মাকে তুলে দিয়ে আসার পর ... হাতের তালু ছুঁয়ে চলে গেলে । ঠিক হাওয়ার মত জলের মত ছায়ার মত করে । প্রতিবার চলে যাওয়ার পর এমন করেই রেখে যাও আমায় । সর্বস্বান্ত । ছুটেও পারিনা একটা পাজি দুরন্ত ট্রেনের সাথে । কলিংবেলে হাত রেখে আঁতকে উঠি । এখন আইহোলে তোমার অপেক্ষার চোখ আর নেই । শূন্য ঘরে তবুও কেমন চন্দন আর ফুলের গন্ধ । এ ঘর থেকে ও ঘরে লুটোপুটি খায় আঁচলার খুঁট ... ধরতে গেলেই পালিয়ে পালিয়ে যায় । ফ্রিজের ভেতর থেকে কারা যেন চুপিচুপি ডাকে । দরজা খুলতেই হেসে ওঠে তোমার হাতের দুবাটি ছানার ডালনা .... তোমার মিষ্টি গন্ধটা সারাঘরে ধূপের মত ছড়িয়ে আছে । ' ছো --- টা ' নামটা শুনেই ঘাড় ফেরাই ... বালিশে মাথা রেখে অনর্গল ডেকেই চলেছো চোখ বুঝে । কি ভাবে টের পাও আমার নিঃশব্দ পদসঞ্চার ? সমস্ত মুগ্ধতা ভেঙে মাথায় হাত বুলিয়ে অচমকাই কোলে টেনে নাও । তোমার নতুন চশমাটা চোখ থেকে খুলে রাখি । বুকে মাথা দিয়ে রক্ত আর ঘামের কথা শুনি । এখনও বহু ঢেউয়ের আক্ষেপ তোমায় ছুঁয়ে শান্ত হয়ে যায় । অথচ জড়িয়ে ধরতে গেলেই তুমি আবার .... নেই যে ...
গুচ্ছকবিতা: ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...