সলিল চৌধুরীর গানের জগত : কিছু কথা আবদুস সালাম সলিল চৌধুরী বাংলা গানের জগতে যে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তিনি একাধারে সঙ্গীত পরিচালক, গীতিকার এবং সুরকার । বাংলা গানের ধারায় নতুন মাত্রা যোগ করেন যা আমাদের আপামর জনতা তাঁকে মনে রেখেছে। তাই ২০২৫ সালে এসে আমরা উপলব্ধি করি তিনি আজও কতটা প্রাসঙ্গিক। সলিল চৌধুরীর জন্ম ১৯২৫ সালের ১৯ নভেম্বর আসামের রাজপুর সোনারপুর অঞ্চলের গাজীপুরে। তাঁর বাবা জ্ঞানেন্দ্রময় চৌধুরী ছিলেন আসামের লতাবাড়ি চা বাগানের ডাক্তার। তিনি আবার সঙ্গীতানুরাগীও বটে। গান সম্বন্ধে ধারণা তাঁর ভালোই ছিল।তাই তিনি বাবার কাছেই তাঁর সঙ্গীতের হাতেখড়ি নেন। উনার বাবা ও ছেলের সঙ্গীতের প্রতি ঝোঁক দেখে নিজেই তালিম দিতে শুরু করেন। পরবর্তীতে নিখিল চৌধুরীর কাছেও তিনি সঙ্গীতের তালিম গ্রহণ করেন। যে গান গণমানুষের কথা বলে, যে গানে কণ্ঠ মেলায় দেশ-সমাজের সাধারণ মানুষ, যে গানে উঠে আসে নিগৃহীত, বঞ্চিত মানুষের প্রতিবাদের ভাষা; সেই গানের প্রবর্তন করেছিলেন তিনি। ...
গুচ্ছকবিতা: ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি...