পিলসুজ ও আলো পিলসুজ। দীপাধার। দীপের প্রায় নিত্য তোয়াজ, দীপাধারের নয়। দীপ আলো দান করে, সেই আলোটি পাওয়ার জন্যে তার সলতে পাকানো থেকে তৈলদান। সলতে উসকে দেওয়া। সর্বোপরি দীপটির পরিপাটি যত্ন। কেন-না লোকে আলো চায় এবং তার পর দেখে কোথা থেকে আলোটা আসছে। কার মাথায় বসে সে আধার আলো দিচ্ছে তা নিয়ে কার আর মাথাব্যথা! তাই দীপাধার অর্থাৎ পিলসুজের দিকে তেমন করে নজর পড়ে না, দরকার হয় না নিয়মিত পরিচর্যারও। তার গায়ে লেগে অনেক অবহেলার ধুলো। তার গায়ে জড়িয়ে থাকে গড়িয়ে-পড়া পোড়া তেলের ক্লেদ। সভ্যতার ময়লা গায়ে মেখে, সভ্যতার আলোদানকারী দীপের তাপ এবং চাপ সহ্য করে ধরে থাকে সে সভ্যতার আলো। আমরা ঘরকে আলোকিত দেখি, খোদ পিলসুজেই সচরাচর সরাসরি পৌঁছায় না সে আলো। আলো-মাথায়-করে দাঁড়িয়ে থাকে সে আবছা-আবছা দৃশ্যমানতা নিয়ে, সামান্য আলোর আভাসমাত্র গায়ে মেখে। কখনও মায়াবি, কখনও ভূতুড়ে এক সত্তায়। কোনও বিশেষ দু-এক দিনে, আরাধ্য দেবদেবী কিংবা মান্য অতিথি-অভ্যাগতদের সন্তোষবিধানে এবং সেইসঙ্গে নিখুঁত আয়োজনের শিরোপা পেতে, তার দিকে একটু নজর। অযত্নের স্বাভাবিক নিয়মের ব্যতিক্রম সেই দু-একটি দিন। ব্যতিক্রমই। আলো-ঝলমল সুসজ্জি...
গুচ্ছকবিতা: ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি...