্যালতেলে বাঁকা পথ ছেড়ে  পা রাখি সোজা, মেটে রাস্তার বুকে । পেশির পাওয়ারে পিলে নিত্য চমকায়, দেশের গব্বে তবু মাটি মেখে দেহে হাভাতের পাল পাঁজরা চেপে গায়-- জনগণমন অধিনায়ক হে ।। ------------------ 

কবিতা ।। স্বাধীনতার স্বাদ ।। নীলমাধব প্রামাণিক

  স্বাধীনতা কে কতোটা পাবেন ভাগে তার ঠিক করে দেন উদাত্ত সরকার । ঠিক করে দেন স্বাধীনতার মানে তবুও আগস্ট উন্মাদনা জাগায় মনে প্রাণে । উদযাপনের কুচকাওয়াজে যখন মাতে দেশ অনেক যাপন ছন্দ হারায় অবদান বিদ্বেষ । জনমনে দেশাত্মবোধ চাগাড় দিয়ে ওঠে স্বাধীনতার মাপকাঠিতে স্বেচ্ছাচারি ছোটে । সবাই কি পায় স্বাধীনতার স্বাদ এ মুলুকের অনেকে যায় তালিকা থেকে বাদ । যদিও স্বাধীন ভেবেই খুঁজি স্বাধীনতার সুখ লম্বা লাইন দাঁড়িয়ে আছে বিষন্নতার মুখ । উপনিবেশিক মনন ছেয়ে রয়েছে চারপাশে স্বাধীনতা ধাক্কা খেয়ে হাসে । তাদের লোলুপ হাতের নিপুণ কারুকাজ দেখছে চেয়ে বিপন্ন সমাজ ।   =======০০০======   নীলমাধব প্রামাণিক মাধবনগর, ডাক -পূর্ব চাঁদপুর, মন্দির বাজার দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, পিন -743336 পশ্চিমবঙ্গ, ভারত মোবাইল +হোয়াটসআপ -8345992776  

কবিতা ।। বীরাঙ্গনা ।। সোমা চক্রবর্তী

  যুদ্ধের ডাক এসেছিল। রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতার শিকল টেনে নিয়ে গেছে তোমাকে। আমি আছি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে বহুদূরে ধানের ক্ষেতের পাশে, জোনাক-জ্বলা রাতে টিমটিমে প্রদীপ জ্বলা এক স্তব্ধ জনপদে। তোমার মা এখানে খোলা উঠোনে বসে আকাশ আর বাতাস জুড়ে  তার অনুভূতির চাদর বিছিয়ে দেয়। মাঝে মাঝে বলে- " ও বৌমা, কেন যুদ্ধ করে ওরা?" এখানে যুদ্ধের দামামা এসে পৌঁছায় না। বাতাসে পোড়া বারুদের ভারী গন্ধ নেই। এখানকার বাতাস জুড়ে ভাত সেদ্ধ হবার গন্ধ। আর গভীর রাতে দমকা হাওয়ায় হয়তো বা বেলফুলের গন্ধ অথবা হাস্নুহানা... সেই যখন এমনই কোনো গভীর রাতে তুমি আমার চুলে সাজিয়ে দিতে গোলাপ! সুরভিত স্বপ্নের মাধুরীর ভিতর আমি অনুভব করতাম ইন্দ্রিয়াতীত আকিঞ্চন তোমার! আজও তেমনি আকিঞ্চনের রাত! তেমনি আমার বুকের মধ্যে.... তুমি নয়। তোমার শৈশব। তোমার স্বপ্ন... আমার হৃদয় জুড়ে। সে তার ছোট ছোট মুঠিতে চেপে ধরে আমার আঁচল। আমার বুকের থেকে সে টেনে নেয় মমতা। আমার কোলে একরাশ জুঁইফুলে গড়া যেন তোমার স্বপ্ন। তার ঠাকুমা বলে, সে তোমার মতো। আর কাকা বলে, "কক্ষনো নয়, আমার মতো।" আর আমার 'তুলসীমালা' সই- সে চুপি চুপি...

আমার চোখে স্বাধীনতা দিবস ।। দীপঙ্কর বেরা

অন্য দিনের তুলনায় এই দিনে আমি একটা নিজস্ব মাত্রা পাই। স্কুল জীবনে এই দিনে আমি প্রথম প্রার্থনা হলে সবার সামনে 'চিত্ত যেথা ভয় উচ্চ যেথা শির' আবৃত্তি করার সুযোগ পাই। সেদিন স্বাধীনতা কি অতটা বুঝতে না পারলেও বুকে একটা আলাদা অনুভূতি টের পাই। স্কুলে আমার কিছুটা হলেও মর্যাদা বেড়ে যায়। বাড়িতেও আমি একটা নিজস্ব খুঁজে পাই। এ তো গেল সেদিনকার স্বাধীন অনুভূতি।           আমাদের মত নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে দুবেলা দুমুঠো খাওয়ার যোগাড়ে যেখানে সারাদিন কেটে যায় সেখানে কি স্বাধীনতা, কোথায় স্বাধীনতা, কেন স্বাধীনতা এসব ভাবার অবকাশ থাকে না। দু চার দানা খাওয়ার পেলেই টান টান হয়ে যেখানে হোক শোয়া আর ঘুম। ব্যাস, আর কিছু চাই না। তার মাঝে আমি দেখেছি বাবা মা দাদা দিদি পাড়া প্রতিবেশী সবার কাছে আমি আমার সীমানায় যা চেয়েছি পেয়েছি, যা দিতে চেয়েছি তাও পেরেছি, যা অর্জন করার মত হওয়া উচিত তাও হয়েছি। সেই তো আমার স্বাধীনতা।      যদি নিজের ইচ্ছে, নিজের চাহিদার মাপকাঠি তৈরি করতে পারি তাহলে কোন কিছুই পাওয়া দেওয়া বা ভাগ করার ক্ষেত্রে কোন অসুবিধা হয় না।      কিন্তু আমরা ক...

কবিতা ।। স্বাধীনতা মানে ।। দেবশ্রী সরকার বিশ্বাস

  স্বাধীনতা মানে শুধুই এলোমেলো হওয়ায় তিরঙ্গার ওড়াউড়ি নয়! বন্দেমাতরম ধ্বনি তুলে কথার ফুলঝুরিতে, কান ফাটানো কারতালির গুঞ্জন তোলা নয়! খাঁচায় বন্দি পাখিটার আকাশে ডানা মেলার- মুক্তির স্বাদই স্বাধীনতা, এক দল কিশোরের জলকেলির উন্মাদনা, পাথচলতি গাঁয়ের বধূর ঘমটার ফাঁকে- এক পলক স্বাধীনতা! রক্তের দাগ নেই যে মাটিতে তার গন্ধই স্বাধীনতা! মুক্ত বাতাসে বুক ভরা শ্বাস সব রং মিশে এক যেখানে, স্বচ্ছ-সাদার ভুবন সেখানে সেই পথে নির্ভয়ে চলা! বালক বেশে আঙ্গুল তুলে বলা - 'রাজা তোর কাপড় কোথায়?' প্রশ্নটাই স্বাধীনতা! গালির মোড়ে বসা ভিখারিটার গরম ভাতের স্বপ্নের- বাস্তব রূপই স্বাধীনতা! আশিক্ষার আঙিনায়, 'সহজ পাঠ' ই স্বাধীনতা! স্বাধীনতা শুধু একটা শব্দ নয়,  স্বাধীন মনের দরজা খোলাই স্বাধীনতা! স্বাধীনতা হল নতুন দিনের স্বপ্নবীজ বপন, মেঘমুক্ত আকাশে - বন্দেমাতরম ধ্বনি আর তিরঙ্গা পতাকার তলে, মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাই- তুমি -আমি -সকলে, স্বাধীনতার সেই- সূর্যরাঙা সকালে। ====০০====

কবিতা ।। একটা গোটা দেশ ।। সুমিত মোদক

  যে মেয়েটা আবর্জনার স্তুপ ঘেঁটে বার করে নেয় ভাঙাচোরা জিনিস-পত্তর টুকরো টুকরো পলিথিন ; সেই মেয়েটা সকাল হলে হাঁটা দেয়  টিকে থাকা পথে ; সূর্য তখন রেঙে ওঠে আকাশ জুড়ে ; ঘুমের ঘোর তখনও দুচোখ জুড়ে , দুচোখে বাঁচার স্বপ্ন ; লালচে হয়ে পড়া চুলের দুটো বিনুনি  জামায় তেল চিটচিটে গন্ধ  কাঁধে ফেলা চটের বস্তা ; সেই মেয়ে হেঁটে যায় রাজপথ ধরে ; সে পথে প্রভাত ফেরিতে বেরিয়েছে  তার বয়সি স্কুল পড়ুয়া ; হাতে তাদের ত্রিবর্ণ রঞ্জিত পতাকা  কণ্ঠে দেশাত্মবোধক গান – " ও আমার দেশের মাটি  তোমার পরে ঠেকাই মাথা …" মেয়েটা থমকে দাঁড়াল ; দেখতে চাইল – তার দেশ , তার মাটি , তার স্বাধীনতা , সে কি দেখল জানি না ; কি বুঝলো জানি না ; কেবল আমি দেখলাম – একটা গোটা দেশ মেয়েটার মধ্যে  এক ভারতবর্ষ  ।

কবিতা ।। স্বদেশ আর ওরা ।। প্রতীক মিত্র

  দেশ বললে তথ্য আর মানচিত্রে হাজির ভুগোলের পাঠ স্বদেশ বললে হৃদস্পন্দনে সে বেজে ওঠে অনর্গল; আবেগের ভিত সেখানে গভীরে হারায় ক্রমে আত্মিকতার টানে অকারণেই চোখ ছলছল। পতাকা তুলেই যেসব নেতাদের শেষ ঠাঁটবাট তাদের প্রতি ক্ষোভ বদহজমের মত ওঠে জমে। তারপর মন বলে, ওরা তো নুড়ি-কাঁকড় মাত্র নদী আছে নদীর মত,মর্জিতে চলাই তার সম্বল... একটু রোষে উঠলে ফুঁষে ওরা পড়বে ছিটকে যত্রতত্র। ওরা শুধু জানে ভোট বেচে থাকে প্রতিশ্রুতির নামে, স্বদেশ ওদের কাছে একটু ফাঁকি,আধটু প্রতীকি,বাকিটা কোলাহল। যদি আমায় দেশ বলো, তথ্য আর মানচিত্র  নিয়ে হাজির ভুগোলের পাঠ; স্বদেশ বললে হৃদস্পন্দনে সে বেজে ওঠে অনর্গল।    =====০০০====== প্রতীক মিত্র কোন্নগর-712235,পশ্চিমবঙ্গ

কবিতা ।। স্বাধীনতা আনলেন যাঁরা ।। গোবিন্দ মোদক

  স্বাধীনতা মানে স্ব-অধীনতা দেশের মাটির বুকে,  বাতাস যেখানে মুক্ত উদার নিজের দুঃখে-সুখে।  স্বাধীনতা মানে নই পরাধীন, নেই শৃঙ্খল-বেড়ি,  স্বাধীন দেশের নাগরিক সব, সবকিছু আমাদেরই।  এই স্বাধীনতা এসেছে অনেক রক্তের বিনিময়ে,  যার জন্য প্রাণ দিয়েছেন --- বিপ্লবী শয়ে-শয়ে।  নেতাজি সুভাষ, মহাত্মা গান্ধী, মাতঙ্গিনী হাজরা,  পতাকা বয়ে যাঁর বুক হয় বিদেশী গুলিতে ঝাঁঝরা।  সূর্য সেন, কানাইলাল, ক্ষুদিরাম, প্রফুল্ল চাকী,  দেশের জন্য জীবন দিলেন তাঁদেরকে মনে রাখি।  প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, বিনয়-বাদল-দীনেশ,  দেশের এঁরা সুসন্তান, আত্মদান অনিঃশেষ।  অরবিন্দ, লাল বাল পাল, বাঘাযতীন, রাসবিহারী,  জীবন দিয়ে দেশ স্বাধীন করেন শত প্রণাম তাঁরই।  মনে থাকুক তাঁদের প্রতি --- হাজারো সম্মান,  স্বাধীনতা আনতে যাঁরা দিলেন তাঁদের প্রাণ। ===============================   গোবিন্দ মোদক।  সম্পাদক: কথা কোলাজ সাহিত্য পত্রিকা।  রাধানগর, ডাক- ঘূর্ণি, কৃষ্ণনগর, নদিয়া।  পশ্চিমবঙ্গ, ভারত, ডাকসূচক - 741103

কবিতা ।। সেই স্বাধীনতা ।। কান্তিলাল দাস

   নরম খুশির দৃশ্য আসে না যেকথা লিখতে গেলে প্রতিটি বছর ব্যথা জমে বুকে স্বাধীনতা দিন এলে । তেরঙা পতাকা তুলছি আকাশে যদিও এদিন ভাই উচ্ছ্বাসে ভরা প্রাণের স্ফূর্তি দেখি কোনোখানে নাই। বাজে বিউগল, কামানের তোপ, ট্যাবলো, মিছিল যায় স্বাধীনতা থাকে শতহাত দূরে সীমাহীন লজ্জায়। মালা-দীপে-ধূপে সেজে ওঠে যত শহীদের স্মৃতি বেদি ভারতমাতার জয়ধ্বনি ওঠে আবেগে গগণভেদি। যান্ত্রিকতায় চলে সব রীতি হৃদয়ের ছোঁয়া কই স্বাধীনতা যেন সকরুণ বলে, আমি তো এসব নই ! গেছে ইংরেজ, শাসক বদল হয়েছে তো বারবার শোষণের কল রয়েছে সচল দেখি আজও চারধার। রয়েছে গরীব সেই তিমিরেই সবার জোটে না ভাত রাজনীতি আর ধর্মের ফাঁদে জোটে নব উৎপাত। শিক্ষিত যত কর্মহীনের পড়ে যে দীর্ঘশ্বাস যৌবন যায় চুরি হয়ে চুপি কথা ওঠে ফিসফাস। অন্ন তোলে যে সকলের মুখে সে-কৃষক থাকে দীন উচিত মূল্য পায় না ফসলে দারিদ্র্য সীমাহীন। আত্মবিনাশ ঘটায় কৃষক ঋণে, ক্ষোভে, অবসাদে স্বাধীনতা-স্বাদ পায় না কৃষক কেন কোন অপরাধে ! ধুঁকছে অনেকে কৃষকের মতো আয়ের স্থিরতা নেই কলকারখানা, চায়ের বাগানে কাজহারা সে দলেই। মহার্ঘ হয় জিনিসের দাম মুনাফায় কিছু লোক শোষণের কলে ফেলেছে মানুষে যেন বা ভয়াল জোঁক ...

পঁচাত্তরতম স্বাধীনতা দিবস।। মঞ্জু বন্দ্যোপাধ্যায় রায়

  হে স্বাধীনতা দিবস । তোমারে সেলাম । দিনে দিনে কেটে গেলো ৭৪ টা বছর । যতবার স্বাধীনতার মানে খুঁজতে চেয়েছি ঠিক তত অধিক বার আগুনের লেলিহান শিখা প্রান্তরে প্রান্তরে পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছে। মা যে স্বাধীনতায় বসবাস করতো সেখানে সবটুকু ছিল দেওয়ার পালা । সকাল হতো ভিজে চুলে সিঁদুর লেপে কর্তব্যের উনুনে জ্বেলে দেওয়া আগুন । সেই আগুনে ছেলে মেয়ে স্বামীর মহোময় রগরগে একটা স্বাধীনতা দিবস রচিত হতো। ঠিক তখনই মায়ের গর্ভে যন্ত্রণায় কঁ কিয়ে উঠতো ভাঙাচোরা স্বাধীনতা র কবিতা। পঁচাত্তরে পতাকার রং একটু বেশি রঙিন । শিরীষ কাগজে না লিখে অনুকবিতা লেখা হচ্ছে ব্লটিং পেপারে। দূর হতে ভেসে আস ছে স্বা ধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে কে বাঁচিতে চায় । --------------- 

কবিতা ।। স্বাধীনতা ।। মহাজিস মণ্ডল

আজ চারপাশে অন্ধকারের ভিড় রক্তাক্ত করে দেয় সমস্ত বুকের স্বপ্ন তবুও জেগে থাকে অনন্ত মহিমায় আমার স্বদেশ আমার জন্মভূমি। রাতদিন চতুর্দিকে এখনও বাজে সাইরেন তাই শপথের অঙ্গীকারে সাজিয়ে রাখে আলোর প্রদীপ এবং স্বদেশের গান স্বাধীনতা যে আমাদের জন্মগত এবং স্বপ্নগত।                           -------০------- মহাজিস মণ্ডল সবুজলেন, নবপল্লী(১২ ফুট), ২২ বিঘা রোড, জোকা, কলকাতা-৭০০১০৪

কবিতা ।। কোনো এক স্বাধীন সকাল ।। ইউসুফ মোল্লা

আজ নাকি কোনো স্বাধীনতার সকাল হয়েছে!  কই সূর্যটা একবারও বলে উঠলো না তো,  আমি আজ মুক্ত হলাম তোমাদের থেকে।  ওইতো রাস্তার সাফাইকর্মীটা আজও এসেছে,  কই; তার তো আজকে ঘুরতে যাওয়ার কথা।  পরিবারের ছোট্ট সদস্যটার সাথে আজ সকালে– সেই পাহাড়ের কোলে ঘাস আর পাথর নিয়ে খেলার কথা।  কাল থেকে ফুল তুলে সে ফুল মালা গেঁথে,  আজও বেচতে এলো যে মেয়েটি তার জীবনেও কি স্বাধীনতার সকাল ছিল না?  মৌমিতা নামে এক শিল্পী স্বাধীনতার পতাকা আঁকছিল।  কোনো এক শব্দে হাতটা কেঁপে উঠল,  ঢেউ খেলানো পতাকাটি আর দুলছিলো না।  বাইরে সদ্য গুলি হওয়া দেহ থেকে এখনও রক্ত ঝরছে...  মৌমিতার চোখের একফোঁটা জলে পতাকাটি মুছে গেলো!                                   ------------ 

কবিতা ।। ভিজে পটকা ।। অনিরুদ্ধ সুব্রত

তবুও পাতি চ্যানেলের চির-নবিশ সাংবাদিক-মন তোতলামি রেখে ছুঁড়েই যায় ছ্যাবলা প্রশ্ন মালা, দেখে শুনে সমস্ত ভোল বদল অথচ জানে--- প্রেম তো কোনও আঞ্চলিক বা জাতীয় দল নয়, না জিতলে তার কিস্যু না কিন্তু রাজনীতির আপাত রেপ্লিকা বলে ভুল হয়,  জীবনের যা কিছু--- দীর্ঘমেয়াদি বর্ধিত মুদ্রাস্ফীতি থেকে অসংগঠিত ক্ষেত্রের গ্যারান্টিহীন দৌড়, তাই নিয়ে সন্ধ্যের ধ্যাতরানো টক-শো না মারালে ভালো লাগে, এক দুপুরের যুক্তি অথবা অশালীন উক্তি--এটুকু পেলেই সার সার ওবি-ভ্যান মুহূর্তে ভিড়ে যায়, ছুঁচো মুখ কুঁচো প্রশ্ন এই হৃদয়--- দেখে শুনে যা সহজেই বুঝে যাওয়া যায় বার বার স্ব-মৈথুনের মতো তাই-ই, বরফের মতো ঠান্ডা রাত্রির স্নায়ুতে আঘাত করাতে থাকে।                       =======০০০=======                                      --- অনিরুদ্ধ সুব্রত                       ...

কবিতা ।। আত্মশুদ্ধির বয়ান ।। শান্তনু গুড়িয়া

    দেশ আমায় কী দিয়েছে আর আমি দিয়েছি কী, দেশের দিকে আঙুল তোলার আগে নিজের দিকে তুলেছি কি? দেশ আমায় বানিয়েছে ডাক্তার, শিক্ষক অথবা ইঞ্জিনিয়ার| দুঃখের কথা ও কাহিনি  বলবো কী আর! মানবিক মুখ হারিয়েছে ডাক্তার, ব্রেন ড্রেন হচ্ছে ইঞ্জিনিয়ার ব্যবসায়ী হয়েছে আজ মানুষ গড়ার কারিগর... দেশসেবার নামে জার্সি বদল, ঘুষের বিনিময়ে কার্যোদ্ধার --- নৈতিক চরিত্র বিসর্জনে জাতির ভবিষ্যৎ অন্ধকার| অর্থনীতি পড়ছে ভেঙে --- তালিয়া, সমাজটা উচ্ছন্নে যাচ্ছে --- তালিয়া, দেশটা বিক্রি হয়ে যাচ্ছে, তাতেও তালিয়া আমরা আরো জোরে তালি দিতে থাকি আমরা এসেছিই  তালি দিতে!

কবিতা ।। আমাদের কথাগুলো ।। সঞ্জীব সেন

    এখন ক্রোধের সময় নয় তবুও বলতে পারি না, প্রতিবাদের ভাষা অনেক রক্তের বিনিময়ে এই স্বাধীনতা তবুও বলতে পারি না এখনও কেন এত রক্ত গণতন্ত্র চলছে, নিজের কথা বলতেই পারো প্রকাশ্যে তবুও বলতে পারি না কেন আমৃত্যু জেলবন্দি কবি? আজ যদি আমি ভারত হতাম আর ভারতমাতা বুকে এসে দাঁড়াত আমার তবে কি লজ্জায়  জিভ কাটতেন! তবুও বলতে চাই স্বাধীনতা তোমায় সেলাম ।   ================= সঞ্জীব সেন পানিহাটি গৌরাঙ্গ ঘাট রোঢ পোস্ট পানিহাটি কলকাতা114

ছড়া ।। স্বাধীনতা ।। রঞ্জন কুমার মণ্ডল

আমজনতার খাদ‍্য খাবার    লুটছে দেশের জননেতা বিপ্লবীরা কি চেয়েছিল     দেশের এমন স্বাধীনতা! ভাঙছে সমাজ, মাতৃভূমি   মন ভাঙছে, ভাঙছে দেশ কর্মহীনে  ধুঁকছে  যুবক    স্বাধীনতার এ কোন বেশ! বঞ্চিত  আজ আমজনতা   আন্দোলনে কৃষক সমাজ লুটেরা আজ বেজায় খুশি    স্বাধীনতার এ কোন সাজ! জাত-পাতের দ্বন্দ্ব আজও      আজও মানুষ  যাযাবরে আজ এ কেমন স্বাধীনতা!  ব‍্যাখ‍্যা কি কেউ দিতে পারে? ভর্তুকি, ঋণ শিল্প হবে    হাতিয়ে  ফেরার  শিল্পপতি  স্বাধীনতার এক  নতুন রূপ!          ধর্ম  নিয়েই  মাতামাতি। অনাহারে  আজও মানুষ              স্বাধীনতার  পঁচাত্তরে ভাষণ,তোষণ দেশনায়কের    আমরা স্বাধীন,কেমন করে! সমাজ জীবন নয় নিরাপদ       ভয় সন্ত্রাস, রোজ বিপদে নীরবেতে  স্বজন পোষণ   স্বাধীনতা! আজ নতুন স্বাদে! বাজারে আগুণ,জ্বলছে এ দেশ        ধুঁকছে  রোজই আমজনতা অর্থনীতি  বিকিয়ে...

কবিতা ।। স্বাধীনতা ।। আশিস ভৌমিক

  জমির ওপর লাঙল চালাই ফসল ফলাই হেথা কেড়ে নেবার হিম্মত দেখাস্ এমন বুকের পাটা ? চাষীর স্বাধীনতা । আমার দেশ, আমার মা, আমার জন্মভিটা উচ্ছেদের ভয় দেখাও কোন্ আবাগির বেটা ? নাগরিক স্বাধীনতা । ধর্ম আমার যা হোক্, তা হোক্,খাই রুচিতে আসে যেটা সেটার ওপর নজরদারি মানতে হবে সেটা ? খাওয়ার স্বাধীনতা । আমার মায়ের মিষ্টি ভাষা প্রথম শেখা বুলি  সেটার ওপর দখলদারি কোন্ বাপের বেটা ? ভাষার স্বাধীনতা । জঙ্গলে মুই জন্ম নিছি ক্ষুধা মিটায় এই বনটা এর অধিকার মোর আছে, তুই বলার কেটা ? বাঁচার স্বাধীনতা । সমালোচনা শুনতে বুঝি নেই বুকের পাটা  ? লাগাম টানিস্ মুখে আমার শুনতে চাসনি যেটা বলার স্বাধীনতা । -----------------  Name-Ashis Bhowmick Vill.+P.O-Brindabonchak Dist.-Purba Medinipore Pin-721641

কবিতা ।। স্বাদহীন-স্বাধীনতা ।। শুভাশিস দাশ

      হয়নি আজো দেশের সবার অন্ন বাসস্থান। শিক্ষা স্বাস্থ্য টলমলে আজ ওষ্ঠাগত প্রাণ । দেখতে দেখতে বয়স হলো দেশের স্বাধীনতার। কেউ দিলোনা যাপন নিয়ে ভাষণ নিশ্চয়তার। স্বাদহীন এই স্বাধীনতায় লালকেল্লা  সাজবে। মনের ভিতর সত্যিকারের খুশির সে বীণ বাজবে ?   ----------------- শুভাশিস দাশ দিনহাটা

অণুগল্প ।। আমি একটুকরো ভারত ।। সোমা মজুমদার

সেদিন ছিলো পনেরোই অগাস্ট,  আমার কাছে তখন পনেরো অগাস্ট মানে একটা চকোলেট চকোলেট দিন,  সারাদিন অনেক খেলাধূলা করা সকালে প্রভাত ফেরী নাচ গান, আর বিকেলে খেলা জিতে অনেক পুরস্কার নিয়ে বাড়ি ফেরা।  সেদিন ও এক পনেরো অগাস্টের বিকেল, আমি অনেক গুলো পুরস্কার চকোলেট দু'হাতে বুকের কাছে চেপে ধরে বাড়ি ফিরছি, হঠাৎ দেখলাম রাস্তার একপাশে সবুজ ঘাসের উপর চেপ্টা হয়ে ফুলা পাটা রোদের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বসে হাঁপাচ্ছেন  আমাদের প্রতিবেশী ফুলন পিসি। পাশে একটা কলসি ভর্তি জল, সম্ভবত আমাদের বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদী থেকে কলসি দিয়ে জল তুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন,  এই ফুলন পিসিকে  আমি খুব ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি ,  বেচারির বিয়ের কিছুদিন পর স্বামী মারা যান,  বাবার বাড়িতে এসে উঠেছেন ভাইয়ের সংসারে। অসুস্থ মহিলা, বাঁ পাটি ফুলা,  ব্যথায় ভালো করে হাঁটতে পারেন না, তবুও সারাদিন কতো রকমের কাজই না করতে হয়।  রাস্তার পাশে বসে এভাবে হাঁপাতে দেখে  আমি পাশে গিয়ে জিগ্যেস করলাম, কী হয়েছে তোমার পিসি?  উনি প্রথমে কোন উত্তর দিলেন না, আবার বললাম কী হয়েছে তোমার?  এবার হাঁপাতে হাঁপাতে বলে...

ছড়া ।। স্বাধীনতা ।। অমরেশ বিশ্বাস

ছোট্ট মেয়ে বাসন মাজে আকাশ পানে চায় ভাবে কোথায় স্বাধীনতা থাকে সে কোন গাঁয়। মাইক বাজে পথের মোড়ে কানে আসে ভেসে কেউ পরাধীন নই করি বাস আমরা স্বাধীন দেশে। সবুজ সাদা আর গেরুয়া রঙ মেখেছে মুখে স্বাধীনতা বাস করে ওই ছোট্ট মেয়ের বুকে। বন্দেমাতরম জয় হিন্দ ধ্বনি আসে ভেসে বাসন মাজে আর সে ভাবে আছি স্বাধীন দেশে।

ছোটগল্প ।। স্বাধীনতার গান ।। পারিজাত ব্যানার্জী

  হৃদয়কৃষ্ণ মাথা নাড়েন আনমনে। নাহ, বড্ড গোলমেলে হয়ে গেছে আজকের এই সময়কালটাই। তাল মিলিয়ে হেঁটে চলা তাঁর মতো প্রায় একশোর কোঠায় দাঁড়ানো বৃদ্ধের পক্ষে তাই হয়ে উঠেছে নিতান্তই কঠিন। কোনও কিছুতেই কোনও মানে খুঁজে পাওয়া আজ ভিত্তিহীন। অথচ যখন দাদার হাত ধরে প্রথমবারের জন্য তিনি হাজির হয়েছিলেন পাড়ার নবারুণদাদের স্বদেশী আন্দোলনের বক্তৃতা মঞ্চে, স্পষ্ট মনে আছে কি বলেছিলেন নবারুণদার স্ত্রী ও নারী নিকেতন গোষ্ঠীর তৎকালীন কর্ণধার সবলা দেবী তাঁর চিবুকখানি ধরে, "কৃষ্ণ, তোমাকেই কিন্তু মহাভারতের মতো এই সমস্ত লড়াই,যুদ্ধ, আয়োজনের মানে, উদ্দেশ্য, তাৎপর্য খুঁজে বার করে তাদের দিতে হবে যথাযথ সম্মান। তুমিই যে আগামীর প্রতিনিধি, আমাদের সব কাজ তো আসলে তোমাদের উন্নয়নের আশাতেই। এই তরণীর তোমরাই যে হলধর!"      ভোম্বল পর্দা সরিয়ে ঘরে ঢোকে। দশ বছর বয়সী এই নাতিটির মুখের আদল অনেকটা হৃদয়কৃষ্ণের নিজের ছেলেবেলার মতোই। তা তাঁর চোখের ভুল না মনের দোষ, তা অবশ্য ঠিক ঠাহর করতে পারেন না তিনি আর। বাবার মোবাইল ফোনে খুটখুট করতে করতে দাদুর পাশে এসেই বসে পড়ে ভোম্বল। হৃদয়কৃষ্ণ মাথায় হাত রাখেন তার। "আজ স্কুলে যাসনি?এখনও ...

কবিতা ।। সুভাষ ।। অভিষেক ঘোষ

  বিশ্বাসে তাঁর হলফনামা রক্তে লেখা অঙ্গীকার, চলবে কদম, নিষেধ থামা কঠিন পথ সে স্বাধীনতার । তাকাও, দেখবে তর্জনী উঁচু অশ্বপৃষ্ঠে দেশ-প্রেমিক, মেনে নেওয়া মানে, মাথা নীচু সুভাষ চেনালো ঠিক-বেঠিক । ভুলোমনা জাতি লড়াই ভুলেছে সংগ্রাম আজ, চালু ফিকির ! দিশেহারা দেশ জিগির তুলেছে, ফিরুন স্বদেশে সুভাষ বীর ! ====================  Abhisek Ghosh. Swinhoe Lane,  Kasba, Kolkata - 42.

কবিতা ।। পঁচাত্তরে পা, তবুও... ।। লক্ষণ চন্দ্র নস্কর

    স্বপ্নের হাত ধরে হে স্বাধীনতা তুমি এসেছিলে নীরবে ব্যর্থতা, গ্লানি আর সংকীর্ণ স্বার্থের গন্ডিতে বাঁধা হলো তোমার পথ তাই অজান্তে তুমি ঘুমিয়ে গেলে কফিন বাক্সে । তোমার জন্যে যারা পথে পথে ঘর বেঁধেছিল তারা আজ বিপন্ন তবুও ফিকে স্বাধীনতার বোল ঘুরে ফিরে আসে দুয়ারে দুয়ারে সাহস হয়নি বলতে তোমার দুর্দশার কথা । শক্ত হাতের বাঁধন কখন যেন আলগা হতে হতে মিশেছে বন্দিদশায় হাজারো স্লোগানে পাল্টে গেছে  তোমার প্রকৃত স্বরূপ আমাদের ভালো-মন্দ এখন রঙীন সানগ্লাসে । একমুঠো সাদা ভাত মাথার উপর সামান্য আশ্রয় আর লজ্জা নিবারনের মোটা বস্ত্র জোগাতে ফুটফুটে হাসি মুখগুলো হারিয়ে গেছে ধোঁয়াশার উলঙ্গ রাজনীতিতে । বর্ণপরিচয়ের জ্ঞান -- দারিদ্রতা আর অবহেলার কঠিন জালে জর্জরিত জীবনদায়ী ঔষধে বিষ খাদ্যে মিশেছে ভেজাল আর কেলেঙ্কারিতে ভরে গেছে দেশ ঋণের দায়ে ঝরে গেছে লক্ষ লক্ষ প্রাণ হয়তো তুমি কোনোদিন মুখ তুলে দেখবেনা তবুও কঠিন পাথরে বুক বেঁধে ওরা পথ চলবে আবহমান কাল ধরে ।

অন্যরকম একটা ভাবনা ।। সমীর হালদার

    অন্যরকম   একটা   ভাবনা   ক্রমশ   মনের   মধ্যে   ডানা   মেলতে   চাইছে । ভীষণভাবে   অন্যরকম   অন্যরকম । অন্যরকম   আবহ  .... অন্যরকম   একটা   আচ্ছন্নতা । বহুদিনের   জমানো   আবেগ , অনুভূতি গুলি   ক্রমশ   পিছু   হটতে   হটতে ফিকে   হয়ে   আসছে , একটু   একটু   করে । একটু   একটু   করে   ফিকে   হয়ে   আসছে অহংকারদীপ্ত   সোনালী   ঐতিহ্যের   সুস্পষ্ট   প্রতিচ্ছবিগুলি । কারণটা   ঠিক   স্পষ্ট   নয় ।   যেমন   স্পষ্ট   নয় , কেন   এই   অসহায়তার   দিবারাত্রি ! কেন   এই   বিভেদের   আলোছায়া ! বিভেদের   আলোছায়া   আজ   প্রতি   মুহূর্তে   আমাদের   অস্তিত্বকে   বিদ্রুপ   করে ! আকাশে   বাতাসে   ভেসে   আসে অসহায়   নিপীড়িত   মানুষের   হাহাকার , বুভুক্ষ   মানুষের   চিৎকার ।   আজ   অন্ধক...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

কবিতাগুচ্ছ ।। “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

কবিতাগুচ্ছ: “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে…  আবদুল্লাহ আল আদীব তোমাকে ভালবাসি বলেই… বন্ধুবরেষু “বাংলাবিদ”, আমার কোমল প্রাণ মৌমাছি, অতি নরম-স্নিগ্ধ রোদে হেসে ওঠা মুক্তোদানা শিশির- দুঃখ করো না। তোমাকে ভালবাসি বলেই আজ এই দূরত্ব— যেন আমার কোন কিছু তোমার ক্ষতি না করতে পারে! তোমাকে ভুলিনি— তুমি আমার অন্তরের ইচ্ছের অন্তঃপুরে পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে বসে আছো, এ যেন সভ্যতার এক ধ্বংসাবশেষ। প্রতিটি নিঃশ্বাসে তোমার নাম প্রকম্পিত হয়, যেন ধারালো ছুরি বুক চিরে রক্ত ঝরায়। ভুলতে চেয়েছি— কিন্তু স্মৃতিগুলো আমার রক্তে জমাট বেঁধে আছে, যেন পাথরখচিত প্রাচীন লিপি। তুমি হয়ে গেছো আমার নীরব কান্না, প্রতিটি লিখতে না পারা কবিতা আমার ভাঙা আত্মার লুকানো আর্তনাদ। তোমার স্পর্শ নেই, নেই আমাদের সম্পর্কের কোন নাম— তবু তুমি আছো অদৃশ্য, অমোঘ, যেন প্রতিটি ক্ষতচিহ্নে চিরন্তন বসবাস করা এক নিঃশব্দ মৃত্যু। ক্ষত-নিবদ্ধ বাঁশি… প্রিয় “বাংলাবিদ” আমার, কি এক আশ্চর্য সমর্পণ তন্ময়তা, মোহময় আকর্ষণ, বকুলের বিহ্বল ঘ্রাণ তোমার সত্তায়! তোমার বিস্তীর্ণ গালিচা থেকে বিদীর্ণ হয়ে আজ আমি বিচ্ছেদের নিঃ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

যেখানে শিকড় রয়ে গেছে ।। কাবেরী মিত্র

যেখানে  শিকড় রয়ে গেছে কাবেরী মিত্র কিছু দরজা শুধু কাঠের হয় না, স্মৃতির ও হয় একবার খুললেই বহু বছরের চাপা পড়ে থাকা জীবন আবার ভীড় করে সামনে এসে দাঁড়ায়  "যেখানে শিকড় রয়ে গেছে"   প্রায় পঁচিশ বছর পর নীলা ফিরে এলো তার ছেড়ে যাওয়া শিকড়ের কাছে। বাইরের ভারী দরজাটা দু'হাত দিয়ে ঠেলে খুলতেই ক্যাঁচ করে এক বিকট শব্দ তুলে খুলে গেল। নীলা ধীরে ধীরে ভিতরে প্রবেশ করল। কত বছর পর! অথচ মনে হলো, সময় যেন এই বাড়ির উঠোনে এসে থমকে দাঁড়িয়ে আছে। আজও একইভাবে দাঁড়িয়ে আছে উঠোনের একধারে নিজে থেকে বেড়ে ওঠা সেই শিউলি গাছটা। শরৎ এলেই যার ফুলের গন্ধে চারদিক ভরে উঠত। সেই গন্ধই যেন জানিয়ে দিত—মা দুর্গা আসছেন। ভোরবেলা ফুল তোলা নিয়ে নীলা আর ওর বোনের মধ্যে রোজ ঝগড়া বাঁধত। কেউই এত সকালে ঘুম থেকে উঠে ফুল তুলতে রাজি হতো না। অথচ ঠাম্মির হুকুম—দুই বোনকেই ফুল তুলতে হবে। দেখতে দেখতে মহালয়ার দিন এসে যেত। ভোরবেলায় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ শুরু হতেই সারা বাড়ি যেন এক মঙ্গলময় আবহে ভরে উঠত। সেই দিন থেকেই শুরু হয়ে যেত মা, কাকিমা আর জেঠিমাদের ব্যস্ততা। পুজোয় আসা অতিথিদের জন্য নানারকম মিষ্টি তৈরির ধুম পড়ে ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

তিনটি কবিতা ।। স্বপন চক্রবর্তী

স্বপন চক্রবর্তী জগন্নাথ কাহিনী পুরী জগন্নাথধাম                    করিব প্রভুর নাম                    আজি মোর কাব‍্যের ছন্দে, জগদীশ্বর তিনি                       জোগান সবারে চিনি                     রাখেন মোদের ভালো-মন্দে।  নীলাচলে এক নারী                  ভক্তির ধ্বজাধারী                       ঈশ্বর-প্রেম ছিল অপার, কর্মাবাঈ নামে তিনি                    প্রভুর হৃদয় জিনি                       করিতেন দিব্য সংসার। ভিখারিণী অতি দীন                    বার্ধক্যে শক্তিহীন              ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

ভুতের গল্প : ভুতেরাও ভদ্র হয় ।। দীপক পাল

ভুতেরাও ভদ্র হয়  দীপক পাল  কোন এক রহস্য পত্রিকার জন্য একটা ভুতের গল্প লেখার তাগিদে রাত এগারোটা বাজার পরে শোওয়ার ঘরের লাইট নিভিয়ে আমার লেখার ঘরে ঢুকে জানালার সামনের টেবিলে গিয়ে চেয়ারটা টেনে বসলাম। ঘরে লাইট জ্বললে আমার স্ত্রীর চোখে ঘুম আসে না। অন্য দিকে ভাবলে ভুতের গল্প লিখতে গেলে একটু বেশী রাত ও একদম নির্জন পরিবেশ দরকার। হাতে কাগজ কলম নিয়ে জানালার বাইরের আলো আঁধারিতে চোখ মেলে তাকালাম। পথের আলোর জন্য এই আলো আঁধারির সৃষ্টি যদিও এই অমাবস্যার রাতে সেই আলো বড়ো অপর্যাপ্ত। একটু ভেবে আমার গল্প লেখা শুরু হলো। সারাদিন কাজের ফাঁকে মনে মনে গল্পটা মোটামুটি ফেঁদে রেখেছিলাম। এখন সেটাই গুছিয়ে লেখার পালা। সেটাই করে চলেছি একটানা। হঠাৎ একটা গলাখাঁকারির আওয়াজ এলো কানে। ভাবলাম পাশের বাড়ী থেকে বুঝি আসছে। তাই পাত্তা না দিয়ে লিখে যাচ্ছি। কিন্তু দ্বিতীয় বার গলা খাঁকারির আওয়াজ শুনে জানালার বাইরে তাকালাম। দেখি জানালার ওপাশে একটা আবছা ছায়ামূর্তি যার চোখজোড়া অল্প অল্প জ্বলছে। কিন্তু মুখে অল্প হাসি হাসি ভাব। এক মনে ভুতের গল্প লেখি যাওয়ার ফলে আমি যেন ভুতের রাজ্যে বিচরণ করছিলাম তাই স্বচক্ষে স...

বছরের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

মাসের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

তিনটি কবিতা ।। পদ্মাবতী কুন্ডু

তিনটি কবিতা ।। পদ্মাবতী কুন্ডু  কবিতা  কবিতা ভালবাসি জন্মাবধি । কবিতা বেসেছি  ভালো সারাটি জীবন । ভেবেছিলাম জীবনটা হবে কবিতাময়, কিন্তু কঠিন গদ্যময় এখন আমার জীবন।  আমার জীবনটা কাঁটাময় ঝোপঝাড় , আঘাতে আঘাতে  দেহ থেকে রক্ত ঝরে । তবু কবিতাকেই ভালবাসি আমি , চাই ফুটাতে ফুল কাঁটাময় সংসারে । ওগো কবিতার দেবী,আমাপ্রাতি প্রসন্ন হও। ফুটাও ফুল আমার কাঁটাময় দেহ 'পরে-- যে কয়দিন বাঁচি, যেন কবিতার সঙ্গেই  বাঁচি, কবিতা ছাড়া কোন বন্ধু নেই, নিঠুর এ সংসারে। সুখে  কবিতা, দু:খে কবিতা, কবিতা থাক আমার মরণেরও পরে। যদি একজনও পড়ে আমার কবিতা, ধন্য জীবন  মানি  এ কঠিন  সংসারে। এসেছে  আষাঢ়  এসেছে আষাঢ় । ঝরছে অমিয়  ধারা  ঝর ঝর ঝর। মাটির উত্তপ্ত হৃদয়  শীতল  হলো বৃষ্টির মায়ায়। চলছে চাতকের আকণ্ঠ জলপান। গাছে গাছে পাখিদের গান। গুরু গুরু মেঘের গর্জন, সাথে বিজলী মেয়ের নাচন। বাদলের ধারা ঝরছে অবিরত, কদম, কেয়া বৃষ্টিতে অবনত। আনচান করে ওঠে মন।...

বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষক দিবস পালনের তাৎপর্য ।। পাভেল আমান

    বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষক দিবস পালনের তাৎপর্য যিনি শিক্ষা দান করেন তিনিই শিক্ষক। শিক্ষা বলতে কেবল প্রথাগত শিক্ষা বা পুঁথিগত শিক্ষা নয়, বৃহৎ অর্থে প্রথা বহির্ভূত জ্ঞান ও কর্মের বাস্তব অভিজ্ঞতা। রবীন্দ্রনাথকে অনুসরণ করে বলা যায় যে, উত্তম শিক্ষক হবেন উত্তম ছাত্র। শিক্ষকের মধ্যে ছাত্রত্ব বেঁচে না থাকলে ছাত্রেরা তাঁর মনের নাগাল পেতে সমর্থ হয় না।শিক্ষকরা হলেন সমাজ গড়ার কারিগড়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পথ প্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেন শিক্ষকেরা। আদিকালের সামাজিক ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় সেই আবাসিক গুরুকুল শিক্ষা ব্যবস্থার যুগে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে ছিল নিবিড় ও মধুর সম্পর্ক। পিতা মাতার পর দ্বিতীয় পিতা বা অভিভাবক হিসেবে শিক্ষকদেরকে মান্য করতেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের কাছে শিক্ষক ছিলেন পরম গুরু। গুরুর আশীর্বাদ ও দাক্ষিণ্য ছাড়া জীবনে সাফল্য অধরা থেকে যায়। গুরুর নির্দেশিত পথে অনুগমন করলে লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা কম। শিক্ষক তথা গুরুর প্রতি ছাত্র তথা শিষ্যের আনুগত্য, ভক্তি, বিশ্বাস ও আত্মনিবেদন ছিল দৃষ্টান্ত মূলক। প্রাচীন ভারতে গুরু গৃহে গুরুর সাহচর্যে বসবাস করে শ...

কবিতাগুচ্ছ ।। “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

কবিতাগুচ্ছ: “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে…  আবদুল্লাহ আল আদীব তোমাকে ভালবাসি বলেই… বন্ধুবরেষু “বাংলাবিদ”, আমার কোমল প্রাণ মৌমাছি, অতি নরম-স্নিগ্ধ রোদে হেসে ওঠা মুক্তোদানা শিশির- দুঃখ করো না। তোমাকে ভালবাসি বলেই আজ এই দূরত্ব— যেন আমার কোন কিছু তোমার ক্ষতি না করতে পারে! তোমাকে ভুলিনি— তুমি আমার অন্তরের ইচ্ছের অন্তঃপুরে পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে বসে আছো, এ যেন সভ্যতার এক ধ্বংসাবশেষ। প্রতিটি নিঃশ্বাসে তোমার নাম প্রকম্পিত হয়, যেন ধারালো ছুরি বুক চিরে রক্ত ঝরায়। ভুলতে চেয়েছি— কিন্তু স্মৃতিগুলো আমার রক্তে জমাট বেঁধে আছে, যেন পাথরখচিত প্রাচীন লিপি। তুমি হয়ে গেছো আমার নীরব কান্না, প্রতিটি লিখতে না পারা কবিতা আমার ভাঙা আত্মার লুকানো আর্তনাদ। তোমার স্পর্শ নেই, নেই আমাদের সম্পর্কের কোন নাম— তবু তুমি আছো অদৃশ্য, অমোঘ, যেন প্রতিটি ক্ষতচিহ্নে চিরন্তন বসবাস করা এক নিঃশব্দ মৃত্যু। ক্ষত-নিবদ্ধ বাঁশি… প্রিয় “বাংলাবিদ” আমার, কি এক আশ্চর্য সমর্পণ তন্ময়তা, মোহময় আকর্ষণ, বকুলের বিহ্বল ঘ্রাণ তোমার সত্তায়! তোমার বিস্তীর্ণ গালিচা থেকে বিদীর্ণ হয়ে আজ আমি বিচ্ছেদের নিঃ...