Skip to main content

Posts

গল্প ।। কালোচিত্র ।। সৌর শাইন

কালোচিত্র সৌর শাইন     বৃদ্ধার উদাসীন দৃষ্টিতে মৃতাত্মাদের আনাগোনা, কতশত শেষ দাফনের স্মৃতি। নিশ্বাসে আগুনের হলকা এসে পুড়িয়ে দেয় সব গুন গুন সঙ্গীতকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে। রেললাইনের বস্তির অন্যসব ঘরের মতো এখানেও নিস্তব্ধতা ছোবল দিয়েছে, হাহাকারের যাঁতাকলে গলা টিপে ধরে সময়ের অভিশাপ। সুঁচের পেট ফুঁড়ে লাল সুঁতো বেরিয়েছে, এক একটা ফোঁড়ে ছোট্ট প্লাস্টিকের ব্যাগটা যতটা সম্ভব মেরামত চলে সেলাই চিন্তায়। ভিক্ষের চালগুলো এখানেই জমাতে অভ্যস্ত বৃদ্ধা।   মৃত ক্ষুধারা পেটের ভেতর হঠাৎ হঠাৎ চিৎকারে নাচে। শহরের মেইন রোডে উঠা যায় না, মুখোশ পরা পুলিশ বাঘের মতো তেড়ে আসে। বৃদ্ধার মগজ এখনো বুঝতে পারে না করোনা শব্দের পেছনে কী এমন দৈত্য দানব লুকিয়ে আছে। রাতে ছোট্ট নাতনিটি বৃদ্ধাকে বিদেশি রোগের ব্যাখ্যা শুনায়। বৃদ্ধা শুনতে শুনতে নিশ্বাস ফেলে। আট বছরের নাতনির উরুসন্ধিতে হাত ছুঁয়ে বলে, তুই এহনো বাড়ছ না ক্যান? হাতের আঙুল গভীরে যেতেই নাতনিটা আঁৎকে উঠে। আঃ ব্যথা পাই নানি। বৃদ্ধা ধমকে বলে, একটু-আধটু ব্যথা লাগবোই। বেডারা তো মাঙনা টেকা দিবো না। কষ্ট দুক্ষু সহন লাগবো। আমি...

ছোটগল্প ।। শেষ উপহার ।। অরূপ কুমার গোপ মন্ডল

      শীতের সকালে শিশুর মত মিষ্টি রোদটা এসে লুটোপুটি খাচ্ছে সুজয়দের দালান বাড়িতে ।  পূবদুয়ারী  একতলা বাড়ি । কাছেই কোন একটা ফুল ফুটেছে । তার সুগন্ধ ভেসে আসছে বাতাসে । তবু সুজয়ের মনটা ভালো নেই । শিশু হীন  বাড়িটা  যেন বিগ্রহ ছাড়া মন্দির ।  সকালবেলায় বরাবর  ব্যস্ত থাকে সুজয় ।  ভোরে পড়ার অভ্যাসটা ছাত্রজীবন থেকেই  বাঁচিয়ে রেখেছে আজও । কবিতা  গল্প পড়ে কয়েক ঘন্টা কাটায় ।  কিছু লেখালেখির চেষ্টাও করে । আগে গল্প লিখত । এখন কবিতা ।  তারপর,  স্ত্রীর মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টার ত্রুটি রাখে না । বিয়ের পর দিনে দিনেই কমে এসেছে সেটা । মৌসুমীর পটলচেরা চোখগুলো মার্বেলের মতো গোল গোল মনে হয় এখন । কদিন আগেই  বাপের বাড়ি গেছে । কবে আসবে ঠিক নেই । তাই ব্যস্ততাটা বহুগুণে বেড়ে গেছে । রান্না বান্না । হালে পানি পায় না সুজয় । বেড়েছে একাকীত্ব। মনটাও ভালো নেই সকাল থেকেই। হঠাৎ মোবাইলটা বেজে ওঠে । হয়তো মেয়ের ঘুম ভেঙ্গে গেছে । সকালেই বাবাকে আবদার জানাবে । মৌসুমিও হতে পারে । বিছানায় শুয়ে মায়ের দেওয়া বেড টি পেয...

অণুগল্প ।। ক্রন্দসী ।। বিজয়া দেব

  আমাকে মনে পড়ে ক্রন্দসী?  পন্ডিচেরির সমুদ্র সৈকতে আপনার সাথে দেখা হয়েছিল ।আপনি খানিকটা দূরে একা বসেছিলেন। আপনার শীর্ণ করুণ মুখশ্রীতে গোধূলিবেলার করুণ আলো এসে পড়েছিল। আমিও খানিকটা দূরে বসে উচ্ছ্বল ঢেউয়ের ভেতর উচ্ছ্বাসে মেতে থাকা নারীপুরুষদের দেখছিলাম। খুব গরম ছিল সেদিন। আপনার পুরুষসঙ্গীটি স্নান করছিলেন তার পাশে আরও দুজন নারী পুরুষের জুটি সমুদ্রস্নানে মেতে উঠেছিল। একটি উত্তুঙ্গ ঢেউ এলো। স্নানরত নারী পুরুষদের টেনে নিল তার ভেতর। ঢেউ সরে গেলে পর দেখা গেল আপনার পুরুষ সঙ্গীটি আলিঙ্গনে বাঁধা পড়েছেন এক মহিলার সাথে, প্রায় মিনিটখানেক এই আলিঙ্গনাবদ্ধ নারীপুরুষ এক স্থিরচিত্রের মত বাঁধা রইলেন। গোধূলিবেলার আলোয় তখন আমি আপনার মুখ দেখছিলাম। আপনি আমার চোখ চোখ রেখে দেখলেন, যেন বিষম লজ্জায় অতঃপর চোখ নামিয়ে নিলেন। আমরা তো একই হোটেলে উঠেছিলাম। আপনারা তিনটি জুটি নারীপুরুষের। অথচ আপনার সঙ্গীটি পাশের ঘরে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দিতেন আর আপনি সামনের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে হোটেলের আঙ্গিনায় দাঁড়িয়ে থাকা অজানা বৃক্ষের আন্দোলন দেখতেন, আর উল্টোদিকের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে আমি দেখতাম আপনাকে। আপনার বিশীর্ণ চে...

কবিতা ।। ক্ষমা করুন শঙ্খ ঘোষ ।। জীবনকুমার সরকার

  ক্ষমা করুন শঙ্খ ঘোষ  জীবনকুমার সরকার    ক্ষমা করুন শঙ্খ ঘোষ  আমরা আর বেঁধে বেঁধে  থাকতে পারছি কই?  যেদিকে তাকাই সেদিকেই জীবন্ত  লাশেদের চরম ভীড়  তাদেরই বাতাসে মেরুদণ্ডহীন  গাছেরা করছে হই  শেয়াল আর শকুনের ফাঁদে  এত এত মানুষেরা সব  সুবিধার খোঁজে ব্যস্ত  ক্ষমা করুন শঙ্খ ঘোষ  নষ্টরাই এখন ভুবন চালাবে  শিশুরা আরও আরও বেশি লাশ হবে  ধরিত্রী হবে বিধ্বস্ত  একে একে সবাই লাশেদের দেশে  নষ্টদের উল্লাসে বাজাবে নূপুর  এ সমাজ নষ্ট হতেই ত্রস্ত।    =============== জীবনকুমার সরকার  পরশপাথর অ্যাপার্টমেন্ট ৩ নং গভঃ কলোনী মালদা ৭৩২১০১

লিমেরিকগুচ্ছ ।। কান্তিলাল দাস

১| কাপড় শুকানো মাতাল ঝাঁঝায় বউকে ভীষণ তুইও দিবি ফাঁকি ? সুয্যিটা রোজ নয় ওঠে না, চাঁদ তো আছে নাকি !         চাঁদের আলোয় কাপড় ভিজে         শুকোতে তোর কষ্ট কি যে তোর জ্বালাতে লুঙ্গি ছেঁড়ায় লজ্জা আমি ঢাকি ! ২| রাতপাহারা ভাদর মাসে কোকিল কেন ডাকছে এমন ওরে বলল খুড়ো, এমন হলে ধন নিয়ে যায় চোরে            বউ ছাড়া আর নেই কোনও ধন            সাবধানে রয় অষ্টুচরণ রাতপাহারা দিয়ে সজাগ ঘুমোয় অতি ভোরে! ৩| ঘাটের মড়া খুড়োর গলায় কুটকুটানি, ঢোল হয়েছে ফুলে ভাবল খুড়ি কমবে খাওয়ায় জলে তেঁতুল গুলে            পাড়ার লোকে জুটল ত্বরা            ভাবলো টাঁসবে ঘাটের মড়া গাঁদাল ভেবে বিছুটি যে খেলো মনের ভুলে! ৪। বুদ্ধি বটে হাঁটুন ঘাসে পা ডুবিয়ে ভোরে শিশির-জলে চোখের রোগে ওষুধ সাথে ডাক্তারে যেই বলে         পায়ে ঢেলে দশ শিশি জল...

কবিতা।। সুকন্যা ভট্টাচার্য্য

  পরিণতি  ................. দু-একটি স্বপ্ন একটি মোরগের গলায় ঝুলিয়ে ঘুম থেকে উঠলাম। নীল খয়েরী পালক ঝরে ঝরে পড়ল।  ওড়ার চেষ্টা পৃথিবীর টানের কাছে  তুচ্ছ। সূর্যের লাল চোখের দিকে গলা তুলে কথা বলার সাহস আর মাঝে মাঝে নেচে ওঠার আনন্দ। একসবের পরেও নসাৎ হয়েছে গুরুজনদের আশীর্বাদ। বিদায়ের আগে সূর্য মাঝ গগনে থেকেও অসহায় হত্যালীলার সাক্ষী থেকেছে। ....................................   সুকন্যা ভট্টাচার্য্য কাশী ঘোষ লেন,কলকাতা।

কবিতা ।। ব্রতপালন ।। ভারতী বন্দ্যোপাধ্যায়

ব্রতপালন  ভারতী বন্দ্যোপাধ্যায় এই কথাটা ঠিক বলেছে গোঁসাই তোমার আমার কন্ঠীবদল হলে পৃথিবীর সব ঈর্ষায় গাছের গোড়ায় দু -এক  ফোঁটা বৃষ্টি পড়বে ঝরে, আমিও আমার  তরুণ অঙ্গ মেজে তোমার সঙ্গে গানের মাধুকরী, গাঁ  শহরের সবার ঘরে ঘরে বৌ-ঝিয়েরা মারবে উঁকি -ঝুঁকি, পথে যেতে কৃষ্ণচূড়ার তলে চুড়োর  মধ্যে সাজিয়ে নেবো ফুল আমরা শুধু হাঁটবো মাধুকরী ভালোবাসায় আর হবে না ভুল। ------------------------ Dr bharati Banerjee AC. 71 profullakanan east Kestopur, kol, 700101

দুটি কবিতা ।। আবদুস সালাম

  শূন্যতার গা ঘেঁষে বিশ্বাসের দরজায় বিড়ম্বনা তুলছে মাথা  আটপৌরে জীবন নেমে আসে দ্বিধা দ্বন্দের নিত্যসমাস শূন্যতার ভিতর লেপ্টে  যায় নিষ্ঠুরতার সন্যাসী অভিযান প্রাত্যহিক জীবনে দল বেঁধে অভাবেদের  যাওয়া আসা মন্দ লাগে না  মৃত্যু এখন সহজ লভ্য অহংকার ঘরে ঘরে জ্বলে  দুঃখের উনুন আবর্তনের গা ঘেঁষে  পুড়ে যায় চিতা ভর্তি শ্বাসকষ্ট অগ্নিস্রাব হয় বিশ্বাসী রমণীদের  অপরিণত বোকা কাহিনীর মতো প্রেম  গর্ভবতী হয় আটপৌরে সংসারে নাড়ীর যোগ বলে কিছু হয়না শূন্যতার আগমনে আক্রান্ত হয় ভালোবাসা ধূলোর আস্তরণ জুড়ে  বিচ্ছেদের বিস্তীর্ণ মাঠ অসফল ধূসর স্বপ্নেরা  চৈত্রের ঝড়ে ঠুংরী গায় এভাবেই বিশ্বাসের দরজায় হানা দেয় অপরিচয় আমরা আধুনিক হই প্রেমের রাস্তায় খেলা করে  খোলাম কুচির নিষ্ঠুর আহ্বান    ওরা বাড়ি ফেরে না আর্তনাদের বাতাস ধেয়ে আসছে পাড়ায় রাস্তারা কেঁপে উঠছে থর থর করে বিকেলের মাঠ, আলো কমে এলে ওরা সবুজ ঘাসে রক্তের আলপনা আঁকে অন্ধকার  পাড়ায় নেমে এলে হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকে সন্ত্রাস ধর্মের কাছে প্রশ্ন করি বারবার " ভাত দেওয়ার...

কবিতা ।। অভ্যন্তরীন প্রেম ।। জহির খান

অভ্যন্তরীন প্রেম জহির খান খুব দূরে খুব করে বসে থাকে পোষা কুকুর মাছের কাঁটায় তখন বিড়ালের ঠোঁটে চোট কোলাহলে মেতে পাতিহাঁসের ছানা- পোনা সদর উঠোন জুড়ে হাসে সোনালী রোদেরা ভাব করে হেঁটে যায় কোমল ভেষজ শরীর টেরাচোখ ফেরানোটা বড় দায় হয়ে পড়ছে আর বারান্দায় বসে এক কোকিল বসন্তের ভোর কামভাব ছলাকলায় পিনিক উঠায় জিহ্বায় অথচ উষ্ণ বৌ এর গায়ের গন্ধে মাতোয়ারা দুপুর এই-সব প্রেমে পোয়াতি হয় বিকেলের গান সুসন্ধ্যা লজ্জায় মুখ লুকায় প্রতিবেশী ডেরায় এখন নির্বোধ রাত সুরা পান করে পাহাড়ে উঠে    ========০০০=======     জহির খান  বাংলাদেশ

কবিতা ।। প্রতিধ্বনি ।। অরূপ পান্তি

 প্রতিধ্বনি                          অরূপ পান্তি পর্বতের কোলে চিৎকার করলে ফিরে আসে প্রতিধ্বনি  ।  ফিরে আসে । পাহাড় শোনে না, গুহার ভেতরে চিৎকার করলে গুহা শোনে না । হলঘর কিংবা করিডোরে চিৎকার-- শব্দ ফিরে আসে প্রতিধ্বনি হয়ে ।                 # # বেকার         কর্মহীন          বেকার ক্ষুধার্ত         অন্নহীন           ক্ষুধার্ত নিরাশ্রয়       গৃহহীন            নিরাশ্রয়                    #  # কেবলই প্রতিধ্বনি' আর প্রতিশব্দ ...

কবিতা ।। আলপিন ।। সোমনাথ বেনিয়া

                             গানের ভিতর মন বিভোর দৃষ্টির ব‍্যভিচার খেয়ে নিচ্ছে প্রকৃতির ঠোঁট  অসহায় ডাকনাম পদবির কাছে নতজানু যে চিনছে তার অভিধান হবে হৃদয় স্বপ্নের ভিতর নগর পরিক্রমা বৃন্দাবন ক্রমশ বাতাসার অবতার তবুও প্রতিটি অবাকের পাশে অর্বাচীন মাটি থাকে হঠাৎ করে বিস্ফোরিত উচ্চারণে গতিময় এক লহমায় লিফলেটের বিশেষ দ্রষ্টব্য হতে চায় আদৌ জানে কি পরিক্রমা শেষে সব বেলুন আলপিন মুখ বার করছে গ্রে ম‍্যাটার সরিয়ে ...   ---------------- Somnath Benia 148, Sarada Pally By Lane (Near Sarada Bhavan) P.O. + P.S. - Nimta Dist. - North 24 - Parganas Kolkata - 700 049. Mob. 8697668875 (Call & Whatsapp)

ভ্রমণকাহিনি ।। আনলকপর্বে গরুমারার জঙ্গলে ।। শংকর লাল সরকার

  আনলকপর্বে গরুমারার জঙ্গলে শংকর লাল সরকার ২০২০ সালের মার্চ থেকে প্রায় গোটা বছরটাই ঘরবন্দী থাকতে থাকতে হাঁফিয়ে উঠেছিলাম । ভ্রমণপিয়াসী মন মাঝেমধ্যেই বিদ্রোহ ঘোষণা করছিল । ডিসেম্বর মাস থেকে যখন সবকিছু আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছিল তখনই পরিকল্পনা করলাম , এই সুযোগ কাছাকাছি কোথাও ঘুরে আসা যেতে পারে । নিউ নর্মালের যুগে বেশিদূর গেলে বিপদে পড়তে হতে পারে তাই পশ্চিমবঙ্গের মধ্যেই কয়েকদিনের পরিকল্পনা । ঘন জঙ্গল , চা বাগান , নদী আর দূর দিগন্তে নীল পাহাড়ের উদ্ভাস - ডুয়ার্সের সবুজ প্রকৃতি , নাম না জানা অসংখ্য পাখি আর বন্যজন্তুদের সাহচর্য কটা দিন কাটানোর জন্য ফেব্রুয়ারীর শেষে দার্জিলিং মেলে চেপে বসলাম । মালবাজার থেকে মূর্তিনদী পার হয়ে ঘন জঙ্গলের মধ্য দিয়ে চলেছি। মাঝেমাঝে পথের দুপাশে বুক সমান ঢেউ তুলে চা বাগান কখনওবা ঘন জঙ্গল। চালসা পার হয়ে যেতে যেতে একজায়গায় ড্রাইভার বলল ডানদিকে খুনিয়ার জঙ্গল , বাঁদিকে চাপড়ামারি। এসব নামকরন মানুষের , মানুষের করা ভাগাভাগি। বন্যজন্তুরা অতশত বোঝে না , তাই রাস্তা পার হতে গিয়ে কখনওবা ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ হারায়। ড্রাইভার চঞ্চল , একটা জায়গা দেখিয়ে বলল ,...

দু'টি কবিতা ।। জয়ীতা চ্যাটার্জী

          এ কথাও যথেষ্ট নয় সৃষ্টির অলোক থেকে আজ অন্ধকার নেমে আসে ধীর পায়ে তুমি এসে দাঁড়ালে অকস্মাৎ আমার পাশে কোথাও তুমি নেই তোমার চুলের মতো রাত্রি ঝড়ে পড়ে তোমার গায়ের গন্ধ আমাকে জড়িয়ে জাপটে ধরে তোমার মুখে হঠাৎই বৃষ্টি জ্বলে ওঠে রোমাঞ্চ লাগে আজও আমার উতপ্ত ঠোঁটে তোমার চোখেই এখনও প্রেমের ক্ষমতা আছে তোমার ঠোঁটে এসে দাঁড়িয়েছে কৃপা বাক্য পায়ে পায়ে এসে দাঁড়িয়েছে তোমার কাছে ধীরে ধীরে কথা উঠে যাচ্ছে একাকী দুজনকে রেখে দুজন দুদিকে সিন্ধুর দুপারে এক অঙ্গ কাঁদে দূরের অঙ্গকে ভালোবেসে।।     ওলটপালট ঢেউ আমার হাতের থেকে শাবল খসে যায় তুমুল বৃষ্টিতে তিল তিল করে গড়ে তোলা দূর্গ ধুয়ে যেতে চায় ওই বিশাল পাথুরে অবরোধ আড়াল করে রাখে কতরাত হার্মাদের মতো ক্ষেপা নদী লুকিয়েছে কতো দস্তানা পড়া হাত অনর্গলহীন সজলে জাহাজ চলে ভাসিয়ে নেয় আমায় কোথাও বন্দর আছে কি? অবরণহীন ভাসতে ভাসতে যা আমাকে থামায় সমুদ্রের নাভি থেকে উঠে আসছে শব্দ উঠে আসছে কত কত গান তার জোয়ারে জোয়ারে ধুয়ে যাচ্ছে আমার গার্হস্থ্য সন্ন্যাস আমার নীরবতাই আমার কথা দেরি হয়ে যাচ্ছে আমাকে করে নিতে হবে স্নান।।   ==...

দুটি কবিতা ।। কনকজ্যোতি রায়

 (  ১) ' কম্পাস' দিগভ্রান্ত নাবিকের হঠাত্‍ আবিষ্কার করা কম্পাসের মতো  খুঁজে পেলাম একদিন তোমাকে। সেদিন  বুঝিনি মরচে ধরা কম্পাসটি ছিল অচল । তাই পথ ভুলেছি বারবার । উচ্ছ্বল আশা দুচোখে নিয়ে পাড়ি দিয়েছি উদ্বেলিত পারাবার। প্রাণচঞ্চলতার কল্পনায় নোঙর ফেলেছি যে দ্বীপের তীরে বুঝিনি তা ছিল শুষ্ক নির্জীব।  মেঘাচ্ছন্ন আকাশের দিকে চেয়ে গেয়েছি বসন্তের গান । বিশুদ্ধ বাতাসের কামনায় ছুটেছি যে ডাঙার পানে ,  বুঝিনি তা ছিল ক্ষণস্থায়ী মরীচিকা। অনেক ডুবজল সাঁতরে পাড়ে উঠে বিস্ময়ে দেখি,  ভিজে বালুচরে  পড়ে আছে ভাঙা কম্পাসটির এক তীক্ষ্ম  শলাকা।         ( ২)     " ফ্রেম " মন জুড়ে তারাহীন আকাশ   হৃদয়ে অলীক কল্পনার অনুরনন চোখের পাতায় ভেসে যাওয়া টুকরো টুকরো মেঘ। অনেকদিন বৃষ্টি হয় নি, সিঞ্চনের আশায় পাতাগুলি হলুদ শুষ্ক ধানের শিষে ফলে না মমতার ফসল, ক্ষয়িষ্ণু শিকড় উৎপাটনের অপেক্ষায়, ধুমকেতুর মতো হঠাৎ এসেই মিলিয়ে যায় লাল নীল আর সবুজ স্বপ্নগুলো, ভালবাসার মোড়কে নকল সোনা বাজারদর তারই সবচেয়ে বেশী অলিতে গলিতে হীরের টুকরোর ছড়াছড়ি। প্র...

নিবন্ধ ।। ধর্ষণের সংস্কৃতি ।। শেফালি সর

আধুনিক  প্রযুক্তির এই উন্নত  বিশ্বেও ধর্ষণ  হ'ল একটি  শব্দ। আমাদের  সভ‍্য সমাজে ধর্ষণ  এবং ধর্ষণকারীকে নিয়ে  কিছু  বিশ্বাস  প্রচলিত আছে।কিছু পৌরাণিক  কাহিনীকে বিশ্বাস করলে ধর্ষণ প্রবৃত্তির মধ‍্যে কোনো অস্বাভাবিকতা নেই।কারণ পুরুষের মধ্যে  এই  প্রবৃত্তির বিকাশ ঘটেছে  প্রাকৃতিক  ভাবেই।সেই যে,সভ‍্যতা শুরুর আগ থেকেই। অবাধ‍্য বুনো স্বভাবের মেয়েদের বশে আনতে,তাদের গৃহপালিত  করে নিজেদের  সম্পত্তি হিসাবে  চিহ্নিত করে  রাখতে পুরুষালি  বল প্রয়োগ  করতেই  হ'ত।ধর্ষণ হ'ল সেই প্রয়োগ বিদ‍্যার একটি  স্তম্ভ বলা যেতে পারে। এই পৌরাণিক তত্ত্বের সঙ্গে  কিছু  জনপ্রিয় বিশ্বাসও রয়েছে।যেমন-নারীরা নাকি  আসলে  এই  ধরনের বলপ্রয়োগকারী পুরুষদের প্রকৃত  পুরুষ হিসাবে  মান‍্য করে এবং তাদের  কাছে  নিজেদের  সমর্পন করেই গোপন আনন্দ  অনুভব  করে।তাই তাদের  মুখে বলা 'না' কথাটা  অত‍্যন্ত মূল‍্যহীন। আসলে তা 'হঁ‍‍্যা' বলার ই নামান্তর।যখন থেকে   ...

কবিতা ।। মোয়াল্লেম নাইয়া

বিবর্তণ  মোয়াল্লেম নাইয়া       আমরা যখন ছোট্ট ছিলাম, মা ছিল বুনোফুল স্নেহের পাপড়ি পড়তো ঝ'রে আনন্দে মশগুল ৷ আমরা যখন ছোট্ট ছিলাম, মা ছিল ধানক্ষেত আঁচল দিয়ে রাখত ঢেকে তাড়াতো ভুত-প্রেত ৷ আমরা যখন ছোট্ট ছিলাম, মা ছিল দুধ ভাত ঘন হয়ে পড়তো পাতে সকাল বিকাল রাত ৷ আমরা যখন ছোট্ট ছিলাম,মা ছিল এক পুকুর সবাই সেথায় ডুবসাঁতারে পার করেছি দুপুর৷ আমরা ক্রমে হলাম বড় মা হয়েছে ছোট মা যেন এই সংসারেরই বামন গ্রহ প্লুটো ৷ আজও মায়ের শুকনো চোখে ঝরে অশ্রুবিন্দু হৃদয় তাহার জল টলমল অপার স্নেহের সিন্ধু ৷ মা এখন আর ধানক্ষেত নয় বিছায় না আঁচল পুকুর গেছে ভরাট হয়ে প্রোমোটারি দখল ৷ বিবর্তিত মায়ের এরূপ বড্ড অবহেলা মা যেন এক স্বপ্নপুরী শুধুই ছোট্টবেলা ৷   ------------------০০--------------------       নাম- মোয়াল্লেম নাইয়া গ্রাম+পোষ্ট- ইমামদ্দীপুর থানা-ঢোলাহাট জেলা- দক্ষিণ২৫ পরগণা পিন-৭৪৩৩৯৯ ফোন নং-৯৯৩৩১৯৫৭৫২       

নিবন্ধ ।। চিরসখা হে... ।। অমিতাভ

  চিরসখা হে....   অমিতাভ         একটা খাদের দিকে ঢলে পড়েছি সব্বাই। শুধু একটা টোকার অপেক্ষা, তারপরই তলিয়ে যাব এক অতলান্ত গভীরতায়। হয়তো এতটাই গভীরে তলিয়ে যাব যে হাজার চেষ্টা করেও একচিলতে আলোরও দেখা পাওয়া যাবে না। তবুও একটা টান, একটা গান এখনো তিল তিল করে গড়ে তোলা সভ্যতার মধ্যে আটকে রেখেছে আমাদের। প্রাগৈতিহাসিক যুগের দিকে যদি আমরা চোখ রাখি তাহলে দেখবো মানুষ ভাষা শেখার আগে শিখে গেছিল সুর। সভ্যতার বিবর্তনের সাথে সাথে যখন আমরা অর্থাৎ মানুষেরা নিজেদের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীতে ভাগ করে নিয়েছি তখন সেই সুরও ভাগ হয়ে গিয়েছে আপন আপন বৈশিষ্ট্যে। তবুও ভেতরের একটা চোরাস্রোত সমস্ত সুরকেই ছুঁয়ে  ছুঁয়ে বেঁধে ফেলছে একসূত্রে। ভারতীয় সভ্যতাও এক বহুবর্ণের সমাহার কিন্তু ঐ যে চোরাস্রোত যা সমগ্র ভারতবাসীকে একসূত্রে বেঁধে ফেলেছে তা হল "জনগনমন অধিনায়ক"। আহ!কি প্রচন্ড আবেগ ঐ সুরে আর কি প্রচন্ড আবেগ সুরস্রষ্টাকে ঘিরে। সেই সুরস্রষ্টারই আরেকটি সৃষ্টি "আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহদহন লাগে। তবুও শান্তি, তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে।।" মৃত্যুকে বন্ধু করে নেওয়া এক মহান প্রাণই লিখতে পারেন এমন কথা। প্র...

কবিতা ।। ধারাপাত ।। মাথুর দাস

ধারাপাত মাথুর দাস ধারাপাত ভুলে যাও, সারা রাত জেগে যেমন মেলে না অঙ্ক, কাটাকুটি সার ; দিন কাটে আতঙ্ক আর অশান্তির মেঘে, ভোগবাদে ভোগ দিলে বাদ, শান্তি অপার । ধারাপাত ভুলিয়ে দিয়ে তোমাকে আমাকে গুণের নামতা গোনে অগণন তস্করের দল, গুণী বা গুণিন তারা, বুঝে নেয় অগ্রিম ডাকে কোন্ অঙ্কে কখন শিখর ছোঁবে সম্পদ সকল । বৃথাই হাতে ধরো গণিতের প্রাথমিক পাঠ, সুচারু শোণিত-ফলা ছিন্ন করে মগজের স্নায়ু ; দুঃখকষ্ট যোগ হলে শুধু বিয়োগেরই মাঠ, ভাগশেষে শূণ্যফল পূর্ণ করে অবশিষ্ট আয়ু । **********   মাথুর দাস দুর্গাপুর, পশ্চিম বর্ধমান ফোন/হোয়াট্স্-অ্যাপ : ৯৭৭৫৬৭৯৭৮৩ ***********************************  

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

কবিতা ।। স্রষ্টা ।। বৈশাখী রায়

  স্রষ্টা   বৈশাখী রায় তাদের খুঁজছি, খুঁজেই চলেছি... মস্তিষ্কের গভীর-গোপন কোণগুলিতে। তবুও প্রকাশ্যে আসেনি তারা, শব্দের ভিড় নামেনি হাতে। চাহিদার প্রাচুর্য! সংখ্যা বাড়ছে খুব... আমি স্রষ্টা, রচনাই আমার আরাধনা, সৃষ্টি সাধনা জলাঞ্জলি যাক! জবরদস্তি প্রতিযোগিতায় নামা। মনের ভাব প্রকাশ পায় না, তবুও লেখার স্বাধীনতা।  অর্থ মিলুক ছাই না মিলুক , কঠিন তবু শব্দ খোঁজা।  কলমে তারা ধরা না দিলে, মস্তিষ্ক শব্দ ধার করে । অনুভূতিরা আপন হয় না, অন্যের অনুভবে অট্টালিকা গড়া। উফ! শব্দ মেলানো কঠিন কাজ, মন এবার শব্দের ছক বাধে। ব্যস্ততা, সময়সীমা, প্রতিযোগিতার জটাজালে, স্বতঃস্ফূর্ততা হাঁপিয়ে ওঠে...।।               ___________       নাম-বৈশাখী রায়  ঠিকানা- ঠাকুরনগর (বণিক পারা) ডাক-ঠাকুরনগর  থানা-গাইঘাটা  পিন-৭৪৩২৮৭

বিজয়ন্ত সরকারের গল্প

// রাস্তার ছেলে মন্টু // গতরাতে যখন অঝোর ধারা... স্বস্তির গন্ধ দালানের মালিকদের উরুভাঁজে-কার্নিশে তখন ভেজা শরীরে বছর নয়ের মন্টু আশ্রয় নিয়েছিল একটা জীর্ণ একচালায়। যার নীচে দাঁড়িয়ে শরীরটা অন্তত একটু কম ভেজে ।  বৃষ্টিস্নাত রাতে এই একটাই সমস্যা মন্টুর । সকালে মবিন মিঞাঁকে দেখেই- - আরে চাচা, গতরাতে যা বৃষ্টি, তোমার এই একচালার নীচেই তো ছিলাম । - কী কইতাসস্ ! এই চালায় যত ফুটা, দিনে বারিষ আইসলে মুই বুঝবার পারিনা জুতা সিলাইয়ের জিনিস রাকপো কই আর মুইবা খাড়াবো কই ! - যাই বল চাচা, ভগবান আমার জন্যই তোমাকে পাঠিয়েছে । তা না হলে খদ্দের তো তেমন আসেনা, তবু ওই কটা পুরানা জুতা-কালি-সুতা নিয়ে বসে থাকো।  - হা হা হা (প্রাণখোলা হাসি) সহী বাত্ বেটা...সহী বাত্ । 'যাই ওদিকে হয়তো চা ফুটছে, পরে এসে নিউজ শোনাব তোমাকে' মন্টু বলতে বলতে ঝটপট্ বেরিয়ে যায়।  দাস টিফিন সেন্টারে কাজ করে মন্টু । সারদিন খেটে নাম মাত্র টাকা পায় আর কখনও কখনও পায় এক বেলার টিফিন । অথচ কথায়, চাল-চলনে, ফুরফুরে-উড়ে বেড়ায় বেশ । (ব্যাগ হাতে এপাড়ার গন্যিমান্যি গগন বাবুর আগমন) - আরে ও মবিন...

পুস্তক-আলোচনা ।। পুস্তক : বেগমপুরের ইতিহাস ।। লেখক : ড. দেবব্রত নস্কর ।। আলোচক: অরবিন্দ পুরকাইত

'বেগমপুরের ইতিহাস' :  অনুসরণযোগ্য জন্মগ্রাম-গাথা — অরবিন্দ পুরকাইত আজন্ম যে স্থানে মানুষের শৈশব-কৈশোর কাটে, যৌবন কাটে, তার স্মৃতি সচরাচর অবিস্মরণীয়। যত নগণ্যই হোক না সে স্থান। প্রত্যক্ষভাবে যদি না-ও হয়, আমরণ ছায়াসঙ্গী যেন তা মানুষের! আমাদের ইতিহাসচেতনা বলবার মতো নয়। একাধিক খ্যাতনামা ব্যক্তিত্ব এ আক্ষেপ করে গেছেন, বঙ্কিমচন্দ্রের কথা তো স্বত-ই মনে আসে। আমরা এমনকি ইতিহাস নিয়ে ভাবি-ই না তেমন করে! মৌখিক পরম্পরা একসময় হারিয়ে যেতে থাকে আগের প্রজন্মের মানুষের একের পর এক প্রস্থানের সঙ্গে সঙ্গে, তার লিখিত বা অন্য রূপ তেমন ধরে রাখতে না পারার কারণে।        কেবল শৈশব-কৈশোর-যৌবনই নয়, জন্মতক দেবব্রত নস্করের প্রায়-সাতদশকজোড়া জীবন নিরবচ্ছিন্নভাবে কেটেছে তাঁর ধাত্রী, পালয়িত্রী বেগমপুরে — দুশো-আড়াইশো বছর আগে বর্তমান উত্তর চব্বিশ পরগনার দাড়া গ্রাম থেকে এসে তাঁদের পূর্বপুরুষদের জঙ্গল হাসিল-করা স্থানেই। জন্মভূমির প্রতি দায়বদ্ধতাস্বরূপ লিখেছেন তিনি তাঁর জন্মগ্রামের কথা। বহু মানুষেরই স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ তাঁদের জন্মভূমির সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা। সেই জন্মভূমির প্রতি প্রায়...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতা ।। ভাষার জন্য লড়াই ।। চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু

ভাষার জন্য লড়াই চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু মুখের ভাষা বাংলা ভাষা মাকে ডাকি মা, সারা বিশ্বে তোমার মাগো নেই তো তুলনা। তোমার মুখের প্রথম ভাষা আমার মনের সকল আশা তোমার ভাষায় বলবো মাগো আমার মনের কথা, এই ভাষাতেই জড়িয়ে আছে সকল স্বাধীনতা।  এই ভাষাকে আনতে গিয়ে তাজা বুকের রক্ত দিয়ে রাজপথে সব লড়াই হলো করলো লড়াই কারা, আমার মায়ের দামাল ছেলে রক্ত পলাশ যারা।  তোমার ছেলে লড়াই করে আনলো ভাষা ঘরে ঘরে সেদিন থেকে শহীদ মিনার সাজাই ফুলে ফুলে, বীর শহীদের ত্যাগের কথা যাইনি আজও ভুলে।    ++++++++++++++++++++++++++++++++    চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু শহীদ আবুল কাশেম সড়ক, বড় বাজার, চুয়াডাঙ্গা, বাংলাদেশ।

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৭তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ মে ২০২৫

  প্রচ্ছদ চিত্র: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সূচিপত্র রবীন্দ্রনাথ এবং কয়েকজন নারী ।। অনিন্দ্য পাল পরাবাস্তববাদ ও বাংলায় জীবনানন্দের কাব্যচর্চা ।। রণেশ রায় প্রতীক্ষা ।। চন্দন দাশগুপ্ত আশ্রয় ।। সায়নী সাহা বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র ।। দেবাংশু সরকার প্রণামের প্রভু ।। সুপ্রভাত মেট্যা দুর্ভাগ্যের সম্মুখ সমরে ।। সমীর কুমার দত্ত আচমকা শরৎ ।। অর্ণব সামন্ত প্রতিধ্বনি ✍️ সুবীর কুমার ঘোষ জীবন যেখানে যেমন ।। আরজু মুন জারিন বছর সীমান্তে হিসেব নিকেশ ।। রানা জামান চারটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর আমরা আছি ।। লালন চাঁদ চাওয়া ।। মাথুর দাস কাগজ ফুলে ।। সফিউল মল্লিক সময়ের স্রোত ।। দুর্গাদাস মিদ্যা তুমি মানুষ ।। বদরুল বোরহান দিঘার সমুদ্র ।। মাখনলাল প্রধান পুস্তক-আলোচনা ।। অরবিন্দ পুরকাইত সংযম ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত  চেনা প্রতিবেশী (প্রথম পর্ব) ।। দীপক পাল খেলার মাঠ ।। তূয়া নূর বন্ধু শ্যামলকান্তি ।। শংকর ব্রহ্ম তুমি তোমার মতো থাকলে ।। সত্যেন্দ্রনাথ বেরা গ্রীষ্মে খুবই হিংস্র রবি ।। জগবন্ধু হালদার স্বপ্ন দর্শন ✍️ পার্থ প্রতিম দাস মৌন মুখরতা ।। মুসা মন্ডল রুদ্র বৈশাখ ।। দীনেশ সরকার চিহ্নিত পদযুগ পদাঘাত ।। দেবাশীষ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। প্রথম পর্ব : 'প্রেম' বিষয়ক লেখাগুচ্ছ

সূচিপত্র   গদ্য-গল্প-কবিতা প্রেম বিষয়ক কবিতা ।। উত্তম চৌধুরী   উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || অভিজিৎ হালদার   প্রেম: মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা অনন্ত আলোর নাম ।। আদিল হোসেন মাহি অসমাপ্ত ভালোবাসা ✍️ শিবাশিস মুখার্জী অসমাপ্ত শ্রুতি ।। জয় মণ্ডল রম্যরচনা ।। ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড ।। অভীক চন্দ্র প্রেমিক-জন্ম ।। নবনীতা সরকার সুব্রতাসম্ভব, সহজ গান ।। অর্ণব সামন্ত যৌবনের বিগত ঋণ ।। শম্পা সামন্ত দেখা ।। রাজশ্রী দে খেলাঘর ।। অদিতি চ্যাটার্জি ক্ষণস্থায়ী ।। শ্যামল হুদাতী মন ।। লালন চাঁদ আনমনে ।। সন্দীপ গাঙ্গুলী রজনীর গন্ধে ভেজা রাত ।। কৃষ্ণনীল মিস্টার ব্যানার্জী || আরজু মুন জারিন দুটি কবিতা ।। জয়শ্রী দাস কড়ানাড়া ।। মলয় সরকার অদেখা চিঠির নদী ।। দেবব্রত মণ্ডল অপূর্ণতা ।। ​সুখেন সিনহা জুলি এবং আমি ।। মাখনলাল প্রধান প্রেমের আরেক নাম ।। সুমিত মোদক হৃদয় ঘটিত ।। চঞ্চল পাণ্ডে তোমার জন্য ।। বনশ্রী চক্রবর্তী কল্পপ্রেম ।। প্রদীপ সেন বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায় তিনটি কবিতা ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত

শ্রমিকের অধিকার  চন্দন দাশগুপ্ত          এই নিবন্ধের পরিধিটি বিশাল। ভারতবর্ষের বিভিন্ন শ্রম- আইনানুসারে শ্রমিকদের বেশ কিছু অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ এই ক্ষুদ্র নিবন্ধে নেই, তাই শুধু কয়েকটি প্রধান উল্লেখযোগ্য বিষয়েই আলোকপাতের চেষ্টা করা যাক।            [১] কাজে নিযুক্ত হবার সময়েই প্রত্যেক শ্রমিক একটি নিয়োগপত্র [ পশ্চিমবঙ্গ দোকান ও সংস্থা আইন-১৯৬৩ -র অধীনে থাকা শ্রমিকেরা এক্স (X) ফর্মে ] পাবেন ।           [২] (ক) জুট মিলে কর্মরত কোনও শ্রমিকের পাক্ষিক উপস্থিতি ১২ দিন হলে, তিনি বেতন ছাড়াও অতিরিক্ত ২০ টাকা পাবেন।                 (খ) 'ঠিকা'-তে উল্লিখিত পরিমাণের চেয়ে বেশি চাপাতা সংগ্রহ করলে বাগিচা শ্রমিকেরাও নির্দিষ্ট নিয়মানুসারে অতিরিক্ত টাকা পাবেন।            [৩] (ক) ১০ বা তার বেশি শ্রমিক কাজ করেন, অথবা বিগত ১২ মাসের যেকোনও একদিন ১০ বা তার বেশি কর্মী ছিলেন ( সিনেমা হলের ক্ষেত্রে এটি ৫ জন )-- এমন সংস্থ...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

কবিতা ।। ভাষার জন্য লড়াই ।। চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু

ভাষার জন্য লড়াই চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু মুখের ভাষা বাংলা ভাষা মাকে ডাকি মা, সারা বিশ্বে তোমার মাগো নেই তো তুলনা। তোমার মুখের প্রথম ভাষা আমার মনের সকল আশা তোমার ভাষায় বলবো মাগো আমার মনের কথা, এই ভাষাতেই জড়িয়ে আছে সকল স্বাধীনতা।  এই ভাষাকে আনতে গিয়ে তাজা বুকের রক্ত দিয়ে রাজপথে সব লড়াই হলো করলো লড়াই কারা, আমার মায়ের দামাল ছেলে রক্ত পলাশ যারা।  তোমার ছেলে লড়াই করে আনলো ভাষা ঘরে ঘরে সেদিন থেকে শহীদ মিনার সাজাই ফুলে ফুলে, বীর শহীদের ত্যাগের কথা যাইনি আজও ভুলে।    ++++++++++++++++++++++++++++++++    চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু শহীদ আবুল কাশেম সড়ক, বড় বাজার, চুয়াডাঙ্গা, বাংলাদেশ।

পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার

পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী  ড. সবুজ সরকার পল গগ্যাঁ ( ১৮৪৮ - ১৯০৩)  ছিলেন ঊনবিংশ শতাব্দীর একজন প্রতিভাবান ও প্রভাবশালী ফরাসি চিত্র শিল্পী। গগ্যাঁ তাঁর শিল্পচর্চার  শুরুতে একজন Impressionist শিল্পী হিসেবে  চিত্র অঙ্কন শুরু করলেও ( ১৮৮০ র দশকে) পরবর্তীতে পরিচিতি এবং খ্যাতি পেয়েছিলেন  একজন বিশিষ্ট Post- Impressionist চিত্র শিল্পী হিসেবে। নিজের জীবন দর্শন এবং তাঁর শিল্পকলা গগ্যাঁর কাছে চিহ্নিত হয়েছিল বন্য " savage" হিসেবে।     গগ্যাঁ তাঁর রেখায় এবং রঙে বারে  বারে ফিরে যেতে চেয়েছেন আদিমতার কাছে। একাত্ম হতে চেয়েছেন প্রকৃতির সাথে। মিশে যেতে চেয়েছেন প্রকৃতির সম্মোহনী সত্ত্বায়। ১৮৮০ র পরে সময় যত এগিয়েছে গগ্যাঁ ততই আধুনিক সভ্য সমাজের যান্ত্রিকতা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে গেছেন। বারংবার আঁকতে চেয়েছেন কল্পনার সাম্রাজ্যের স্বর্গীয় অনুভূতিগুলিকে, আর তাঁর ছবিগুলো হয়ে উঠেছে অকৃত্রিম, খাঁটি এবং আদিম। জীবনের প্রকৃত সত্য ও আদিম চেতনার সন্ধানে গগ্যাঁ ১৮৯১ সালে ফরাসি পলিনেশিয়ার তাহিতি দ্বীপে চলে যান। এই দ্বীপে সাধারণ মানুষের জীবন যাপন তাঁকে আকৃষ্ট করে। এব...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। পর্ব: ২ ।। বিষয় : মাতৃভাষা

  সূচিপত্র শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী মাতৃভাষা: অস্তিত্বের শেকড়, ঐতিহ্যের ধারক ও সংগ্রামের ফসল ।। উৎপল সরকার অগ্নিগর্ভ একুশে ফেব্রুয়ারি ।। মুক্তি দাশ সঙ্কটে আমাদের মাতৃভাষা চর্চা।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মাতৃভাষা: হৃদয়ের প্রথম স্বর ।। বাসিরা খাতুন আমি বাংলাকে ভালবাসি ।। সৌম্য পাল মাতৃভাষা ।। এস এ বিপ্লব সুখে দুঃখে মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি ।। সামসুজ জামান শেকড়ের খতিয়ান ।। মামুন চাকলাদার মধুর ভাষা বাংলাভাষা ।। রবীন বসু মাতৃভাষা ।। দিলীপ সামন্ত ভাষার কথা ।। বি এম মিজানুর রহমান স্মৃতির স্বরলিপি ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র একুশ মানে মাতৃভাষা রক্ষায় যুদ্ধ ।। রানা জামান প্রিয় বাংলা ভাষা ।। চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী প্রবন্ধ ভাষার অবমাননা ।। গৌতম সমাজদার আমার প্রাণের ভাষা ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত একুশের লড়াই ।। বিধাত্রী চট্টোপাধ্যায় আমার ভাষা ।। অজয় বিশ্বাস মায়ের ভাষা ।। নজমুল ইসলাম খসরু মাতৃভাষা ।। শোভন চট্টোপাধ্যায় কবিতা ।। মাতৃভাষার স্বাদ ।। রুহুল আমিন বাংলা আমার মা ।। অশোক দাশ একুশের গান ।। দীপঙ্কর সাহা মাতৃভা...

'রঙ' বিষয়ে গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম

  'রঙ' বিষয়ক গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম লাল   আপনি এমন কি আপনিও পারেন কোন সুন্দরী টাইপিস্টের প্রেমে পড়তে যে আপনি খুবই সহজভাবে জীবনকে দেখেন জীবনকে নিজের ভেতর দিয়ে বয়ে যেতে দেন জবরদস্তি ছাড়াই রং নিয়ে কখনো তেমন ভাবেননি ধরুন লাল রং একজন পেইন্টার আর একজন জেনারেলের কাছে ওর মেজাজ নিশ্চয়ই আলাদা হবে হ্যা আমি নিশ্চিত যে নার্ভ ঠিক রেখে একটা তেলাপোকাও কখনো মারতে পারেননি আপনি সেই আপনাকে হঠাৎ খুন করে ফেলতে পারে কোন সুন্দরী টাইপিস্ট আর এই খুনের ব্যাপারটা নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে কী লিখে নিচ্ছে সে কি ডকুমেন্ট তৈরি করছে সেটা তো আপনি জানতেও পারছেন না কেন না মনিটর তো সাদা রং নিয়া আমাদের মারাত্মক ভুল ধারণা রইছে সবুজ হলুদ কমলা নীল বেগুনী কালো সাদা এগুলা কিন্তু সতিকার রং না হ এগুলা সত্যিকার রং হয়া উঠবো যখন এগুলারে তুমি লাল রঙে চুবায়ে নিতে পারবা লাল রঙের গ্লাস আজ অব্দি যতোগুলো গ্লাসে আমি জল খেয়েছি তার সবগুলোর গায়েই ফুল আঁকা আচ্ছা বাজারে এমন কোন গ্লাস কি পাওয়া যায় না যার গায়ে আগুন আঁকা আর আপনারা জানেন আগুন যখন জ্বলে তখন তার আকৃতি তাজা একটা ফুলের মতোই আর লাল হ্যা যখন যে অবস্থায়ই আগুনকে আপনি দেখেন না কেন...