Skip to main content

Posts

দীনমহাম্মদ সেখের অনুগল্প

মিঠা পাতার পান  মিজানের বয়স এখন বারো বছর। মা মরা ছেলেটার ঠিকানা তার নানিমার কাছে। যখন মিজানের বয়স ছয় মাস ছিল তখনই তার মা টা বাপের সাথে বিবাদ করে বিষ খেয়ে মরে। তারপর দুমাস যেতে না যেতেই বাপে আবার বিয়ে করে।একদিন তার বাপ ছোট্ট মিজানকে তার নানিমার কাছে রেখে চলে যায় । ব্যস ! সেই যে গেল আর ফিরেও তাকায়নি তার জন্ম দাতা বাপটা । সেই থেকেই মিজানের বাপ মা সব তার নানিমা। মিজান তাকেই মা বলে ডাকে । নানিমারও বয়স ষাট ছুঁই ছুঁই।একলা মানুষ। স্বামীটা গত হয়েছে বছর দশেক হলো। ভালো চলাফেরা করতে পারে না। তবুও রাঁধে বাড়ে। ছোটো মিজানকে নিয়েই তার এই সংসার। নানিমার শেষ সময়ের লাঠি মিজান। সেও তার নানিমার খেয়াল রাখে। সময় মতো বাজার করা,জ্বালানি গোছানো, জল তোলা-- সবই করে সে। আর বাজার করতে গেলে মিজান কখনোই তার নানিমার প্রিয় মিঠাপাতার পান আনতে ভুল হয় না। শাকসবজি যায় আনা হোক না কেন মিঠাপাতার পান আনা চাই- ই চায়।সে নিজ হাতে পান সাজিয়ে দেয়। নানিমা সেই পান চিবাতে চিবাতে তার মেয়ের ছোট বেলার কত গল্প শোনায়।মিজান তার নানিমার কোলে মাথা রেখে সেই গল্প শুনে।মিজান বুঝতে পারে গল্প বলতে বলতে নানিমার গলা আটকিয়ে আসে। দুচো...

জগবন্ধু হালদারের কবিতা :

  একদিন হবে রৌদ্র গাঢ় হলে তুমি ছুঁতে পারো চৌকাঠ ধুনুচি, পিলসুজ, মন্ত্রপুত মালা আর তালু ঘষে ঘষে আমার দেয়ালে এঁকে দিতে পারো যা খুশি, আগুনও জ্বালাতে পারো ইচ্ছে হলে সলতে খুঁচিয়ে দিতে পারো ঋতু কিংবা ঋতুস্রাব নিয়ে অহরহ শালিশি সভায় দাঙ্গা বাধুক কেটে নিক বিধি মেনে জিভ ও মগজ ওরা পাতা ছিঁড়ে দিক মতে না মিললে তুমি রক্তমাখা হাতে পদ্মের ঝুড়ি নিয়ে তবু আমার বারান্দায় বসতে পারো জেদে, বিশ্বাসে সহস্র অন্য মুখ ও জিভ একদিন দেখো শাস্ত্রের শেষ পাতা লিখবে......

অরবিন্দ পুরকাইতের কবিতা

লেপচা খা সুদিনের মুসাফির যদিও আমি, তবু জীবনেরই আর এক ব্যঞ্জনা যেন ঠিকমতো উচ্চতায় নিজেকে উন্নীত করতে পারলে খুলে যায় কত না দুয়ার! বক্সা ফোর্টে দোকানদার বলেছিলেন, ‘একবার পৌঁছন, দেখবেন কষ্টের কথা মনেও থাকবে না।’ মনে হয়েছিল সান্ত্বনা নিছক। পশ্চাতে মিহিন কুয়াশামাখা উত্তুঙ্গ পর্বত সম্মুখে বেলাশেষের চেনা সূর্য অদ্ভুত কোমল মায়াবী নিম্নে চিকন শ্বেতকায় জয়ন্তী নদী। পায়ে-পায়ে ঝরনা গাছ ফুল পাখি প্রজাপতি টুকরো সবজিখেত কোথাও, ক’টি গরু-মুরগি, সঙ্গী সারমেয় – কুটিরে পাঁচজনের একাধারে পরিবার ও পাড়া। স্ত্রী কি পুরুষ – কঠোর শ্রমের জীবন প্রাণোচ্ছলতা তবু, তবু সহজ হাসিটি ডুপ্পা যুবক-যুবতীর জংখা ভাষায় গান সন্ধ্যার বৌদ্ধমন্দিরে। দূরের কুক্কুটধ্বনি করে বসতি-প্রমাণ নরম আলোয় নির্ভার সুরশিশুরা খেলে আপন খেয়ালে শস্য ঝাড়ে মা – টলমল শিশুটি ছড়ায়! এত প্রাণবান তুমি, হে ভূধর প্রবীণ!      *      *      *

চন্দন মিত্রের কবিতা

মরার সময় একটি সেলফি দিয়ে যাব   এই যে তুমি জ্বরের ঘোরে মাঝরাতে আছাড় খেলে তোমাকে তুলে না-ধরলে উঠতেই পারতে না এই যে তুমি জাতীয় সড়কে ডিগবাজি খেয়ে আট-দশটা  উঠে দাঁড়িয়ে ধুলোরক্ত ঝেড়েমুছে সবাইকে অবাক করে দিলে  হেলমেট না-থাকলে হয়তো শুয়েই থাকতে রাস্তায় এসব জানকারি ফেসবুকে দিলেই না ফলে কেউ জানলই না  লাইক দিল না উহু দিল না লাভ দিল না স্যাড দিল না তুমি বোকার মতো বাঘবন্দি খেলা খেলে গেলে বউয়ের সঙ্গে কেউ দেখতে এল না  পাশের বাড়ির না তার পরের বাড়ির না কাছের কেউ না দূরের কেউ না  এখন কেউ ফেসবুক ছাড়া কিছুই শুনতে পাই না দেখতে পাই না ভাবছি মরার সময় একটি সেলফি দিয়ে যাব ... =============================== চন্দন মিত্র ভগবানপুর ( হরিণডাঙা ) , ডায়মন্ড হারবার , দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা

তনুশ্রী পালের কবিতা ।

ফিরে যাই       ------------- সবুজ-নীলের জুরিগান  মোহনায় উতল   হয়ে এল    মনে মনে ফিরে যাই তবে   সেইসব উষ্ণ নিঃশ্বাসে  সরল রেখার যত ডট   আমাদের যুদ্ধময়       যুগল প্রান্ত্র ?  মনে মনে ফিরে এস তবে   বিদ্ধস্ত্ব অস্ত্রগুলো নিয়ে    কিন্তু আমার দুই হাত কেমন নিঃস্ব     হয়ে  আছে !   তাতে বুঝি শুশ্রুষা  নেই   জীর্ণ সব নখের ভিতর ক্লান্ত কিছু লবণের দানা !       -------------------------------    Tanusri Paul. BabuPara. Routh Lane. Jalpaiguri . West Bengal. pin-735101                      

সায়ন মোহন্তর কবিতা

প্লাটফর্ম প্লাটফর্মে বসে আছি আপ ট্রেন এই স্টেশনে যাত্রী রাখছে একটু ঘোরাঘুরির পর ডাউন ট্রেন নিয়ে যাচ্ছে সাইরেন বাজিয়ে হুশ করে গন্তব্যে ছুটছে ট্রেন আমি একা প্লাটফর্মে বসে দেখছি আর টুকরো টুকরো শব্দে ভিজছি - আমার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মালগাড়িটার জানালা  দিয়ে চালক বাইরে দেখছে , হয় তো আমাকেও আমি এখনও প্লাটফর্মে বসে,  দেখছি ট্রেনের তারে কাকের জটলা। ======================= সায়ন মোহন্ত চাষা পাড়া কৃষ্ণনগর, নদিয়া-৭৪১১০১ চলভাষ - ৯৫৬৩৮১৯৪০১

তাপসী লাহার কবিতা

সমর্পণ ----------- অবিকল ভুলজন্মের মতো সন্ধ্যেরা, অস্পষ্ট  হাতছানিতে  মিশে যায়  মানবিক স্বগতোক্তি, আশ্বাস বিহীন  সন্ধ্যারা নেমে আসে কৌতুহলী পড়শির ন্যায়; সাঁঝভরসার পালে ভরসারা ডিঙির মতন --- ওঠানামা চলে। নিজের কাছে আত্মগোপনেরা  বিকল্পরুপ খোঁজে। পরতে পরতে  তখন আঁকড়ে ধরার গান নিঃশর্ত সমর্পণ  বোঝে। ==============================      তাপসী  লাহা

অ-নিরুদ্ধ সুব্রতর কবিতা

এই খাতায় কোনও কবিতা নেই -------------------------------------------- এই খাতায় কোনও কবিতা নেই পাতায় পাতায় শব, সারিবদ্ধ রাত কোনও দাগ নেই, আছে রক্তশূন্য প্রেম ভাঁজে ভাঁজে ঘাড়ধাক্কা খাওয়া প্রতিবাদ এই খাতায় কবিতা নেই, এ শুধু বিকৃত অবকাশ বিব্রত হয়ে সাদা আলো নিভে গেছে বিস্রস্ত হয়ে ঝরে গেছে হাজার ধ্বনিময় উচ্চার বেশি রাতে শুয়ে গেছে কাগুজে হুতাশ এই খাতায় কবিতার কথা মিথ্যে শোনায় কবিতা কী করে লেখা হয়,কী গূঢ় প্রত্যয় আগুনের শর্তহীন ধোঁয়া? শুধুই ধোঁয়াশা আমার রক্ত , হাড়, ঘাম-গন্ধ তো কবিতা নয় কবিতার চেয়ে খাতা পড়া ভালো যে বলে সে ফাঁকা খাতা দেখেনি তো, ক্লেদে চটচটে,ভিজে স্যাঁতসেতে শ্বেদে ঘুমোতে না পারা অন্ধকার জমা,ঘন কালো সমস্ত একার সময়,জানলায় বিগত যত এসে মেলেছে লাল পচা গলা জিহ্বা ভ্যাঙাবার কত কত ফলিত প্রকাশ হেসেছে আয়নায় প্রাচীন প্রেতের মতো আমি খুঁজেছি পাথর,টুকরো শক্ত ভারি অনবরত বলেছি,চলো দূরে গিয়ে বাঁচি হাতের কলমের সূঁচালো মুখের কাছে জিজ্ঞাসা ছুড়েছি, এটুকু শাণে কৃষিকাজ পারি? এই খাতায় কবিতা নেই,অদৃশ্য খেউড় এই খাতা বিবমিষা ধরা ফেলনা পাত্র মাত্র ফিরে আসা সন্ধ...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

খুন তারপর, তারপর তোমাকে ভাবার জন্য পড়ার বাহানায় বসি- - উড়ন্ত চিলের ডানার মতো- -  যখন একজোড়া ভ্রুযুগ আঁকি,- - অনেকটা রাত হয়ে যায়!  বারান্দায় ঘুমিয়ে মা' স্বপ্ন দেখে,-"পড়ায় খুব মন- "সূর্য উঠবে!"। প্রতিরাত মা'কে হত্যার ক্ষমতা যে দেয়- তোমাকে ঠকানোর সাহস সে আমায়- - - - তোমায় পাওয়ার ইচ্ছে শাণিত খাড়া হয়ে- ওর হাড়-দেহ শুঁকছে। এর পরেও কি 'ওদের' মতো বলবে- "লোপাট হয়ে যাক সব লালরঙ- নিখোঁজ হয়ে যাক পাগলীটা- - - - =================

নিসর্গ নির্যাস মাহাতো কবিতা

৫.  কৃষ্ণকলি আতুর চোখের মধ্য থেকে রজনীগন্ধা সরিয়ে নিলে আতর মলিন হয়। ছোপ দাগ জেগে ওঠে কাজলের নীচে। আরও কালো ঘন হয়, চিড় ধরা প্লাবণের পর। ৪. মৃণালিনী ও কাদম্বরী শত পুরুষ বুক বাঁধে মৃণালিনীর স্বপ্নে, কানাঘুষো প্রেমের কলঙ্কিনী প্রাণ রসদ কাদম্বরী। মৃণাল নির্মল চাঁদ- কঠোর সাধনা। বুক ভাসা প্রেমিকের হয়ে রবি স্বর- উপেক্ষা ক্ষমা করো। =================== নিসর্গ নির্যাস মাহাতো বি ৮, কেরানীটোলা, মেদিনীপুর সূচক- ৭২১১০১

মোনালিসা পাহাড়ীর কবিতা

সুখ কণা কণা সুখই নাকি  সব অসুখের কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে! সুখের ঝাঁচকচকে মোজাইক ঘরে ঝলসে যাওয়া আড়ম্বর মাথা নিচু করে থাকে- পোষা পাখির মত... আড়ম্বরের নিচে চাপা পড়ে অন্ধকার, শান্তির সাদামাটা ছা-পোষা স্বভাবের কোন ঠাঁই হয়না। তাই দিনের শেষে দামি সাজানো ঘর, সুগন্ধি বিছানায়  অবিশ্বাস খেলা করে, কাঁচের ঘরের মতো সম্পর্কনামা ঝনঝন করে ভেঙে যায়। ============================= মোনালিসা পাহাড়ী মনোহরপুর, গড় মনোহরপুর দাঁতন, পশ্চিম মেদিনীপুর,

আরিয়ান প্রিয়স পালের কবিতা

আমি লেখাটা বেশ ছিল।স্বভাবে গান নীল আকাশ সাজানো দু-এক প্লেটে। এখনও সময় আছে,মন ভাসমান। মিটুক খিদে,প্রেমিকার বুক চেটে। অল্প আলো রেশ দেওয়ালের ফ্যানে। কথারা ঠিক ছিলো।আস্ত বইয়ে। সবটাই ক্লান্তির।ছায়া পথ ঘিরে । সূর্য অস্ত নামে কেবিনের গায়ে। হাতের গ্লাস ভরে বরফের ঘামে  হঠাত্ বিকেল নামে টেবিলের ধারে। হাজার পাখির ডাক গোটা-শট রুমে দু-চোখের বোঝাপড়া হাতে-হাত রেখে, তবুও ঘেরে লাজ দ্বন্দ্বের জেড়ে সব যে-শত্রু তবে,বন্ধু ছয়।। আমিও বাড়ি ফিরে,সময়ের ঘড়ি নিশাচর,ভবঘুরে আর কিছু নয়।। ============================= #আরিয়ান প্রিয়স(পাল) ডি ডি মন্ডল ঘাট রোড, কলকাতা - ৭০০০৭৬

স্বরূপ মুখার্জ্জীর কবিতা

1. অনেকটা কবিতার মতো —————————————————————— শাল কাঠের ছাই দিয়ে তৈরী পুতুল ইংরেজ আমল থেকে তৈরী হওয়া ক্রোধ রক্ত লেগে থাকা অভ্র ( ২ ) নদীর পার ভাঙলে মানুষ হাহাকার করলেও নদী মৃদ্যু হাসে ( ৩ ) তথাকথিত ক্রোধ ভাবনা কে বেত্রাঘাত করলে নিয়তি সপুষ্পক উদ্ভিদে রূপান্তরিত হয় 2. সময় ও সাফল্য ————————————————————— দুটো ছবি মাঝখানে স্মৃতিচিহ্ন একটা পুরানো পর্দা দূর থেকে বাতাসে ভেসে আসা সিগারেটের গন্ধ নিকোটিন হাসে ধোঁয়া প্রবেশ করে শরীরে ছাই পড়ে থাকে তিনতলার নীচের মাটিতে অভিশাপেরা মাথানত করে আত্মাহুতি দেয় কবন্ধ সময় 3. ত্রসরেনু ————————————————— ভাঙা ছাত বেয়ে রোদ নামে আমার দেহের ওপর এভাবেই দুপুর ভাঙছে বিকেল এসে ধরা দেয় বসন্তের কোকিল কে প্রগাঢ় সন্ধ্যা ব্যাকরণ ভুলে যায় তলপেটে বাসা বাঁধা কৃমি পথ হারিয়ে গান্ধী টুপিতে আশ্রয় নেয় ******************************** স্বরূপ মুখার্জ্জী   গ্রাম – বনপাড়া পো :-  ঝিলু ব্লক...

তমোঘ্ন নস্করের কবিতা

            পরান মাঝি           স্বপ্নের চোখজুড়ে নামে বিশাল পূর্ণিমার নদী ........জলের গাঢ় আওয়াজে পরান পাল কাটে..... উল্টো মুখো চলেছে ডিঙি ..... জ্যোত্স্না মাখছে তার নিয়তি শরীর....প্রাণ ভিজছে সুরে আর সুরায়..... জন্মের গামছা মাথায় বেঁধে পোড়া বিড়ির পুনরাগুনে গাইছে লালনের গান .... ছল ছল নদীর বুকে দাঁড়িয়ে মনে হয় এখনও তার মীরা মাঝরাতে চাঁদের অভিসারে  স্পট সুরে নিমগ্ন ভজন এ ডুবেছে...... জঙ্গলের জীবন থেকে এভাবেই সে গেয়ে যায় প্রতিরাতে জীবনের দেয়া নেয়ার গান। এভাবেই দাঁড় বাইতে বাইতে কখন যে পরানের পরান ছুটি নেবে নিরুদ্দেশে কে জানে!!  মীরা হয়তো সাত সুরের জাল ফেলেও ধরতে পারে স্পন্দনহীন পরান কে.....

প্রণব কুমার চক্রবর্তী কবিতা

রাতের শরীরে কান্নার পান্ডুলিপি                                   গোধূলির সোনা রঙ মেখে অাজকাল বড্ড বেশি মাথা তুলছে মন খারাপের গল্পগুলো  ..... দিগন্তের কপালে  যেন মুছে ফেলা সিঁদুরের থ্যাবড়ানো দাগ অাকাশ ভেঙে ক্রমশ নেমে অাসে                বিষন্নতার এক কালো চিত্রলিপি

চন্দ্রাবলীর কবিতা

অদেখা কোন  মন আপন অদূরে কোন দেখার আদল ভুলে ছিল, সবুজ অবুঝ পাওনারা সব মেঘ কোণে ভেসেছিল । তবু অজানা পথ নিজেই এল পায়ের কাছে , ধূলোর চাদর বৃষ্টি ফোঁটা মেখে নিল । নিঝুম সাঁঝ মহল নেভা আলোর স্মৃতিতে থমকে ছিল । আঁচল ঝাপসা দেখা ঠোঁটের আদর অভিমানে ফুলে ছিল , তবু ছেঁড়া পাতা জুঁড়েছিল  রূপকথা নিয়ে  । মন ,কার কখন, অচেনা ক্ষণ হঠাৎ ফুরিয়ে ছিল । প্রেম বিশাল আকাশ চাতক মুখে বৃষ্টি দিল , তবু বেয়ারিং চিঠি নিলাম কিনে , মনের বিনিময়ে  ।। =========================== চন্দ্রাবলী ব্যানার্জী ১৬২, মহেন্দ্র ব্যানার্জী রোড কলকাতা - ৭০০০৬০

সুমন নস্করের ছড়া

পৌষালি খেঁজুর গাছে হাঁড়ি বাঁধার   সময় এলো ওই, নলেন গুড়ের মিষ্টি মিঠাই   নতুন ধানের খই৷ উড়কি ধানের মুড়কি হবে   কণেক চূড়ের মোয়া, ভাঁড় পোড়ানো কাঁচা রসের   গন্ধে শীতের ছোঁওয়া৷ নতুন ধানের পিঠে হবে   উঠবে ঘরে ধান, খেঁজুর গুড়ের গন্ধ ছোটে   সতেজ ভরা ঘ্রান৷ শিউলিরা যায় ভাঁড় কোমরে   কাটতে খেঁজুর গাছ, শীতের আমেজ একটু নিতে   থাক পড়ে থাক কাজ৷ খেজুর গুড়ের পাটালিতে   গন্ধ ছাড়ে বেশ, পৌষালি আজ এমনি ভাবে   তুলছে সুরের রেশ৷ ভাল্লাগে না সকালবেলা   পড়তে বসা ছাই, আমেজ পেতে রসের লোভে   খেঁজুর তলায় যাই৷ ============== সুমন নস্কর গ্রাম+পোষ্ট- বনসুন্দরিয়া থানা- মগরাহাট জেলা- দক্ষিণ ২৪ পরগনা

স্বপনকুমার বিজলীর ছড়া

অঙ্ক খাতায় মেঘের ভেলা  অঙ্ক নিয়ে যেই বসেছি দাওয়ায় মাদুর পেতে চড়ুইগুলো উড়ছে তখন পাশের ধানের ক্ষেতে  টুনির বাসা ডুমুর ডালে আছে দেখি ঝুলে  এ সব দেখে অঙ্ক করার নিয়ম গেছি ভুলে । অমনোযোগ হচ্ছি আমি বুঝতে পেরে শেষে  বই খাতা পেন নিয়ে বসি ঘরের ভিতর এসে  চোখ চলে যায় জানলা দিয়ে বিলের শাপলা ফুলে  পাপড়ি মেলে হাসছে ওরা উঠছে হাওয়ায় দুলে । ঝক্কি ভারি হল তো বেশ অঙ্ক হল না যে খুব বকা কাল খেতে হবে ক্লাসে সবার মাঝে  এবার ছুটে সিঁড়ি ভেঙে গিয়ে বসি ছাতে অঙ্কগুলো করতে হবে , অল্প সময় হাতে । চেয়ে দেখি সাদা মেঘে নীল আকাশে ভেসে ---- বকের সাথে ডানা মেলে যাচ্ছে দূরের দেশে  আর হলনা অঙ্ক করা, থাকবে ফাঁকা খাতা ?  মেঘের ভেলা এঁকে দিলাম অমনি দু'তিন পাতা।   .   .  .  .  .  . ------------------- স্বপনকুমার বিজলী  জোকা, কলকাতা , 

কান্তিলাল দাসের কবিতা

শীতের এ-বাংলায় । উত্তরবায়ু দিয়ে গেল চিঠি হেমন্ত যায় চলে আনছি সে ঋতু দেরি নয় আর চেনো যাকে 'শীত'বলে। সাঁঝে কুয়াশায় সকালে শিশিরে হিম হিম অনুভবে বুঝেছে মানুষ শীতের পোশাক লাগবে এবার তবে ! বের হয়ে আসে সোয়েটার টুপি শাল ও চাদর যত কম্বল লেপ রাত্রে শয়ণে প্রয়োজন অন্ততঃ। উঠেছে শীতের সব্জী বাজারে সিম কপি মুলো লাউ শাক পালঙের লাউ ও মেথির সকালেই কিনে নাও । উঠছে কমলা আপেল পেয়ারা শীতদেশ হতে ক্রমে জয়নগরের মোয়া এল ওই খাওয়াদাওয়া যাবে জমে। আহা নলেনের গুড় আসে ওই   পিঠে সাথে মোলাকাতে জমে পার্বণ শীত রজনীর নবান্ন ঘ্রাণ তাতে ! আলুখেত দেখো সেজেছে সবুজ সরিষা কনক সাজে ভরিয়েছে মাঠ ভরিয়েছে মন রোদের কাঁকন বাজে ! আসে পরিযায়ী পাখিরা এখন সাঁতরাগাছির ঝিলে গজলডোবায় নামে ঝাঁকে ঝাকে আরো কত খালে বিলে। বনভোজনের বাহানায় যারা বেরিয়েছে কাছে দূরে ডেকেছে প্রকৃতি আসলে তাদের হৃদয় বেজেছে সুরে ! ফুলে ফুলে আজ ছেয়েছে বাগিচা নয়নাভিরাম সাজে আমন্ত্রণের বিনীত হাসিটি দেখি যে তাদের মাঝে। চলো ঘুরে দেখি প্রজাপতি কত রঙ চুরি করে ওড়ে ফুলেদের সাথে মিতালি ...

সুনন্দ মন্ডলের কবিতা

সুদখোর                    রক্ত জল করা ফসল বিকোয় জলের দামে বছর শেষে কানাকড়ি পরে থাকে তলানিতে তারও ভাগ লাগে গ্রামের মহাজনকে যাঁতাকলের রস পিষে নেয় সে সবার। কৃষক নয়তো মজুর গোলামী খাটে আজীবন বউ ছেলে মেয়ে বন্ধক দিতে হয় গতর গেলে। একেকটা অসহায় জীবনের সলতে বেঁচে থাকে খড়ের চাল জড়ানো ঘরে। নির্দয় মহাজন এক টাকা ধার দিলে অসময়ে সময়ে উসুল করেন ঢের বেশি দামে। নিঃস্ব মজদুর হাতের মুঠোয় যা ধরেন মেলে পোষাই না টাকার গন্ধওয়ালা বড়লোকের।                 ----------- ছাপাখানা                   আলো আঁধারী জীবন চড়ে কালির সুখটানে আঁকা নীরবতা। শব্দরা কথা বলে অক্ষরের গায়ে ভালোবাসা মায়া স্নেহের চিরকুট বয়ে আনে খটখট টাইপে নানা রঙা ফসলি হয়ে বেরিয়ে আসে। জীবন কলের চাকার আগে আগে ঘোরে ব্যর্থ কেন হবে? নদীর খেয়ালে জল যেমন স্বচ্ছ কালির আমদানিতে লেখাও তেমন সরল। কয়েকটা ঘন্টা অতিক্রমের সময় চায় তারপর এঁকে দেবে পদটিক...

প্রসুন কুমার মন্ডলের কবিতাগুচ্ছ

1 ঈশ্ বলতে ইচ্ছে করে অর্ধমানব বানিয়ে ভূমিষ্ট  না করার থেকে গত রাতের ফেলে রাখা কন্ডমে পিছলে পড়া ভালো এত বুঝি আমরা তবুও গলির রাস্তায়  নতুন আলো দেখলে ঈশ্ বলতে ইচ্ছে করে।         2         অনুভূতি আজ দিনের শেষ ট্রেনটা ছাড়িয়ে একরাশ অবসন্নতা নিয়ে জীবনের  স্টেশনে আমি একা রাশি রাশি ভালোবাসা আর  তোর স্মৃতি নিয়ে ঘর ভাঙা শালিকের মতো তখনো স্বপ্ন বুনে চলেছি বয়স বাড়ার দ্বায়িত্ব আর  তোর অপেক্ষার নিজেকে নিয়ে ভাবার সময় নেই    3 মানবিকতার আত্মহত্যা  সেদিন অভিমানের জেদে ভালোবাসাকে হেরে যেতে দেখলাম অপেক্ষা এখনো পিছু ছাড়েনি দেওয়ালের টিকটিকির ওজন বৃদ্ধিতে  আমার কোনো হিংসা নেই কিন্তু তোমার শাড়ির ফাঁকে আর কেউ উঁকি দিল না তো মন খারাপের রাতে অ্যালকোহলে  ডুবে থাকার মতো প্রেমিক হয়তো আমি নই নক্ষত্র সংখ্যার থেকেও ভালোবাসি তোমায় সুস্থ মানবিকতার আত্মহত্যার আগে আবার একটু ভালোবাসতে পারতে  4           তুমি ভা...

কবিতা ভট্টাচার্যের কবিতা

এখানেই ঈশ্বর এই ঘরটা ঈশ্বরের ঘর   এখানে নিঃশব্দের পাশে অপরূপ - নিস্তব্ধতা   এখানে অত্যন্ত আকর্ষণ   কতবার ছুঁয়েছি , ফ্যালফ্যাল               চোখে দেখেছি   উঁচু নিচু মাঝারি সারি            সুন্দর স্রষ্টার সৃষ্টি ।             এদিকে পদ্য , এদিকে সাহিত্য   পরিপূর্ণ রচনার সম্ভার                 মন্দির চত্বর লক্ষ্য তারার সাথে অসংখ্য   প্রদীপ জ্বলজ্বল করছে   যেন এক পৃথিবী , সবাইকে ডাকছে আকুল আবেগে           কী অদ্ভুত সুন্দর ।

সুদীপ্ত বিশ্বাসের কবিতা

লক্ষ্যভ্রষ্ট পথিক আমি, পথের কাছে কথা আমার দেওয়াই আছে ঠিক যেভাবে ছোট্ট নদী ছুটতে-ছুটতে দারুণ বাঁচে! মাধুকরী করেই আমি পাহাড় দেখে ঝর্ণাতলে সেই যেখানে অরণ্য-বন ভালবাসার কথাই বলে; সেই সে দেশে যেই না গেছি ছুটতে ছুটতে হন্যে হয়ে নদীও দেখি দারুণ খুশি, আমার জন্যে যাচ্ছে বয়ে। টুনটুনিটার মতই সরল, আমার হাতে রাখল সে হাত তারপরে তো আপন হল, নদীর সে গান, জলপ্রপাত। ছপ-ছপা-ছপ সাঁতরে শুধু ডুব-সাঁতারে, চিৎ-সাঁতারে যাচ্ছি ডুবে উঠছি ভেসে কুল না পেয়ে সেই পাথারে। এরপরে তো হঠাৎ করে সেই ফোয়ারা উথলে ওঠে এমনি করেই ঝলমলিয়ে বাগানজুড়ে গোলাপ ফোটে। গেলাম ভুলে পথের কাছে কথা আমার দেওয়াই আছে বন্দী আমি আটকে গেছি, আটকে গেছি তোমার কাছে! ========================================= Sudipta Biswas,Deputy Magistrate & Deputy Collector,(WBCS Exe.), Nokari Uttar Para, PS-Ranaghat,Dist- Nadia ,

চিরকুটের কবিতা

যৌবন এখন আর আকাশ থেকে ফুল পড়ে না নদীর জল বিষাদের পাঁকে জর্জরিত চাঁদের আলোয় কেউ গা ধোয় না পড়ে থাকে বাঁশি কোন সে অন্দরে ! পাতার ফাঁকে রঙিন স্বপ্নেরা উকি দেয় ঠিকই তবে কোথাও যেন মনোমালিন্য ঝলসানো যৌবনের শেষ কুঁড়ি বাস্তবের দরবারে মাথা কুটে মরে ।  আসলে নুনের দাম অনেক বেশি কাঁচা দেয়ালের ঘরে । ব্যর্থ প্রেম একরাশ নিশ্ছিদ্র ধোঁয়ার মাঝে একটা নরম গোলাপ কখন বিষিয়ে গেল ! টের পেলোনা কেউ ।  দুরন্ত রোদ্দুরের মতো আবিষ্কার করি একটা জলজ্যান্ত আধপোড়া ভালোবাসা  থকথকে কালো রক্ত ভিজিয়ে দেয় আমার সকাল সন্ধ্যা ।  গভীর রাত্তিরে নিদ্রার ভেতর এক ঝাপসা পথ বরাবর দুইকুল ছাপিয়ে প্রেম এনে দেয় আমার মেঘবালিকা ।  তোমার শহরে আমি বহমান এক ধূলিকণা হলেও আমার গল্পে তুমিই নায়িকা ।  ======================= সুশান্ত কোড়া প্রযত্নে নৃসিংহ ঘোষ গুরুপল্লি পশ্চিম ( ভোডাফোন টাওয়ারের কাছে )  শান্তিনিকেতন বীরভূম

শেখ সামসুল হক এর একগুচ্ছ কবিতা

যাও   ফিরে   যাও গাছের   পাতার   সবুজ   খোয়ানো   ছবি ইথিওপিয়া   নয়   এই   বাংলাদেশে দেখছি   অবশেষে   তাই   বাংলাদেশে আবারও   হৃদয়   খুন   দেখতে   হবে  ? সোনার   মানুষ   হারাতে   দেবোনা   আমি যে   করেই   হোক   বিনাশ   ঠেকাতে   চাই উতাল  - মাতাল   অদিন   আসছে নিকটে   বিকট   শকুন   উড়ছে সামনে   পিছে   ডাইনে   বায়ে বাঁচার   চেয়ে   মরাও   ভালো আওয়াজ   তুলে   বলছে   কি   সব মায়ের   কোলের   অবুঝ   শিশুর অকাল   মরণ   জল   পিপাসায় তাই   যদি   হয়   বেশ   তুমি   থাকো যে   করেই   হোক   হৃদয়   খুন   ঠেকিয়ে   আসি যাও   ফিরে   যাও   খরার   মরা   বাংলা   ছেড়ে। নিখোঁজ   সেই   ছবি তুমি   এখনো   অজানা   এক ...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

কবিতা ।। স্রষ্টা ।। বৈশাখী রায়

  স্রষ্টা   বৈশাখী রায় তাদের খুঁজছি, খুঁজেই চলেছি... মস্তিষ্কের গভীর-গোপন কোণগুলিতে। তবুও প্রকাশ্যে আসেনি তারা, শব্দের ভিড় নামেনি হাতে। চাহিদার প্রাচুর্য! সংখ্যা বাড়ছে খুব... আমি স্রষ্টা, রচনাই আমার আরাধনা, সৃষ্টি সাধনা জলাঞ্জলি যাক! জবরদস্তি প্রতিযোগিতায় নামা। মনের ভাব প্রকাশ পায় না, তবুও লেখার স্বাধীনতা।  অর্থ মিলুক ছাই না মিলুক , কঠিন তবু শব্দ খোঁজা।  কলমে তারা ধরা না দিলে, মস্তিষ্ক শব্দ ধার করে । অনুভূতিরা আপন হয় না, অন্যের অনুভবে অট্টালিকা গড়া। উফ! শব্দ মেলানো কঠিন কাজ, মন এবার শব্দের ছক বাধে। ব্যস্ততা, সময়সীমা, প্রতিযোগিতার জটাজালে, স্বতঃস্ফূর্ততা হাঁপিয়ে ওঠে...।।               ___________       নাম-বৈশাখী রায়  ঠিকানা- ঠাকুরনগর (বণিক পারা) ডাক-ঠাকুরনগর  থানা-গাইঘাটা  পিন-৭৪৩২৮৭

বিজয়ন্ত সরকারের গল্প

// রাস্তার ছেলে মন্টু // গতরাতে যখন অঝোর ধারা... স্বস্তির গন্ধ দালানের মালিকদের উরুভাঁজে-কার্নিশে তখন ভেজা শরীরে বছর নয়ের মন্টু আশ্রয় নিয়েছিল একটা জীর্ণ একচালায়। যার নীচে দাঁড়িয়ে শরীরটা অন্তত একটু কম ভেজে ।  বৃষ্টিস্নাত রাতে এই একটাই সমস্যা মন্টুর । সকালে মবিন মিঞাঁকে দেখেই- - আরে চাচা, গতরাতে যা বৃষ্টি, তোমার এই একচালার নীচেই তো ছিলাম । - কী কইতাসস্ ! এই চালায় যত ফুটা, দিনে বারিষ আইসলে মুই বুঝবার পারিনা জুতা সিলাইয়ের জিনিস রাকপো কই আর মুইবা খাড়াবো কই ! - যাই বল চাচা, ভগবান আমার জন্যই তোমাকে পাঠিয়েছে । তা না হলে খদ্দের তো তেমন আসেনা, তবু ওই কটা পুরানা জুতা-কালি-সুতা নিয়ে বসে থাকো।  - হা হা হা (প্রাণখোলা হাসি) সহী বাত্ বেটা...সহী বাত্ । 'যাই ওদিকে হয়তো চা ফুটছে, পরে এসে নিউজ শোনাব তোমাকে' মন্টু বলতে বলতে ঝটপট্ বেরিয়ে যায়।  দাস টিফিন সেন্টারে কাজ করে মন্টু । সারদিন খেটে নাম মাত্র টাকা পায় আর কখনও কখনও পায় এক বেলার টিফিন । অথচ কথায়, চাল-চলনে, ফুরফুরে-উড়ে বেড়ায় বেশ । (ব্যাগ হাতে এপাড়ার গন্যিমান্যি গগন বাবুর আগমন) - আরে ও মবিন...

পুস্তক-আলোচনা ।। পুস্তক : বেগমপুরের ইতিহাস ।। লেখক : ড. দেবব্রত নস্কর ।। আলোচক: অরবিন্দ পুরকাইত

'বেগমপুরের ইতিহাস' :  অনুসরণযোগ্য জন্মগ্রাম-গাথা — অরবিন্দ পুরকাইত আজন্ম যে স্থানে মানুষের শৈশব-কৈশোর কাটে, যৌবন কাটে, তার স্মৃতি সচরাচর অবিস্মরণীয়। যত নগণ্যই হোক না সে স্থান। প্রত্যক্ষভাবে যদি না-ও হয়, আমরণ ছায়াসঙ্গী যেন তা মানুষের! আমাদের ইতিহাসচেতনা বলবার মতো নয়। একাধিক খ্যাতনামা ব্যক্তিত্ব এ আক্ষেপ করে গেছেন, বঙ্কিমচন্দ্রের কথা তো স্বত-ই মনে আসে। আমরা এমনকি ইতিহাস নিয়ে ভাবি-ই না তেমন করে! মৌখিক পরম্পরা একসময় হারিয়ে যেতে থাকে আগের প্রজন্মের মানুষের একের পর এক প্রস্থানের সঙ্গে সঙ্গে, তার লিখিত বা অন্য রূপ তেমন ধরে রাখতে না পারার কারণে।        কেবল শৈশব-কৈশোর-যৌবনই নয়, জন্মতক দেবব্রত নস্করের প্রায়-সাতদশকজোড়া জীবন নিরবচ্ছিন্নভাবে কেটেছে তাঁর ধাত্রী, পালয়িত্রী বেগমপুরে — দুশো-আড়াইশো বছর আগে বর্তমান উত্তর চব্বিশ পরগনার দাড়া গ্রাম থেকে এসে তাঁদের পূর্বপুরুষদের জঙ্গল হাসিল-করা স্থানেই। জন্মভূমির প্রতি দায়বদ্ধতাস্বরূপ লিখেছেন তিনি তাঁর জন্মগ্রামের কথা। বহু মানুষেরই স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ তাঁদের জন্মভূমির সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা। সেই জন্মভূমির প্রতি প্রায়...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতা ।। ভাষার জন্য লড়াই ।। চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু

ভাষার জন্য লড়াই চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু মুখের ভাষা বাংলা ভাষা মাকে ডাকি মা, সারা বিশ্বে তোমার মাগো নেই তো তুলনা। তোমার মুখের প্রথম ভাষা আমার মনের সকল আশা তোমার ভাষায় বলবো মাগো আমার মনের কথা, এই ভাষাতেই জড়িয়ে আছে সকল স্বাধীনতা।  এই ভাষাকে আনতে গিয়ে তাজা বুকের রক্ত দিয়ে রাজপথে সব লড়াই হলো করলো লড়াই কারা, আমার মায়ের দামাল ছেলে রক্ত পলাশ যারা।  তোমার ছেলে লড়াই করে আনলো ভাষা ঘরে ঘরে সেদিন থেকে শহীদ মিনার সাজাই ফুলে ফুলে, বীর শহীদের ত্যাগের কথা যাইনি আজও ভুলে।    ++++++++++++++++++++++++++++++++    চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু শহীদ আবুল কাশেম সড়ক, বড় বাজার, চুয়াডাঙ্গা, বাংলাদেশ।

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৭তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ মে ২০২৫

  প্রচ্ছদ চিত্র: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সূচিপত্র রবীন্দ্রনাথ এবং কয়েকজন নারী ।। অনিন্দ্য পাল পরাবাস্তববাদ ও বাংলায় জীবনানন্দের কাব্যচর্চা ।। রণেশ রায় প্রতীক্ষা ।। চন্দন দাশগুপ্ত আশ্রয় ।। সায়নী সাহা বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র ।। দেবাংশু সরকার প্রণামের প্রভু ।। সুপ্রভাত মেট্যা দুর্ভাগ্যের সম্মুখ সমরে ।। সমীর কুমার দত্ত আচমকা শরৎ ।। অর্ণব সামন্ত প্রতিধ্বনি ✍️ সুবীর কুমার ঘোষ জীবন যেখানে যেমন ।। আরজু মুন জারিন বছর সীমান্তে হিসেব নিকেশ ।। রানা জামান চারটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর আমরা আছি ।। লালন চাঁদ চাওয়া ।। মাথুর দাস কাগজ ফুলে ।। সফিউল মল্লিক সময়ের স্রোত ।। দুর্গাদাস মিদ্যা তুমি মানুষ ।। বদরুল বোরহান দিঘার সমুদ্র ।। মাখনলাল প্রধান পুস্তক-আলোচনা ।। অরবিন্দ পুরকাইত সংযম ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত  চেনা প্রতিবেশী (প্রথম পর্ব) ।। দীপক পাল খেলার মাঠ ।। তূয়া নূর বন্ধু শ্যামলকান্তি ।। শংকর ব্রহ্ম তুমি তোমার মতো থাকলে ।। সত্যেন্দ্রনাথ বেরা গ্রীষ্মে খুবই হিংস্র রবি ।। জগবন্ধু হালদার স্বপ্ন দর্শন ✍️ পার্থ প্রতিম দাস মৌন মুখরতা ।। মুসা মন্ডল রুদ্র বৈশাখ ।। দীনেশ সরকার চিহ্নিত পদযুগ পদাঘাত ।। দেবাশীষ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। প্রথম পর্ব : 'প্রেম' বিষয়ক লেখাগুচ্ছ

সূচিপত্র   গদ্য-গল্প-কবিতা প্রেম বিষয়ক কবিতা ।। উত্তম চৌধুরী   উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || অভিজিৎ হালদার   প্রেম: মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা অনন্ত আলোর নাম ।। আদিল হোসেন মাহি অসমাপ্ত ভালোবাসা ✍️ শিবাশিস মুখার্জী অসমাপ্ত শ্রুতি ।। জয় মণ্ডল রম্যরচনা ।। ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড ।। অভীক চন্দ্র প্রেমিক-জন্ম ।। নবনীতা সরকার সুব্রতাসম্ভব, সহজ গান ।। অর্ণব সামন্ত যৌবনের বিগত ঋণ ।। শম্পা সামন্ত দেখা ।। রাজশ্রী দে খেলাঘর ।। অদিতি চ্যাটার্জি ক্ষণস্থায়ী ।। শ্যামল হুদাতী মন ।। লালন চাঁদ আনমনে ।। সন্দীপ গাঙ্গুলী রজনীর গন্ধে ভেজা রাত ।। কৃষ্ণনীল মিস্টার ব্যানার্জী || আরজু মুন জারিন দুটি কবিতা ।। জয়শ্রী দাস কড়ানাড়া ।। মলয় সরকার অদেখা চিঠির নদী ।। দেবব্রত মণ্ডল অপূর্ণতা ।। ​সুখেন সিনহা জুলি এবং আমি ।। মাখনলাল প্রধান প্রেমের আরেক নাম ।। সুমিত মোদক হৃদয় ঘটিত ।। চঞ্চল পাণ্ডে তোমার জন্য ।। বনশ্রী চক্রবর্তী কল্পপ্রেম ।। প্রদীপ সেন বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায় তিনটি কবিতা ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত

শ্রমিকের অধিকার  চন্দন দাশগুপ্ত          এই নিবন্ধের পরিধিটি বিশাল। ভারতবর্ষের বিভিন্ন শ্রম- আইনানুসারে শ্রমিকদের বেশ কিছু অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ এই ক্ষুদ্র নিবন্ধে নেই, তাই শুধু কয়েকটি প্রধান উল্লেখযোগ্য বিষয়েই আলোকপাতের চেষ্টা করা যাক।            [১] কাজে নিযুক্ত হবার সময়েই প্রত্যেক শ্রমিক একটি নিয়োগপত্র [ পশ্চিমবঙ্গ দোকান ও সংস্থা আইন-১৯৬৩ -র অধীনে থাকা শ্রমিকেরা এক্স (X) ফর্মে ] পাবেন ।           [২] (ক) জুট মিলে কর্মরত কোনও শ্রমিকের পাক্ষিক উপস্থিতি ১২ দিন হলে, তিনি বেতন ছাড়াও অতিরিক্ত ২০ টাকা পাবেন।                 (খ) 'ঠিকা'-তে উল্লিখিত পরিমাণের চেয়ে বেশি চাপাতা সংগ্রহ করলে বাগিচা শ্রমিকেরাও নির্দিষ্ট নিয়মানুসারে অতিরিক্ত টাকা পাবেন।            [৩] (ক) ১০ বা তার বেশি শ্রমিক কাজ করেন, অথবা বিগত ১২ মাসের যেকোনও একদিন ১০ বা তার বেশি কর্মী ছিলেন ( সিনেমা হলের ক্ষেত্রে এটি ৫ জন )-- এমন সংস্থ...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

কবিতা ।। ভাষার জন্য লড়াই ।। চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু

ভাষার জন্য লড়াই চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু মুখের ভাষা বাংলা ভাষা মাকে ডাকি মা, সারা বিশ্বে তোমার মাগো নেই তো তুলনা। তোমার মুখের প্রথম ভাষা আমার মনের সকল আশা তোমার ভাষায় বলবো মাগো আমার মনের কথা, এই ভাষাতেই জড়িয়ে আছে সকল স্বাধীনতা।  এই ভাষাকে আনতে গিয়ে তাজা বুকের রক্ত দিয়ে রাজপথে সব লড়াই হলো করলো লড়াই কারা, আমার মায়ের দামাল ছেলে রক্ত পলাশ যারা।  তোমার ছেলে লড়াই করে আনলো ভাষা ঘরে ঘরে সেদিন থেকে শহীদ মিনার সাজাই ফুলে ফুলে, বীর শহীদের ত্যাগের কথা যাইনি আজও ভুলে।    ++++++++++++++++++++++++++++++++    চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু শহীদ আবুল কাশেম সড়ক, বড় বাজার, চুয়াডাঙ্গা, বাংলাদেশ।

পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার

পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী  ড. সবুজ সরকার পল গগ্যাঁ ( ১৮৪৮ - ১৯০৩)  ছিলেন ঊনবিংশ শতাব্দীর একজন প্রতিভাবান ও প্রভাবশালী ফরাসি চিত্র শিল্পী। গগ্যাঁ তাঁর শিল্পচর্চার  শুরুতে একজন Impressionist শিল্পী হিসেবে  চিত্র অঙ্কন শুরু করলেও ( ১৮৮০ র দশকে) পরবর্তীতে পরিচিতি এবং খ্যাতি পেয়েছিলেন  একজন বিশিষ্ট Post- Impressionist চিত্র শিল্পী হিসেবে। নিজের জীবন দর্শন এবং তাঁর শিল্পকলা গগ্যাঁর কাছে চিহ্নিত হয়েছিল বন্য " savage" হিসেবে।     গগ্যাঁ তাঁর রেখায় এবং রঙে বারে  বারে ফিরে যেতে চেয়েছেন আদিমতার কাছে। একাত্ম হতে চেয়েছেন প্রকৃতির সাথে। মিশে যেতে চেয়েছেন প্রকৃতির সম্মোহনী সত্ত্বায়। ১৮৮০ র পরে সময় যত এগিয়েছে গগ্যাঁ ততই আধুনিক সভ্য সমাজের যান্ত্রিকতা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে গেছেন। বারংবার আঁকতে চেয়েছেন কল্পনার সাম্রাজ্যের স্বর্গীয় অনুভূতিগুলিকে, আর তাঁর ছবিগুলো হয়ে উঠেছে অকৃত্রিম, খাঁটি এবং আদিম। জীবনের প্রকৃত সত্য ও আদিম চেতনার সন্ধানে গগ্যাঁ ১৮৯১ সালে ফরাসি পলিনেশিয়ার তাহিতি দ্বীপে চলে যান। এই দ্বীপে সাধারণ মানুষের জীবন যাপন তাঁকে আকৃষ্ট করে। এব...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। পর্ব: ২ ।। বিষয় : মাতৃভাষা

  সূচিপত্র শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী মাতৃভাষা: অস্তিত্বের শেকড়, ঐতিহ্যের ধারক ও সংগ্রামের ফসল ।। উৎপল সরকার অগ্নিগর্ভ একুশে ফেব্রুয়ারি ।। মুক্তি দাশ সঙ্কটে আমাদের মাতৃভাষা চর্চা।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মাতৃভাষা: হৃদয়ের প্রথম স্বর ।। বাসিরা খাতুন আমি বাংলাকে ভালবাসি ।। সৌম্য পাল মাতৃভাষা ।। এস এ বিপ্লব সুখে দুঃখে মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি ।। সামসুজ জামান শেকড়ের খতিয়ান ।। মামুন চাকলাদার মধুর ভাষা বাংলাভাষা ।। রবীন বসু মাতৃভাষা ।। দিলীপ সামন্ত ভাষার কথা ।। বি এম মিজানুর রহমান স্মৃতির স্বরলিপি ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র একুশ মানে মাতৃভাষা রক্ষায় যুদ্ধ ।। রানা জামান প্রিয় বাংলা ভাষা ।। চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী প্রবন্ধ ভাষার অবমাননা ।। গৌতম সমাজদার আমার প্রাণের ভাষা ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত একুশের লড়াই ।। বিধাত্রী চট্টোপাধ্যায় আমার ভাষা ।। অজয় বিশ্বাস মায়ের ভাষা ।। নজমুল ইসলাম খসরু মাতৃভাষা ।। শোভন চট্টোপাধ্যায় কবিতা ।। মাতৃভাষার স্বাদ ।। রুহুল আমিন বাংলা আমার মা ।। অশোক দাশ একুশের গান ।। দীপঙ্কর সাহা মাতৃভা...

'রঙ' বিষয়ে গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম

  'রঙ' বিষয়ক গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম লাল   আপনি এমন কি আপনিও পারেন কোন সুন্দরী টাইপিস্টের প্রেমে পড়তে যে আপনি খুবই সহজভাবে জীবনকে দেখেন জীবনকে নিজের ভেতর দিয়ে বয়ে যেতে দেন জবরদস্তি ছাড়াই রং নিয়ে কখনো তেমন ভাবেননি ধরুন লাল রং একজন পেইন্টার আর একজন জেনারেলের কাছে ওর মেজাজ নিশ্চয়ই আলাদা হবে হ্যা আমি নিশ্চিত যে নার্ভ ঠিক রেখে একটা তেলাপোকাও কখনো মারতে পারেননি আপনি সেই আপনাকে হঠাৎ খুন করে ফেলতে পারে কোন সুন্দরী টাইপিস্ট আর এই খুনের ব্যাপারটা নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে কী লিখে নিচ্ছে সে কি ডকুমেন্ট তৈরি করছে সেটা তো আপনি জানতেও পারছেন না কেন না মনিটর তো সাদা রং নিয়া আমাদের মারাত্মক ভুল ধারণা রইছে সবুজ হলুদ কমলা নীল বেগুনী কালো সাদা এগুলা কিন্তু সতিকার রং না হ এগুলা সত্যিকার রং হয়া উঠবো যখন এগুলারে তুমি লাল রঙে চুবায়ে নিতে পারবা লাল রঙের গ্লাস আজ অব্দি যতোগুলো গ্লাসে আমি জল খেয়েছি তার সবগুলোর গায়েই ফুল আঁকা আচ্ছা বাজারে এমন কোন গ্লাস কি পাওয়া যায় না যার গায়ে আগুন আঁকা আর আপনারা জানেন আগুন যখন জ্বলে তখন তার আকৃতি তাজা একটা ফুলের মতোই আর লাল হ্যা যখন যে অবস্থায়ই আগুনকে আপনি দেখেন না কেন...