আমি এক কৃষকের সন্তান একা বিস্তীর্ণ শূন্য ধানখেত পড়ে আছে শিরদাঁড়া উঁচু করে; আজ না হয় পাকা ধান নিয়ে চলে গেছে পড়ে আছে খর্বকায় ধানশিষ গোড়া মরুভুমির মতো- কিছুটা পুড়িয়ে দিয়েছে; কালো পাঁশ পড়ে আছে, কিছু দূরে দূরে ঢিপ ঢিপ পালি দেওয়া খড় ধান, বছরের সারা মাস খালি পড়ে থাকে ; বর্ষার একবার চাষ। আমরা আধুনিক শহরের বাসিন্দা, তবু দুবেলা খিদের জ্বালায় ভাত বা রুটি মুখে তো পুরতেই হয়। তবু বড়মানুষের লাল চোখ কখনো সাদা হয় না, বলে তোমরা নীচ; ছোটলোকের জাত। যে যতটা পারে পিষে নিগড়ে নেয়- কৃষকরা নিজেদের গতর মাটি করে , নাম মাত্র দামে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয় । এতো এক রকমের সমাজ সেবা - সব ব্যবসায় ব্যবসায়ীরা নিজেদের লাভ রেখে তার জিনিস বিক্রি করে , তবে কৃষক নয় কেন ? আমি মনে মনে নিজের পিঠে হাত চাপড়ে বলি আমি গর্বিত বাবা আমি তোমার সন্তান - আমি এক দলিত নিপীড়িত শোষিত কৃষকের সন্তান। --------------
এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র! কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও বোধহয় যে...