স্বাধীনতার ভাষা -------------------------------- যদি মনে করো আমরা তোমার দাঁড়ে পুষে রাখা ময়না তবে জেনে রাখো খুব ভুল হয়ে গেছে । যদি মনে করো তোমার শেখানো বুলি আওড়াবো আমরা জেনে রাখো তবে সেটাও তোমার ভুল। তুমি কী ভেবেছ? আমরা সবাই তোমার সুতোয় বন্দী? বেঁধে রাখা বুঝি এতই সহজ ভাবলে? কী করে ভাবলে? সেটা হয় নাকি - কী ভীষণ বোকা স্পর্ধা ! রুখে দাঁড়াবোই প্রতিরোধে বিক্ষোভে। আমার স্বদেশে জন্মেছি আমি বুকের গভীরে বিশ্বাস অস্থি মজ্জা রক্তের মতো গাঢ় - আমি কথা বলি নিজের ভাষায় সে আমার স্থির প্রত্যয় স্বপ্নে আবেগে প্রিয় থেকে প্রিয়তম । নিপীড়িত আর শোষিতের হয়ে প্রতিবাদে হই দৃপ্ত স্তব্ধ করবে - কার ঘাড়ে কটা মাথা? প্রেমিকার হাতে হাত রেখে বলি ভালোবেসে আমি রিক্ত দুই হাত পেতে আজ আমি নতজানু । আমি নাস্তিক ঠাকুর মানি না মানতে চাই না ঈশ্বর তবু সারাক্ষণ ঠাকুরের গান গাই, ঠাকুর মানে তো রবীন্দ্রনাথ আমাদের শ্বাস প্রশ্বাস যাঁর চোখে সারা বিশ্ব দেখেছি আমরা । তুমি কে বলতো, জানি...
গুচ্ছকবিতা: ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...