আমি এক কৃষকের সন্তান একা বিস্তীর্ণ শূন্য ধানখেত পড়ে আছে শিরদাঁড়া উঁচু করে; আজ না হয় পাকা ধান নিয়ে চলে গেছে পড়ে আছে খর্বকায় ধানশিষ গোড়া মরুভুমির মতো- কিছুটা পুড়িয়ে দিয়েছে; কালো পাঁশ পড়ে আছে, কিছু দূরে দূরে ঢিপ ঢিপ পালি দেওয়া খড় ধান, বছরের সারা মাস খালি পড়ে থাকে ; বর্ষার একবার চাষ। আমরা আধুনিক শহরের বাসিন্দা, তবু দুবেলা খিদের জ্বালায় ভাত বা রুটি মুখে তো পুরতেই হয়। তবু বড়মানুষের লাল চোখ কখনো সাদা হয় না, বলে তোমরা নীচ; ছোটলোকের জাত। যে যতটা পারে পিষে নিগড়ে নেয়- কৃষকরা নিজেদের গতর মাটি করে , নাম মাত্র দামে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয় । এতো এক রকমের সমাজ সেবা - সব ব্যবসায় ব্যবসায়ীরা নিজেদের লাভ রেখে তার জিনিস বিক্রি করে , তবে কৃষক নয় কেন ? আমি মনে মনে নিজের পিঠে হাত চাপড়ে বলি আমি গর্বিত বাবা আমি তোমার সন্তান - আমি এক দলিত নিপীড়িত শোষিত কৃষকের সন্তান। --------------
গুচ্ছকবিতা: ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...