বৃত্তহীনা — "দেখো লাবণ্য, কথা শুরু হওয়ার আগেভাগেই একটা হিসেব আমি পরিষ্কার করে দিতে চাই। কারণ আমি জানি, তোমার যা তেজ তাতে নাতো শেষমেশ অর্থহীন হয়ে যাবো এই আমিই! তবু তুমি কিছুতে পোষ মানবে না।" — " ভালোবাসলেই বুঝি পোষ মানতে হয়?পোষ তো সামান্য ইঁদুরছানাকেও একটু যত্নআত্তি করলে ঠিক মেনে যায়! রাগ, অভিমান, হিংসে, কথা কাটাকাটি, অকারণ হইচই,ঝামেলা — এসব ছাড়া তো স্বয়ং রবিঠাকুরও ভালোবাসার গল্প লিখতেন না!" —"আহ লাবণ্য! কথা ঘুরিও না! এখানে রবিঠাকুরের কথা আসছে কোথা থেকে? কথা হচ্ছে আমায় তোমায় নিয়ে, আর তুমি কি না অযথা ---" —" অযথাই বটে! এই যে প্রতিদিন নিয়ম করে সূর্য ওঠে পুবের আকাশ লাল করে, কই আমরা কি দেখি, না ভাবি সেসব নিয়ে! রোজকার সব জিনিসকেই আমরা আসলে আলাদা করে আর গুরুত্ব দিই না তেমন, তা তাদের আমাদের জীবনে যতখানিই মূল্য থাকুক না কেন! কেন জানো? কারণ তা আমাদের কাছে অযথা রোম্যাণ্টিসিজম! আর এই যে আমি রবিঠাকুরকে নিজের ভূষণের পরম নিভৃতে আগলে অচিরেই হয়ে উঠেছি 'শেষের কবিতা'র লাবণ্য — তুমি সেই বিলেতফেরত 'অমিত রে' হলেও তা বোধহয় টের পেতে না! ...
এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র! কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও বোধহয় যে...