Skip to main content

Posts

কবিতা : উদয় সাহা

শরৎকালীন প্রহরমিছিল...  প্রখর গ্রীষ্মের পিঠে কে যেন আলতো হাত বুলিয়ে দিয়েছে। পাতার নীচে ছায়া পড়েছে সামান্য।আকাশ জল স্থল হঠাৎ একটু অন্যরকম। নির্ভেজাল নীল বেয়ে নেমে আসে প্রভাতী আলো। সাদা মেঘের খেলা থেমে থাকে না।বাতিল পোস্ট কার্ডে কিছু রোদ্দুর লিখে ভাসিয়ে দিই মেঘের ভরসায়। মেঘেদের রঙ বদলাতে থাকে... সকালগুলো কিছু আশ্রয় বয়ে নিয়ে আসে ---শাপলা, পদ্ম,শালুকের ঘুম ভাঙে। দশ-বারো ফুট উপরে সাঁকো থেকে দেখেছি জলশরীরে কিশোরী মেয়ের মত হাসি। জলের ওষ্ঠে হাত রাখলে আকাশের গায় ভাঁজ পড়ে। এভাবেই একদিন নূপুর বেজে ওঠে। ভারী হয় ফসলের মুখ। খেলার ইচ্ছেয় খেলা চলে... কাদার পরিমাণ কমতে থাকে।উবে যেতে থাকে শাওন গন্ধ। রেশমি হয়ে ওঠে পাতার বুক। ভেলভেট কোমলতা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে রোদ্দুরগাছ। ছাতের কার্নিশ থেকে শুরু করে ভাষা গড়িয়ে যায় চিলেকোঠার ঘরে। তারপর ? তারপর চাদরে বালিশে লুটোপুটি করে হরেক রকম চাঁদমারি। নামযজ্ঞ হয়ে যাবার পর থেকে ফাঁকা পড়ে থাকা দুর্গামন্ডপে শুধুই ঝিমধরা ভরদুপুর। না বলা শব্দেরা সাঁতপাক খায় প্রতিমাহীন মণ্ডপ ঘিরে। ধীরে ধীরে পাখির ডানায় উড়ে আসে মেঘের আস্তরণ। নির্মিত হতে শুরু করে বিমূ...

সঞ্জীব সেনের কবিতা

শিয়ালকাঁটার ফুল লম্ফ কাঁপছে দেওয়ালে কাঁপছে ছায়া ছায়াগুলো বড্ড বেহায়া, আমি আঘাত আনব করেও আনতে পারিনি, তখনও আমরা প্রেমের মানে বুঝিনি!  শিয়ালকাঁটার হলুদফুল, দেখতে বেশ কাঁটা বাচিয়ে তুলেছি কতদিন আর কাঁটাফল ছুঁড়ে দিতাম ওর চুলে হাতধরে হেঁটেছি গলিপথে তখনও গলিপথের আলাদা  মানে বুঝিনি আজ সেইসব পথগুলো রাস্তা ‌কেন! এখন গলি আর রাস্তার  আলাদা মানে বুঝি তবু  লম্ফ কাঁপছে আর বেহায়া ছায়াকে আলাদা করতে পারছি না কেন? গলিপথগুলো কি এমনই ছায়া ফেলে , লম্ফ জ্বালাই যদি আজ এখনই? শিয়ালকাঁটার হলুদ ফুলে একদিন  তোকে মানাত বেশ, । ==================== সঞ্জীব সেন পানিহাটী গৌরাঙ্গ ঘাট রোড পোস্ট পানিহাটী কলকাতা114 7980188285

সিদ্ধার্থ সিংহের অণুগল্প

সত্যি সত্যি মুর্শিদাবাদ ঘুরতে যাচ্ছে বানেশ্বর। ট্রেনের দোলানিতে বেশ তন্দ্রা এসে গিয়েছিল। ভাবছিল, গতকালের কথা। গতকাল বিকেলবেলায় জীবনদ্বীপের উল্টো দিকে এলিয়ট পার্কে বসেছিল ওরা। ও মুর্শিদাবাদ যাচ্ছে শুনে মন খারাপ হয়ে গিয়েছিল ঝুম্পার। সেটা দেখে ও বলেছিল, দুটো দিনের তো ব্যাপার। যাব আর আসব। --- দু... উ... উ... উ... টো... দিন! তোমাকে দু'দিন, মানে আটচল্লিশ ঘণ্টা না দেখে থাকতে হবে! বানেশ্বর বলেছিল, তুমি আমাকে খুব ভালবাসো, না? --- হু। লজ্জা পেয়ে উপর-নীচে মৃদু মাথা দুলিয়েছিল ঝুম্পা। --- আচ্ছা, তুমি কি এ রকম ভাবে আর কাউকে ভালবেসেছ? --- ধ্যাৎ, আজেবাজে কথা বোলো না তো... --- না, বলছি, আমার সঙ্গে পরিচয় হওয়ার আগে? --- না। --- আচ্ছা, তা হলে গত পাঁচ বছরে? --- না। ঝুম্পা বলেছিল। --- গত আট বছরে? --- উঁহু, না। --- তা হলে বারো বছরে? ---  কোন সাল সেটা? কোন সাল! না... না... নাঃ। --- গত কুড়ি বছরেও কি এত ভালবাসিনি কাউকে? সত্যি বলছ? আমাকে ছুঁয়ে আছে কিন্তু। মিথ্যে বললে আমি মরে যাব। ঝুম্পা বলেছিল, সত্যি বলছি, বিশ্বাস করো। আমি কাউকেই তোমার মতো এত ভালবাসিনি। গতকালের সেই কথা ভ...

তাপসী লাহার অণুগল্প

ঝিল্লি    প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ঝিল্লির আবদারে   প্রাণ ওষ্ঠাগত মায়ের।          খুব বেশি দোষ মেয়েটাকেও দিতে পারছেনা রমলা , ঝিল্লির মা।এখন সেপ্টেম্বর   চলছে। ক্লাসের সব বন্ধুরা সেই একমাস আগে পূজোর বাজার সেরে ফেলেছ।           ঝিল্লি মা বাবার একমাত্র মেয়ে।বাবা সরকারি   অফিসে গ্রুপডি স্টাফ। নামকরা এক ইংরাজি মাধ্যম স্কুলের ছাত্রী। ওর সব বন্ধু   বড়লোক।        পরীক্ষা দিয়ে   হেটেই স্কুল থেকে ফিরছিল    মনমেজাজ   তিরিক্ষে।পুজোর জামা এখনো কেনেনি তাই বন্ধুরা কথা শুনিয়েছে।হঠাৎ এক শিশুর তীক্ষন কান্না টের পায়।।ফুটপাতে একটা খুব ছোট বাচ্চা চিৎকার করে কাঁদছে।একটা মহিলা বারেবারে জল খাওয়ানোর চেষ্টা করছে ওকে। ও কেন কাঁদছে। খেতে পায়নি কিছুদিন। কদিন তিনদিন। কেন পয়সা কোথায়।খাবার কিনতে পারিনি। কথাটা বলতেই ছেড়া শাড়ী পরা মহিলাটার চোখ জলে ভরে যায়। কত খাবার নষ্ট করে ঝিল্লি।টিফিন কৌটা খুলে বেচ...

অণুগল্প ।। সোমনাথ বেনিয়া

প্রুফ-রিডার প্রতুল বাবু ব‌ই পাড়ায় একটি প্রকাশনী সংস্থায় প্রফু দেখার কাজ করেন।‌ দীর্ঘ কুড়ি বছর কাজ করার পর শারীরিক সমস‍্যা বিশেষ করে দৃষ্টিজনিত অসুবিধার জন‍্য অবসর গ্রহণ করলেন। তার এই দীর্ঘ কর্মজীবনে প্রুফ দেখতে গিয়ে বিভিন্ন লেখকের বিভিন্ন ধরণে লেখা তিনি পড়েছেন। একসময় তার মনে হয়েছে তিনি যদি লিখতে পারতেন তাহলে তিনি তার এই একাকীত্বের জীবনের ঘটনাবহুল দিকগুলি পাঠকদের সামনে তুলে ধরতেন। যদিও চোখে সমস‍্যা কিন্তু হাতে তো অফুরন্ত সময়। তাহলে আস্তে-আস্তে আত্মজীবনী লেখা যেতেই পারে। এ তো আর গল্প বা কবিতা নয়। নিজের ক্ষেত্রে যা ঘটেছে তা সোজাসাপটা ভাষায় লিখে যাবেন।           যেমন ভাবা তেমন কাজ! তিনি চোখের যাবতীয় বাধা কাটিয়ে লিখে ফেললেন আত্মজীবনী। এরপর প্রথম প্রুফ যখন তার হাতে এলো, দেখেন অনেক ভুল। সবগুলোকে ঠিক করতে হবে কিন্তু পরের মুহূর্তেই ভাবলেন, যে জীবনে ভালোবাসা নেই, ছন্দ নেই, আনন্দ নেই, সেই জীবনের আত্মজীবনী কাকে মোহাবিষ্ট করবে। ফলত প্রুফ না দেখে ডি.টি.পির কপিটা টেবিলে ফেলে রাখলেন আর ভাবলেন তার কপালের প্রুফ যখন শ্রেষ্ঠ প্রুফ-রিডার হিসাবে ঈশ্বর চে...

মৌমিতা ঘোষালের অণুগল্প

সম্পর্ক ভিড় ঠেলে লোকাল ট্রেনে ওঠা এখনও ধাতে আসেনি শ্রীময়ীর। শেষ প্রান্তের কোনার দিকটা থেকে শুনতে পায় ডাকটা, 'শ্রীময়ীদি, এই যে এদিকে, চলে এসো।' একদম ঠিক, তমা ছাড়া কেউ নয়। এত ঘিঞ্জি ভিড় বাঁচিয়ে ঠিক রুমাল রেখে জায়গা রেখেছে। বহু কষ্টে পৌঁছানো গেল। শ্রীময়ী ওঠে উত্তরপাড়ায়। তমা সীট রাখে। তারপর শুরু হয় গল্প। শ্রীময়ী মন খুলে বলে, তার সংসার, অশান্তি, অভাব, শাশুড়ির গঞ্জনা, বাচ্চার দুষ্টুমি, অফিসের গাল-গল্প। তমাও ভাগ করে নেয় বাড়ির গল্প, কলেজের গল্প, পিকনিক, আড্ডা, কলেজের গেটে ফুচকা- চুড়মুড়ের গল্প। ভাগ করা সুখ দুঃখ নিয়ে রোজ তাদের দেখা হয়, একসাথে যায়, ফেরেও একসাথে। শ্রীময়ী নেমে যায় উত্তরপাড়ায়। ট্রেন তাকে ফেলে রোজ এগিয়ে যায় দূরে, আরও দূরে। সঙ্গে তমাও। রোজ স্টেশন থেকে ফিরতি পথে মনে পড়ে, 'যাহ, আজও জিজ্ঞেস করা হল না, তমা যায় কতদূর!' 

অণুগল্প : সঞ্জয় গায়েন

মাটি দুর্গাপ্রতিমার সোজাসুজি দেবীঘট বসাতে গেলে রে রে করে উঠলেন পূজা কমিটির কয়েকজন। ঘটগুলো সাইডে বসান। উদ্যোক্তাদের স্পষ্ট আবেদন। বয়স্ক পুরোহিত অবাক। জিজ্ঞাসু চাহনিতে বুঝতে চাইলেন নিজের ভুল। মুখে চওড়া হাসি নিয়ে আয়োজকদের একজন বলেন , গতবছর ঠাকুরকে ব্যাকগ্রাউন্ডে রেখে সেলফি তোলার খুব অসুবিধা হয়েছিল। সোজাসুজি ওই সব ঘট - মট থাকার জন্য। পায়ে লেগে যাচ্ছিল। তাই এবছর সামনে ওসব ঘট রাখা যাবে না। তাছাড়া এবার আমাদের থিম , ফ্রন্টে সেলফিজোন , মাটির ভাঁড় থাকবে কোণ। পুরোহিত সবটা বুঝতে পেরে বুকে তুলে নেন ঘটখানি। তারপর দেবীমুর্ত্তির দিকে তাকিয়ে বলে ওঠেন , মা গো তোমার পুজো এ বছর থেকে মাটি ... ।                                 ***                    সঞ্জয় গায়েন             উমেদপুর, পো-চাউলখোলা,       দক্ষিণ চব্বিশ পর...

কবিতা -- ফিরোজ হক্

       নিদ্রাহীন রাত               এই যে তুমি থেকে‌ হঠাৎ তুই-এ চলে আসা আর বুকের ভিতর ছুরি মারার কোনো তফাৎ খুঁজে পাই না। ভনভন করে আগুন জ্বলতে থাকে আমার ১০৮বারের ক্ষমা প্রার্থনাও তোমার কানে প্রবেশ করে না। দুটি মিষ্ট কথার স্বাদ অনুভবের ভিক্ষা চাই  তুমি অভিমান নিয়ে গর্ব করতে থাকো,  এদিকে তোমার গর্বে আমি যে কুঁচি কুঁচি হয়ে ছিঁড়ে যাই- সেদিকে‌ দৃষ্টি থাকে না। চোখের জল,শরীরের কম্পন নিয়েও তোমার‌ কাছে নত হই। ঘুম প্রার্থনা করি, গতকাল রাত্রি দেখেছিলাম ঘুম দেখিনি... অসহ্য চোখে আমার লেখা প্রতিটি বর্ণ দেখো ভালোবাসাকে পাগলামি বলো হয়তো পাগল ঘোর পাগল তোমার ভালোবাসায়। উচিত অনুচিতের তফাৎ বুঝলেও তোমার অভিমান অনুচিতে উৎসাহ দেয় তারপর... ঘোর ক্ষতি চেনেও অভিমান আঁকড়ে বসে থাকো একসময় B for Bye বলে চলে যাও। সঙ্গ থাকে আমার নিদ্রাহীন রাত...          ------×----- ঠিকানা: ফিরোজ হক্ গ্রাম+পোস্ট-মেটেলী জেলা-জলপাইগুড়ি  পিন-৭৩৫২২৩  যোগাযোগ-...

আবদুস সালাম এর কবিতা

  অলীক রঙের বিশ্বাস   ভালোই ছিলো মর্মরিত পৃথিবীর অভিমানী রঙ কাক রঙের ফুটপাতবাসীরা ঘুম পাড়তো নিশ্চিন্তে আদিম পুরুষ পুরুষীরা পেতো শীতসূর্য আদর  সাদা রঙের বিশ্বাসী চাঁদ এতে ক্লান্ত হয়নি কখনো  ফুটপাত রঙের উল্লাস বাসা বাঁধলো পাড়ায় ক্লান্ত বেদনারা এখন  অবিশ্বাসের অচ্ছুত স্বপ্ন দ‍্যাখে  আঁধার সম্প্রদায় অবিশ্বাস   নিয়ে খেলে রক্তহোলি  ক্ষুধার রঙে লেখা হয় মৃত্যুর পরোয়ানা সারি সারি  মৃত্যু  তখন সনাতন বাঁশি বাজায় আমাদের বিশ্বাস রক্তাক্ত হয় বেরিয়ে আসে ধূসর বর্ণের হিংস্র নখ অশ্বমেধ যজ্ঞের ঘোড়া ছোটে কেঁপে  ওঠে সান্ধ্য জীবন অলীক বিশ্বাসের সিঁড়ি দিয়ে হাঁটেন অলীক ঈশ্বর পিরামিড যুগ থেকে   ঝরছে রক্ত সভ‍্যতা মুখ ঢাকছে লজ্জায় অন্ধকার পৃথিবীর রাস্তায় শুয়ে আছে ধর্মমানব বিশ্বাস রঙের সভ‍্যতার আজ কঠিন অসুখ ক্ষমাহীন অবিশ্বাস নিয়েই আমরা মরে যাবো একদিন সূর্য ঘোড়া টগবগ করে ছুটছে পিছন পিছন ধাওয়া করছে  কুয়াশা  দুরন্তঘোড়ার ক্ষুরে থেঁতলে যায় মলিন ইতিহাস   হিংস্...

কবিতা।। সুদীপ্ত বন্দ্যোপাধ্যায়

।।  প্যাণ্ডোরাবক্স ।। একটা গোপন এই মাত্র খুলে দিল তার প্যাণ্ডোরাবক্স! সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম সূত্রগুলো জোনাকির মতো দপ্ দপ্ করতে করতে হাওয়াই চরকি হয়ে যাচ্ছে। কৌতূহল টপ্ টপ্ করে ঝরতে ঝরতে রক্তিমাকার নেবার আগেই কাপালিকের আঙুল পুত্তলিকা এঁকে দেয়। এয়োতিরা উলু দিতে দিতে বর্তুলাকার চক্র ঘিরে বরণকুলো সাজিয়ে হাজির দু এক ফোঁটা চোখের জল নদীর ঠিকানা খুঁজে বারবার হারিয়ে যেতে চায়। আর সমুদ্র পিয়াসী নদী সমুদ্রের বিলাসিতা নিয়ে গদগদ। শোনোনা, প্যাণ্ডোরাবক্স খোলা তো হল আমাকেও কিছু গোপন খুলে দেখিও, আমিও কথা দিলাম কাউকে বলবো না, বিশ্বাস কি খোলামকুচি নাকি! এসো এবার সমস্ত গোপনকে ঔদার্য শেখাবে।।                   ============ SUDIPTA BANDYOPADHYAY. 7P/1, RAM ROAD, SARSUNA, KOLKATA-700061. """"":::::::::::::::::::::"""""

কবিতা -- অমিতাভ দাস

                        অগ্নিঋতু   কোজাগরী পূর্ণিমার দিন মা ঘরে চৌকি পাততেন, চালগুঁড়ি দিয়ে নানা নক্সা,ছোটো ছোটো পায়ের ছাপ, মা লক্ষী আসবেন,বসবেন....বসবেন কাঠের চৌকি জুড়ে। শরৎ এর মনকেমন এক বেগুনি বিকেলে পুজো শুরু হয়ে শেষ হতে হতে প্রায়ান্ধকার,তারপর প্রসাদ দেওয়া,খাওয়া কত কাজ! কোজাগরী পূর্ণিমার দিন লক্ষীমন্ত স্ত্রী মা'র পাশে বসে শিখে নিত কত খুঁটিনাটি, ভবিষ্যতে হাল ধরার জন্য তৈরি হত মাঝি,আর পুঁচকে মেয়েটা আমার তার ছোট্ট ছোট্ট পায়ে ছুট্টে বেড়াত সমস্ত আলপনা জুড়ে, তার পেছনে দৌড়াত গেল গেল রব। সেদিনও কোজাগরী,সেদিনও রব উঠল পাশের বাড়ি থেকে,উঠল আর্তচিৎকার,পোড়া গন্ধর সাথে  পাশের বাড়ির সদ্য বিবাহিত বৌটি দৌড়ে বের হয়ে এল জ্বলতে জ্বলতে। সেদিন কোজাগরী,অথচ সমস্ত পুজো ফেলে আমার মা,স্ত্রী হিঁচড়ে টেনে আনছে পাশের বাড়ির  পুরুষ নামের সেই কাপুরুষটিকে আর অকাল  মহালয়ায় কোথায় যেন বেজে উঠছে.... "যা দেবী সর্বভূতেষু শক্তিরূপেন সংস্থিতা....!!" দুষ্টুমির বদলে অঙ্গারের মতো ঘৃনা ঝরে পড়ছে  আমার ছো...

কবিতা : জগবন্ধু হালদার

সংসার বিষয়ক           সন্ধ্যা থেকেই ইলশে গুঁড়ির তুই গহীন রাতে বন্যা হ'লি বুকে । শ্রাবণ দিনের সদ্য ফোটা জুঁই, ছাতিম হ'লি ঠিক শরতের মুখে । নৌকা তখন বোতাম খোলা শার্টে হিম-প্রভাতে গন্ধে বিভোর তোর গায়ের রং হচ্ছে হোক তামাটে, জাপটে ভীষণ ভাঙছি হাড়-গোড় । হাড়ের বাঁশি অদৃশ্য কারও ফুঁয়ে বেদম বাজে হেঁশেল থেকে বেডে প্রহর যাপন শুকনো বাঁট দুয়ে ঘোড়ার ঘাস কাটছি ভোঁতা ব্লেডে । মুদি-পেঁয়াজ-রসুন-রেশন-বাচ্চা, নিজের সাথে কথা বলাই বন্ধ ; হরহামেশা তোকে নিয়েই কেচ্ছা প্রতিদিনের গল্পে ঘামের গন্ধ । নৌকো তোকে ? নাকি গলুই ধরে তুইও নাছোড়, ছিনে জোঁকের মতো -- ভরসা এখন লিঙ্গে ও পাথরে হাভাত পেটে একশো এক ব্রত ।                 --------

কবিতা : চন্দন মিত্র

            সিদ্ধান্ত কাঁড়ের বদলে হাতখালি চাঁদ বাহাদুর একা নয় মোষপাহাড়ির জঙ্গলে এই নিয়ে বার পাঁচ ছয় তবে আর নয় সার বুঝেছে চাঁদ অঙ্গুলি বাঁকুক মোষপাহাড়ির দোয়া দুধে কারা নাদুস কার অজানা মাকুন্দদের গোঁফভূমিতে রোদ পেছলায় দুধ তো ছার পরগাছার মূল দেখতে মোষপাহাড়ির সবাই চাইছে... ======================== চন্দন মিত্র ভগবানপুর ( হরিণডাঙা ) ডায়মন্ড হারবার, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা সূচক - ৭৪৩৩৩১

কবিতা ।। মঞ্জীর বাগ

ভাত পরী হরিন চোখের শ্যামল জলপরি ভাঙে অশান্তির মাঠ । তার কথা বলতে বলতে গোবর নিকানো উঠানে নিভাত ঘ্রাণ  চালের সঙে মিশে থাকা কাঁকর জানে সময় হয়নি এখনো  পৌষের নবান্নের ঢের দেরী এলো চুলে কলম লূকিয়ে রেখে,অপুষ্টকালো ধান বলে,উনুনের কাঠের আগুনে জ্বলে স্বপ্ন তবু মাঝরাতে চাঁদ ডাকে আয় আয়... খুকুমনি তোর জন্য স্বপ্ন বোনা গান! হায়! তিন পৃথিবীর  বুক চিরে উড়ন্ত সাদা কাগজ দুঃখ  আষাঢ়ের  দিনে  পিঁড়ি পেতে বোস সিঁদুর জীবনের ভাত ব্যথা ছিনে সোনামোনি এক আঁচলজ্যোৎস্নায় লিখে যাবে জীবন কাব্যব্যথা কাশফুল গান সুর যেন মায়াময় চাদর। আবিষ্ট ঢেকে থাকা জলের অতলে এমন মোহময় ডুব কেবল ডুব,ডুবতে থাকা প্রাণময় গান, এসো হে কাশফূল দুধারে ফুটে থাকা একগোছা শুভেচ্ছা নীলপাতা দ্রিমদ্রিম করে বাজতে থাকা দুর্গা দালানের ঢাক লাল গামছা মাথায় বাঁধা, ঢাকি ঢাকের তালে আমাদের  দুর্গাদালানে আরতি,ধোঁয়াধূপ শাঁখ শশ্মাণ মশান সেরে বুজে যাওয়া ঘাটে বেনে পুতুলের গান প্রতি পূূজোয় মিশে থাকে অমৃতময় কৈশোর ঘ্রাণ ================== মঞ্জীর বাগ মালঞ্চ আবাসন  কা...

কবিতা : উত্তমকুমার পুরকাইত

সে উঠানে দাঁড়ালে সে উঠানে দাঁড়ালে হলুদমাখা সন্ধ্যা নামে চ ন্দনের গন্ধ নিয়ে জ্যোৎস্না আসে চুপে, সে উঠানে দাঁড়ালে মাথার উপরে চাঁদ শুক্লাপক্ষের কুসুম শরীর প্রলয়প্রপাতে; মাথা নাড়লেই দোলনা হয় সে হাত বাড়ালেই জোয়ারের উচ্ছ্বাসে নীল দিগন্তে সে মিটিমিটি হাসে, ভোরের নৈবেদ্য নিয়ে দশহরা মাসে; সে উঠানে দাঁড়ালে মৃত্যুরা কেঁপে ওঠে জোরে কুয়াশার গর্ভে প্রাণ ধরে, সে উঠানে দাঁড়ালে রাত্রির ঠোঁটে হাসি ঝরে পূবের বারান্দায় দুটি চোখ মুখোমুখি দু'জনারে দ্যাখে।   *********************************   কবির নাম, ঠিকানা: উত্তমকুমার পুরকাইত শঙ্করপুর, পোস্ট-প্রাণবল্লভপুর, ডায়মন্ড হারবার, দক্ষিণ ২৪ পরগণা-৭৪৩৩৯৫ মোবাইল/হোয়াটসঅ্যাপ-৯৫৯৩১৩২৭৬৫ ই-মেইল: upurkait1978@gmail.com

সুজন মুহাম্মদ এর কবিতা

      ।। নো ম্যানস ল্যান্ড।।     মানচিত্রের কাগজে-কলমে     ধারণা থেকে বের হয়ে এসে     একদল শরনার্থী বুঝতে পারলো     মানচিত্র মানে আসলে কাগজ নয়     মানচিত্র মানে মাটি     অতঃপর তারা মানচিত্রে নিজেদের পায়ের তলায় মাটি খুঁজে পেল না।     .       ।। আমাদের বেড়ে উঠা।।     ছেলেটি কিশোর হলো     মেয়েটি কিশোরী হলো     কিশোরের কিশোরীর স্তনের প্রতি হিংসা হলো।     কিশোরটি যুবক হলো     কিশোরীটি যুবতী হলো     যুবকের যুবতীর মাতৃত্বের প্রতি হিংসা হলো।     যুবকটি পুরুষ হলো     যুবতীটি নারী হলো     পুরুষরা নারীটিকে ধর্ষণ করলো। এতে পুরুষের একবারে জন্যও হিংসা হলো না ধর্ষণ অথবা মৃত্যুর প্রতি।       ।। সন্ত্রাসের রঙ।।     ছোটবেলায় আ...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

কবিতাগুচ্ছ ।। “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

কবিতাগুচ্ছ: “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে…  আবদুল্লাহ আল আদীব তোমাকে ভালবাসি বলেই… বন্ধুবরেষু “বাংলাবিদ”, আমার কোমল প্রাণ মৌমাছি, অতি নরম-স্নিগ্ধ রোদে হেসে ওঠা মুক্তোদানা শিশির- দুঃখ করো না। তোমাকে ভালবাসি বলেই আজ এই দূরত্ব— যেন আমার কোন কিছু তোমার ক্ষতি না করতে পারে! তোমাকে ভুলিনি— তুমি আমার অন্তরের ইচ্ছের অন্তঃপুরে পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে বসে আছো, এ যেন সভ্যতার এক ধ্বংসাবশেষ। প্রতিটি নিঃশ্বাসে তোমার নাম প্রকম্পিত হয়, যেন ধারালো ছুরি বুক চিরে রক্ত ঝরায়। ভুলতে চেয়েছি— কিন্তু স্মৃতিগুলো আমার রক্তে জমাট বেঁধে আছে, যেন পাথরখচিত প্রাচীন লিপি। তুমি হয়ে গেছো আমার নীরব কান্না, প্রতিটি লিখতে না পারা কবিতা আমার ভাঙা আত্মার লুকানো আর্তনাদ। তোমার স্পর্শ নেই, নেই আমাদের সম্পর্কের কোন নাম— তবু তুমি আছো অদৃশ্য, অমোঘ, যেন প্রতিটি ক্ষতচিহ্নে চিরন্তন বসবাস করা এক নিঃশব্দ মৃত্যু। ক্ষত-নিবদ্ধ বাঁশি… প্রিয় “বাংলাবিদ” আমার, কি এক আশ্চর্য সমর্পণ তন্ময়তা, মোহময় আকর্ষণ, বকুলের বিহ্বল ঘ্রাণ তোমার সত্তায়! তোমার বিস্তীর্ণ গালিচা থেকে বিদীর্ণ হয়ে আজ আমি বিচ্ছেদের নিঃ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

যেখানে শিকড় রয়ে গেছে ।। কাবেরী মিত্র

যেখানে  শিকড় রয়ে গেছে কাবেরী মিত্র কিছু দরজা শুধু কাঠের হয় না, স্মৃতির ও হয় একবার খুললেই বহু বছরের চাপা পড়ে থাকা জীবন আবার ভীড় করে সামনে এসে দাঁড়ায়  "যেখানে শিকড় রয়ে গেছে"   প্রায় পঁচিশ বছর পর নীলা ফিরে এলো তার ছেড়ে যাওয়া শিকড়ের কাছে। বাইরের ভারী দরজাটা দু'হাত দিয়ে ঠেলে খুলতেই ক্যাঁচ করে এক বিকট শব্দ তুলে খুলে গেল। নীলা ধীরে ধীরে ভিতরে প্রবেশ করল। কত বছর পর! অথচ মনে হলো, সময় যেন এই বাড়ির উঠোনে এসে থমকে দাঁড়িয়ে আছে। আজও একইভাবে দাঁড়িয়ে আছে উঠোনের একধারে নিজে থেকে বেড়ে ওঠা সেই শিউলি গাছটা। শরৎ এলেই যার ফুলের গন্ধে চারদিক ভরে উঠত। সেই গন্ধই যেন জানিয়ে দিত—মা দুর্গা আসছেন। ভোরবেলা ফুল তোলা নিয়ে নীলা আর ওর বোনের মধ্যে রোজ ঝগড়া বাঁধত। কেউই এত সকালে ঘুম থেকে উঠে ফুল তুলতে রাজি হতো না। অথচ ঠাম্মির হুকুম—দুই বোনকেই ফুল তুলতে হবে। দেখতে দেখতে মহালয়ার দিন এসে যেত। ভোরবেলায় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ শুরু হতেই সারা বাড়ি যেন এক মঙ্গলময় আবহে ভরে উঠত। সেই দিন থেকেই শুরু হয়ে যেত মা, কাকিমা আর জেঠিমাদের ব্যস্ততা। পুজোয় আসা অতিথিদের জন্য নানারকম মিষ্টি তৈরির ধুম পড়ে ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০১তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩৩ জুলাই ২০২৬

: ঘোষণা : এই সংখ্যার নির্বাচিত কিছু লেখা অপ্রকাশিত রয়ে গেল। সেগুলি ১০২তম সংখ্যায় প্রকাশিত হবে।  সংখ্যাটি প্রকাশিত হবে আগামী ১৯ আগস্ট ২০২৬ বুধবার রাতে। দেখবেন এই সাইটে:  https://www.nabapravat.com/ আগ্রহীরা প্রবন্ধ-নিবন্ধ, প্রতিবেদন-ফিচার, মুক্তগদ্য, স্মৃতিকথা, ভ্রমণকাহিনি পাঠাতে পারেন। (গল্প, কবিতা, ছড়া এই সংখ্যার জন্য পাঠাবেন না।)   একসঙ্গে মেলবডিতে লিখে বা পেস্ট করে পাঠাবেন।  একই লেখা দুটি মেল আইডিতেই ( nabapravat.online@blogger.com এবং nabapravatblog@gmail.com)  পাঠাতে হবে কথাটা স্মরণে রাখবেন।      সাবজেক্ট লাইনে লেখার শিরোনাম ও আপনার নাম লিখবেন।  প্রয়োজনে কথা বলতে পারেন এই নম্বরে : ৯৪৩৩৩৯৩৫৫৬ (নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত) ............................. সূচিপত্র প্রেমের অনন্ত অনুরণন : ক্রিস্টোফার মার্লো ও কাজী নজরুল ইসলাম ।। আহমেদ বেলাল ২৯ জুলাই : বিদ্যাসাগর—একটি যুগের বিবেক, একটি আলোর নাম ।। উৎপল সরকার যাত্রা এবং ফাত্রা লোক ।। অরবিন্দ পুরকাইত দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভারতীয় সভ্য...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

ভুতের গল্প : ভুতেরাও ভদ্র হয় ।। দীপক পাল

ভুতেরাও ভদ্র হয়  দীপক পাল  কোন এক রহস্য পত্রিকার জন্য একটা ভুতের গল্প লেখার তাগিদে রাত এগারোটা বাজার পরে শোওয়ার ঘরের লাইট নিভিয়ে আমার লেখার ঘরে ঢুকে জানালার সামনের টেবিলে গিয়ে চেয়ারটা টেনে বসলাম। ঘরে লাইট জ্বললে আমার স্ত্রীর চোখে ঘুম আসে না। অন্য দিকে ভাবলে ভুতের গল্প লিখতে গেলে একটু বেশী রাত ও একদম নির্জন পরিবেশ দরকার। হাতে কাগজ কলম নিয়ে জানালার বাইরের আলো আঁধারিতে চোখ মেলে তাকালাম। পথের আলোর জন্য এই আলো আঁধারির সৃষ্টি যদিও এই অমাবস্যার রাতে সেই আলো বড়ো অপর্যাপ্ত। একটু ভেবে আমার গল্প লেখা শুরু হলো। সারাদিন কাজের ফাঁকে মনে মনে গল্পটা মোটামুটি ফেঁদে রেখেছিলাম। এখন সেটাই গুছিয়ে লেখার পালা। সেটাই করে চলেছি একটানা। হঠাৎ একটা গলাখাঁকারির আওয়াজ এলো কানে। ভাবলাম পাশের বাড়ী থেকে বুঝি আসছে। তাই পাত্তা না দিয়ে লিখে যাচ্ছি। কিন্তু দ্বিতীয় বার গলা খাঁকারির আওয়াজ শুনে জানালার বাইরে তাকালাম। দেখি জানালার ওপাশে একটা আবছা ছায়ামূর্তি যার চোখজোড়া অল্প অল্প জ্বলছে। কিন্তু মুখে অল্প হাসি হাসি ভাব। এক মনে ভুতের গল্প লেখি যাওয়ার ফলে আমি যেন ভুতের রাজ্যে বিচরণ করছিলাম তাই স্বচক্ষে স...

ছয় দিনের ব্যবধান ।। ইদ্রিস মণ্ডল

ছয় দিনের ব্যবধান   ইদ্রিস মণ্ডল ভোরের আলো তখনও পুরোপুরি ফোটেনি। শিউলি গাছের নিচে সারা রাত ঝরে পড়া ফুলে সাদা হয়ে আছে উঠোন। কুয়াশার পাতলা চাদর মুড়ে শহরের পুরোনো পাড়াটা যেন আরও নীরব, আরও আপন হয়ে উঠেছে। দূরের মসজিদ থেকে ফজরের আজান ভেসে এলে একতলা ছোট্ট বাড়িটির একটি ঘরে আলো জ্বলে ওঠে। এ বাড়িতে এটাই নিয়ম। আজানের আগেই ঘুম ভাঙে কাশেম সাহেবের। বয়স সত্তর ছুঁইছুঁই, তবু জীবনযাপনের ছন্দে কোনো আলস্য নেই। তিনি ধীরে ধীরে বিছানা ছেড়ে উঠে বসেন, পাশে ঘুমিয়ে থাকা স্ত্রী মিরা বেগমের দিকে একবার তাকান। ঘুমের ভেতরেও মিরা বেগমের মুখে অদ্ভুত এক প্রশান্তি লেগে থাকে। এত বছর একসঙ্গে থাকার পর মানুষটিকে আর নতুন করে দেখার কিছু নেই, তবু প্রতিদিন ভোরে তাঁর মনে হয়—এই মানুষটিই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ওজু সেরে নামাজ পড়ে তিনি বারান্দায় এসে বসেন। শীতের বাতাসে তুলসীপাতার গন্ধ মিশে আছে। একটু পরেই মিরা বেগম দু'কাপ ধোঁয়া ওঠা চা নিয়ে এসে পাশে বসেন। — "চায়ে চিনি কম দিয়েছি। ডাক্তার তো বারবার নিষেধ করেছেন।" কাশেম সাহেব কাপ হাতে নিয়ে হেসে বললেন, — "ডাক্তার যতটা নিষেধ করেন, তুমি তার চে...

বছরের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

মাসের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

তিনটি কবিতা ।। পদ্মাবতী কুন্ডু

তিনটি কবিতা ।। পদ্মাবতী কুন্ডু  কবিতা  কবিতা ভালবাসি জন্মাবধি । কবিতা বেসেছি  ভালো সারাটি জীবন । ভেবেছিলাম জীবনটা হবে কবিতাময়, কিন্তু কঠিন গদ্যময় এখন আমার জীবন।  আমার জীবনটা কাঁটাময় ঝোপঝাড় , আঘাতে আঘাতে  দেহ থেকে রক্ত ঝরে । তবু কবিতাকেই ভালবাসি আমি , চাই ফুটাতে ফুল কাঁটাময় সংসারে । ওগো কবিতার দেবী,আমাপ্রাতি প্রসন্ন হও। ফুটাও ফুল আমার কাঁটাময় দেহ 'পরে-- যে কয়দিন বাঁচি, যেন কবিতার সঙ্গেই  বাঁচি, কবিতা ছাড়া কোন বন্ধু নেই, নিঠুর এ সংসারে। সুখে  কবিতা, দু:খে কবিতা, কবিতা থাক আমার মরণেরও পরে। যদি একজনও পড়ে আমার কবিতা, ধন্য জীবন  মানি  এ কঠিন  সংসারে। এসেছে  আষাঢ়  এসেছে আষাঢ় । ঝরছে অমিয়  ধারা  ঝর ঝর ঝর। মাটির উত্তপ্ত হৃদয়  শীতল  হলো বৃষ্টির মায়ায়। চলছে চাতকের আকণ্ঠ জলপান। গাছে গাছে পাখিদের গান। গুরু গুরু মেঘের গর্জন, সাথে বিজলী মেয়ের নাচন। বাদলের ধারা ঝরছে অবিরত, কদম, কেয়া বৃষ্টিতে অবনত। আনচান করে ওঠে মন।...

আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প্রবাল দাশগুপ্ত স্মরণে ✍️ শিবাশিস মুখার্জি

অধ্যাপক প্রবাল দাশগুপ্তকে স্মরণে ✍️ শিবাশিস মুখার্জি ভাষাবিজ্ঞানের জগৎ আজ নিঃসন্দেহে আরও দরিদ্র হয়ে পড়ল। অধ্যাপক প্রবাল দাশগুপ্তের প্রয়াণ কেবল একজন খ্যাতনামা ভাষাবিদের মৃত্যু নয়; এটি এমন এক শিক্ষকের বিদায়, যিনি ভাষা, সমাজ ও মানবিক যোগাযোগকে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছিলেন। তাঁর চলে যাওয়ায় আমরা হারালাম এমন একজন মানুষকে, যিনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ছাত্রদের শুধু ভাষাবিজ্ঞান নয়, চিন্তা করতে, প্রশ্ন করতে এবং মানবিক হতে শিখিয়েছেন। কলকাতায় জন্ম নেওয়া প্রবাল দাশগুপ্ত ভাষাকে শুধুমাত্র ব্যাকরণ ও বাক্যগঠনের বিষয় হিসেবে দেখেননি। তাঁর কাছে ভাষা ছিল সমাজ, সংস্কৃতি, পরিচয়, ইতিহাস ও ক্ষমতার জটিল আন্তঃসম্পর্কের এক জীবন্ত প্রতিফলন। বাংলা ভাষাবিজ্ঞান, সমাজভাষাবিজ্ঞান, ভাষানীতি ও ভাষাদর্শন নিয়ে তাঁর গবেষণা নতুন চিন্তার দুয়ার খুলে দিয়েছিল অসংখ্য ছাত্র, গবেষক ও ভাষাপ্রেমীর সামনে। তাঁর প্রয়াণ আমার কাছে কেবল একাডেমিক ক্ষতি নয়, গভীর ব্যক্তিগত বেদনাও। ডেকান কলেজ, পুনেতে অধ্যাপনা করার সময় আমি তাঁর ছাত্র হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করি। সেই সময় প্রায়ই তাঁর কোয়ার্টারে যাওয়ার স...

একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশব্দ ভাঙনের গল্প ।। উৎপল সরকার

  একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন: অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশব্দ ভাঙনের গল্প  উৎপল সরকার মানুষের মৃত্যু কখনও কখনও শুধু একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি থাকে না; সেটি সমাজের আয়নায় ভেসে ওঠা এক ভয়ংকর প্রতিচ্ছবিও হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষত, কোনো শিল্পীর মৃত্যু হলে সেই প্রশ্ন আরও গভীর হয়। কারণ শিল্পীরা সাধারণ মানুষের মতো শুধু জীবন যাপন করেন না, তাঁরা অনুভব করেন বহু গুণ বেশি। তাঁরা হাসির আড়ালে কান্না লুকোন, আলোর নিচে দাঁড়িয়ে অন্ধকার বহন করেন। বাংলা চলচ্চিত্রের পরিচিত পরিচালক অনিক দত্ত— যিনি তাঁর ব্যতিক্রমী রসবোধ, সমাজ-রাজনীতির সূক্ষ্ম ব্যঙ্গ এবং বাঙালির সাংস্কৃতিক স্মৃতিকে চলচ্চিত্রে জীবন্ত করে তোলার জন্য পরিচিত ছিলেন— তাঁর মৃত্যু নিয়ে সাম্প্রতিক খবর বহু মানুষকে নাড়া দিয়েছে। যদি সত্যিই তিনি গভীর একাকীত্ব ও মানসিক যন্ত্রণার কাছে পরাজিত হয়ে আত্মহননের পথ বেছে নিয়ে থাকেন, তবে সেটি শুধু একজন পরিচালকের মৃত্যু নয়; এটি আমাদের সময়ের মানসিক নিঃসঙ্গতার এক নির্মম দলিল। অনিক দত্তের চলচ্চিত্রে বারবার ফিরে এসেছে হারিয়ে যাওয়া সময়, স্মৃতির ভাঙাচোরা বাড়ি, সমাজের ভেতরের নীরব ক্ষয় এবং মানুষের অদৃশ্য একাকীত্ব। “ভূতের ভবিষ...