Skip to main content

Posts

অরবিন্দ পুরকাইতের মুক্তভাবনা

পিলসুজ ও আলো পিলসুজ। দীপাধার। দীপের প্রায় নিত্য তোয়াজ, দীপাধারের নয়। দীপ আলো দান করে, সেই আলোটি পাওয়ার জন্যে তার সলতে পাকানো থেকে তৈলদান। সলতে উসকে দেওয়া। সর্বোপরি দীপটির পরিপাটি যত্ন। কেন-না লোকে আলো চায় এবং তার পর দেখে কোথা থেকে আলোটা আসছে। কার মাথায় বসে সে আধার আলো দিচ্ছে তা নিয়ে কার আর মাথাব্যথা! তাই দীপাধার অর্থাৎ পিলসুজের দিকে তেমন করে নজর পড়ে না, দরকার হয় না নিয়মিত পরিচর্যারও। তার গায়ে লেগে অনেক অবহেলার ধুলো। তার গায়ে জড়িয়ে থাকে গড়িয়ে-পড়া পোড়া তেলের ক্লেদ। সভ্যতার ময়লা গায়ে মেখে, সভ্যতার আলোদানকারী দীপের তাপ এবং চাপ সহ্য করে ধরে থাকে সে সভ্যতার আলো। আমরা ঘরকে আলোকিত দেখি, খোদ পিলসুজেই সচরাচর সরাসরি পৌঁছায় না সে আলো। আলো-মাথায়-করে দাঁড়িয়ে থাকে সে আবছা-আবছা দৃশ্যমানতা নিয়ে, সামান্য আলোর আভাসমাত্র গায়ে মেখে। কখনও মায়াবি, কখনও ভূতুড়ে এক সত্তায়। কোনও বিশেষ দু-এক দিনে, আরাধ্য দেবদেবী কিংবা মান্য অতিথি-অভ্যাগতদের সন্তোষবিধানে এবং সেইসঙ্গে নিখুঁত আয়োজনের শিরোপা পেতে, তার দিকে একটু নজর। অযত্নের স্বাভাবিক নিয়মের ব্যতিক্রম সেই দু-একটি দিন। ব্যতিক্রমই। আলো-ঝলমল সুসজ্জি...

সুপ্রীতি বর্মনের প্রবন্ধ

সভ্যতার পিলসুজ অগ্নিদ্দীপ্ত সমৃদ্ধশালী সভ্যতার অট্টালিকাসম প্রত্যাশার নীচে ধ্বস কুঁড়েঘরের ভাঙা চালে চাঁদের আলো।ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময় পূর্নিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।বিলাসিতায় হুঁকোয় উড়ানো উল্লাসী ধোঁয়া উবে যায়।পড়ে থাকে করতলগত দৃঢ়মুষ্টিতে পোড়া চিতাভস্ম ছাই দুটাকার বিড়ি। ঠোঁটের ফাঁকে বিভাজিকায় নগ্ন খোলা হাওয়ায় সংসারের চাপ খানিকটা হ্রাস পায়।চোখে তখন চালচিত্র ভাসে কুমারটুলীর মৃন্ময়ীর।আমার ঘরের লক্ষ্মী তখন ব্যস্ত গোবরের ঘুঁটে দিতে হস্তপদ্মে পাঁক অশ্লীল না শুভ মহরৎ আমার উদরপূর্তির আয়োজন।লৌহসম বজ্রদৃঢ় পেশী সাতমণ ভার সামঞ্জস্যে গাঁইতির কোপ মাটির কোলে আঁচড়ে অন্ন ফলে। কোমর অবধি কিংবা হাঁটু জলে দাঁড়িয়ে ঠায় নিমগ্ন একাগ্রচিত্তে মায়ের জরায়ুতে বীজধান রোপন দুইহাত দিয়ে কোমলচিত্তে পিতার বিশ্ব চরাচরে তুমি পালনপিতা।ঠুনকো আরাম পরিত্যাগে কপালের ঘাম পায়ে ফেলে উদয়াস্ত কঠোর পরিশ্রমে তোমার ভাগ্যের তালা খোলে। দূর্ভাগ্যের কঠোর শানিত ঘায়ে পায়ের তলার জমি চলে যায় অস্তাচলে।রবি তখন ফোঁটা ফোঁটা চোখের জলে ঝুপ করে ডুব অন্তহীন সমুদ্রে তোমার যেন আত্মহত্যা।সামর্থ্যের দড়িতে দাঁড়িয়ে একপ...

রীনা তালুকদারের প্রবন্ধ ও কবিতা

শ্রমজীবি মানুষের অস্তিত্বে মে দিবস প্রতিবছর মে দিবস আসে শ্রমিকের কপালে লাল কাপড় বেঁধে। বদলায় না শ্রমিকের শ্রম, ঘাম ও কামের জগত। 'মে দিবস' বিশ্বে একটি আলোচিত দিন। কেন আলোচিত সে বিষয়টি পৃথিবীর প্রত্যেক খেটে খাওয়া মানুষ মাত্রই বর্তমান বিশ্বে জানে। অন্তত: বিস্তারিত না জানলেও কাজের বিরতি বা এই দিন ছুটি থাকায়। এতদিনে মানুষ এই বিষয়ে যথেস্ট সচেতন ভাবেই জানে। ছুটি থাকলেও এমন কতক পেশা আছে যারা মে দিবসে কাজ না করলে তাদের মুখে কেউ খাবার তুলে দিবে না। এসব পেশার মানুষের কাছে মে দিবসের তাৎপর্য বুঝা না বুঝার মধ্যে কোন আলাদা পার্থক্য নেই। মে দিবসের তাৎপর্য বর্তমানে ব্যাপক। এ বিষয়ে বিশ্লে¬ষণ করতে হলে পৃথিবীর সৃষ্টির ইতিহাসে চোখ বুলিয়ে আসতে হয়। বিশ্বের বয়স প্রায় ১৫০০ কোটি বছর। তাহলে পৃথিবীর সৃষ্টি ধরা যায় আজ থেকে ৪৬০ কোটি বছর আগে। প্রাণের আবির্ভাব হয়েছিলো ১০০ কোটি বছরের মধ্যে। কিন্তু এ সময়ে কখন, কোথায়, কিভাবে মানুষের জন্ম তা সঠিক ভাবে কেউ বলতে পারেনি। বিশেষজ্ঞদের অনুমান হোমো ইরেক্টাসকেই পৃথিবীর প্রথম মানুষ। বনমানুষ ও হমিনিত্তের বংশের এ পৃথিবীতে আগমন ঘটে প্রায় ৩৫ লক্ষ বছর পূর্বে...

রণেশ রায়ের প্রবন্ধ

প্রাচুর্যের অভিশাপ ---- একটা স্ববিরোধিতা (সম্প্রতি প্রকাশিত বিক্ষুব্ধ এ ভারতের অংশবিশেষ) প্রকৃতির নীলাভ উদাস আকাশ থেকে বিজন জঙ্গলে সুউচ্চ বৃক্ষের মিনারের ফাঁক দিয়ে আলোর চ্ছ্বটা বর্ষিত হয়। উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে জঙ্গল আলো আঁধারের লুকোচুরি খেলায়। বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের কোন এক শিল্পীর তুলির টানে প্রকৃতি সেজে ওঠে। প্রকৃতির অপ্রতিহত ক্ষমতার নিদর্শন প্রতিফলিত হয় মুক্ত বাতাসের স্পর্শে, জলের অবিরাম কলকল প্রবাহে, জঙ্গলের আশ্রয়ে, পাহাড়ের প্রত্যয়ে। প্রকৃতির নিয়ম রক্ষা করে মানুষের সঙ্গে তার এক মেলবন্ধন গড়ে উঠেছে এই প্রকৃতির জগতে যেখানে আধুনিক 'সভ্যতা'র আলো বর্ষিত হয় না। মানব গোষ্ঠী গড়ে উঠেছে সমুদ্র তটে পাহাড়ের কোলে জঙ্গলের আশ্রয়ে। নাগরিক সভ্য সমাজের বন্ধন না মেনে এরা যারা এক বন্ধনহীন জীবন যাপন করে চলেছে তারা হল আদিবাসী। প্রকৃতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ মানব সম্পদ। পৃথিবীতে অসংখ্য এই মানব গোষ্ঠী নিয়ে গঠিত হয়েছে মানব সমাজ। অসংখ্য মানব গোষ্ঠীর অন্যতম হলো বিভিন্ন আদিবাসী গোষ্ঠী। তাদের দুর্ভাগ্য তারা জানত না যে প্রকৃতির অকৃপণ দান বর্ষিত হয়েছে তাদের ওপর। তারা শুয়ে থাকে প্রকৃতির এই দান...

বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতা

পথে প্রান্তরে দৃশ্য বদলে যায় রঙ রূপ রেখা এবং আস্তে আস্তে যে দেখছে সেও চোখে সানগ্লাস নিয়ে তুমি স্থির কর্পোরেট সূর্যের আলোয় ফলতঃ তোমার চোখে পড়ছে না কারা বাসুকী নাগের মতো ধরে আছে আমূল দুনিয়া । পোশাক পাল্টায় চোখের আদলে কিছু ভিন্নতার দাগ এই বদলে যাওয়া চারপাশ পর্ব থেকে পর্বত পর্বত থেকে পাথর পাথর থেকে প্রাসাদ । মানুষের সভ্যতার শুরু হয়েছিল অরণ্যে গুহায় তারপর আস্তে আস্তে নদীতীর খুঁজে নেওয়া পথ ও প্রান্তর ধরে হাঁটতে হাঁটতে হাইওয়ে । প্রান্তজীবি মানুষেরা সভ্যতাকে এতদূর বয়ে নিয়ে এল অথচ তাদের তুমি অসভ্য বর্বর ভাবছো হায় আস্ফালন। প্রকৃত শিল্পী থাকে উদাসীন মেঘের আড়ালে নীরবে অন্ধকারে একা ছায়া মেখে আলো লিখে চলে। --------০০০------- বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায় আদ্রা, পুরুলিয়া

বিশ্বজিৎ লায়েকের কবিতা

  শ্রম, শস্য, অনাহার এক। একটা জলহই -এর লেকেন ঢুকে যাছি ই'দেয়াল থেকে উ'দেয়াল দেয়াল কি জানে — সে গাঁ-গঞ্জ আর নাই মেয়েরা টুকটুকে লাল ঠোঁটে ভোরের লেডিস স্পেশাল ঘরে ফেরে দুপুরবেলা — রাঁধে, বাড়ে, খায় বাচ্চারা ইংলিশ মিডিয়ামে আলফাবেট শেখে স্বামীও সচল পয়সা — সোহাগে খেলে চাঁদ পাশাপাশি বসে টিভি সিরিয়াল কতকিছু শেখে চুল, ত্বক, নখের আরাম বিজ্ঞাপনে যেমন দেখায় উঁচু বুক, শূন্য ফিগার তুলসীতলায় জ্বলে মোমবাতি ফুঁ দিয়ে নয় মোবাইলে বাজে শঙ্খনাদ অমনি অমনি একদিন ঢুকে যায় গর্ভে পরকীয়া শীতের আরাম দুই। মাটির দেয়ালে ঝুলছে মেডেল আটা প্যাকেটের পলিথিনে ঘুমিয়ে আছে শান্ত শংসাপত্র নীচে মাননীয়'র উজ্জ্বল সহি পায়ে আর বশ নাই খুড়া গণেশ, কার্ত্তিক, কিরাতের মহড়া পিঁধে আগলা-পিছলা উলফা আসরে ধুম লাচ যুয়ান মরদ তখন — লাচ দেখাইয়ে পিরিত বিহা, ছেলে-পুলান দু'চুখে দেদার খুয়াব পেটে ভুক তবু মহড়া পিঁধলে এখনু নিজেকে রাজাই লাগে লাচ ছাড়িস না ব্যাটা, ভুখ তো ভুখ, দিন ফুরালে নুন মাড়েই সোয়াদ পিতলের ঘটিতে কনকনে জল এই কিরাতভূমে তিন। ঘাটের চাতালে বসে গা ঘষছে মধ্যদুপুর স্নান এই দ...

চারুর মুক্তগদ‍্য

শত আমিনার আত্মকথা জীর্ন শাড়ির ভাঁজে শীর্ন শরীর। ইটভাটার সকালের দৃশ্য পটে ফুটে ওঠে ব্যস্ত শত আমিনার চরিত্র। ওরা দিন মজুর। খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষী। দিনের আলো নিভে এলে মালিক শ্রেনী অস্বচ্ছ পর্দা সরিয়ে ঢুকে পড়ে জীর্ন শাড়ির ভাঁজ খুলে শীর্ন শরীরের অভ্যন্তরে। কাল সাপের ছোবলের আতঙ্কে কেঁদে ওঠা শব্দ প্রাচীর ভেদ করে ছড়াতে পারেনা উদার আকাশে। দেওয়ালের প্রতিটা ইটে তখন শ্রমকন্যাদের অসতী হওয়ার ছাপ। একমুঠো অন্নের জোগানের জন্য লুটে পুটে খায় মালিক শ্রেনী। তবু পূর্নতা পায়না অভুক্ত পেট। হাড় সর্বস্ব শরীর গুলো সারাদিনের পরিশ্রমে বেদনার্ত তবু মালিকের দালাল প্রান্তে জড়িয়ে নেয় তাদের। শীতল পানীয়ের বোতলে ঢেলে দেয় শ্রমকন্যাদের থকথকে কালো রক্ত। চোখের জলে ঝাপসা হয়ে আসে তার দুটি চোখ । ফুটপাতের এককোনে অসাড় দেহটাকে মেলে দেয় আমিনা। ছায়াময় বাতিস্তম্ভের নীচে তার লজ্জাবনত শরীর । ভোরের আলো ফুটতে তখনও কিছু ঘন্টা দেরি। তারপর ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে বাবু আর বাবুর বিবিদের চুমুক। আর আমিনা ? সে চলেছে তোমাদের সুখী ইমারতের ইট গড়তে। সব কিছুর আড়ালে যে গল্পটা আছে তাই ফুটে ওঠে প্রতিটি কাঁচা ইটের অলিন্দে অল...

প্রিয়দর্শী চক্রবর্তীর কবিতা

  দুশো বছরের ছায়াবৃক্ষ     (স্মরণে বরণে কার্ল মার্কস) তুমি এসেছিলে বলে... তুমি এসেছিলে বলে কাঠফাটা রোদে আকাশ ভেজানো বৃষ্টি, মেঘের আদরে কৃষকের স্নান, বুক বেঁধে বাঁচে কৃষ্টি। তুমি এসেছিলে বলে বৃন্তেশাখায় কৃষ্ণচূড়ার লাল, মেহনতি ঘামে ঘনায় প্লাবনে পূর্ণচাঁদের কাল ! তুমি এসেছিলে বলে অনাহার তবু আজন্ম পথে হাঁটে, স্বপ্নপ্রলেপে যৌথ খামার নিশান ওড়ায় রাতে। তুমি এসেছিলে বলে দিনদুনিয়ায় ঘুরছে রথের চাকা প্রগতির ঢঙে সারথী মানুষ রামধনু রঙ মাখা। তুমি এসেছিলে বলে সংবেদ আজও আজানেই খোঁজে মন্ত্র, নীলকন্ঠেও বিষ মুছে দিয়ে বুনে যায় গণতন্ত্র...। তোমার সঙ্গে সখ্য আমার মহাকাল গিঁটে বন্দি ইতিহাসই জানে, কিসের উজানে ছুঁয়ে যায় এই সন্ধি...! তুমি আসবে বলেই-ই... ---------------000------------------- প্রিয়দর্শী চক্রবর্তী দেশবন্ধুনগর, বাগুইআটি কলকাতা-700059

পারিজাতের গল্প

গোধূলি চোর "বাঃ, বউয়ের রঙটা তো বেশ হয়েছে! খুব সুন্দর! এই নে, এই টাকা কটা রাখ দেখি! এ দিয়ে কিছু কিনে দিস ওকে। কেমন?" গোধূলি চোখ তুলে তাকায় ভটচাজ্ গিন্নীর দিকে। বিশাল বপু, একটু আধটু হাঁটতেই হাঁপ ওঠে। আশ্বিনের শেষাশেষিও কপালে চিড়বিড় করছে ঘাম। বয়স — তা পঞ্চাশ মতো হবে! তবে ঠিক ঠাহর হয়না — শরীর দিয়ে যেন এখনও মাখন চুঁইয়ে পড়ছে! অবশ্য রইয়ে সইয়ে রাখা শরীর অমন তো একট আধটুু হবেই! এতো আর তার মায়ের মতো কালি পরা অকালে বুড়িয়ে যাওয়া একটুখানি জীবন নয়! কমলি ছোঁ মেরে টাকাটা নিয়ে নেয় ভটচাজ্ গিন্নীর হাত থেকে। "ও ধোলো রূপেই তো মজেছে আমার ছেলে। তাই তো কিছু দেয়া থোয়া নেই ড্যাংড্যাং করে কালীঘাটে গিয়ে সিঁদুর পরিয়ে ঘরে তুলল এই মেয়েছেলেটাকে।" সিঁড়ির হাতলটা ধরে একপা পিছিয়ে যায় গোধূলি। কানের পাশদুটো কেমন গরম হয়ে যাচ্ছে। চোখদুটো জোর করে নামিয়ে নেয় সে— যাতে মুক্তাবৎ বৃষ্টি না ঝরে পরে অচিরেই! "তোর সবেতেই বাড়াবাড়ি কমলী! বাড়িতে লক্ষ্মী এলো, তাকে পেয়েও তোর সুখ নেই!" পান খাওয়া লাল পুরু ঠোঁটদুটো ফাঁক করে একখাল হাসে কমলী। "আমাদের আবার সুখ! গেরামে যাও বা একরক...

সবর্না চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা

একটা মেয়ের গল্প রোজ একটা আলোর আলপিন এসে স্বপ্নে বিঁধে যায় মেয়েটার। ততক্ষণে চড়ুইটা ঘুলঘুলিতে কিচকিচ করতেই থাকে.... জল আঁচড়ে মেয়েটা দুহাত উড়িয়ে দেয়। ঘরের আনাচকানাচ থেকে মুখে করে টেনে আনে ধূলো। চেটে নেয় ধবধবে মার্বেলের মেঝে। তারপর আঁশবটিতে কুচিয়ে নেয় তার স্বপ্নের বেশ খানিকটা উন্মুক্ত আকাশ। জ্বলন্ত গ্যাসের সামনে বাষ্প হয়ে উবে যায় শরীরের নোনতাজল। বিন্দুবিন্দু মেঘ ঘুরপাক খেতে থাকে মাথার চারধারে... রোজই দুকাপ ধোঁয়াওঠা আদাচায়ের গন্ধে তার 'দাদাবৌদি'র মাথার ওপর সূর্য হেসে ওঠে..... একরত্তি 'ভাইটি'র সবকিছু সেরেসুরে শেষমেশ বাথরুমে ঢোকে একবালতি ফেনা মুখেনিয়ে। তারপর নিরালায় বসে গান লেখে তার কুঁচকে যাওয়া ঠান্ডাহাতে। রঙীন বুদবুদে ভেসে ওঠে তিনবেলা খেতেপড়তে দেওয়া হাজারদুইমাসমাইনের তার গোছগাছ সংসার। তাকে ছাড়া এখানে কালবৈশাখী ওঠে... অথচ, পান থেকে চুন খসলেই চড়ুইটার সাথে তাকেও বুঝি উড়ে যেতে হবে অন্য এক মানচিত্রের আকাশে... =============০০০============ Sabarna Chatterjee Shalbagan, Noapara Barasat, Kol-125

রবীন বসুর নিবন্ধ ও কবিতা

।।নিবন্ধ।। ওরা  কাজ করে : শিশু শ্রমিক    সরকারি হিসেবে বলা হয় ৭ থেকে ১৭ ওরা শিশু শ্রমিক l আমরা জানি ৭ নয় ৫ থেকেই  শুরু হয়ে যাচ্ছে শ্রমিক জীবন l বর্ণপরিচয় সহজপাঠ নয়, ওদের শিক্ষা শুরু হয় সেই ভোর হতে, আর শেষ হয় দিনাবসানে বা অনেক রাতে l  ওদের গুরুকুল চায়ের দোকান, পাইস হোটেল, ধাবা,  ইটভাটা, মোটর গ্যারাজ, পাথর খাদান, ফ্ল্যাট বাড়ি, রাজ মিস্ত্রি কাজ— বিস্তৃত সে পরিমণ্ডল l ব্যাপক আকাশ l তবে সে আকাশে আলো নেই, শুধুই মেঘলা আবছায়া আর স্তিমিত অন্ধকার l অথচ কত আলো, কত আয়োজন চারপাশে l গণতান্ত্রিক ভারতবর্ষে ভোট আসে, সর্বজনীন শিক্ষা, বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা, শিশু সুরক্ষা অধিকার আইন, শিশুশ্রম  বিরোধী আইন,কত বিন্যস্ত সুচারু কারুকার্যময় বাহারি বিলাপ ! তবু  গোটা ভারতবর্ষে ৬ থেকে ১২ কোটি শিশু শ্রমিক l এটা সরকারী হিসেব, তাই রাজনীতি  ঢুকে আছে, বাস্তব নিদারুণ এক ভয়াবহ চিত্র দেয় l দারিদ্র্য আর সামাজিক সুরক্ষার অভাব এই শিশুশ্রমের মূলে l উন্নত দেশগুলিতে সামাজিক সুরক্ষা বলয় থাকে, কিন্তু ভারতবর্ষের মত তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়শীল দেশে সামাজিক সু...

প্রশান্ত সেনের কবিতা

সাক্ষী আষাঢ় মাস রংটা গায়ের মিশকালো তার কেষ্টচরণ নাম হাতজোড়া তার কেটলি ও ভাঁড় দরদরে গায়ে ঘাম। কত্তটুকুন বয়স-বা আর হয়তো বছর দশ; কিংবা বারো --- শৈশবে তার শুকনো সকল রস। হাড় ভাঙানো খাটনি যে তার বেতন তিনশো ষাট পেট ভরা তার নেই যে খাবার পকেট গড়ের মাঠ। পান থেকে চুন খসল যদি রক্তচক্ষু দর্শন যায় শুকিয়ে অশ্রুনদী হোক যত গাল বর্ষণ। গাল খেয়ে দিন যায় তবু হায় গাল ভরা তার হাসি লক্ষ্মীদেবী হননি সহায় তাই খাটে ফরমাশি। ফুটপাতে তার বিছ্না পাতা আশমানী ছাদ ভরসা নন বিধাতাও পরিত্রাতা নামলে পরে বর্ষা। একদিন হায় মুষলধারায় ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি... জল থৈ থৈ সব রাস্তায় যেইদিকে যায় দৃষ্টি। বৃষ্টি মাথায় সারাটি রাত কেষ্ট ভিজে চান আঁকড়ে ধরে সেই ফুটপাত রাত্রি অবসান। বৃষ্টি সাথে লড়াই করে এবার অবসর সারাটি রাত যোঝার পরে গা-কাঁপিয়ে জ্বর... বৃষ্টিভেজা রাতের পর জল যদিও থামে থামল না আর কম্পন জ্বর বাড়ল উচ্চগ্রামে। কমল না আর তার সেই জ্বর ফেলল সে শেষ শ্বাস রইল পড়ে ফুটপাত-ঘর সাক্ষী আষাঢ় মাস। ------ooo------ ©প্রশান্ত সেন নজরুল পার্ক, পূর্ব ...

স্বপ্ননীল রুদ্রর কবিতা

বৃক্ষদূত _________________________ সমস্ত টবে এখন ফুলের সুদীর্ঘ উপন্যাস শিকড়ে শিকড়ে সুসংবদ্ধ বাক্যবিন্যাসের রস নাগরদোলার মতো অস্থির ঘূর্ণন সঙ্গে নিয়ে গাছ গাছে প্রদক্ষিণে পরখ করে ফুলের যশ সমস্ত টবে এখন কলুষ-নিবারক পঠন স্নিগ্ধতার শব্দবন্ধ, নিবিড় সমাসবদ্ধ পদ--- উন্মুক্ত গ্রন্থাগারের মতো অবাধ প্রবেশ হয়ে রসের নিরক্ষরতা ত্বরিত করে দিয়েছে রদ সমস্ত টবে এখনও মাটির ভেতরে শ্বাস নেয় টবওয়ালার সস্তায় খরচা করা নিনাদিত হাঁক, শুকিয়ে যায়নি তার রক্ত জলকরা ঘামের ফোঁটা মূল বেয়ে উঠে তারা ফুলে ফুলে লাগিয়েছে তাক ঠেলাগাড়িতে লাদাই হয় গাছ-ধারনের সারি, সারি সারি শ্রমের সজ্জায় বিমূর্ত সবুজ ফাগ--- বহুদিন আসে না পাড়ায় টববাহী বৃক্ষদূত সময় তাকে করাতে কেটেছে কি ভুলে অনুরাগ? _________________________________ স্বপ্ননীল রুদ্র "কল্পসুগন্ধী " হাকিমপাড়া ডাক ও জেলা: জলপাইগুড়ি _________________________________

আর্যতীর্থর দুটি কবিতা

 স্রেফ ছুটি শ্রমদিবসের ছুটির মজায় থাকেন শ্রমের দার্শনিক ঘুম ভাঙিয়ে চা দিয়ে যান মাইনেবিহীন তাঁর শ্রমিক। অফিসবাবু আড়মোড়া দেন শ্রমদোহাইয়ের ফাঁকতালে, বাড়ির বউয়ের শ্রমের ঘানি মে দিবসের প্রাক্কালে। পয়লা মে'তে বন্ধ যত ব্যাঙ্ক ও অফিস সরকারী, ( সারাবছর শ্রমের পরে এটুক ছুটি দরকারী) পায়নি ছুটি এ টি এমে নজর রাখা চৌকিদার, সিকিউরিটি শ্রমিক কিনা খবর রাখে কেউ কি তার! রিক্সাওয়ালার সকাল থেকেই প্যাডেল টানার এক রুটিন চলছে অটো, খালি পেটে ছুটির মানে অর্থহীন। রাজমিস্ত্রি, খুচরো শ্রমিক , ফুটপাতিয়া দোকানদার পয়লা মে'তে ব্যস্ত সবাই করতে ভাতের জোগান তার। পয়লা মে'তে ব্যাঙ্গে হাসে ছাঁটাই হওয়া চটশ্রমিক, অন্তত কেউ কারখানাটা বন্ধ হওয়ার ব্যাখ্যা দিক। শ্রমের মানে প্রোমোটারের দয়ায় খাওয়া একবেলা কাজ পাবে কে ঠিক করে দেন নেতা এবং তাঁর চেলা। শ্রমের ঘামের এপিটাফে চিটফান্ডের নাম লেখা, মজদুর সব তৈরী আছে , কাজের কোনো নেই দেখা। শ্রম এ দেশে খিদের সাথে কেঁদে করে রোজ আপোষ অশ্রমীদের ছুটি ছাডা আর কিছু নয় মে দিবস। --------০০০--------  ।।লিংক।। প্রতিটি শ...

শর্মিষ্ঠা বিশ্বাসের অণুগল্প

 শনিবার    ********    শর্মিষ্ঠা বিশ্বাস  প্রতিটা শনিবার আমার কাছে মহার্ঘ,এটুকু বলতেই আমি রিমিকে বললাম- বুঝেছি।পল্টু আসে তো? কবে থেকে পল্টু রিমি'র ছেলে হয়ে উঠেছে, একথা আমার জানা। সেই সেবার, যেবার আমরা উত্তরণ সেবা সোসাইটি থেকে ব্যাসপুর গ্রামে হেল্থ ক্যাম্প করতে গিয়েছিলাম! আর ক্যাম্প চলাকালীনই ওই গ্রামেরই পঞ্চায়েত সদস্যা সুমিত্রা রজক একটি হাড়জিরজিরে ছেলেকে ক্যাম্পে এনে হাজির করেছিলেন।           সুমিত্রার শেষ কথাটা এতদিন হলেও ভুলিনি। সুমিত্রা-- ওর দু' বার জন্ডিস হয়ে গেছে।কি বলবো বলুন, বিড়ি শ্রমিকদের পরিবারে এমন ঘটনা আখছার! ওর বাবা গত হওয়ার পর  ওর মা'ই কষ্ট করে চার ভাইবোনের সংসার চালান। ছেলেটি মেধাবী। ক্লাস নাইন পর্যন্তই! এরপর জন্ডিস! একটা কিছু ব্যাবস্থা করুন আপনারা। নইলে চোখের সামনে...        এরপরই রিমির সেই দ্বার্থহীন কথা-- তোমার জামাকাপড় নিয়ে এসো। আমার সাথে যেতে হবে তো তোমাকে! তবুও ও স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে দেখে আমি কনুই দিয়ে রিমিকে গুতো দিয়ে বলেছিলাম- নেই!      ...

সোমা ভারতীর কবিতা ও অণুগল্প

শ্রমিক ওইখানে কারখানা হবে- সবুজের বুকে মিটিমিটি সন্ধ্যাতারা। শ্রমিকের ঘরে ভিনদেশী চাঁদ নেমে আসে, মিথ্যের অজগর চোখ টিপে হাসে। খড়ের ছাউনিতে স্বপ্ন পিছলে যায়, এক বিন্দু শিশির চোখের কোনে। একুশের মেয়েটা লাল চেলি খোঁজে, মায়ের কপালের টিপ সূর্যর মত জ্বলে। ঠান্ডা ঘরে অঙ্ক কষে কোট-প্যান্ট-টাই পোশাকের আড়ালে খাদ্যলোভী। পান্তাভাতে লঙ্কা ঘষে শ্রমিকের ছোট মেয়ে, তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলে অবসরে ক্লান্ত উৎসবে অবসন্ন শ্রমিক বিপ্লবী।  স্লোগানের ফোয়ারায় ভিজতে ভিজতে লাল ফিতে কাটে প্রশিক্ষিত হাত। শ্রমিকের হাতে ফোস্কা পড়ে ছিটেবেড়ায় নতুন করে মাটি, বছরের ফেরে বোনাস মেলে বন্ধ কারখানার তালা-চাবি। শ্রমিকের প্রতিশব্দ তখন বিপন্নতা। নুন আনতে পান্তা ফুরোয় না, খিদেটাই মরে যায়। পাততারি গোটানো অজগর শ্রমিকের বিক্ষোভে গলা মেলায়, আড়ালে ডাবা পেট হজমের বড়ি খায়। গান্ধীর দেশ,বুদ্ধের দেশ, এ দেশ নির্বোধের ও। সভ্যতার স্তরে স্তরে ঘূনপোকার বাসা, মরচে পড়া প্রতিবাদ,সংবিধান শব দেহ। রঙ বদলায় নীতি বদলায়, অপুষ্ট হাত পতাকা তুলে নেয়। মিছিলের শেষে ক্লান্ত পায়...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

তিনটি কবিতা ।। জহির খান

 তিনটি কবিতা ।। জহির খান বালু নদীর কথা কি সব কথা তোমার সাথে কতকাল আগে পাড়ে ওপাড়ে অসংখ্য পরিবার পরিকল্পনা... জলে সুরে সুখ শরীর দোলে ভেসে আসে এক ছবি নদীর নাও ভালোবাসায় পাশে ছিলো শালবন                         খুব নীরবে নিভৃতে তখন স্পর্শ তোমার বহু শ্রমিকের ঘাম ঝরানো সুখ ট্রেনের বগি গুলোও চেয়ে থাকতো এক অপলক দৃষ্টি  নিয়ে   তোমার দিকেই... আর এভাবেই চলে মাঝি-মল্লাদের পারাপার                                                       প্রতিদিন তবু কত-শত প্রেমিক ঠায় নেয় তোমার বুকে ভালোবাসায় ডুবন্ত সেই ভুল বুঝেছি আজ অতঃপর যৌবনে খুঁজে পাওয়া বালু জলে প্রেম-প্রণয় তোমাকে কেটে টুকরো টুকরো করে নেয়     ...

Amazon Great Indian Festival 2026

  Explore Deals and Offers : Click Here Explore Deals and Offers : Click Here.

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

জুজুবুড়ির কেরামতি ।। গোবিন্দ মোদক

জুজুবুড়ির কেরামতি  গোবিন্দ মোদক জীবনপুরের জামতলাতে থাকতো জুজুবুড়ি সকাল-সন্ধ্যা দুই আঙুলে বাজাতে সে তুড়ি। তুড়ি মেরে জুজুবুড়ি বলতো – “সবই ভুল যতোই হিসেব করে মাপো ফাঁক সেই একচুল!” মানলে ভালো, না মানলেও দেবো যে সুড়সুড়ি  ঘাবড়ে গিয়ে ফেলবে খেয়ে চিটাগুড় আর মুড়ি! খাওয়ার শেষে এসেই যাবে জব্বর এক ঘুম কানের কাছে কাকতাড়ুয়ার তাক দুমাদুম দুম! জুজুবুড়ি কাকতাড়ুয়ার বউয়ের ঘরের মাসি পকেটেতে জমিয়ে রাখে একশো রকম হাসি।  হাহা - হিহি - হোহো - হেঁহেঁ – সুরেলা, বেসুরো  হাসার সময় নাকেতে দেয় নস্যি-নেশার গুঁড়ো! হ্যাঁচ্চো! হ্যাঁচ্চো! হাঁচি হাঁচে মাসি জুজুবুড়ি ন্যাড়া ছাতে ওড়াতে যায় শতরঞ্জি ঘুড়ি! লাটাই ধরে যেই না দেয় বেমক্কা এক টান জুজুবুড়ির হাত দু'খানা ভেঙেই খানখান! চেঁচায় তখন জুজুবুড়ি ইনিয়ে বিনিয়ে কাঁদে সূর্য তাকে আদর করে নিয়ে যে যায় চাঁদে! চাঁদে গিয়ে জুজুবুড়ি চরকা কাটে জোরে  ইচিং বিচিং গান গেয়ে যায় সারাটা রাত ধরে! ___________________________ গোবিন্দ মোদক। ...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

কবিতা ।। স্রষ্টা ।। বৈশাখী রায়

  স্রষ্টা   বৈশাখী রায় তাদের খুঁজছি, খুঁজেই চলেছি... মস্তিষ্কের গভীর-গোপন কোণগুলিতে। তবুও প্রকাশ্যে আসেনি তারা, শব্দের ভিড় নামেনি হাতে। চাহিদার প্রাচুর্য! সংখ্যা বাড়ছে খুব... আমি স্রষ্টা, রচনাই আমার আরাধনা, সৃষ্টি সাধনা জলাঞ্জলি যাক! জবরদস্তি প্রতিযোগিতায় নামা। মনের ভাব প্রকাশ পায় না, তবুও লেখার স্বাধীনতা।  অর্থ মিলুক ছাই না মিলুক , কঠিন তবু শব্দ খোঁজা।  কলমে তারা ধরা না দিলে, মস্তিষ্ক শব্দ ধার করে । অনুভূতিরা আপন হয় না, অন্যের অনুভবে অট্টালিকা গড়া। উফ! শব্দ মেলানো কঠিন কাজ, মন এবার শব্দের ছক বাধে। ব্যস্ততা, সময়সীমা, প্রতিযোগিতার জটাজালে, স্বতঃস্ফূর্ততা হাঁপিয়ে ওঠে...।।               ___________       নাম-বৈশাখী রায়  ঠিকানা- ঠাকুরনগর (বণিক পারা) ডাক-ঠাকুরনগর  থানা-গাইঘাটা  পিন-৭৪৩২৮৭

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...