কবিতার কৃষ্ণচূড়া খুব মনে পড়ে- কতদিন কৃষ্ণচূড়ার শাখা ধরে কবিতা হয়ে ঝুলে থেকেছি বেইলী রোডের মোড়ে। একাট্টা ভাবনাগুলো মেঘের স্পর্শ পেয়ে ঝরে পড়েছে ফোঁটায় ফোঁটায় অমল শব্দের নিরেট বুনন হয়ে। এখন শব্দের বাড়িতে পাহারা বসিয়ে রাখে অক্ষর। ট্রপোস্ফিয়ারের আচ্ছাদন ছিঁড়ে আঙিনায় নিমন্ত্রণ রাখে রোদ্দুর। বেগুনী শব্দের হাতে স্বপ্ন পরিয়ে দেয় বিহগী বাক্য। ময়ূরাক্ষীর মত তাকিয়ে থাকে মেঘের অঞ্জনে কবিতার শ্লোক। ক্রান্তীয় সূর্যের কাছে লিখে জানিয়েছি প্রত্যাবর্তন। পূর্ব থেকে পশ্চিমে ভেসে যাওয়া বঙ্কিম তিমিঙ্গিল এর মত কলমের নিঃসরণে গিলে নেয় পদ্যের স্ফীত ব্যঞ্জক। অনুভবে বিস্তীর্ণ মাঠ সুনীল আকাশ ছুঁয়ে সীমান্তের নীলাভ সমুদ্র আর প্রখর অগ্নি তাপে গলে যায় অভিধানের ভাস্কর্য। আজ অনেক দিনের পুরোনো সেই কৃষ্ণচূড়ার শাখে, কবিতাকে ভীষণ মনে পড়ে। =======০০০======= শাহরিয়ার রুবাইয়াত লুৎফর রহমান সড়ক, নথুল্লাবাদ, বরিশাল, বাংলাদেশ। মোবাইল/হোয়াটস্এ্যাপঃ +৮৮০ ১৭২০ ৪২৩৭৭৭ স...
গুচ্ছকবিতা: ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...