Skip to main content

Posts

শ্রদ্ধাঞ্জলি ।। করুণাময়ী ফ্লোরেনস ।। আনন্দময়ী মুখোপাধ্যায়।।

   করুণাময়ী ফ্লোরেন্স     আমরা ভুলেই গেছি কোমল হৃদয় মেয়েটিকে একবার ও সেই দীপধারিনী  সেবাময়ীকে শ্রদ্ধা জানালাম না তার দ্বিশত জন্মবর্ষপূ্র্তিতে।     200 বছর আগে মেয়েদের সব দেশেই সব কাজেই ছিল বাধার দুর্লঙ্ঘ্য প্রাচীর। সেই পরিবেশেও মেয়েটি নিজের ও অন্য মেয়েদের জন্য একটি অসাধারণ স্নেহ মাখা স্বাধীন বৃত্তির স্বপ্ন দেখেছিল।      তার স্বপ্ন ছিল সেবা দিয়ে অসুস্থ ব্যক্তিদের আরোগ্য করে তোলা। তিনি সারা পৃথিবীর মেয়েদের জন্য একটি সেবামূলক বৃত্তির পথ খুলে দিয়ে গেছেন। সমাজে অবহেলিত লাঞ্ছিত নারীরা শুশ্রুষাকারিনীর বৃত্তিতে এসে নিজেদের মনের মত কাজ ও সম্মান খুঁজে পেয়েছে। অবহেলিত কত নারী মর্যাদা লাভ করেছে।     তিন্নি করুণাময়ী ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল, তার জন্ম হয়েছিল1820 সালে। এই 2020 তে তার 200 বছর পূর্ণ হল। এই অবসরে তাকে একটু সম্মান করি একটু স্মরণ করি।     ফ্লোরেন্সের পিঠা ইংল্যান্ডের ডার্বিশায়ার অঞ্চলের একজন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি ছিলেন। ধনবান পিতা মাতার ঘরে ফ্রেন্ডস তাদের ডারবিশায়ারে বাড়িতে যত্নে লালিত-প...

নারী বিষয়ক নিবন্ধ ।। বনশ্রী রায় দাস

ভেঙে দাও লজ্জার কপট কপাট বনশ্রী রায় দাস এ যেন ছেলে ভোলানো কথা সমস্ত অধিকার তোমায় দিলাম কিন্তু কোনো অধিকারই প্রকৃত   কার্যকরী হয় না কিংবা হতে হতে অর্ধেক জীবন   অথবা গোটা জীবনই পেরিয়ে যেতে পারে । আদপে নারীজাতি কী প্রকৃত মানুষের সম্মান     অথবা মর্যাদা পেয়ে থাকেন? আসলে অধিকাংশ পুরুষ নারীকে একটি নির্দিষ্ট গম্ভীর মধ্যে দেখতেই অধিক সাচ্ছন্দ বোধ করেন । নারী হবে সংসারী অঙ্কশায়িনী লাজবন্তী ইত্যাদি ইত্যাদি । হাতের তালুতে রেখে নাচিয়ে নেওয়া যায় ইচ্ছে মতো।তাই তো ঘরে বাইরে নারী প্রতিক্ষণে নিপীড়িত । যৌনতার নিরিখে যথেচ্ছ বববহার করা হয় বিজ্ঞাপন থেকে শুরু দেবতার আসন পর্যন্ত ।                      পুরীর মন্দিরে প্রায় আটশ বছর ধরে নারীদের দেবদাসী বানিয়ে দেবতার চরণে উৎসর্গ করার রীতি প্রচলিত ছিল। পুরোহিতরা সেই সমস্ত কিশোরী কিংবা যুবতীদের দেবতার চরণে উৎসর্গ করে নিজেরাই যথেচ্ছ যৌনাচার চালাতো।তাহলে ভাবুন এরা এতোটাই পাপিষ্ঠ     মানুষের চোখে ধর্মের ধুলো ছিটিয়ে মন্দিরকে   করেছে যৌনতার কেন্দ্র ভূমি।তবে 2015 সালে এই বর্বরতা বন্ধ...

নারীপাচার কেন? ।। নিবন্ধ ।। শেফালী সর

নারীপাচার কেন? শেফালি সর আমাদের আধুনিক ও উন্নত সভ্য সমাজে নারীরা অবস্হান ঠিক কোথায় সেটিই আগে জেনে নেওয়া দরকার। একসময় আমাদের মনুষ্য সমাজ ছিল মাতৃতান্ত্রিক। মায়ের পরিচিতিতেই সন্তানের পরিচিতি হ'ত। ঠিক এমনি ধর্মবিশ্বাসের জন্য নারী পূজিতা হ'তেন কখনো মাতৃরূপে,দেবীরূপে। মানব সমাজের গোড়ার দিকে মানুষের প্রয়োজনের দুটি  কাম্য বস্তু ছিল-একটি সন্তান ও অপরটি হলো শস্য। যাযাবর জীবনের অনিশ্চয়তার হাত থেকে মুক্ত হ ওয়ার জন্য , প্রকৃতি ও হিংস্র জীব জগতের সাথে লড়াই করার জন্য চাই গোষ্ঠী আর শস্যের প্রাচূর্য।আর ঠিক এই কারণেই মানুষের দৃষ্টিতে নারী ধরিত্রী। সন্তান ধারণের প্রাকৃতিক নিয়ম থাকার জন্য নারী মহিমান্বিত অবস্থায় প্রতিষ্ঠিত হ'ল সমাজে তথাকথিত মানুষের দৃষ্টিতে। তাই সমাজে মাতৃ পূজার সৃষ্টি হ'ল। নারী মাতৃরূপে প্রতিষ্ঠিত হ'ল সমাজে।     মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রাম যত ই এগিয়েছে পুরুষের সামাজিক শ্রম তত ই হয়ে উঠেছে দক্ষ।উন্নত হয়েছে তাদের হাতিয়ার।এর জোরে ই পুরুষ সামাজিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত উৎপাদন করতে পেরেছে। সেই অতিরিক্ত সম্পদ পরিনত হয়েছে সম্পত্তিতে।সেদিক থেকে নারীদের গার্হস্থ্য...

কবিতা ।। স্বপ্ন ।। মুহা আকমাল হোসেন ।।

 স্বপ্ন  মুহা আকমাল হোসেন  স্বপ্নের হিসাব ভুলভাল হলে,  চাঁদ মরতে আসে নৌকার নিচে।   আমাদের ভাগ্যের  লন্ঠনের কাছাকাছি  ছড়ানো  শানিত জোছনা কণা।  কপাল পোড়া কটা মাছ নিখোঁজ!  যথেষ্ট জলজ সন্ত্রাসে!  শূন্য বন্দর! উন্মাদ হাওয়া।  আখড়ার পরকীয়া আড়াল করে                                বট অন্ধকার!  যৌবনের রিড থেকে উড়ে যায়  জোনাকির ঠান্ডা আগুন...  ------- Author & Social Worker Md. Akmal Hossain  Editor - Yatrik  Address :  Vill. Brohmottor, P.O. Choto Sujapur, P.S. Kaliachak, Dist. Malda Pin-732206, West Bengal, India. Mobile : 9734934497 Youtube : https://www.youtube.com/channel/UCnpcss2bALK2doedPPTRkSg?view_as=subscriber          

দুটি কবিতা ।। তুষার ভট্টাচার্য

    শিকড়ের মায়াটানে _____________________ বীজপত্রের ভিতরে আমি লুকিয়ে রাখি জীবনের  অপূর্ণ সাধ স্বপ্নগুলি , চারপাশে শীতার্ত বাতাসে শুনি  শুকনো হলুদ ঝরাপাতার মর্মর গান , আহত পাখির দু'ডানায় দেখি  যন্ত্রণার ক্ষত চিহ্ন ; তাই ভাঙাচোরা ব্যর্থ জীবন আমি বেগুনি রোদ , ঝড় ,ধুলো বৃষ্টি,উত্তাল সমুদ্র হাওয়ার হাত থেকে আড়াল আবডালে লুকিয়ে রাখি  বীজপত্রে , আমার শিকড়ে ; বুকের ভিতরে জমিয়ে রাখা অনন্ত  আকাশ কুসুম স্বপ্নগুলি  আমি দিয়ে যাব সন্তানের দুই হাতে ; আমি বেঁচে থাকি শুধু শিকড়ের মায়াটানে শূন্যতার বাগানে  _________________________________   শূন্যতার অশ্রু বাগানে মরা ঘাসের বুকে জমে আছে যত গূঢ় অভিমান , দু'চোখের পাতায় লেগে যত  আছে ব্যথার গান , সেখানে যদি কখনও ভেসে আসে  নদীর তির তির ঢেউ , কল কল কলতান , তবে ভাঙা হৃদয়ে আবার  নীরবে জেগে উঠবেই প্রথম ভালবাসার মায়া মৃদঙ্গ স্মৃতির ঝুমুর গান ________________________________________ তুষার ভট্টাচার্য /পো:কাশিমবাজার/বহরমপুর/ জেলা :মুর্শিদাবাদ /৭৪২১০২ / দুরভাষ :৯৪৭৫৭৭৪৯৯৬ / ০৪ /১০ /২০২০ /

কবিতা // বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়

পার্থক্য চোখের উপর হেঁটে যাচ্ছে জন পদ একটি সমুদ্রের ভেতর কালো গর্ত গিলে নিচ্ছে সব মাস্তুল অসংখ্য ঘাস আর বৃক্ষ পৃথিবী একটি দূরত্ব শুন্য হয়ে আসছে আছড়ে পড়া ঢেউ এর মুখে। প্রান্তর জুড়ে গড়ে উঠেছে প্রাচীন হাট দামের ফারাক এ চিনি নিচ্ছে ভুয়ো অস্তিত্ব টাই প্যান্ট আর ধুতির ফাঁকে সেই একই মাংস পিন্ড একটি অর্ধভেদ্য পর্দার আড়ালে নর্দমার আলেয়া হঠাৎ সূর্য ডুবে গেলে একটি কালো আঁধার দিয়ে মুছে ফেলা হয় পার্থক্য। সব জাহাজই  পথ হারিয়ে হয়ে ওঠে বেদুইন পথের পার্থক্য জল হয়ে যায় তখন শুধুই ভাসা জনপদ নিশ্চিহ্ন হলে বুজে আসে চোখ। ################## বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায় গ্রাম পোস্ট.  বৃন্দাবনপুর বাঁকুড়া 9732154888

তিনটি কবিতা ।। দীপ্তেন্দু বিকাশ ষন্নিগ্রহী

 ১. বিষ চৌচির  দালানের আশ্রয় স্থলে খুলে রেখেছো বিষদাঁত খোলস সেখানের অসমাপ্ত জলসায়  শেষরাতের ছোবল স্মৃতি  দেওয়ালের নিস্প্রান তেলছবি ঘসে যাওয়া মুখ দিব্বি হাসছে বাঘ মেরে গোঁফে তা দিচ্ছে একছাদ পায়রারা দানা খায় আজন্মকাল।  ২. ফুটপাত  ফুটপাতে আশ্রয় নিয়েছে পৃথিবী  কালো রাত্রি বিশাল চাদর ল্যাম্পপোস্টর থেকে বিষাদ আলো সেকেন্ডর কাটায় ছবি আঁকছে প্রহর মাথা গুনছে চকিতে চকমকি চোখ  হেডলাইটের ঠিকরে পড়া আলো  খুঁজছে না আর নিজের লোক.. ৩. মাকড়সার গল্প জাল পাতা আছে  প্রতিটা কোনায় ওখানে আটকে যায় ললিপপ ভোর মাসকাবারি ফর্দ  সিড়ির নীচের জালে খয়ে যাওয়া সুকতলা  আরেকটা জালে দোলখায় তালি মারা ব্যাগ তার ভিতরে ফাও পাওয়া দুটো লংকা...

মুক্তগদ‍্য ।। সোমনাথ বেনিয়া

কী কারণ, অকারণ এবং স্ফুরণ  সিগারেট ধরালে প্রেমিকার মুখ মনে পড়ে নাকি প্রেমিকার মুখ মনে পড়লে সিগারেট ধরাই! যার কাছে এর উত্তর খুঁজতে যাবে সেই তো প্রথম বলেছিল, "তুমি সিগারেট খেতে পারো।" আবার শেষে বলেছিল, "ওসব ছাইপাঁশ না খাওয়াই ভালো।" অত‌এব এই দ্বন্দ্ব সমাস (কথায় বলে শিখতে লাগে ছ-মাস) পরীক্ষার খাতায় রসগোল্লা আনবে নাকি মিহিদানা, জানা নেই। এই না জানার অনেক সুবিধা আছে। পাশের বাড়ির নারকেল গাছ থেকে ছাদে দাঁড়িয়ে নারকেল পেড়ে না জানার মতন সুবিধা। আড়চোখে কোনো অষ্টাদশীকে আন্ডারলাইন করে দিলাম, তা সে নিজেও জানলো না! অথচ এক হাতের উপর অপর হাত রেখে হৃদয়ের কাছে নিয়ে বলেছিলাম, "যাহা বলিব সত‍্য বলিব, সত‍্য ছাড়া মিথ‍্যা বলিব না!" কিন্তু ঠিক সময়ে মহাশয় অস্বীকার করে নির্বিকার ভাবে পেরিয়ে গেছে খেয়ালি পার্কের গলি, আকাশের অন্তর্বাসে থাকা বিকেল কিংবা বাথরুমে চিত হয়ে থাকা আরশোলার ছটফটানি। ঘটনাচক্রে ভালোবাসার ক্রেডিট কার্ডে রোদ ছিল। তাই সহজেই আকৃষ্ট হতো তুলারাশির দল। মৃদু হাসলে স্কুটিতে বসার জায়গা বেড়ে যেত। বাম্পারে (ঘুমন্ত পুলিশ) ইচ্ছে করে হোঁচট খাইয়ে আর‌ও কাছে আনা। কেউ কি কিছুই বুঝতো...

ছোটগল্প।। শিকার ।। অলোক দাস

শিকার                                                                         আজ বিকালে কালবৈশাখীর প্রচন্ড ঝড় বৃষ্টি হচ্ছে। কালো মেঘ চারিদিকে অন্ধকার করে রেখেছে। খেলার জন্য অনেকেই মাঠে এসেছিল; হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি আরম্ভ হওয়াই সবাই ক্লাবেই ঢুকেছে। বিকালে খেলতে না পেলে মনটা কেমন বিষন্ন হয়ে যায়; আজও সেই রকম বোধ হল। এতো জোরে ঝড় হচ্ছে যে ক্লাবের দেওয়াল পর্যন্ত কাঁপছে। আমরা সবাই ক্লাবের ভেতরে নিস্তব্ধ হয়ে বসে আছি। তবে তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না, মিনিট কুড়িকের মধ্যেই থেমে গেল। কিন্তু যেটার জন্য আমাদের বিকালে মাঠে আসা, সেটা আর হলো না; ক্রিকেট খেলাটা মাটি হয়ে গেল।  হঠাৎ অন্ধকার হয়ে আসা জগৎ থেকে আলো বিচ্ছুরিত হলে আমরা বেশ কয়েকজন প্রফুল্ল মনে ক্লাবের বাইরে এলাম। দেখলাম কাবেল দাদু গুটি গুটি পায়ে ক্লাবের দিকে আসছে।  আমাদের কাছে এসে একটু ফিক করে হেসে বলল, "কিরে তোদের খেলার তো আজকে বারোটা বেজে গেল!" অমিয়দা ...

ছড়া ।। টুম্পা মিত্র সরকার

আষাঢ়ের পদ্য আয় রে বেলি আয় রে কদম চম্পা বকুল জুঁই লাজুক লাজুক বৃষ্টি ফোঁটায় তোদের খানিক ছুঁই ৷ আয় হিঞ্চে আয় কলমি আয় মালঞ্চবন তোদের সঙ্গে মনের কথা বলি কিছুক্ষণ। আয় রে কাগা আয় রে বগা মাছরাঙা আর হাঁস বৃষ্টিমধুর এই দিনেতে ছুটির অবকাশ ৷ আয় রে দিঘি আয় রে পুকুর ভরা নদীর কূল জলপদ্য লিখছি বসে খুশিতে মশগুল ৷ ......... টুম্পা মিত্র সরকার গ্রাম+পোষ্ট—দেয়াড়া জেলা—পূর্ব বর্ধমান পিন—৭১৩৪০৯ ফোন—৯৭৩২০৯১০৩৭ ভারত বর্ষ

স্মৃতিগদ্য // সুবীর ঘোষ

শারদীয় আবহে টুকরো কথা   অভূতপূর্ব পরিস্থিতি এ বছর । ফেব্রুয়ারির শেষে যখন শারদীয় সংখ্যার জন্য গদ্য লেখায় হাত দিয়েছি তখন কে জানত এ বছর সব কিছু লন্ডভন্ড হয়ে যাবে । শক হুন বর্গি এদের লুণ্ঠনে মানুষ যেভাবে দিশাহারা হয়ে যেত এক অদৃশ্য ভাইরাসের আক্রমণে সারা পৃথিবী একপ্রকার অবরুদ্ধ । লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণনাশ । যাতায়াত ব্যবসা বাণিজ্যের পথ অবরুদ্ধ । এ হেন পরিস্থিতিতে এ বছর দুর্গোৎসব হবে কী না সংশয় ছিল । যাই হোক্ , মানুষের আবেগ ও এই উৎসবের সঙ্গে জড়িত বিপুল আয়ব্যয়ের কথা মাথায় রেখেই স্থির হয়েছে পুজো হবে । নিয়মবিধিও পালন করতে হবে করোনা সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে ।   এ বছর তাই পুজোর সেই উন্মাদনা নেই । মানুষের মন ভালো নেই । বহু বাড়িতে প্রিয়জন হারানোর শোক । তবু জীবনকে এগিয়ে যেতে হবে । সংসারচক্রের এটাই নিয়ম । এ বছর আবহাওয়া কেমন থাকবে জানি না। বাতাসে হেমন্তের আভাস পেতে শুরু করেছি । এ বছর ঋতুচক্রের ভারসাম্য অনেকটা ফিরে এসেছে । সুষম বৃষ্টি হয়েছে । অবশ্য আমফানের মতো মারাত্মক ঘূর্ণিঝড়ও কিছু কিছু স্থানের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়ার সময় বিপুল ক্ষতিসাধন করে গেছে মানুষের । ...

ছড়া // রিয়াদ হায়দার

মায়ের কাছে ,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,, কাশের বনে দোলা দিয়ে শরৎ যখন আসে, মনটা তখন উদাসী হয় স্বপ্নতরী ভাসে! চারিদিকে ঢাক গুড় গুড় মায়ের ছবি মনে, মা আসছেন ভূবন জুড়ে সবার ঘরের কোণে! আদর দিয়ে সোহাগ দিয়ে করবো মা'কে স্মরণ, শিউলি-পলাশ রাঙিয়ে দিয়ে করবো মা'কে বরণ! তাঁর ছোঁয়াতে ধন্য হয়ে গাইবো জয়গান, মায়ের প্রতি তাইতো সবার অপূর্ব এক টান! মা আসছেন ভুবন জুড়ে খুশির ঝিলিক উঠুক, হিংসা-বিবাদ ভুলে গিয়ে সম্প্রীতি ফুল ফুটুক! মা আসছেন শরৎ মেখে ভরিয়ে সবার প্রাণ, চাইবো মাগো সব সমস্যার হোক না অবসান! ,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,, রিয়াদ হায়দার সরিষা আশ্রম মোড় পোস্ট - সরিষা থানা - ডায়মন্ড হারবার জেলা - দঃ২৪ পরগনা

রবীন বসুর কবিতা

হারিয়ে গেলেন জীবনানন্দ দাশ এই দেখুন, বলতে ভুলে গেছি। কাল সন্ধ্যায় রাসবিহারী মোড় থেকে দেশপ্রিয় পার্ক পর্যন্ত হেঁটে আসছিলাম। আমার সঙ্গী কে ছিল জানেন? ওই যে-- 'চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা'। ম্লান মুখ নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন রাসবিহারী  মোড়ে কল্যাণদার বুকস্টলের এক কোণে ; ভাসা ভাসা চোখে দেখছিলেন পত্র-পত্রিকা, পুরনো বই, নতুন বই, অক্ষরের সজ্জাবিন্যাস-- করোনা-আক্রান্ত দিন কেমন ফাঁকা ফাঁকা, নিজের মধ্যে নিজে মুখ গুঁজে নিঃসাড়ে আছে ; আমি পায়ে পায়ে পাশে গিয়ে দাঁ ড়াই, নিঃশব্দে। তিনি দেখছেন, তিনি দেখছেন না। তবু যেন  বড়ই অস্থির। রামকৃষ্ণের ভাবসমাধি হত ; আর এই কবি কি ভাব-সমাহিত। একটা পত্রিকা হাতে নিলেন, অন্য হাতে আমাকে খামচে ধরলেন। ' দেখ, দেখ ! আমার নামে পত্রিকা ! আমার নামে ! আমি তো দূরতর দ্বীপ ! ঘাড়ভাঙা মেঠো ইঁদুর !  শিশিরের জল ! লাশকাটা ঘরে শুয়ে আছি  টেবিলের পরে ! চল চল, তোমাকে পার্কে নিয়ে যাবো।  সবুজ ঘাস, নীলাভ অন্ধকার, রুপোলি জ্যোৎস্না আর অনন্ত নক্ষত্রবীথি…  দেখাব তোমাকে, দেখবো… আমি এক মর্বিড আত্মমগ্ন চেতনায় আচ্ছন্ন হয়ে তাঁর  পাশেপাশে হাঁটতে ল...

কবিতা // ইন্দ্রাণী পাল

  দিনলিপি এক একটা সুখের দিন খচখচ করে আর আমি একটা পোড়ো বাড়ির সামনে বসে থাকি মুড়ি আর মিছরি নিয়ে এখানে মানুষেরা খুব তাড়াতাড়ি হাঁটে ছায়ার ভিতর ছায়া দীর্ঘতর হয় আর বিদেশী মেয়েরা কুকুর নিয়ে ঘুরতে বেরোয় আমিও হাঁটতে থাকি পিছোতে পিছোতে একটা খাদের ধারে এসে দাঁড়াই একটা চোখ নেমে যায় অন্ধকারের ভিতর।   ************************************************************ Indrani Pal Vill-Janai (Samanta Para) P. O.-Janai  Dist.-Hooghly Pin-712 304 indranipal14@gmail.com

কবিতা ।। সম্পা পাল

নীল আয়োজন স্বপ্ন এখন কেমন আছে ? তারপর কি ঘুম এসেছিল ? বছর চলে গেছে ঘুম স্টেশনের ব‍্যালকোনিতে এখনও একটি পরিচিত রোদে শীতের শিহরণ ঘন্টা, মিনিট জেগে যায় পাথর পড়ার আওয়াজে গল্পের শুরু এখানেই, পশমিনা শাল গায়ে জুলাই এখনও অনন্ত অনুভব অমিত লাবণ্য ভিজেছিল এই বৃষ্টিতেই যদিও হ্দয়পুরের রাস্তা নগরেই শেষ তবু সাদা বক ঘন নীল আকাশের দিকে.... যদিও রঙের আকাল এখনও দিনের শুরু এবং শেষে তবু সীমানায় নীল আয়োজন  -------------------------- সম্পা পাল , শিলিগুড়ি 

কবিতা ।। সুমনা ভট্টাচার্য্য

ইলিউশন    একটা কবিতার হাত ধরে চলে যেতে পারি বহুদূর অলিগলি পেরিয়ে চৌমাথার মোড়ে … তারপর ধানের ক্ষেত আর আকাশের সমীকরণ  দুপাশে রেখে পৌঁছে যেতে পারি  কাঁটাতার আর ছেঁড়া কাঁথা সেলাইয়ের গল্পগুলোর কাছে - কিন্তু হয় না ক্ষত বিক্ষত দিনগুলি সামনে এসে দাঁড়ায়- কানের কাছে ফিসফিস করে ওঠে "চলে এসো, এখনো কিছুই গোছানো হয় নি …" অতএব……বাস স্টপেজের হাতলভাঙা চেয়ারে কবিতাকে অপেক্ষায় রেখে চলে আসি অগোছালো দিনের ভাস্কর্য নির্মাণে ; দিনের শরীরে মুখ হাত নখ দাঁত জুড়তে জুড়তে আর সেই নখ দাঁতের নিরন্তর মোকাবিলা করতে করতে টের পাই আমার ফেলে আসা কবিতার রোদপোড়া তামাটেবর্ণ শরীরের দিকে বাদামওয়ালা এগিয়ে দ্যায় দশ টাকার উপশম, ঈশ্বর ভেবে পথচলতি ভিখারি কবিতার দিকে বাড়িয়ে দ্যায় টি নের বাটি - আর পানের দোকানের দড়িতে ঝুলে থাকা স্ফ‌ুলিঙ্গ ওষ্ঠে ছুঁয়ে ছেলে মেয়েরা কবিতার বুকে গেঁথে দ্যায় ধোঁয়ার গুল্ম । টের পাই বৃষ্টির ফোঁটায় কবিতার শরীর থেকে ওঠা সোঁদা ভাপ কেমন সোজা উঠে যায় শহরের বাক্স খোপের ঠিকানায় - সেসময় আমার মেয়ের চোখ জ্বল...

গল্প ।। মৌসুমী দত্ত

  ঋণশোধ  ................................... সখি , ভাবনা কাহারা বলে, সখি, . যাতনা  কাহারা বলে তোমরা যে বলো দিবস-রজনী 'ভালবাসা ' 'ভালবাসা '-  সখি ভালবাসা কারে কয়! সেকি কেবলই  যাতনাময়। রবীন্দ্র সংগীত প্রতিযোগিতার শেষ প্রতিযোগী 'পিয়াসা ' যখন মঞ্চ থেকে নামল তখন ঘড়িতে রাত নয়টা। এরপর ফলাফল ঘোষণা ও পুরষ্কার বিতরণী উৎসব । প্রত্যেক বারের মত এবারও প্রথম পুরস্কার পিয়াসার ঝুলিতে। সব কিছু যখন মিটলো, তখন ঘড়ির কাঁটা দশটা পার করেছে । মা নিশ্চয় রাস্তা - বাড়ি করছেন । বাবা অফিসের কাজে বাইরে গেছেন। না হলে এই সব দিন গুলো তে উনি উপস্থিত থাকেন । দেরি না করে পিয়াসা পা চালালো । ওদের বাড়ির সামনের গলি টা অন্ধকার।  হঠাৎ দেখে ' অয়ন "উলটো দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে রয়েছে । কাছে যেতেই বলল ''এদিকে একটা কাজে এসেছিলাম ,কিন্তু কাজটা হল না , তোমার বুঝি কমপিটিশন ছিল? দেখা যখন হয়েই গেল, চলো বাড়ি পৌছে দিয়ে আসি।'' ' পিয়াসা জানে অয়ন ওর জন্যই অপেক্ষা করেছে। গান গাওয়ার সময় দূরে দাঁড়িয়ে থাকা অয়নকে স্টেজে থেকে ও লক্ষ্য করেছে । পিসতুতো দাদার বন্ধু অয়ন। সেই সুত্রেই ওর সাথে পরিচয় । ঠিক ...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

তিনটি কবিতা ।। জহির খান

 তিনটি কবিতা ।। জহির খান বালু নদীর কথা কি সব কথা তোমার সাথে কতকাল আগে পাড়ে ওপাড়ে অসংখ্য পরিবার পরিকল্পনা... জলে সুরে সুখ শরীর দোলে ভেসে আসে এক ছবি নদীর নাও ভালোবাসায় পাশে ছিলো শালবন                         খুব নীরবে নিভৃতে তখন স্পর্শ তোমার বহু শ্রমিকের ঘাম ঝরানো সুখ ট্রেনের বগি গুলোও চেয়ে থাকতো এক অপলক দৃষ্টি  নিয়ে   তোমার দিকেই... আর এভাবেই চলে মাঝি-মল্লাদের পারাপার                                                       প্রতিদিন তবু কত-শত প্রেমিক ঠায় নেয় তোমার বুকে ভালোবাসায় ডুবন্ত সেই ভুল বুঝেছি আজ অতঃপর যৌবনে খুঁজে পাওয়া বালু জলে প্রেম-প্রণয় তোমাকে কেটে টুকরো টুকরো করে নেয়     ...

Amazon Great Indian Festival 2026

  Explore Deals and Offers : Click Here Explore Deals and Offers : Click Here.

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

জুজুবুড়ির কেরামতি ।। গোবিন্দ মোদক

জুজুবুড়ির কেরামতি  গোবিন্দ মোদক জীবনপুরের জামতলাতে থাকতো জুজুবুড়ি সকাল-সন্ধ্যা দুই আঙুলে বাজাতে সে তুড়ি। তুড়ি মেরে জুজুবুড়ি বলতো – “সবই ভুল যতোই হিসেব করে মাপো ফাঁক সেই একচুল!” মানলে ভালো, না মানলেও দেবো যে সুড়সুড়ি  ঘাবড়ে গিয়ে ফেলবে খেয়ে চিটাগুড় আর মুড়ি! খাওয়ার শেষে এসেই যাবে জব্বর এক ঘুম কানের কাছে কাকতাড়ুয়ার তাক দুমাদুম দুম! জুজুবুড়ি কাকতাড়ুয়ার বউয়ের ঘরের মাসি পকেটেতে জমিয়ে রাখে একশো রকম হাসি।  হাহা - হিহি - হোহো - হেঁহেঁ – সুরেলা, বেসুরো  হাসার সময় নাকেতে দেয় নস্যি-নেশার গুঁড়ো! হ্যাঁচ্চো! হ্যাঁচ্চো! হাঁচি হাঁচে মাসি জুজুবুড়ি ন্যাড়া ছাতে ওড়াতে যায় শতরঞ্জি ঘুড়ি! লাটাই ধরে যেই না দেয় বেমক্কা এক টান জুজুবুড়ির হাত দু'খানা ভেঙেই খানখান! চেঁচায় তখন জুজুবুড়ি ইনিয়ে বিনিয়ে কাঁদে সূর্য তাকে আদর করে নিয়ে যে যায় চাঁদে! চাঁদে গিয়ে জুজুবুড়ি চরকা কাটে জোরে  ইচিং বিচিং গান গেয়ে যায় সারাটা রাত ধরে! ___________________________ গোবিন্দ মোদক। রা...

মা তোমাকে ।। জারিন তাসনিম

মা , তোমাকে আর ধরতে পারছি না ...   জারিন   তাসনিম তোমাকে আর ধরতে পারছি না ... তোমার হাতটা , পা - টা ধরতে পারছি না । তোমার মুখটা ছুঁয়ে বলতে পারছি না — “ মা , আমরা আছি । ” শুধু তোমার কবরের মাটির ওপর হাত রেখে বসে আছি । মনে হচ্ছে , এই মাটির ঠিক নিচেই তো আমাদের মা ... আমাদের সেই মানুষটা , যাকে এতদিন ধরে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আমরা প্রতিটি মুহূর্ত লড়েছি । মা , তুমি কি বুঝতে পারছো , আমরা তোমার পাশেই আছি ? তুমি কি আমাদের কান্না অনুভব করতে পারছো ? তুমি কি জানো , আমরা তোমাকে ছেড়ে যেতে পারছি না ? আল্লাহ মানুষকে এত মায়া দিয়ে কেন পৃথিবীতে পাঠান , মা ? কেন এত ভালোবাসা দেন , যদি একদিন সেই মানুষটাকেই এভাবে মাটির নিচে রেখে আসতে হয় ? এই কষ্টটা যে কতটা কলিজা ছিঁড়ে দেয় , মা — আমি কোনোদিন ভাবিনি । তোমার জন্য আমরা এখন আর কিছু করতে পারছি না । শুধু দোয়া করতে পারছি । হে আল্লাহ , আমাদের মায়ের কবরের আজাব সহজ করে দিন । তাঁর কবরকে নূরে ভরে দিন , প্রশস্ত করে দিন । তাঁর স...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

কবিতা ।। স্রষ্টা ।। বৈশাখী রায়

  স্রষ্টা   বৈশাখী রায় তাদের খুঁজছি, খুঁজেই চলেছি... মস্তিষ্কের গভীর-গোপন কোণগুলিতে। তবুও প্রকাশ্যে আসেনি তারা, শব্দের ভিড় নামেনি হাতে। চাহিদার প্রাচুর্য! সংখ্যা বাড়ছে খুব... আমি স্রষ্টা, রচনাই আমার আরাধনা, সৃষ্টি সাধনা জলাঞ্জলি যাক! জবরদস্তি প্রতিযোগিতায় নামা। মনের ভাব প্রকাশ পায় না, তবুও লেখার স্বাধীনতা।  অর্থ মিলুক ছাই না মিলুক , কঠিন তবু শব্দ খোঁজা।  কলমে তারা ধরা না দিলে, মস্তিষ্ক শব্দ ধার করে । অনুভূতিরা আপন হয় না, অন্যের অনুভবে অট্টালিকা গড়া। উফ! শব্দ মেলানো কঠিন কাজ, মন এবার শব্দের ছক বাধে। ব্যস্ততা, সময়সীমা, প্রতিযোগিতার জটাজালে, স্বতঃস্ফূর্ততা হাঁপিয়ে ওঠে...।।               ___________       নাম-বৈশাখী রায়  ঠিকানা- ঠাকুরনগর (বণিক পারা) ডাক-ঠাকুরনগর  থানা-গাইঘাটা  পিন-৭৪৩২৮৭

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,