Skip to main content

Posts

সন্তু চ্যাটার্জির অনুগল্প

ভুয়ো গ্রামের প্রবীণ মাস্টারমশাই প্রণববাবুর শিক্ষক দিবসের সকালটা একটু অন্য রকম ব্যস্ততার মধ্যেই কাটে। আর কাটবে নাই বা কেন ? এই ৩৫ বছরের শিক্ষকতা জীবনে তো তিনি কম ছাত্রছাত্রীর বৈতরণী পার করলেন না।আজ তারা নিজ নিজ জগতে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।তাই আজকের দিনে তারা তাদের প্রিয় স্যার এর খোঁজ খবর নেবে, তার আশীর্বাদ ধন্য হতে চাইবে এতো খুব সহজ কথা।পূর্ণপরিতৃপ্ত প্রণব বাবুও পরমেশ্বর এর কাছে তার প্রাণাধিক প্রাক্তন ও বর্তমান আত্মজ স্বরূপ ছাত্রছাত্রীদের সুভাশুভ কামনা করেন।মনে মনে ভাবেন, আর তো মাত্র কয়েকটা দিন তারপর তিনিও যে প্রাক্তন । সকালের ব্যস্ততা কাটিয়ে, কোনো রকমে স্নান- খাওয়া সেরে ,সাদা ধূতির উপর পাঞ্জাবীটা চাপিয়ে প্রণব বাবু যথাসময়ে স্কুল এ হাজির হন। সমবেত ছাত্রছাত্রীদের প্রণামের পালা চুকলে, দোতলায় হেডস্যার এর ঘরে এসে জানতে পারেন, D.I. অফিস থেকে এক কমবয়সী অফিসার এসেছেন, তার অবসর কালীন কাগজপত্র নিয়ে কথা বলতে।হেড স্যার পরিচয় করিয়ে দিতেই অফিসার বলে ওঠেন "প্রণব বাবু আপনার B.ED degree টা তো দেখছি বৈধ নয় , কারণ আপনি যে কলেজ হতে B.ED করেছিলেন তার তো NCTE এর অনুমোদন নেই ,আপনি যে কি ভ...

তপন কুমার মাজির গল্প

"শিক্ষাগুরু" সেপ্টেম্বরের তিন তারিখ। সোমবার। ঘড়িতে তখন সকাল ১০:৫৫। মৃণালবাবু মানে মৃণালকান্তি চৌধুরী মহাশয় দ্বাদশ শ্রেণীর বাংলা ক্লাসে ঢুকেছেন সবেমাত্র। চলছে রোলকল। এমন সময় একাদশ শ্রেণীর কিছু ছাত্র-ছাত্রী দরজার সামনে এসে ভিড় করে দাঁড়ালো। --তোমরা কিছু বলবে ? --স্যার, নাটকের সংলাপগুলো একটু দেখে নিলে ভালো হতো। আর অভিনয়টাও কেমন হচ্ছে... একাদশ শ্রেণীর ছাত্র রণিকের কথাটা শেষ হতে না হতেই মৃণালবাবু বললেন, --দেখছো না, এখন ক্লাস নিচ্ছি। তোমরা এখন ক্লাসে যাও। সেকেন্ড ক্লাসটা আমার অফ্ আছে। তখন না হয় দেখে নেব। রণিকরা মাস্টার মশায়ের কথার মান্যতা দিয়ে চলে গেল ক্লাসে। ঠিক একইরকমভাবে প্রতিটি ক্লাসের ছাত্র-ছাত্রীরা পরপর কেউ গান, কেউ বা আবৃত্তির জন্য মৃণালবাবুর কাছে এসে অনুরোধ করতে শুরু করলো। আর তাদের একই কথা বলে প্রত্যেককেই একের পর এক ক্লাসে ফিরে যেতে বললেন। ঘটনা হোল সামনেই শিক্ষক দিবস। প্রতি বছরের মতো এই বছরও বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে নাচ, গান, আবৃত্তি, নাটক ইত্যাদি। এগুলোর মধ্যে নাচ বাদে সবগুলোরই হত্তা কত্তা বিধাতা--"সবে ধন নীলমণি" মৃণালবাবু। নাচটা শেখান অব...

সৌরভ ঘোষের ছোটগল্প

 নিরাকার সকাল থেকেই হইচই শুরু করেছেন প্রভাত বাবু।পুরো নাম প্রভাত কুমার নস্কর,ছোটদাদু দিয়েছিলেন।প্রতিদিন ভোরবেলা উঠে পার্কে প্রায় এক ঘন্টা শরীরচর্চা করেন। বাড়ি ফিরে, বাড়ির সামনের কাঠা দুয়েক জমিতে নিজের সবজি বাগানে কিছুক্ষণ সময় দেন তারপর চা- মুড়ি টিফিন করে বাজারে।প্রতিদিনের একই রুটিন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরী করতেন প্রভাত বাবু।আগের বছর বসন্তে দখিনা হাওয়া গায়ে মেখে অশ্রু সজল চোখে বিদায় নিয়েছিলেন।সকলের প্রিয় আর মজার মানুষ।সাড়ে সাতাশ বছরের কর্মজীবনে কামাই কদিন গুনে বলা যাবে।সংসারের থেকেও বেশি স্কুলকে ভালোবাসতেন।স্কুল ছেড়ে চলে যাবার ভয়ে কর্ম জীবনের একমাত্র ইনক্রিমেন্ট, হেড মাস্টারের পদ পর্যন্ত অবলীলায় ত্যাগ করেছিলেন। প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী'রাও স্যর বলতে অজ্ঞান। রাস্তায় দেখা হলে দাঁড়িয়ে কথা বলে,বাজারের ব্যাগ ভারি হলে কেউ এগিয়ে দেয়,ইলেকট্রিক বিল জমা দিতে গেলেও তাই-লাইন দিতে হয় না।এক্ষেত্রে প্রভাত বাবুর আপত্তি থাকলেও,কে শোনে।কিছু কিছু ছাত্র বাইরে থাকে। বাড়িতে ফিরেই আগে স্যরের বাড়ি।বিয়ে হয়ে যাওয়া ছাত্রী'রাও বাপেরবাড়ি এলেই দেখা করতে আসে।কেমন যেন অদৃশ্য টান।প্রভাত বাবু মানু...

কবি আর্যতীর্থএর কবিতা

। বিলুপ্ত। পিটিয়ে পিঠের ছাল তুলে নিলেও অভিভাবকরা যাঁদের বলতেন বেশ করেছেন, পাশফেলের সাথে সাথে সেই মাস্টাররাও কেমন উধাও হয়ে গেলেন। যাঁদের ভয়াল চাউনি একক্লাস কোলাহলকে স্তব্ধ করে দিতো, পড়া না পারলে নিল ডাউন বা বেঞ্চে দাঁড় করাতেন যাঁরা নিয়মিত, যাঁরা ধুতি পাঞ্জাবী পরে স্বচ্ছন্দে পড়াতে পারতেন ওয়ার্ডসওয়ার্থ টেনিসন, শেলী, হেমিংওয়ে, যাঁদের শাসনের মধ্যে স্নেহ থাকতো, যাঁরা চাইতেন গাধাগুলো ঘোড়া হোক বড় হয়ে, সেই সব মাস্টারমশাই আর দিদিমণিরা ক্রমেই বিলুপ্ত হলেন ডায়নোসরের মতো। যদিও এই পাশফেলহীন মারধোর ব্যতিরেকে সন্তান মানুষ করার যুগে, তাদের না থাকাটাই বোধহয় যুক্তিসঙ্গত। শুধু কি ধমকই সব, আদরও কি পাইনি ? অনাবিল কিছু পিঠচাপড়ানি কঠিন অংক সমাধানে, দশে আট দিয়ে সেই হেসে বলা এর থেকে বেশি আর দিই নি জীবনে, তিনদিন না এলে কোনো বন্ধুকে দিয়ে ছিলো খোঁজ করা নিয়মমাফিক, সেন্ট আপ হয়ে গেলে জড়িয়ে ধরাও ছিলো, বয়স্ক দুই চোখ জল চিক চিক। গুগলের মতো হয়ে যাবতীয় নোটস আর তথ্যের ভাণ্ডার কাঁচিয়েকুঁচিয়ে যাঁরা আনতেন তুলে, ভালো নম্বরের আগে ভালো মানুষ হও ,সে আজব কথা যাঁরা শেখাতেন স্কুলে, কোথায় পাঠালে তাঁদের নির্বাসনে,...

তাপসী লাহার কবিতা

প্রিয় ছাত্রী ------------ নাহ তুমি চঞ্চল হলে না লক্ষীমন্ত ডগমগ লাবণ্য কি ভালো কি ভালো! নম্রবদনা এতো ঢালো ঢালো। কোনো প্রশ্ন নেই হরিণ দুটো চোখে, সিঁথি 'পরে শোভিত লাল, বয়স শুধু ষোলো। বাকক্ষম ঠোটে গায় স্বামী গুণগান, ক্লাস পড়া এসব এখন যে বড়ো ম্লান। আমার সাধের চারাগাছে তখন ধন্দের আকিবুকি, অসংযত অন্দরে আশংকা দ্রিমি দ্রিমি বাজে। প্রিয় ছাত্রী, আমার মন ভেঙে গেলো হ্রদয় বিষাদপুরে, সবার মতো কেনো হলে, নিজের মতো কেনো নয়! তাপসী লাহা

বটুকৃষ্ণ হালদারের কবিতা

বরুণ বিশ্বাস স্মরণে রোজ কার মত স্কুলের শেষে ট্রেন ধরে ঘরে ফেরা স্টেশনে নামতেই, হঠাৎ সজোরে একটা বুলেটের শব্দে সব শেষ স্টেশনের এক কোণে লুকিয়ে ছিল কাপুরুষ, স্বার্থlন্বেষী হায়নার দল.......... তুমি ছিলে সবার প্রিয় সুটিয়ার মাস্টার মশাই আছে বাজারের ব্যস্ততা, রাস্তা ঘাট, জন কোলা হল, আছে দূষিত বায়ু, নেকড়ে হায় নার দল নেই প্রতিবাদ, সাহসী, নির্ভীকদের অদম্য উচ্ছ্বাস সু সভ্য সমাজের অর্জুনরা আজ নির্বাক, দুর্বল মনোবল আজ শুধু তুমি নেই মাস্টার মশাই কি ছিল তোমার অপরাধ জিজ্ঞাসিছে বিদ্য জনে? দুঃস্থ, অসহায় দীন, দিশাহীন দের আশার আলো কত শত অসহায় কুমারী, নারী নির্ভয়ে, নীরবে কাটিয়েছে কতিপয় রাত...... নির্ভীক, দৃঢ়, স্বাধীন চেতা মনোবলে ভয় পেয়েছিল, কাপুরুষ, কসাইয়ের দল তুমি আজ নেই লেখনী তে,কবিতা কিংবা গানে তোমায় নিয়ে হয় নি আলোচনা, সম্প্রচার চুলচেরা বিশ্লেষণ দূরদর্শনে তুমি রয়ে গেছো কতিপয় হৃদয়ের আত্ম সংঙ্গপনে অসহায়, সম্বলহীন পিতা, মাতার আজও অশ্রুধারায় ভিজে যায় সুটিয়ার মাটি দুয়ারে দাঁড়িয়ে আজও গভীর নিঃসঙ্গতায় হাঁতড়ে বেড়ায় স্মৃতি তোমার শহীদ বেদীতে নিভূ নিভূ দীপ জ্বলে বিষন্নতার সাঁঝে তুমি আজ...

পবিত্র দাসের কবিতা

প্রহসন আদর্শহীন ছাত্রসকল অনাদর্শী শিক্ষাগুরু, শিক্ষার নামে নীতি বেচে দিচ্ছে ক'রে ব্যবসা শুরু। শিক্ষক সবে ব্যাপারী আজ শিক্ষা তাদের পণ্য হ'ল, বিদ্যালয়ে দিব্যি ফাঁকি বিদ্যা বেচে লক্ষ্মী তোলো। লক্ষ্মী পিঠে সওয়ার হ'য়ে সরস্বতীর অন্বেষণে, শিক্ষাক্ষেত্রে এই অনাচার চলছে হেথা অনুক্ষণে। সর্বপল্লী, বিদ্যাসাগর, ফেলছে তারা লুকিয়ে মুখ, মেরুদণ্ড ভাঙা জাতির লোভানলে সন্ধানে সুখ। যোগ্যতা সব থাক বা না থাক পকেট সবার উঠুক ভ'রে, আমার ছেলে পড়বে রে ভাই বঙ্গ থেকে অনেক দূরে। তাই তো ব'লি এই বাঙলাতে যোগ্য বেছে লাভ কি কাজে, কবিরা সব বেকার বকে লেখে সবই আজেবাজে। শিক্ষক আজি বন্দি থাকে দীর্ঘ সময় অফিস ঘরে, প্রভাববলে নানা ছুতোয় শিক্ষকদেরকে ঘেরাও করে। কটূভাষ্যে শিক্ষকদেরই করে সদা মুণ্ড ছেদন, শিক্ষকদিবস পালন ক'রে ওড়াতে চাও বিজয় কেতন! --------------- ঠিকানা:-পবিত্র দাস গ্রাম: চালতিয়াপোষ্ট: চালতিয়াথানা: বহরমপুর জেলা: মুর্শিদাবাদ পিন: ৭৪২৪০৭ফোন: ৮৯১৮৭২৫২৬৪

সোমনাথ বেনিয়ার কবিতা

স‍্যার কী লিখি? কী-বা বলি! তিনি সময়। বরং সময়ের থেকে অনেকটা এগিয়ে। আমি সময়চক্রের ক্ষুদ্র শব্দ মাত্র ... তিনি গাছ। অজস্র ডালপালা। তিনি ছায়া। শীতল আশ্রয়। আমার পরম বিশ্রাম ... তিনি অনন্ত। জিজ্ঞাস‍্য পরিধি! আমি কেন্দ্র। অস্ফুট ডট! তিনি পূর্ণ। ১০০! আমি আপাতত শেষ শূন‍্য ... ঠিকানা - ১৪৮, সারদা পল্লী বাই লেন ডাক + থানা - নিমতা জেলা - উত্তর ২৪ - পরগনা কলকাতা - ৭০০ ০৪৯. ফোন - 8697668875.

শুভাশিস দাশের কবিতা

শিক্ষক দিবসে জ্ঞানের আলো জ্বালান যিনি আসল গুরু তিনি এই সমাজে শিক্ষক নামে আমরা তাঁকে চিনি ! অক্ষর জ্ঞান দিয়ে চোখে দেন যে দিশা পথের তাঁদের বিনে সমাজ অচল বিশ্ব মতামতের ! কিন্তু মশায় দেখছি কী সব কাণ্ড যাতা ভাই শিক্ষকদের কোন রকম মর্যাদা আর নাই ! শিষ্য -গুরুর সম্পর্ক যে হচ্ছে ক্রমেই ফিকে আসুন সবাই বিরুদ্ধে এর গর্জি চতুর্দিকে ! -------------------------------- শুভাশিস দাশ দিনহাটা কোচবিহার মো :9932966949 subhashis.dinhata@gmail.com

সমীর কুমার বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়ের কবিতা

বাঁকাকথায় জবানবন্দী মূল‍্যবোধ চুলোয় যাক নীতিটা মাথায় থাক বাড়ী চাই গাড়ী চাই শুধু বেতনে কি ভরসা পাই তাই উপরি খুঁজছি ভাই এ ছাড়া যে উপায় নাই অনেক খসিয়েছি বাপের টাকা উসুল করতে পথটা বাঁকা ফুটো ছাতা ছেঁড়া জুতো পুরাণকথা ওসব এখন রঙ্গকথা তাড়াবোনা বনের মোষ সেটা কি আমার দোষ গন্ডায় গন্ডায় বেরোক যন্তর মানুষ না হোক ফুসমন্তর সমাজটা মোর পৈত্রিক নয় আপনি বাঁচলে নামটা রয়।। সমীর কুমার বন্দ‍্যোপাধ‍্যায় ৩৪ সৌদামিনী নগর, মোড়পুকুর রিষড়া, হুগলী ৭১২ ২৫০ মো ৯৯০৩৬৭৬১৮৩

নৃপেন্দ্রনাথ মহন্তর কবিতা

শিক্ষক এক আকাশের নাম *************** আমাদের আকাশের ভেতরে থাকে আর এক আকাশ নিঃসীম শূন্যের মতো বিশাল, উদার; দিনরাত্রির আবর্তনহীন সে আকাশে আলো ফোটে বিরামবিহীন। সে আকাশ প্রাণের স্পন্দন দেয় রক্তমাংসের শরীরে সে আকাশ হৃদয়ে,মগজে,রক্তের ভেতরে চেতনার বীজ পুঁতে দেয় ক্রমশ তা উপ্ত হয়,কিশলয় মহীরুহ হয়। সে আকাশ শিক্ষাদাতা এক মানুষের নাম যার হৃদয় অলিন্দে থাকে অর্ধেক মাখন আর বাকিটা ইস্পাত! সে মানুষ সর্বক্ষণ আমাদের মাথায় রাখে আন্তরিক শুভেচ্ছার হাত। তার পায়ের পাতা পাতা থাক আমাদের বুকে যেখানে যখন খুশি সারবো প্রণাম। ************************************** কবিতা -২ শিক্ষক-শিক্ষার্থী সংবাদ ************** শিক্ষালয়ে কাটিয়েছি আশৈশব-যৌবনের অনেকটা সময়। প্রথম প্রহরে পেয়েছিলাম একটি মহামূল্যবান চাবি যা দিয়ে খোলা যায় বর্ণ-শব্দ-বাক্যের অবাক মন্দির। তারপর প্রতিবছর একাধিক দরজার চাবি-- কোনোটা অংকের বা সাহিত্যের কোনোটা ইতিহাস-ভূগোল বা বিজ্ঞানের কোনোটা যুক্তির, কোনোটা প্রযুক্তির,কিংবা দর্শনের। সর্বোপরি শিক্ষাগুরু দিয়েছিলেন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র একগোছা চাবি।বলেছিলেন,দেখো, এসব চাবিতে কেমন ম...

প্রশান্ত সেনের কবিতা

শিক্ষাগুরু... বলতে পারো, কে-ই বা আমার প্রথম দিদিমণি? তিনি আমার বিশ্বভুবন আমারই জননী| মায়ের কাছেই হাতে খড়ি বাংলা ভাষা শেখা শ্লেট পেন্সিল দিয়ে প্রথম অ-আ-ক-খ লেখা প্রথম কর গুনতে শেখা প্রথম ধারাপাত প্রথম সেই হাঁটতে শেখা ধরেই মায়ের হাত... মা-ই প্রথম দিদিমণি আমার প্রথম গুরু মায়ের কোলে বসেই আমার প্রথম শেখার শুরু তাই তো শিক্ষক দিবসে ছড়া এবং পদ্যে সাজিয়ে দিলাম প্রণাম আমার মায়ের পাদপদ্মে | @প্রশান্ত সেন ফ্ল্যাট-ই/৩, ফোর্থ ফ্লোর, ঝিলিক এপার্টমেন্ট, সি.সি.৫৭/৪, নজরুল পার্ক, পূর্ব নারায়ণতলা, পোঃ অশ্বিনীনগর, থানা - বাগুইআটি কলকাতা - ৭০০১৫৯, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত চলভাষ : +৯১-৯৮৩০৯২৫৩৭২/+৯১-৯৮৩০৪০৫৩৭২ হোয়াটসঅ্যাপ : +৯১-৯৮৩০৯২৫৩৭২ ই-মেইল : psen.1981@gmail.com / prasanta.satyaki.sen@gmail.com

অনন্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা

শিক্ষকের প্রার্থনা মাত্র একটি দিনের জন্য আমি ফুল মালা আর সংবর্ধনায় ঈশ্বর হতে চাই না । কালই তো বলবে আমাকে , "মাস্টারমশাই আপনি কিছুই দেখেননি ।" কালই চোখের সামনে অন্ধকার সাজিয়ে বলবে , এটাই আধুনিক আলো । কালই একটা বৃত্তে আমাকে পুরে রেখে বলবে , এখানেই আপনি নিরাপদে থাকবেন. . . . মাত্র একটা দিনের জন্য আমি তোমাদের সাজানো ঈশ্ব র হতে চাই না । যেকোন উপায়ে হোক তোমরা অন্ধকারকে ঘৃণা করাটা অভ্যাস করো , যেকোন উপায়ে হোক তোমরা আলোকে সর্বগ্রাসী থাবা থেকে বাঁচাও । অনন্য বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদক, কবিতার রঙবেরঙ সাহিত্য পত্রিকা লাভপুর, গুরুপল্লী , বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ দূরভাষ --7908600710 তাং --05/09/2018

কৃষ্ণা দেবনাথের কবিতা

|| প্রিয় প্রেরণা || শুরুর প্রথম স্পন্দন থেকে আমার যাত্রার রঙিন পাঠশালায় মাগো তুমি বাড়িয়েছিলে হাত... এগিয়ে চলার লক্ষ প্রেরণায় । তোমার আলিঙ্গনে, খেলার ছলে কাটানো শৈশব... প্রথম হাতেখড়ি । আজও প্রিয় শিক্ষিকার ভিড়ে দৃশ্যতঃ তোমারই ছবি । এই রুদ্ধ জীবন যুদ্ধে যখনই হোচট্, খুইয়েছি ছন্দ... মিথ্যে ভরসা আবছা করে সন্ধান দিয়েছ পথ, পাশে থেকেছ । নিঃস্বার্থ ভালোবাসায় তুমি ঋণী করেছ হররোজ । মা, প্রিয় মাধুরী... এই শিরায়-সংশ্লেষে জেগে থেকো । ......................... কৃষ্ণা দেবনাথ ঠিকানা: উদয়পুর, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর পিন নং: 733134

মৌসুমী ভৌমিকের কবিতা

শিক্ষক তুমি **************** শিক্ষক তুমি আলোর সেতু সাম্য বাণীতে গীতা - কোরান অন্ধকারে দর্শাও দিশা, সর্বকালের মহৎপ্রাণ। আলো হবার মন্ত্র তুমি, শিক্ষার শিখা অনির্বাণ নরম মাটির সুপ্তমনে রোপন করো জীবনগান। দিশাহারা ছাত্রসমাজে জ্বালাও আজ দীপ্তিশিখা নবযুগের আহ্বানে শিষ্যরে দেখাও আলোকবর্তিকা। নরম মনের পেলবতায় এঁকে দাও সুর্যস্বপ্ন আলোপাখি হয়ে উঠুক সকলে, হোক নির্ভীক রত্ন। শিক্ষক তুমি আলোর মানুষ, থেকো কারিগর দক্ষ শাসন মেশানো ভালবাসা ও স্নেহে ভরিয়ে রাখো বক্ষ। পথহারাদের দেখাও আলোর পথ, হে জ্যোতিস্মান মুক্ত কণ্ঠে যেন গেয়ে যেতে পারি তোমার জয়গান।

চৌধুরী নাজির হোসেনের কবিতা

বর্ণমালা লম্বা ঘর, আয়তকার যেনবা দরজা জানলা,অসময়ে একা পশ্চিমা রোদ্দুর, হা হা করছে। 'রেনবো' কবিতাটি পড়ানো হয়েছে? শ্রেণিকক্ষ নিশ্চুপ, বাকহীন। টুপটাপ বৃষ্টিফোঁটা কিয়ৎ আগে, রেশ তার এখনো দু'কানে যেন অযথা খুনসুটি, তাদের। উৎসুক চোখ, দূরের থেকে রং সযত্ন, বর্ণমালা এঁকে যায় মাটি থেকে আকাশ,ঝুলন্ত সেতু,পারাপার,পারাপার... বললাম― 'রেনবো' কবিতাটি পড়ানো হয়েছে। ――― ঠিকানা: চৌধুরী নাজির হোসেন। রয়‍্যাল এনক্লেভ(সাউথ), সেকেন্ড ফ্লোর, ফ্ল্যাট নং–২০৩. ২১ড:এ.এন.পাল লেন, বালি:হাওড়া। পিন–৭১১২০১. মোবাইল নং ―৯৬৭৪৬৭২১৭৭.

দীপঙ্কর বেরার দুটি কবিতা

শিক্ষক দিবসের আর্জি শিশুকে শিক্ষা দেয় তার বিদ্যালয়ের শিক্ষক বোধ বুদ্ধিকে করে তোলে সভ্যতা সংস্কারক অক্ষর জ্ঞান আর শিষ্টাচারের সুষ্ঠু সাধনা বিদ্যালয়ে শিশু পায় তার সঠিক নিশানা। মা বাপ ও তার পরিবেশ খারাপ হতেও পারে মনুষ্যত্ব ভরা থাকে স্কুলের শৃঙ্খলা ভাণ্ডারে যেখানে শিশু শুধু ভাল শেখে শিক্ষকের পাশে তাকে বিমুখ করো না হে টিউশনের অভ্যাসে। শিক্ষক যা বলেন শিক্ষার্থীর কাছে তা বেদবাক্য সারাজীবন মনে রাখে সেইসব জীবনের লক্ষ্য শ্রেণিকক্ষ বেঞ্চে বসে তাই পেতে চায় কিছু শিক্ষা শিক্ষক দিবসের মর্যাদা দিক তেমন কোন দীক্ষা। শিক্ষক দিবস ছাত্ররা আজ আসবে স্কুলে তোমার জন্য গাইবে গান আবৃত্তি আর বক্তৃতা দিয়ে তোমাকে জানাবে সম্মান ; দেবেই দেবে উপহার ওরা নেবেই নেবে আশীর্বাদ তোমার শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে হবে নির্মল নিখাদ । তোমাকে দেখেই ওদের চলা স্বপ্ন ভবিষ্যতে মানুষ গড়ার কারিগর তুমি আগামীর পৃথিবীতে; সদা হাস্যে দেখি তোমায় শিক্ষা করছো দান , চির উজ্জ্বল 'শিক্ষক' তুমি তোমারে করি প্রণাম ।

কান্তিলাল দাসের কবিতা

 প্রিয় শিক্ষক বাবা প্রিয় শিক্ষক বাবা, বড় করে কত গাছ চলে গেছ কোন দূর দেশে দেখা হবে কিছুকাল পরে আজীবন গরীবির সঙ্গে যুদ্ধ করে করে টেনে গেছ সংসারের ঘানি সে বড় কঠিন কাল গেছে বাবা, প্রিয় শিক্ষক লণ্ঠন হাতে হেঁটে এ বাড়ি সে বাড়ি পাঠদানে ছুটে গেছ দিনে রাতে বর্ষা শীত যাই হোক, যোদ্ধা যেন এক ! না ভালো জুতো একটা, না ভালো পিরান মাইল মাইল গেছো অন্নতারণায় অভিভাবকেরা নিশ্চিন্দি ছিল কম দামে ভালো মাস্টারে ! এখন তো গার্জেনেরা স্যার স্যার করে শিক্ষক দিবস হয় বেশ ঘটা করে প্রাপ্তি হয় শিক্ষকের এটা ওটা সেটা ! তোমার আমলে এসব তো দূরস্থান, লোকে ডাকত কখনো ম্যাস্টর ! ইস্কুলের বেতন হিসেবে দৈনিক ছিল দশ টাকা বা নীচে! আর ঐ বাড়িতে পড়িয়ে ? সে বলার নয় তবু তবু তবু না পড়ালে অভাবের হাঁ মুখ বড় হবে জেনে ছুটে যেতে সামান্য দক্ষিণায় রফা গরীব মাস্টার। বড়লোকের বাড়িতে পড়িয়ে বৃষ্টিরাতে ছাতা না থাকা মাস্টার তুমি ফিরেছিলে এক রাতে তুমি বাবা, মনে আছে ? তাদের বাচ্ছার ছেঁড়া পলিথিনে মাথা ঢেকে ? আমরা অবাক ! তুমি ও কি অবাক হওনি বাবা, শিক্ষককে কী সম্মান দিলো ওরা ভেবে ! এভাবেই বাবা ...

তরুনার্ক লাহার ছড়াক্কা

ছড়াক্কা ১ শিক্ষা গুরু ---------------- মা বাবা যে প্রথম শিক্ষা গুরু মা যে শেখায় কথা কওয়া নামতা শেখায়,শেখায় অ আ মানুষ হওয়ার মন্ত্রটা যে বাবা শেখায় সকাল সাঁঝে তাদের পথেই পথ চলা যে শুরু । *** ছড়াক্কা ২ প্রকৃতি শিক্ষক ---------------- এই প্রকৃতি শেখায় আমায় অনেক কিছু আকাশ ,বাতাস,পাহাড়,নদী শেখায় আমায় নিরবধি ঐ পাখিরা,ঐ গাছেরা জলের নীচে ঐ মাছেরা তাদের শিক্ষা মন করেছে অনেক উঁচু । *** তরুনার্ক লাহা বেলিয়াতোড়,বাঁকুড়া Sent from Yahoo Email App for Android

অমিত পালের কবিতা

৫ই সেপ্টেম্বর অঙ্ক হল আমার বিষয়, চক ডাস্টার তুলে ব্ল্যাকবোর্ডে করছি সরল জিতপুর ইস্কুলে। ছাত্ররা সব বেঞ্চে বসা, এই ক্লাসে অঙ্ক কষা, একটা পোকা আটকে আছে মাকড়সারই ঝুলে। পরের ঘন্টা ক্লাস নাইন, সেখানে সুদকষা, এসব নিয়েই দিন কেটে যায়, হয়না খানিক বসা। ছাত্রদেরকে কড়া শাষন, মনের ভেতর স্নেহের আসন, জানতে কেউ চায়নি আজও আমাদের দূর্দশা। সারা জীবন কিইবা পেলাম, হিসেব যখন করি, হাতখানা সেই শুন্য দেখি, পাইনি আহামরি। জীবনভর এমনি করে গেলাম শুধু মানুষ গড়ে তরতরিয়ে চলে না তো জীবন ঘাটের তরী। মেয়ের বিয়ে বাকি আচে, বাকি আছে ঘর, ঘুরতে যাওয়ার হয়নি সুযোগ পাহাড় বা বন্দর। আবার যদি জন্ম নিই শিক্ষক হব ইস্কুলেই আকাশ বাতাস স্বাক্ষী থেকো, ৫ই সেপ্টেম্বর। ____________________________________________________ পরিচিতিঃ নামঃ অমিত পাল পেশাঃ শিক্ষকতা ঠিকানাঃ AMIT PAL C/O ANIL KUMAR PAL (NEAR G.R.U.VIDYAPITH BOYS) P.O: DEBINAGAR, RAIGANJ, DIST: UTTAR DINAJPUR WEST BENGAL, INDIA PIN: 733123

অসীম মালিকের গল্প-কবিতা

অঙ্কস্যার শ্যামবাবুকে আমরা সবাই , অঙ্কস্যার বলে ডাকতাম । দোহারা চেহারা ,টিকালো নাক ,দুধে আলতায় গোলা রং মানুষটি যখন তিন কিলোমিটার মেঠোপথ পায়ে হেঁটে ইস্কুলে আসতেন দূর থেকে দেখলে মনে হত -- আনন্দ নিকেতনের একটি ছাতা হেঁটে যায় । মাথার তেলতেলে টাক থেকে গড়িয়ে পড়ত শিশির বিন্দুর মত ঘাম । শীত কি বর্ষা সব ঋতুতেই পরনে থাকত সাদা ধুতি আর পাঞ্জাবি । মানুষটি যখন ইস্কুলে পা রাখতেন , আমরা সবাই কঁকিয়ে বলে উঠতাম --- ওই দ্যাখ ,অঙ্কস্যার আসছে । সেদিন ছিল তুমুল বৃষ্টির দিন , আমরা কয়েকজন বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে যখন ইস্কুল চত্বরে উপস্থিত হলাম । চাঁদ যেমন অবনীকে সোহাগ করে স্যারও আমাদের সোহাগ করতে করতে অঙ্কুরকে জিজ্ঞাসা করল --- বলোতো বৃষ্টির জন্ম কোথায় ? অঙ্কুরের ভিজে ডাব শরীর , যেন মুহূর্তেই শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেল সে উত্তরে জানাল ---মেঘের গর্ভে । স্যার বললেন ,আমি তোমাদের আকাশ , আমার বুকে ভেসে বেড়ায় কতশত মেঘ । তোমরা নদীর কাছে যাও , নদী তোমাদের অঙ্ক শেখাবে । তোমরা মাটির কাছে যাও , মাটি তোমাদের অঙ্ক শেখাবে । তোমরা পাহাড়ের কাছে যাও , পাহাড় তোমাদের অঙ্ক শেখাবে । সর্বোপরি ,তোমরা মান...

প্রবীর রায়ের কবিতা

শিক্ষা আজ,স্বাধীন দেশে- স্বাধীন শিক্ষা, সকল মানব শিক্ষিত দেশ-কালো মুছে-আলো জ্বলে,শিক্ষা মন্ত্রে দীক্ষিত ছিল সে যুগ-পরাধীন সব,আজো মোরা পরাজিত ভ্রষ্টনীতি- পিষলো সবই,ভ্রষ্টাচারীর ভয়ে ভীত শিশুরা আজ পড়ছে বাইরে ছোটতেই জ্ঞান অর্জিতে সরকারিলয়-শূন্য সেথায়,শিক্ষক চলে মর্জিতে কোথাও আবার পড়ুয়া অনেক,শিক্ষা গুরুর দেখা নেই সব ছোটে যে টাকা কামাতে,বেসরকারি কুঠিতেই অঙ্গনারি মিছে চলে,একটি শিশুও যায়না সেথায় শিশুর খাবার ভোগে তারা,চাকরি দেয় মূর্খ নেতাই যারা কাবিল বেকার তারা,মরছে সে যে কষ্ট করে সুপারিশ আর ঘুষ দিয়ে- ব্যর্থশক্তি লেভেল গড়ে মা কাঁদছে শিশুর হালে,আর কতদিন বাঁচবে সে যে শেষ, তবে কি -সবই শেষ,ধ্বংস ডঙ্কা উঠলো বেজে।।

অরিন্দম দাসএর কবিতা

" শিক্ষা গুরু " মায়ের কোলে যখন আমি একটু হলাম বড় মা হলেন প্রথম,আমার শিক্ষাগুরু । সংসারেতে বাবা,দাদা,দিদি এদের কাছেও পাই কোথাও না কোথাও কিছু না কিছু শিক্ষা । বড় হয়ে যখন আমি ইস্কুলেটে গেলাম সেখানেতে পেলাম আমি অনেক গুরু মশাই। গুরু মশাই যখন আমায় একটু বকা দিতেন ঠোঁট ফুলিয়ে কেঁদে আমি নালিশ করিতাম। শিক্ষা গুরু দিয়েছিলেন বড় হওয়ার মন্ত্রনা বড় হয়ে হলাম আমি শিক্ষকের অনুপ্রেরণা। শিক্ষা গুরু দিতেন আমায় জীবন গড়ার বাণী যেগুলি আছে *আজ* আমার চলার পথের সাথী। শিক্ষা গুরু হলেন আমার বন্ধুসম কারণ আমি যেন শিখতে পারি যত । শিক্ষা গুরু দিলেন আমায় সঠিক পথে দিশা আমার যেন সঠিক পথে চলার থাকে নেশা। শিক্ষা আনে চেতনা,চেতনা এনে বিকাশ সেই বিকাশের কারিগর হলেন আমার শিক্ষক। মনে মনে এখন আমি ভাবিলাম শিক্ষক এর প্রতিটি তিরস্কার হয়েছে আমায় জীবনের এক একটি আশীর্বাদ । ধন্য হয়েছি আজ ছিল শিক্ষকের প্রাণভরা আশীর্বাদ সকল শিক্ষক কে গুরুজ্ঞানে জানাই প্রনাম। ---------------------------------------------------------------- তকিপুর,রেজিনগর,মুর্শিদাবাদ

Dr. Ramala Mukherjeeর লেখা

A Teachers' Day Song  Teachers' day is 5th September We have to celebrate and remember. Radhakrishnan was born onthis very day Let us all observe it and obey. He was a great philosopher, Ideal, noble and great teacher. All the students with all the teachers Must have celebrate and remember. He was our second President Also our first vice President. He loves his students as his sons, Today we sing his worship song.🏵🏵🏵🏵🏵🏵🏵🏵🏵🏵

রবিউল ইসলাম মন্ডলের কবিতা

আর্দশ শিক্ষক ----------:--------- শিক্ষক সে মহামানব মানুষ গড়ার কারিগর স্বাস্থ‍্য শিক্ষায় নব সৃষ্টিতে সে তো আজব জাদুকর । সহস্র বছর পরেও কমবে না শিক্ষার দাম যতই পড়িবে তুমি বাড়বে তো ক্রমেই জ্ঞান। হানাহানি, রাহাজানি রাজনীতি হোক না যত আর্দশ শিক্ষক থাকবে সর্বক্ষণ নিরেপেক্ষ। শিক্ষক শুধু তো মানুষ নয় কারো কারো কাছে ভগবান- সমাজের চোখে আছে তাদের পৃথিবীর সেরা সম্মান। অত‍্যাচারীর মিথ‍্যাচারে সমাজ ব্যবস্থা অতিষ্ট শিক্ষক যদি হয় আক্রান্ত সেটি হবে খুবই নিকৃষ্ট। শিক্ষকতা শুধু পেশায় নয় গড়বে যে স্বচ্ছ সমাজ প্রতিটাই মা এক জন সন্তানের প্রধান শিক্ষক । সমাপ্ত-------

-সোহিনী সামন্তর কবিতা

শিক্ষা মুক্ত বিহঙ্গে শিক্ষার দুয়ার খুলে যাক, বন্ধ দরজা এড়িয়ে দিগন্ত রেখার দেশ এ ... শিশু শ্রম ক্ষান্ত হয়ে যাক ...রোদেলা আলোর ঝিলিক লাগুক সব শিশুর হৃদয়ের অন্তিমে ...।। শিক্ষকের অফুরন্ত জ্ঞান মিশে যাক শিক্ষাথীর মন মোহনায়, আর যুক্ত হোক গুরুদক্ষিণা স্নেহের অব্যক্ত দিশায় ...।। -----সোহিনী সামন্ত শ্যামনগর ২৪ পরগণা উত্তর west ghosh para road , noapara, shyamnagar 24 porgona north

দীপশংকর সাঁতরার কবিতা

শিক্ষা ও শিক্ষক মা প্রথমে বাবার সাথে করিয়েছে পরিচয় মা শেখালো অ আ ক খ বাবা বিদ্যালয়। মায়ের হাত ধরে টলো পায়ে হাঁটতে শিখেছি বাবার সাথে ঘুরে ঘুরে জগৎ চিনেছি। বইগুলো সব নিত্য নতুন দেখায় কত মত শিক্ষকরা সব দিলেন শিক্ষা কর্মই বিজয় রথ। মায়ের অকৃপণ স্নেহের হাসি বাবা সদা পাশে মমতা মাখা আদর ঠাসা চোখের কাছে ভাসে। প্রকৃতি মা'র কোলে আছে সর্ব শিক্ষার প্রাণ বপন করে মনন খুঁজে রাখব শিক্ষার মান। -----------------------------------ঠিকানা- দীপশংকর সাঁতরা। গ্রাম + পোষ্ট - জুজারসাহা, থানা - পাঁচলা, জেলা - হাওড়া, সূচক - ৭১১৩০২, পশ্চিমবঙ্গ। মোবাইল - 9748663767

শ্রীপর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছড়া

সহজপাঠ শ্রীপর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায় বাস ভাড়াতেও ছাড়খানা চাই ইস্কুলেতে পড়ি বড়লোকের বাহন তখন ট্যাক্সি কখন চড়ি? স্কুলটা সেরেই বিকেল জুড়ে খেলার পরে খেলা একটুখানি দেরি মানেই বাড়িতে কানমোলা। মচ্‌কে গেলে পায়ের পাতা মায়ের হলুদ চূন নিজের দোষের সঙ্গে শোনা পাশের ছেলের গুণ। ঘরে বাইরে সবার বকায় সায় থাকত বাবার বাড়িতে ঠিক খবর যেত সিনেমা হলে যাবার। কারোর বাড়ি ষষ্ঠী পুজো কারোর নারায়ণ প্রসাদ পেতে সদাই হাজির কীসের নিমন্ত্রণ? পড়ার ফাঁকে আনন্দলোক এক চড়ে গাল লাল কলকাতা ক'য় খবর পড়েন নীলিমা সান্যাল। পুরো পাড়ায় একটা বাড়ি রাখত টেলিফোন দূরের খবর আনত বয়ে অন্তু ডাকপিওন। অ্যান্টেনাদের মিলত দেখা গুটি কয়েক ছাদে খেলার দিনে ফাটল কেবল উচ্ছ্বাসেরই বাঁধে। একটুখানি হাওয়ার দোলায় পর্দাতে ঝিরঝির ছাদে উঠে ডান্ডাখানা রাখতে হোত স্থির। তখন একা দূরদর্শন – দর্শকে ঘর ভরা। এখন একা শত চ্যানেল বোতাম টিপে ঘোরা Sriparna Bandyopadhyay, Flat 3, Jagadish Apartment, 26 J. K. Chatterjee Road, Sodepur, Kolkata 700110

ত‍‌‌‍‌‌‌রুণ কুমার মাঝির কবিতা

শিক্ষা ও শিক্ষক শিক্ষক মানে জ্ঞানের আলো,আদর্শ একনাম। বাসবে ভালো আপন করে-সন্তান সমান।। শিক্ষা দানে ব্রতী হবে, পাবে সম্মান।। মানুষ গড়ার কারিগর, মানুষ কর তুমি, সেই মানুষ আগামী দিনের ভবিষ্যতের সুনাগরিক।। তোমার শিক্ষা, তোমার আদর্শ হোক প্রবাহিত।। তোমার শিক্ষা, আচার, আচরণ, চলা ,বলা ,শিষ্টাচার বিচ্ছুরিত হোক................. তোমার ছাত্রকূলে।। অঞ্জানতার অন্ধকার দূর করে -জ্বালাও জ্ঞানের আলো।। সমাজেরঅন্যায়ের ,অবিচারের বিরুদ্ধে তুমি তো- প্রতিবাদী মুখ।। তোমাকে অনুসরন করে আসবে-অসংখ‍্য মুখ। তাই সমস্ত শিক্ষক কুল কে জানাই- আমার প্রনাম, শ্রদ্ধা, ভক্তিও ভালোবাসা। ত‍‌‌‍‌‌‌রুণ কুমার মাঝি। মগরাহাট, দক্ষিণ ২৪ পরগনা।

উজ্জ্বল সামন্তর কবিতা

"শিক্ষক" উজ্জ্বল সামন্ত মানুষ গড়ার কারিগর তুমি মা বাবার পরেই তোমার স্থান উজার করে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত না জানি কত কচি কাচার প্রাণ স্কুল কে যদি বলি মন্দির বা মসজিদ তার দেবতা তুমি তোমার আশীষ বারী ছাত্র ছাত্রীরা অঞ্জলী দেয় অন্তরের শ্রদ্ধা ও ভক্তির যখন তুমি থাকবে না, থাকবে তোমার হাতের ছোঁয়া ব্লাক র্বোডে ,চকে ,বইয়ের পাতায় হয়ত পদধবনি শোনা যাবে কানপাতলে ক্লাস রুমের ওই ঘর ,স্টাফ রুম বারান্দায় সময়ের সাথে ঘড়ির কঁাটায় জীবন সাগর দেয় পাড়ি সময় তো কারো জন্য থেমে থাকে না যেমন বহমান নদী বা ঝর্নার স্রোত পড়ে থাকে শুধু স্মৃতি,অবসরে...

প্রচ্ছদ, সম্পাদকীয় ও সূচিপত্র

=: সম্পাদকীয় :=  স্বাধীনতার ৭১ বছর পর হাসিম শেখ,  রমা কৈবর্ত আর তাদের প্রতিপার্শ্বের মানুষ-মানুষী-শিশুরা কেমন আছে সে কথাই এই সংখ্যায় প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়েছে ভাবের বিচিত্রে আর ভাষার ভিন্নতায়। কেমন লাগলো আপনাদের জানার আগ্রহে রইলাম। অকপট মতামত ও পরামর্শ চাই।  সকলকে শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা। নিরাশাহরণ নস্কর সম্পাদক: নবপ্রভাত =: সূচিপত্র := প্রবন্ধ / মুক্তগদ্য : প্রণব কুমার চক্রবর্তী শেফালি সর অ-নিরুদ্ধ সুব্রত   সম্পা পাল রণেশ রায় স্বরূপা রায় রাণা চ্যাটার্জী শান্তা কর রায়   শ্রীপর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশান্ত কুমার ঘোষ সুদীপ্ত বিশ্বাস   রাজশ্রী ব্যানার্জী   মোনালিসা পাহাড়ী  রীনা তালুকদার অণুগল্প পারিজাত মৌমিতা ঘোষাল চন্দ্রাবলী ব্যানার্জী সন্তু চ্যাটার্জী বিজয়ন্ত সরকার   কবিতা : দেবাশিস মোহন মুখোপাধ্যায়  মনোতোষ আচার্য   আর্যতীর্থ   পবিত্র রায়চৌধুরী মৌ দাশগুপ্তা সবর্না চট্টোপাধ্যায়   অনামিকা দত্ত   সুজান মিঠি কৌশিক সিনহা   তাপসকিরণ রায়   অমিত পাল দুলাল সুর  ...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

কবিতা ।। স্রষ্টা ।। বৈশাখী রায়

  স্রষ্টা   বৈশাখী রায় তাদের খুঁজছি, খুঁজেই চলেছি... মস্তিষ্কের গভীর-গোপন কোণগুলিতে। তবুও প্রকাশ্যে আসেনি তারা, শব্দের ভিড় নামেনি হাতে। চাহিদার প্রাচুর্য! সংখ্যা বাড়ছে খুব... আমি স্রষ্টা, রচনাই আমার আরাধনা, সৃষ্টি সাধনা জলাঞ্জলি যাক! জবরদস্তি প্রতিযোগিতায় নামা। মনের ভাব প্রকাশ পায় না, তবুও লেখার স্বাধীনতা।  অর্থ মিলুক ছাই না মিলুক , কঠিন তবু শব্দ খোঁজা।  কলমে তারা ধরা না দিলে, মস্তিষ্ক শব্দ ধার করে । অনুভূতিরা আপন হয় না, অন্যের অনুভবে অট্টালিকা গড়া। উফ! শব্দ মেলানো কঠিন কাজ, মন এবার শব্দের ছক বাধে। ব্যস্ততা, সময়সীমা, প্রতিযোগিতার জটাজালে, স্বতঃস্ফূর্ততা হাঁপিয়ে ওঠে...।।               ___________       নাম-বৈশাখী রায়  ঠিকানা- ঠাকুরনগর (বণিক পারা) ডাক-ঠাকুরনগর  থানা-গাইঘাটা  পিন-৭৪৩২৮৭

বিজয়ন্ত সরকারের গল্প

// রাস্তার ছেলে মন্টু // গতরাতে যখন অঝোর ধারা... স্বস্তির গন্ধ দালানের মালিকদের উরুভাঁজে-কার্নিশে তখন ভেজা শরীরে বছর নয়ের মন্টু আশ্রয় নিয়েছিল একটা জীর্ণ একচালায়। যার নীচে দাঁড়িয়ে শরীরটা অন্তত একটু কম ভেজে ।  বৃষ্টিস্নাত রাতে এই একটাই সমস্যা মন্টুর । সকালে মবিন মিঞাঁকে দেখেই- - আরে চাচা, গতরাতে যা বৃষ্টি, তোমার এই একচালার নীচেই তো ছিলাম । - কী কইতাসস্ ! এই চালায় যত ফুটা, দিনে বারিষ আইসলে মুই বুঝবার পারিনা জুতা সিলাইয়ের জিনিস রাকপো কই আর মুইবা খাড়াবো কই ! - যাই বল চাচা, ভগবান আমার জন্যই তোমাকে পাঠিয়েছে । তা না হলে খদ্দের তো তেমন আসেনা, তবু ওই কটা পুরানা জুতা-কালি-সুতা নিয়ে বসে থাকো।  - হা হা হা (প্রাণখোলা হাসি) সহী বাত্ বেটা...সহী বাত্ । 'যাই ওদিকে হয়তো চা ফুটছে, পরে এসে নিউজ শোনাব তোমাকে' মন্টু বলতে বলতে ঝটপট্ বেরিয়ে যায়।  দাস টিফিন সেন্টারে কাজ করে মন্টু । সারদিন খেটে নাম মাত্র টাকা পায় আর কখনও কখনও পায় এক বেলার টিফিন । অথচ কথায়, চাল-চলনে, ফুরফুরে-উড়ে বেড়ায় বেশ । (ব্যাগ হাতে এপাড়ার গন্যিমান্যি গগন বাবুর আগমন) - আরে ও মবিন...

পুস্তক-আলোচনা ।। পুস্তক : বেগমপুরের ইতিহাস ।। লেখক : ড. দেবব্রত নস্কর ।। আলোচক: অরবিন্দ পুরকাইত

'বেগমপুরের ইতিহাস' :  অনুসরণযোগ্য জন্মগ্রাম-গাথা — অরবিন্দ পুরকাইত আজন্ম যে স্থানে মানুষের শৈশব-কৈশোর কাটে, যৌবন কাটে, তার স্মৃতি সচরাচর অবিস্মরণীয়। যত নগণ্যই হোক না সে স্থান। প্রত্যক্ষভাবে যদি না-ও হয়, আমরণ ছায়াসঙ্গী যেন তা মানুষের! আমাদের ইতিহাসচেতনা বলবার মতো নয়। একাধিক খ্যাতনামা ব্যক্তিত্ব এ আক্ষেপ করে গেছেন, বঙ্কিমচন্দ্রের কথা তো স্বত-ই মনে আসে। আমরা এমনকি ইতিহাস নিয়ে ভাবি-ই না তেমন করে! মৌখিক পরম্পরা একসময় হারিয়ে যেতে থাকে আগের প্রজন্মের মানুষের একের পর এক প্রস্থানের সঙ্গে সঙ্গে, তার লিখিত বা অন্য রূপ তেমন ধরে রাখতে না পারার কারণে।        কেবল শৈশব-কৈশোর-যৌবনই নয়, জন্মতক দেবব্রত নস্করের প্রায়-সাতদশকজোড়া জীবন নিরবচ্ছিন্নভাবে কেটেছে তাঁর ধাত্রী, পালয়িত্রী বেগমপুরে — দুশো-আড়াইশো বছর আগে বর্তমান উত্তর চব্বিশ পরগনার দাড়া গ্রাম থেকে এসে তাঁদের পূর্বপুরুষদের জঙ্গল হাসিল-করা স্থানেই। জন্মভূমির প্রতি দায়বদ্ধতাস্বরূপ লিখেছেন তিনি তাঁর জন্মগ্রামের কথা। বহু মানুষেরই স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ তাঁদের জন্মভূমির সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা। সেই জন্মভূমির প্রতি প্রায়...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতা ।। ভাষার জন্য লড়াই ।। চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু

ভাষার জন্য লড়াই চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু মুখের ভাষা বাংলা ভাষা মাকে ডাকি মা, সারা বিশ্বে তোমার মাগো নেই তো তুলনা। তোমার মুখের প্রথম ভাষা আমার মনের সকল আশা তোমার ভাষায় বলবো মাগো আমার মনের কথা, এই ভাষাতেই জড়িয়ে আছে সকল স্বাধীনতা।  এই ভাষাকে আনতে গিয়ে তাজা বুকের রক্ত দিয়ে রাজপথে সব লড়াই হলো করলো লড়াই কারা, আমার মায়ের দামাল ছেলে রক্ত পলাশ যারা।  তোমার ছেলে লড়াই করে আনলো ভাষা ঘরে ঘরে সেদিন থেকে শহীদ মিনার সাজাই ফুলে ফুলে, বীর শহীদের ত্যাগের কথা যাইনি আজও ভুলে।    ++++++++++++++++++++++++++++++++    চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু শহীদ আবুল কাশেম সড়ক, বড় বাজার, চুয়াডাঙ্গা, বাংলাদেশ।

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৭তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ মে ২০২৫

  প্রচ্ছদ চিত্র: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সূচিপত্র রবীন্দ্রনাথ এবং কয়েকজন নারী ।। অনিন্দ্য পাল পরাবাস্তববাদ ও বাংলায় জীবনানন্দের কাব্যচর্চা ।। রণেশ রায় প্রতীক্ষা ।। চন্দন দাশগুপ্ত আশ্রয় ।। সায়নী সাহা বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র ।। দেবাংশু সরকার প্রণামের প্রভু ।। সুপ্রভাত মেট্যা দুর্ভাগ্যের সম্মুখ সমরে ।। সমীর কুমার দত্ত আচমকা শরৎ ।। অর্ণব সামন্ত প্রতিধ্বনি ✍️ সুবীর কুমার ঘোষ জীবন যেখানে যেমন ।। আরজু মুন জারিন বছর সীমান্তে হিসেব নিকেশ ।। রানা জামান চারটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর আমরা আছি ।। লালন চাঁদ চাওয়া ।। মাথুর দাস কাগজ ফুলে ।। সফিউল মল্লিক সময়ের স্রোত ।। দুর্গাদাস মিদ্যা তুমি মানুষ ।। বদরুল বোরহান দিঘার সমুদ্র ।। মাখনলাল প্রধান পুস্তক-আলোচনা ।। অরবিন্দ পুরকাইত সংযম ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত  চেনা প্রতিবেশী (প্রথম পর্ব) ।। দীপক পাল খেলার মাঠ ।। তূয়া নূর বন্ধু শ্যামলকান্তি ।। শংকর ব্রহ্ম তুমি তোমার মতো থাকলে ।। সত্যেন্দ্রনাথ বেরা গ্রীষ্মে খুবই হিংস্র রবি ।। জগবন্ধু হালদার স্বপ্ন দর্শন ✍️ পার্থ প্রতিম দাস মৌন মুখরতা ।। মুসা মন্ডল রুদ্র বৈশাখ ।। দীনেশ সরকার চিহ্নিত পদযুগ পদাঘাত ।। দেবাশীষ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। প্রথম পর্ব : 'প্রেম' বিষয়ক লেখাগুচ্ছ

সূচিপত্র   গদ্য-গল্প-কবিতা প্রেম বিষয়ক কবিতা ।। উত্তম চৌধুরী   উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || অভিজিৎ হালদার   প্রেম: মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা অনন্ত আলোর নাম ।। আদিল হোসেন মাহি অসমাপ্ত ভালোবাসা ✍️ শিবাশিস মুখার্জী অসমাপ্ত শ্রুতি ।। জয় মণ্ডল রম্যরচনা ।। ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড ।। অভীক চন্দ্র প্রেমিক-জন্ম ।। নবনীতা সরকার সুব্রতাসম্ভব, সহজ গান ।। অর্ণব সামন্ত যৌবনের বিগত ঋণ ।। শম্পা সামন্ত দেখা ।। রাজশ্রী দে খেলাঘর ।। অদিতি চ্যাটার্জি ক্ষণস্থায়ী ।। শ্যামল হুদাতী মন ।। লালন চাঁদ আনমনে ।। সন্দীপ গাঙ্গুলী রজনীর গন্ধে ভেজা রাত ।। কৃষ্ণনীল মিস্টার ব্যানার্জী || আরজু মুন জারিন দুটি কবিতা ।। জয়শ্রী দাস কড়ানাড়া ।। মলয় সরকার অদেখা চিঠির নদী ।। দেবব্রত মণ্ডল অপূর্ণতা ।। ​সুখেন সিনহা জুলি এবং আমি ।। মাখনলাল প্রধান প্রেমের আরেক নাম ।। সুমিত মোদক হৃদয় ঘটিত ।। চঞ্চল পাণ্ডে তোমার জন্য ।। বনশ্রী চক্রবর্তী কল্পপ্রেম ।। প্রদীপ সেন বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায় তিনটি কবিতা ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত

শ্রমিকের অধিকার  চন্দন দাশগুপ্ত          এই নিবন্ধের পরিধিটি বিশাল। ভারতবর্ষের বিভিন্ন শ্রম- আইনানুসারে শ্রমিকদের বেশ কিছু অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ এই ক্ষুদ্র নিবন্ধে নেই, তাই শুধু কয়েকটি প্রধান উল্লেখযোগ্য বিষয়েই আলোকপাতের চেষ্টা করা যাক।            [১] কাজে নিযুক্ত হবার সময়েই প্রত্যেক শ্রমিক একটি নিয়োগপত্র [ পশ্চিমবঙ্গ দোকান ও সংস্থা আইন-১৯৬৩ -র অধীনে থাকা শ্রমিকেরা এক্স (X) ফর্মে ] পাবেন ।           [২] (ক) জুট মিলে কর্মরত কোনও শ্রমিকের পাক্ষিক উপস্থিতি ১২ দিন হলে, তিনি বেতন ছাড়াও অতিরিক্ত ২০ টাকা পাবেন।                 (খ) 'ঠিকা'-তে উল্লিখিত পরিমাণের চেয়ে বেশি চাপাতা সংগ্রহ করলে বাগিচা শ্রমিকেরাও নির্দিষ্ট নিয়মানুসারে অতিরিক্ত টাকা পাবেন।            [৩] (ক) ১০ বা তার বেশি শ্রমিক কাজ করেন, অথবা বিগত ১২ মাসের যেকোনও একদিন ১০ বা তার বেশি কর্মী ছিলেন ( সিনেমা হলের ক্ষেত্রে এটি ৫ জন )-- এমন সংস্থ...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

কবিতা ।। ভাষার জন্য লড়াই ।। চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু

ভাষার জন্য লড়াই চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু মুখের ভাষা বাংলা ভাষা মাকে ডাকি মা, সারা বিশ্বে তোমার মাগো নেই তো তুলনা। তোমার মুখের প্রথম ভাষা আমার মনের সকল আশা তোমার ভাষায় বলবো মাগো আমার মনের কথা, এই ভাষাতেই জড়িয়ে আছে সকল স্বাধীনতা।  এই ভাষাকে আনতে গিয়ে তাজা বুকের রক্ত দিয়ে রাজপথে সব লড়াই হলো করলো লড়াই কারা, আমার মায়ের দামাল ছেলে রক্ত পলাশ যারা।  তোমার ছেলে লড়াই করে আনলো ভাষা ঘরে ঘরে সেদিন থেকে শহীদ মিনার সাজাই ফুলে ফুলে, বীর শহীদের ত্যাগের কথা যাইনি আজও ভুলে।    ++++++++++++++++++++++++++++++++    চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু শহীদ আবুল কাশেম সড়ক, বড় বাজার, চুয়াডাঙ্গা, বাংলাদেশ।

পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার

পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী  ড. সবুজ সরকার পল গগ্যাঁ ( ১৮৪৮ - ১৯০৩)  ছিলেন ঊনবিংশ শতাব্দীর একজন প্রতিভাবান ও প্রভাবশালী ফরাসি চিত্র শিল্পী। গগ্যাঁ তাঁর শিল্পচর্চার  শুরুতে একজন Impressionist শিল্পী হিসেবে  চিত্র অঙ্কন শুরু করলেও ( ১৮৮০ র দশকে) পরবর্তীতে পরিচিতি এবং খ্যাতি পেয়েছিলেন  একজন বিশিষ্ট Post- Impressionist চিত্র শিল্পী হিসেবে। নিজের জীবন দর্শন এবং তাঁর শিল্পকলা গগ্যাঁর কাছে চিহ্নিত হয়েছিল বন্য " savage" হিসেবে।     গগ্যাঁ তাঁর রেখায় এবং রঙে বারে  বারে ফিরে যেতে চেয়েছেন আদিমতার কাছে। একাত্ম হতে চেয়েছেন প্রকৃতির সাথে। মিশে যেতে চেয়েছেন প্রকৃতির সম্মোহনী সত্ত্বায়। ১৮৮০ র পরে সময় যত এগিয়েছে গগ্যাঁ ততই আধুনিক সভ্য সমাজের যান্ত্রিকতা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে গেছেন। বারংবার আঁকতে চেয়েছেন কল্পনার সাম্রাজ্যের স্বর্গীয় অনুভূতিগুলিকে, আর তাঁর ছবিগুলো হয়ে উঠেছে অকৃত্রিম, খাঁটি এবং আদিম। জীবনের প্রকৃত সত্য ও আদিম চেতনার সন্ধানে গগ্যাঁ ১৮৯১ সালে ফরাসি পলিনেশিয়ার তাহিতি দ্বীপে চলে যান। এই দ্বীপে সাধারণ মানুষের জীবন যাপন তাঁকে আকৃষ্ট করে। এব...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। পর্ব: ২ ।। বিষয় : মাতৃভাষা

  সূচিপত্র শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী মাতৃভাষা: অস্তিত্বের শেকড়, ঐতিহ্যের ধারক ও সংগ্রামের ফসল ।। উৎপল সরকার অগ্নিগর্ভ একুশে ফেব্রুয়ারি ।। মুক্তি দাশ সঙ্কটে আমাদের মাতৃভাষা চর্চা।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মাতৃভাষা: হৃদয়ের প্রথম স্বর ।। বাসিরা খাতুন আমি বাংলাকে ভালবাসি ।। সৌম্য পাল মাতৃভাষা ।। এস এ বিপ্লব সুখে দুঃখে মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি ।। সামসুজ জামান শেকড়ের খতিয়ান ।। মামুন চাকলাদার মধুর ভাষা বাংলাভাষা ।। রবীন বসু মাতৃভাষা ।। দিলীপ সামন্ত ভাষার কথা ।। বি এম মিজানুর রহমান স্মৃতির স্বরলিপি ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র একুশ মানে মাতৃভাষা রক্ষায় যুদ্ধ ।। রানা জামান প্রিয় বাংলা ভাষা ।। চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী প্রবন্ধ ভাষার অবমাননা ।। গৌতম সমাজদার আমার প্রাণের ভাষা ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত একুশের লড়াই ।। বিধাত্রী চট্টোপাধ্যায় আমার ভাষা ।। অজয় বিশ্বাস মায়ের ভাষা ।। নজমুল ইসলাম খসরু মাতৃভাষা ।। শোভন চট্টোপাধ্যায় কবিতা ।। মাতৃভাষার স্বাদ ।। রুহুল আমিন বাংলা আমার মা ।। অশোক দাশ একুশের গান ।। দীপঙ্কর সাহা মাতৃভা...

'রঙ' বিষয়ে গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম

  'রঙ' বিষয়ক গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম লাল   আপনি এমন কি আপনিও পারেন কোন সুন্দরী টাইপিস্টের প্রেমে পড়তে যে আপনি খুবই সহজভাবে জীবনকে দেখেন জীবনকে নিজের ভেতর দিয়ে বয়ে যেতে দেন জবরদস্তি ছাড়াই রং নিয়ে কখনো তেমন ভাবেননি ধরুন লাল রং একজন পেইন্টার আর একজন জেনারেলের কাছে ওর মেজাজ নিশ্চয়ই আলাদা হবে হ্যা আমি নিশ্চিত যে নার্ভ ঠিক রেখে একটা তেলাপোকাও কখনো মারতে পারেননি আপনি সেই আপনাকে হঠাৎ খুন করে ফেলতে পারে কোন সুন্দরী টাইপিস্ট আর এই খুনের ব্যাপারটা নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে কী লিখে নিচ্ছে সে কি ডকুমেন্ট তৈরি করছে সেটা তো আপনি জানতেও পারছেন না কেন না মনিটর তো সাদা রং নিয়া আমাদের মারাত্মক ভুল ধারণা রইছে সবুজ হলুদ কমলা নীল বেগুনী কালো সাদা এগুলা কিন্তু সতিকার রং না হ এগুলা সত্যিকার রং হয়া উঠবো যখন এগুলারে তুমি লাল রঙে চুবায়ে নিতে পারবা লাল রঙের গ্লাস আজ অব্দি যতোগুলো গ্লাসে আমি জল খেয়েছি তার সবগুলোর গায়েই ফুল আঁকা আচ্ছা বাজারে এমন কোন গ্লাস কি পাওয়া যায় না যার গায়ে আগুন আঁকা আর আপনারা জানেন আগুন যখন জ্বলে তখন তার আকৃতি তাজা একটা ফুলের মতোই আর লাল হ্যা যখন যে অবস্থায়ই আগুনকে আপনি দেখেন না কেন...