Skip to main content

প্রিয় লেখক : তিলোত্তমা মজুমদার ।। সুদীপ পাঠক



 

তিলোত্তমার কথাসাহিত্য : অবদমিত মানবসত্ত্বার বিস্ফোরণ

সুদীপ পাঠক  



র্তমান সময়ে বাংলা সাহিত্যে এই প্রজন্মের লেখকদের মধ্যে তিলোত্তমা মজুমদার একজন উল্লেখযোগ্য ও অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী । নতুন ধারার গল্প রচনার ক্ষেত্রে তাঁর কলম এক উজ্জ্বল আবিষ্কার । 
তাঁর জন্ম ১৯৬৬ সালে উত্তরবঙ্গে । কালকিনি চা বাগানের ইউনিয়ন একাডেমি থেকে স্কুলের পড়াশোনার পাঠ সাঙ্গ করে চলে আসেন কলকাতায় । ১৯৮৫ সালে স্কটিশ চার্চ কলেজে শুরু হয় ছাত্রাবস্থার দ্বিতীয় পর্ব স্নাতক স্তরের পাঠক্রমের মধ্য দিয়ে । লেখালিখির সূচনা ১৯৯৩ সালে । পরিবারের সদস্যরা অনেকেই সাহিত্যানুরাগী । বিশেষ ভাবে অনুপ্রেরণা জুগিয়ে এসেছেন তাঁর দাদা । 
পেশাগত পরিচয় : পুস্তক সম্পাদক । পূর্ব ভারতের সর্বাধিক জনপ্রিয় ও বৃহৎ প্রকাশনা সংস্থা আনন্দ পাবলিশার্সে এই কাজে যুক্ত আছেন । সঙ্গীত ও ভ্রমণকে ভালোবেসে চলেছে জীবনযাপন । 
ইতিমধ্যেই পেয়েছেন একাধিক পুরস্কার । উল্লেখ্য : ' বসুধারা ' উপন্যাসের জন্য আনন্দ পুরস্কার এবং ' একতারা ' উপন্যাসের জন্য ডেটল - আনন্দ বাজার পত্রিকা শ্রেষ্ঠ শারদ অর্ঘ্য ইত্যাদি । তালিকায় রয়েছে ভাগলপুর শরৎস্মৃতি পুরস্কার ও শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায় স্মৃতি পুরস্কার । 

২০১২ সালের এপ্রিলে আনন্দ পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত হয়েছে পঞ্চাশটি গল্পের সংকলন যা তিনি উৎসর্গ করেছেন যথাক্রমে : জননী , দুইকাকি , ছোটমামি ও শাশুড়িমাকে । মধ্যচল্লিশ অতিক্রম করে স্মরণ করতে ভোলেননি সেই সব নারীদের যাঁদের কাছে হয়তো তিনি আজীবন কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ , কিম্বা যাঁদের প্রভাব তাঁর জীবনে সুদূর প্রসারী । গল্প সংকলনটিতে তিলোত্তমা এই রকম অসংখ্য অনাম্নি অঙ্গনার জীবন কথা সূচীশিল্পীর দক্ষতায় বুনন করেছেন । এ এক অলৌক সমাপতন বৈকি ! 

আখ্যান কাহিনীর কেন্দ্রীয় ও পার্শ্ব  চরিত্রের সন্ধানে লেখক মূলত মধ্য ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার ও সমাজকে বেছে নিয়েছেন । তবে পুরোপুরি উচ্চবিত্ত চরিত্রদের স্পর্শ না করে এড়িয়ে গেছেন তাও নয়। কখনো সখনো ব্যতিক্রমী হয়ে সমাজের ওপরতলার মানুষদের সুখের অসুখের আলেখ্য লিপিবদ্ধ হয়েছে তাঁর কলমে । তবে সর্ব ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলি সাধারণ (কমন) তা হলো : অবদমন , অবমাননা , নিপীড়ন , নিষ্পেষণ , বিকৃত যৌনবাসনা , যৌন ও মানসিক নির্যাতন , পারিবারিক হিংসা ও কলহ এবং এই সব কিছু থেকে উদ্ভুত ক্ষোভ , বিকার , প্রতিহিংসাপরায়নতা ইত্যাদি । যার ফলে অনেক সময় চরিত্রগুলির ভয়ঙ্কর ও বিভৎস পরিণতি ঘটে । তবে শুধুমাত্র নারী নয় ক্ষেত্র বিশেষে পুরুষের জীবনের মর্মন্তুদ , করুণ ও দুঃসহ যন্ত্রণাময় ছবি আঁকতে কার্পণ্য করেননি তিনি । একজন নির্মহ সমাজবিজ্ঞানীর অন্তরদৃষ্টি নিয়ে লেখক পরিস্থিতির স্বীকার  মানুষের অসহায়তা ব্যবচ্ছেদ করে পাঠকের সামনে তুলে ধরেছেন । আলোচ্য নিবন্ধে উপরোক্ত সংকলন থেকে দুইটি গল্প বেছে নিয়ে লিঙ্গ চেতনা ও লিঙ্গ বৈষম্যের নিরিখে তুল্যমূল্য বিচারে বিশ্লেষণ করে দেখা যেতে পারে ।   

গল্প : এক 

ননদ বৌদির রান্নাঘর 

মিনতি ও ককলি দুই স্বামী পরিত্যক্তা , স্বামী বিচ্ছিন্না নারী , যাদের পারস্পরিক সম্পর্ক শুধুমাত্র ননদ-ভাজের নয় , সাপে নেউলেও বটে । ভোরের আলো ফোটা থেকে শুরু করে রাত্রে শুতে যাওয়ার আগে পর্যন্ত এদের ঝগড়ার চোটে উঠোনে কাক-চিল বসা দায় । কাকলির স্বামী বিজয় দাস কাজ খোঁজার নাম করে বম্বে গিয়ে নিরুদ্দেশ হয়েছে আর মিনতির স্বামী বলরাম অন্যত্র সংসার পেতেছে । পাড়ার উঠতি মস্তান খোকন , যে মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে আর বেশিদূর এগোয়নি । সঠিক সময়ে দল বদল করার দূরদর্শিতা দেখিয়ে নেতাদের বিশেষ আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে । ফলে তার গ্রীল কারখানার ব্যবসা ফুলে ফেঁপে উঠেছে এবং সে এলাকায় গ্রীল খোকন নামে সমধিক পরিচিতি লাভ করেছে । সেই কারখানারই পিছনের দেওয়ালে এক চিলতে ঘর আর উঠন নিয়ে দুই মহিলার বসত । খোকনের পরামর্শে ও বদান্যতায় কাকলি তার গলার একফালি সরু সোনার হার পুঁজি হিসেবে তুলে দেয় তার হাতে ও শুরু করে হোম ডেলিভারীর ব্যবসা । মিনতি বাজার করে আনে , কাকলি রান্না করে এবং কেরিয়ারে ভরে দেয় । মিনতি পুনরায় সেই খাবার পৌঁছে দেয় বাড়ী বাড়ী । এই ভাবেই দিনগতি পাপক্ষয় চিলতে থাকে তাদের । নেহাৎ প্রয়োজনের তাগিদে একত্রে বসবাস , নইলে একে অপরের চক্ষুশূল । পাড়ার মোড়ে ফুটপাতের ওপর অচল ঠেলাগাড়িতে অভয় নাথের চায়ের দোকান । মিনতি দিনের অধিকাংশ সময়ই সেখানে আড্ডা জমায় । তাই  নিয়ে কাকলি যথেচ্ছ কটূক্তি করতে কসুর করে না । মিনতি অবশ্য সে সব গায়ে মাখে না । উল্টে সেও অশ্রাব্য গালিগালাজের বন্যা বইয়ে দেয় । পাড়ায় থাকেন অকৃতদ্বার বিমলেন্দুবাবু যিনি পেটরোগা মানুষ । কাকলি তাঁর জন্য যত্ন করে স্পেশাল রান্না করে । মিনতির মনে সন্দেহ দেখা দেয় , তবে কি কাকলি ঐ লোকটার প্রতি অনুরক্ত ? আজ সেই বিমলেন্দুর কাছ থেকেই মিনতি জানতে পারে বোম্বাইতে বম্ব ব্লাস্ট হয়েছে , প্রচুর মানুষ মারা গেছে । সেই হতাহতের তালিকায় নাম রয়েছে বিজয় দাস অর্থাৎ তার দাদার । মিনতি আঁতকে ওঠে , কি সর্বনাশ ! পরক্ষণেই সে সিদ্ধান্ত নেয় এই দুঃসংবাদ সে সম্পূর্ণ গোপন রেখে দেবে তার বৌদির কাছে । 
স্বামী পরিত্যক্তা মিনতি নিজের চেহারার কারণে বরাবর হিনমন্যতায় ভোগে । তার স্বাগতক্তির ধরন এই রকম : 
" আমি সোদোর বনের গাঁয়ের মেয়ে । তা সেখানে কে কবে ফিটফর্সা দেখেছে শুনি ? তা বাদে বাকি সব কিছুই তো আমার মেয়েমানুষের মতন । " 
অর্থাৎ শরীর , সরাসরি শরীর কেন্দ্রীক চিন্তাভাবনা প্রভাবিত করে সমাজের অন্তেবাসী এই অনগ্রসর শ্রেণীর নারীর মস্তিষ্ককে । সে যখন ঐ ভয়ঙ্কর সংবাদের মুখোমুখি হয় তার বোধ অন্য পথে পা বাড়ায় ।
" দাদা আবার বিয়ে করেছিল ! ওই জন্যি ঘরে আসত নাকো । কেন ? বউদির কী নেই ? আর পাঁচটা মেয়েমানুষের থেকে কম কীসে ? দাঁত ও উঁচু নয় । দাদা মরেচে । আগেই কি মরেনি ? বউদিকে বলব নি । যদি অন্য কোনও ভাবে জানে ? জানুক ! দেকা যাবে ! বলবনি ! " 

বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা ঘন হয়ে আসে । রাতের রান্নার জোগাড় নিয়ে মিনতি এখনো ফেরেনি । কিকলি বিরক্তি চেপে রেখে প্রদীপ জ্বালায় , শাঁখ বজায় , গলবস্ত্র হয়ে প্রণাম করে । এমন সময় শ্যামল নামের যুবক এসে হাজির হয় এবং ভগ্নদূতের মতন খবর দেয় মিনতির স্বামী বলরাম গতকাল রাত্রে মারা গেছে । কাকলি পত্রপাঠ শ্যামলকে বিদায় করে এবং তৎক্ষণাৎ মিনতির কাছে এই সংবাদ গোপন রাখার সিদ্ধান্ত নেয় মনে মনে । সে ভাবতে লাগলো 
" বেধবা ! ও ধরা দশটা সোয়ামি মরলেও কেউ বেধবা হয় না তো মিনু । ও জন্মবেধবা । স্বামী নেয় না , ও - ও নোয়া শাঁখা খুলে ফেলেচে । বেশ করেচে । ওকে বলবই না । ব্যস্ত করে লাভ কী ? যদি পরে জানতে পারে ? দেকা যাবে তখন । " 
তার ভাবনায় আরো যুক্ত হয় 
" অভয় নাথের সঙ্গে মিনুর ভাব আচে । আচে তো আচে । মেয়েমানুষ হয়ে জন্মেছে । অন্তত শরীলের জন্যও তো একটা বেটাছেলে লাগে । " 

বেশ কিছুটা সময় পার করে মিনতি মুরগীর মাংস নিয়ে ঘরে ঢুকতেই দেখে মালতীর মুখ গম্ভীর হয়ে আছে । সে চিন্তান্বিত হয়ে পড়ে " বউদির মুখটা কালো কেনো ? আমার দিকে তাকাচ্চে না । কেউ কিচু বলল ? না । শুনলে তো কাঁদত । এখনও শাঁকা সিঁদুর পরে ! পরুক । যে মরে চে সে কাকলির স্বামী নয় । আচ্ছা স্বামী ছাড়া তো দিব্যি ভাল থাকা ! এই সাত আট বছর মন্দ কী গেল ! ও বিমলেন্দু বাবুর জন্য একনও রোজ কেমন যত্ন করে খাবার নিয়ে যায় । ভালবাসে বোধহয় । মানুষটা ভালই তো ! চালচলন ভাল । " 

অর্থাৎ এই অশিক্ষিতা প্রান্তিক দুই নারীর অন্তর্লীন মনোজগতের গতিপ্রকৃতি অনুসন্ধান করলে কিছু চমকপ্রদ তথ্য সামনে উঠে আসে যা কিনা শহুরে শিক্ষিত মননশীলতার ভীতকে কাঁপিয়ে দেয় ও চরম বিস্ময়ের অভিঘাত সৃষ্টি করে । প্রথমতঃ একটা ক্রাইসিস বা সংকট দুইজনকে শত্রুতা দূরে সরিয়ে রেখে সংবেদনশীল , সহানুভূতিশীল ও সমব্যথী হয়ে ওঠার শিক্ষা দেয় । একে অপরের পরিপূরক ও বন্ধুর জায়গাটি গ্রহণ করতে ইচ্ছুক তারা । এবং এই সব কিছু হয় যেনো নিজেদের অজান্তে । 
দ্বিতীয়তঃ নোয়া , শাঁখা , সিঁদুর এই সব ধব্য চিহ্ন তাদের কাছে নেহাৎ দেখনদারি ছাড়া আর কিছুই নয় সেটা উপলব্ধি করে । সমস্ত সামাজিক ও লৌকিকতার বন্ধন বা শৃঙ্খল এক লহমায় হাস্যকর হয়ে যায় । এতকাল তারা আক্ষরিক অর্থে অথবা মনে মনে যা বয়ে বেড়াচ্ছে তা যে কতোখানি ঠুনকো , মূল্যহীন ও অর্থহীন তা প্রমাণ হতে খুব বেশি সময় লাগে না । 
তৃতীয়তঃ নারী হলো ভোগ্যপণ্য , পুরুষ ইচ্ছেমতো তার শরীর ভোগ করতে পারে । কখনো বিবাহ নামক সামাজিক প্রতিষ্ঠানের আড়ালে সুবিধা জনক অবস্থানে থেকে । আবার কখনো সরাসরি পয়সার বিনিময় ক্রয় করে । চিরাচরিত এই ধ্যানধারণাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিজস্ব নিয়মে জীবন গড়ে নেয় কাকলি ও মিনতি । শারীরিক ও মানসিক চাহিদা পূরণ করতে ইচ্ছেমত পুরুষসঙ্গ তারাও করতে পারে পছন্দের পুরুষকে নিয়ে । তাদের কাছে পুরুষ শেষ পর্যন্ত স্পার্ম ব্যাংক ছাড়া আর কিছুই নয় । চতুর্থতঃ প্রাত্যহিক জীবনসংগ্রাম ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা পুরুষের উপস্থিতির গুরুত্ব ক্রমশ হ্রাস করে দেয় । লিঙ্গ বৈষম্যের শিকার নির্যাতিতা মেয়ে দুটি ধীরে ধীরে অকুতভয় হয়ে ওঠে । সেই সাহস তারা সঞ্চয় করে নিজের ভিতর থেকে ।  

অধিক রাত্রে খেতে বসে ননদ ভাজে । পাবদা , কাতলা , চিকেন সস্নেহে ভাগাভাগি করে খায় । মিনুর আব্দার রক্ষার্থে কাকলি সাইন বোর্ড টাঙাবার প্রস্তাব মেনে নেয় । তাদের জয়েন্ট ভেঞ্চারের নাম হবে : ননদ বৌদির রান্নাঘর । সেই নামটি আবার মিনুর প্রিয় মানুষ অভয়নাথের দেওয়া । কাকলির তাতেও কোন আপত্তি নেই । লেখক পরিসমাপ্তির দিকে এগিয়েছেন এই ভাবে 
" কাকলি মিনতিকে একহাতে জড়ায় । মিনতি কাছে সরে আসে । আদুরে গলায় বলে ... । " 
তারপর 
" ঘুমে কথা জড়িয়ে এল । সাইন বোর্ডে মাথা রেখে নিবিড় ঘুম । ঘরে মশলা অনাজপাতি গ্যাস ও মেয়েলি বাস , তার সঙ্গে , যে জুঁই ফুল ফুটবে উঠোনে তার গন্ধ জড়ানো । " 
পারস্পরিক বিশ্বাস , আস্থা , নির্ভরতা ও আগামীদিনের স্বপ্নে বিভোর এক নিটোল ছবি পরিস্ফুট হয় । 


গল্প : দুই

তবলিয়া

কাহিনীর প্রটাগনিস্ট মণি । পোষাকি নাম মণিময় ঘোষাল বয়েস পয়ত্রিশ বছর । পেশায় তবলা বাদক । গঞ্জশহর দেশবন্ধু নগরের স্বনাম ধন্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তি উকিল উমেশ ঘোষালের একমাত্র পুত্র । যথারীতি বাবা চেয়েছিলেন ছেলে ডাক্তার , ইঞ্জনিয়ার , উকিল কিম্বা উচ্চ পদস্থ সরকারী কর্মকর্তা হবে । কিন্তু মনির মা ঘোষাল গিন্নি গান বাজনা ভালো বাসতেন । তিনিই শিশু বয়সে মণির হাতে তবলা ধরিয়ে দেন । সেই থেকে মণি ধাঁই ধপাধপ তবলায় চাঁটি মেরে চলেছে । তার রাগ অভিমান আনন্দ খুশী সমস্ত অনুভূতির প্রকাশ ঘটে একমাত্র তবলার মাধ্যমে । সে নিজের উদ্যোগে উস্তাদ আল্লারাখা খাঁ সাহেবের ছবি সংগ্রহ করে নিজের ঘরে টাঙিয়ে রেখেছে । ছেলেকে তবলা শেখানোর অপরাধে মণির বাবা উমেশবাবু নিজের স্ত্রীকে দু'বেলা শত মুখে গালি পাড়তেন । তবে মণির মাকে বেশীদিন সে সব সহ্য করতে হয়নি । মণির যখন সতেরো বছর বয়েস তখন তিনি পরলোক গমন করেন । ছেলের মতিগতি বুঝে উকিলবাবু উপলব্ধি করেন তাঁকে অধিক অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করতে হবে । না হলে ভবিষ্যতে সন্তানের কপালে অশেষ দুর্গতি লেখা আছে । তিনি তাই করেন । ব্যাঙ্কে ভালো পয়সাকড়ি রেখে দশ বছর আগে স্বর্গে গেছেন । 

মা ও বাবার মৃত্যুর মাঝে সময়ের বড় ব্যবধান আছে । কালক্রমে সে গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট করে বটে কিন্তু কোথাও চাকরির চেষ্টা করেনি । তাই বলে সে বাউন্ডুলে কিম্বা নেশাখোর হয়ে যায়নি । পৈতৃক সম্পত্তি ভোগ ও বাপের জমানো টাকায় ফুর্তি করে দিন কাটানোর কথা সে ভাবে না । সে তবলা বাজানোকেই রোজগারে সাধন করে নিয়েছে । সঙ্গীতচর্চা করে যে সব মেয়েরা তাদের বাড়ীতে গিয়ে সঙ্গত করে এবং শহরের গানের স্কুলে বাজায় । 

লেখক এক চমকপ্রদ ঘটনার উল্লেখ করেছেন । 
" একবার তো রীতিমতো হৈচৈ পড়ে গেল । শহরের নাম করা ক্লাব 
'জাগরণী'র বার্ষিক জলসা । মান্না দে এসেছেন গাইতে । রাত্রে হুলুস্থুল । শিল্পীর সঙ্গতদার হঠাৎ অসুস্থ । মঞ্চে উঠে বাজাবার অবস্থা নেই তাঁর । শহরে কি আর তবলচি নেই ? 
ছেলেরা মণিকে ধরল । মণি একগাল হেসে বলল , 
'এ তো আমার পরম সৌভাগ্য ।' 
ছেলেরা বলল 'তোমার ভয় করছে না ?' 
' মোটেও না ।' মনে মনে উস্তাদ আল্লারাখার ছবি স্মরণ করে উঠে পড়ল মঞ্চে ! জান লড়িয়ে দিল । অনুষ্ঠানের শেষে মান্না দে মহাশয়কে প্রণাম করলে তিনি মণিকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন । পরের দিন সেই ছবি শহরের নিজস্ব ট্যাবলয়েড 
'নির্ভীক' এর প্রথম পাতায় বেরোলো । মণি তার এক খানা ভালো প্রিন্ট সংগ্রহ করে বাঁধিয়ে রাখলো ঘরের দেওয়ালে । 
এই ঘটনার পর মণির ছাত্র সংখ্যা বেড়েছে । 'জাগরণী'র বার্ষিক অনুষ্ঠানে তবলা লহরা শোনাবার একটি সুযোগ সে পেয়ে থাকে । সব মিলিয়ে তার যা রোজগার , হেসেখেলে চলে যায় । খরচই বা কী ? পরে সুতির পাজামা আর খদ্দরের পাঞ্জাবি । পায়ে সাধারণ চটি । মাঝারি গড়ন । কালো গায়ের রং । উল্টে আঁচড়ানো চুল । নাক চোখ ভালোই । একেবারে গড়পড়তা বঙ্গ যুবা । " 

মোটের ওপর এই হল মণিময় ঘোষালের পরিচয় । কিন্তু বিয়ের বাজারে তার তেমন দর নেই । কারণ এলিজিবল ব্যাচেলর বলতে যা বোঝায় মণি তো আর ঠিক তা নয় । ভালো মানুষ আর ভালো পাত্র এই দুই কি এক জিনিস হলো ? শহরগঞ্জে তবলচির ভাব মূর্তি তেমন উজ্জ্বল নয় । লোকে মনে করে কেবল অকম্মার ধাড়িরাই তবলা বাজিয়ে থাকে । তবুও এতো কিছুর পরেও তার জন্য বিয়ের সম্বন্ধ এলো । সে নিজের সম্পর্কে যতই উদাসীন হোক না কেনো তার ভদ্র সংযত স্বভাব যা কিনা দুর্বলতার নামান্তর মাত্র সে সম্পর্কে প্রতিবেশীরা যথেষ্ঠ ওয়াকিবহাল তার প্রমাণ পাওয়া গেলো । পাড়াতুত পিসি খেটুর মা যখন মণির কাছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এলো তখন সে বলে ভনিতা না করে সরাসরি বলতে কার হয়ে ঘটকালি করা হচ্ছে ? খেটুর মা হলো বরের ঘরের পিসি আর কনের ঘরের মাসি । জানা যায় পাত্রী হলো তারক চক্রবর্তীর মেয়ে রূপালি । এবার সেই পাত্রী সম্পর্কে কিছু জরুরী তথ্য জেনে নেওয়া যাক । বাজারের পাশে তারক চক্রবর্তীর চায়ের দোকান । কায়ক্লেশে সংসার চলে । গামলা গামলা চা বানিয়ে চেহারা শুকিয়ে গেছে । তা সত্বেও বাড়তি রোজগারের আশায় পুরুত বামুনের কাজও করতে হয় । তবে সে সব বড়সড় কিছু নয় । গৃহস্থ বাড়ীতে ছোটখাটো পূজা অর্চনা । তাঁর স্ত্রী দীপালীর মতে "নেহাত পৈতৃক ভিটেখান ছিল । নইলে পেটে গামছা বেঁধে থাকতে হতো গো ।" এঁদেরই একমাত্র সন্তান রূপালি । তিনবারের চেষ্টাতেও উচ্চমাধ্যমিকের গণ্ডি টপকাতে পারেনি । স্কুলের পরীক্ষাতেও আগে একাধিকবার হোঁচট খেয়েছে । ফলে এখন তার বয়েস তেইশ বছর । যদিও তার মা সেটা উনিশের ঘরে আটকে রাখতে মরিয়া চেষ্টা করেন । গুণের মধ্যে  রূপালি রূপবতী কন্যা । এই কথাটা সে নিজে বুঝেছে অতি অল্প বয়েসেই । বারো বছর বয়েস থেকে আজ পর্যন্ত সে বহু জনের সঙ্গে প্রেম করেছে । এখন তার একাধিক ছেলে বন্ধু রয়েছে । যিনি সম্বন্ধ করেছেন সেই খেটুর মায়ের কথায় "এই যে গেল শীতে ফাংশন হল , ঊষা থুপথুপ এল গাইতে ... দেখি রুপুলি গাদাগুচ্ছের ছেলেপুলের সঙ্গে বসে টুইটুই সিটি মারছে । এক সময় দেখি , কোমর দুলিয়ে নাচতেও লাগলো ।" এ থেকে রূপালির স্বভাব , রুচি বোধবুদ্ধি সম্পর্কে একটা আন্দাজ পাওয়া যায় । কিন্তু যখন বিয়ের কথা উঠলো তখন সে প্রথমে বেঁকে বসলো । কারণ হিন্দি সিনেমা দেখে তার মনে স্বপ্ন জেগেছিল তার বর হবে ম্যাচো হিরো সঞ্জয় দত্তের মতন । সে জায়গায় কিনা সাদামাটা নিঃশত্রু সদাহাস্যময় তবলচি মণি ঘোষাল ! ছিঃ । সে প্রবল আপত্তি তুলে ঘাড় গোঁজ করে বসে রইল । কিন্তু তারক চক্রবর্তী হাতে চাঁদ পেল । সারা গঞ্জে সন্ধান করে মণিময় সম্পর্কে কোনো নিন্দেমন্দর কথা শোনা যায় না । কচি কচি মেয়েদের সঙ্গে তবলা বজায় । কিন্তু কেউ কখনো বলেনি মণি তাদের দিকে কু নজরে দেখেছে । কত তরুণী মণির সঙ্গতে গান গেয়ে বিয়ের তরী পার করে দিলো । সব চাইতে বড় কথা মণির কোনো দাবিদাবা নেই । অন্য পাত্রদের যা কিনা আকাশ ছোঁয়া । দীপালি বোঝালেন "বাপে প্রচুর টাকা রেখে গেছে । অত বড় বাড়ীর একমাত্র অধিকারী । আমার মতো টেনেটুনে সংসার চালাতে হবে না । " 
অগত্যা রূপালি কনের সাজে সজ্জিত হলো । কিন্তু তার সব রাগ গিয়ে পড়লো মণির ওপর । কারণ মণি অসন্মত হলে তার বাবা অন্যত্র বিয়ের ব্যবস্থা করতো নিশ্চিত । মণি সেই পথ বন্ধ করে দিলো । লেখক বলেছেন "শুভ দৃষ্টির সময় মণি হাসি - হাসি মুখ করে পরম প্রেমিকের চোখে তাকিয়েই রইল রূপালির দিকে , রূপালি একবারও সে চোখে চোখ রাখলো না । ... ফুলশয্যার রাতে রূপালির বাঁ হাতের অনামিকায় যখন আংটি পরাচ্ছে মণি , তার গলা শুকিয়ে কাঠ , বুক কাঁপছে , সে কোনক্রমে বলল , রূ রূপালি , দেখো তো আ আংটিটা পছন্দ ? 
রূপালি মুখের সামনে তুড়ি বাজিয়ে লম্বা হাই তুলে বলল , " আদিখ্যেতা করো না তো ! শুতে দাও । আজ আবার ওসব করতে টরতে চেয়ো না । বড্ড ঘুম পাচ্ছে । 
মণি কাঠ হয়ে শুয়ে রইল সারা রাত । ভাল ঘুমোতে পারলো না । পাছে ঘুমের ঘোরে রূপালির গায়ে হাত লেগে যায় । পাছে সে ভেবে বসে , মণি ঘুমের ছলে সুযোগ নিচ্ছে ! ছি ছি ! সে শুয়ে শুয়ে রূপালির চন্দন পরা তাজা মিঠে মুখ খানি ভাবে । ভাবতে ভাবতে তার বুক টনটন করে ! মায়ের কথা মনে হয় । মা থাকলে কত খুশি হত ! " 

অর্থাৎ একটা বিষয় পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে যে দাম্পত্য জীবনের প্রথম দিন থেকে রূপালি তার স্বামীর আশাতীত নম্র ভদ্র সরল স্বভাবের সুযোগ নিয়ে যে রুক্ষ ব্যবহার শুরু করে তা এক প্রকার মানসিক নির্যাতনের নামান্তর । রূপালির ইচ্ছে ছিল উটি কিম্বা কুলুমানালিতে গিয়ে হানিমুন করে । কিন্তু মণি তাকে নিয়ে গেলো বেথুয়াডহরি । সঙ্গে তবলা , উদ্দেশ্য নির্জনে সাধনা করা ।  রূপালির কাছে পুরো ব্যাপারটা ন্যাকামো ছাড়া আর কিছুই নয় । রাতে মণি আদর করে গায়ে হাত বুলিয়ে দিলে সে খেঁকিয়ে ওঠে 
" যাও তো ! হাত নয় তো ! পোড়া কাঠ ! 
মধু চন্দ্রিমায় এক দিনও তারা মিলিত হয়নি । মণি রাগ করেনি । ভেবেছে , আহা ছেলেমানুষ ! ওর তো শখ থাকবেই ভাল ভাল জায়গা দেখবার ! " স্বামীকে যৌণ উপবাসী করে রাখার মধ্যে এক ধরনের মর্বিড সুখ অনুভব করতে থাকে সে । বাড়ী ফিরে মণির মনোযোগ আকর্ষণ করতে নতুন পন্থা অবলম্বন করে । কোনো প্রকারে বেগার ঠেলায় সংসারের কাজ সারে ও মুখ গোমড়া করে থাকে । মণি অধৈর্য হয়ে উঠে কারণ জানতে চায় । সে এই সুযোগটাই খুঁজছিল । ইনিয়ে বিনিয়ে বলে যে সাড়ম্বরে নিজের জন্মদিন পালন করতে চায় । সমস্ত বন্ধুদের নিমন্ত্রণ করতে চায় । মণি এক কথায় রাজি হয়ে যায় । রূপালি আরো এক ধাপ লাভের পসরা সাজিয়ে তুলল । দশ হাজার টাকার বেশী মূল্যের সোনা ও মুক্তোর দানার হার চেয়ে নিল । কিন্তু মা ও পাড়ার মাসি খেটুর মাকে বলল মণি নিজে থেকে দেইনি সে অনেক জোর করে আদায় করেছে । সে যাই হোক সন্ধ্যা বেলায় মহা সমারোহে জন্মদিনের পার্টি শুরু হল । অন্যান্য  আমন্ত্রিতদের সঙ্গে কমলেশ ও বাবুয়াও উপস্থিত ছিল । মণির বাবা বেঁচে থাকতে যারা এই বাড়ীতে পা রাখার সাহস করতো না তারাই এবার মাথায় চড়ে বসলো । মণি নিজের অজান্তে বংশ কৌলীন্য খুইয়ে বসলো । এর পর থেকে  রূপালির বন্ধুরা প্রায়শই বাড়ীতে আসতে লাগলো । বিশেষতঃ মণির অনুপস্থিতিতে কমলেশ ও বাবুয়া । মণি শিশুর ন্যায় সরল তাই হঠাৎ কোনো দিন দুপুরে বাড়ী ফিরে স্ত্রীকে আলুথালু অবস্থায় দেখে কিম্বা নিজের শয়নকক্ষে নিজের বিছানায় পরপুরুষকে দেখেও তার মনে কোনো সন্দেহ জাগেনি । সে ভেবেছিল তার স্ত্রী নিঃসঙ্গতা দূর করতে বুঝি বন্ধুর সঙ্গে গল্প করছে । তবে খেটুর মায়ের অভিজ্ঞ চোখে ধরা পড়লো সব । কথা কানে হেঁটে পৌঁছলো রূপালির মায়ের কাছে । তিনি জামাইকে ডেকে বললেন 
"বাবা স্ত্রীর কোল খালি রেখো না । এবার আমাদের নাতি নাতনী আসুক ।" রাত্রে স্ত্রীকে কাছে টেনে নিয়ে সেই প্রস্তাব দিতে সে ছিটকে দূরে সরে গিয়ে বলল " বিয়ের বছর ঘুরতে না ঘুরতেই আমাকে ফাঁসানোর মতলব না ?
মণি অবাক গলায় বলল , তুমি মা হতে চাও না ? 
বোকা বোকা কথা বোলো না । মা হতে সব মেয়েই চায় । তার আগে জীবনটা একটু ভোগ করবো না ? এখুনি আমায় কাঁথা কাচতে হবে ?" মণি কয়েক বার বৌকে কাছে টানার চেষ্টা করেছিল । উত্তর এলো এই রকম "পোড়া কাঠের আঙ্গুল দিয়ে  টেনো না । আমার লাগে । নিজে বুড়ো বয়সে বিয়ে করে আমার কচি শরীরটা ধামসাচ্ছ , তাতে শখ মিটছে না , আবার এক্ষুনি বাচ্চা চাই !" 
এর থেকে চরম অবমাননা ও লাঞ্ছনা একজন মানুষের জীবনে আর কি হতে পারে ? তবলিয়ার বৈবাহিক সম্পর্কের আরো কিছু অনভিপ্রেত দিক উদঘাটিত হতে বাকী ছিল । ইদানিং রূপালির বন্ধুদের আর আসতে দেখা যায় না । বেশী আসতো বাবুয়া আর কমলেশ , তারাও আসে না ! কিন্তু কেনো ? লেখকের কাছ থেকে আমরা জানতে পারছি "বিবাহের আগে প্রেমিকদের চুমু-টুমু , স্তনপীড়ন সে উপভোগ করেছে । বিবাহের পরে পূর্ণ যৌণ জীবনের আস্বাদে পাগল সে বাবুয়াকে নিচ্ছিল , কমলেশকেও । দু'জনকেই সে বলত আচ্ছা স্বামী ছাড়া আর একজনকে ভালোবাসা কি পাপ ? আমি তো তোমাকে ভালোবাসি । দু জনেই সেটা বিশ্বাস করেছিল । কিন্তু একদিন বাবুয়াকে দেখে ফেলল কমলেশ , কমলেশকে আর একদিন দেখে ফেলল বাবুয়া । এতো কাল তারা ছিল এক আড্ডার  বান্ধব । এবার পরস্পর প্রতিদ্বন্দ্বী হল ।" নিজের ছলনাময়ী চরিত্রের দিকটা স্বামীর কাছে আড়াল করতে বিশেষ চেষ্টা করতে হয় নি । কিন্তু বিবাহ বহির্ভূত শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত দুই পুরুষের কাছে সে সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে গেল । কোনো কৌশল কাজে লাগে না । দুই প্রেমিক তুমুল লড়াই করে ক্লান্ত হয়ে এই সিদ্ধান্তে এলো যে মেয়েরা হলো সাপের জাত । অভিমানে আহত হয়ে তারা আসা বন্ধ করলো । রূপালির মুখে ম্লান ছায়া , তাই দেখে মণির বুক ফেটে যায় । প্রশ্ন করে জানতে পারে বন্ধুরা একে অপরকে হিংসা করে তাই আসে না । স্ত্রীর দুঃখে কাতর মণি রাস্তায় বেরিয়ে তার পুরুষ বন্ধুদের খোঁজ করতে লাগলো । বাবুয়াকে না পেয়ে কমলেশকে পাকড়াও করে নিয়ে আসে । রূপালির হাতে তাকে সমর্পণ করে তবলার সাধনায় বসে ঘরের দরজা বন্ধ করে । 

লেখক যে ভাবে কাহিনীর পরিসমাপ্তি ঘটিয়েছেন তা সরাসরি তাঁর কাছ থেকেই জেনে নেওয়া যাক। " রূপালি কমলেশের হাত টেনে শোবার ঘরে এল । মুখের কাছে মুখ এনে বলল 'এতো দিন না এসে থাকতে পারলে ?' মণির তবলা বাজানোর শব্দ আসছে । কমলেশ বলল , 
'ও ঘরে মণি দা ! হঠাৎ যদি এসে পড়ে ? 
রূপালি এক ধাক্কায় কমলেশকে বিছানায় বসিয়ে দিল । দু'হাতে তাকে জড়িয়ে বুকে মাথা চেপে নিয়ে বলতে লাগলো , 'ও এখন আসবেই না । বদ্ধ পাগল । তবলা ছাড়া কিছু জানে নাকি ? বলে , ওসব করার সময় নাকি বিশেষ বিশেষ তালের ছন্দ পায় । হি হি হি !' 
ধকধক করে উঠল কমলেশের বুক ।তার মনে হল , যে শব্দ আসছে তা তবলা বাদনের নয় । কোনোও প্রেমিক পুরুষের বেদনাময় হৃদয়ধ্বনি ! কান্না ! এ কান্না সবার থেকে আলাদা ! 
সে ঠেলে রূপালিকে সরিয়ে দিল । দাঁতে দাঁত চেপে ভাঙ্গা গলায় বলল , 'ছিঃ ছিঃ রূপালি ! আমাকে আর পাপের ভাগী কোরো না । " 

স্বৈরিনী নারী নিজের রূপ যৌবন ও যৌণ আকর্ষণের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করে বহুগামিতায় লিপ্ত হয়ে শরীরী সুখ অনুভব করে । মণির তুলনায় রূপালি সব দিক থেকেই অধঃস্তন ও অসমমানের । দুজনের মধ্যে মিলের চাইতে অমিল বেশী । মানুষ হিসাবে মণি উত্তম ও রূপালি অধম তা অনস্বীকার্য । যার যতটুকু প্রাপ্য তার চাইতে বেশী পেলে সে তার মূল্য বোঝে না , বরং অমর্যাদা করে । অন্যদিকে সর্বগুণান্বিত হয়েও হিনমন্যতা ও ভীরু স্বভাবের কারণে মানুষ আজীবন অন্তরদাহে পুড়ে ছাই হয়ে যায় । এই কাহিনী তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত । পুরুষ কিভাবে লিঙ্গ বৈষম্যের শিকার হবে ? তাও কি সম্ভব ! আবহমান কালের জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসে থাকা ধারণাকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয় । 

তিলোত্তমার লেখনী কখনই শৌখিন ও পোষাকি নারীবাদের গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ থাকে না । তিনি প্রথম থেকেই নিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী , তাঁর সৃষ্ট চরিত্র গুলিই এর সাক্ষ্য দেয় । সমাজের নিগড়ে আটকে পড়া শৃঙ্খলিত মানুষ , যাদের অধিকাংশই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কিম্বা আর্থ সামাজিক ও পারিবারিক স্তরে পিছিয়ে থাকা মানুষ যারা কখনো সুবিচার পায়নি তাদের জন্য তাঁর কলম বারংবার সোচ্চার হয়েছে । সেই সঙ্গে মানব হৃদের অন্তর্লীন জগতের গুঢ় রহস্যের সন্ধান করেছেন লেখক । সেখানে জমাট বাঁধা অন্ধকারের মতন যন্ত্রণা ও দুঃখবোধকে উপলব্ধি এবং বিশ্লেষণ করে এক ভিন্নতর চেতনার স্তর স্পর্শ করতে সক্ষম হয়েছেন । 


বিবলিওগ্রাফি : 

গ্রন্থ : পঞ্চাশটি গল্প 
লেখক : তিলোত্তমা মজুমদার 
প্রকাশক : আনন্দ পাবলিশার্স 
প্রথম সংস্করণ : ২০১২ 

ননদ - বউদির রান্নাঘর 
রচনাকাল : ডিসেম্বর ২০০৮ 
প্রকাশ : আনন্দ বাজার পত্রিকা রবিবাসরীয় , ২৮ ডিসেম্বর ২০০৮ ।

তবলিয়া 
রচনাকাল : সেপ্টেম্বর ২০১০
প্রকাশ : শারদীয়া আনন্দউৎসব .কম , ২০১০ 


===========================
 


SUDIP  PATHAK

Swapno Neer Apartment , 
3rd floor , flat no: 3 , 
321 , Purba Sinthee Road , 
Madhugarh , DumDum ,
Kolkata - 700030 . 

Phone & what's app number :
9874919948



Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৯তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ মে ২০২৬

লেখা-আহবান-বিজ্ঞপ্তি   আগামী মাসে প্রকাশিত হবে নবপ্রভাত ওয়েব ম্যাগাজিনের ১০০তম সংখ্যা ।   কোনো বিশেষ বিষয় থাকছে না। শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোনও বাঁধন নেই।     বিভাগ-১: প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার, বিভাগ-২: সব ধরনের গল্প, বিভাগ-৩: ভ্রমণকাহিনি-মুক্তগদ্য-রম্যরচনা, বিভাগ-৪: কবিতাগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি)-ছড়াগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি) পাঠাতে পারেন।   নির্বাচিত লেখাগুলি (সর্বোচ্চ ৯৯টা) প্রকাশিত হবে এবং প্রতি বিভাগ থেকে একটি করে সেরা লেখার লেখককে মানপত্র ও নবপ্রভাত প্রকাশনীর বই উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হবে। সম্ভব হলে সংখ্যাটির মুদ্রিত সংস্করণও হতে পারে। সুতরাং মানসম্মত ভালো লেখা পাঠান।   e-mail: nabapravatblog@gmail.com   পাঠানোর শেষদিন : 12/06/2026 পত্রিকা প্রকাশ : ১লা আষাঢ় ১৪৩৩ ( 15/06/2026) সূচিপত্র দেবাশিস সাহার গুচ্ছকবিতা ভবরোগবৈদ্যম ।। শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার ছড়াকারের পরিচয়-সঙ্কট ।। জাহাঙ্গীর আলম জাহান Gen Z-এর প্রভাব : সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।। শিবশিস  মুখার্জী আধুনিক সমাজ ও সক্রেটিস: প্রশ্নের ভেতর দিয়ে মানুষের যাত...

সম্প্রীতির মেলবন্ধনে বাঙালী ।। মো: বিপুল রহমান

  সম্প্রীতির মেলবন্ধনে বাঙালী মো: বিপুল রহমান এক নীল আকাশের নীচে, স্বপ্নের ঝিলিক, মাটির গন্ধে মেশে হৃদয়ের টান, হিন্দু–মুসলিম, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান, এক সুরে বাঁধা, এক প্রাণের সম্মিলন। দুর্গার দীপ্ত আলোয় জ্বলে উৎসবের রাগ, ঈদের চাঁদ ছড়ায় শান্তির অমৃত জ্যোৎস্না, বড়দিনের প্রার্থনা গায় কোমল সুরের ডাক, বুদ্ধ পূর্ণিমার প্রদীপে মুখরিত নীরব প্রভা— এক হৃদয়ে জাগে, এক দীপশিখার আলো। ভাষার তুফানে, স্বাধীনতার অগ্নিশপথে, কাঁধে কাঁধ মিলে দাঁড়ায় বাঙালী অটল, ভ্রাতৃত্বের মন্ত্রে জেগে ওঠে জাতির প্রাণ, এক স্বরে, এক ছন্দে-চির অম্লান। পাড়ার উঠোনে, ছায়ায়-আলোয়, হাসির রঙে, কান্নার সুরে, হাতে হাত গেঁথে ওঠে সেতু-অটুট, নির্মল, নাম তার সম্প্রীতির মেলবন্ধনে বাঙালী। এই মাটির ধূলি, এই আকাশের নীল, হৃদয়ের গভীরে বাজে একতার সুরলীল, বাঙালী-তুই চির অখণ্ড, চির জাগ্রত, সম্প্রীতির কাব্যে লেখা, তুই চিরন্তন। উৎসর্গঃ এই কবিতা উৎসর্গ করছি সকল বাঙালীর প্রতি, যারা সময়ের সব বাঁধা-বিপত্তি, ভাষা, ধর্ম বা সংস্কৃতির ভেদাভেদ ভুলে একতার বন্ধন গড়ে তোলেন। যারা নিজেদের হৃদয়ে ভ্রাতৃত্বের দীপ জ্বালিয়ে রাখেন, আনন্দে ও দুঃখে পাশে থাকেন, উদযাপনে অংশ ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

অনুসরণ ।। সমীর মন্ডল

অনুসরণ সমীর মন্ডল অসীম কে কি মনে পড়ে? পড়ে! পড়ে! পড়ে! কাবেরীকে কি মনে পড়ে? পড়ে!পড়ে!পড়ে! অর্ধেক জীবন পার করেছো সঙ্গী অন্য কেউ জলের দরে সময় ফুরায়  নৌকা ভাসাও কই? মাঝে মাঝে দেখা হয় অল্প কথায় দাঁড়ি অনেক কিছু চাওয়ার থাকে গোপন ব্যথায় পাড়ি। পথের দেখা পথের মতোই হাতছানি দেয় দূরে যেখানে যাও, যেখানে থাকো গান বাঁধি সেই সুরে। ছিন্ন বীণায় ফুটেছে ফুল ভুলের কাঁটায় জীবন অভিসারে দিনগুলি যায় নিভৃতে অনুসরণ। ============= সমীর মন্ডল  শাঁকারীপাড়া, কাঞ্চননগর, পূর্ব বর্ধমান, পিন-৭১৩১০২

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

ছোটগল্প ।। মনোকষ্টে বাবলা ।। দীপক পাল

মনোকষ্টে বাবলা দীপক পাল পয়লা বৈশাখে হালখাতা করতে গিয়ে যা বেহাল অবস্থায় পরেছিল তিন মক্কেল তারপরে বাড়ীতে মা বাবার যা বকুনি জুটেছে তা আর বলার নয়। তিন মক্কেলও ঘর থেকে বেরোয়নি। তৃতীয় দিন সকালে বাবলার বাবা বাবলাকে বলে, - ' জানিস আজ সকালে দিদি ফোন করেছিলো আমরা কেউ গিয়ে একবারও দেখা সাক্ষাত করি না কোন খোঁজ খবর করিনা আমরা কেমন আছি। তাই আমি ঠিক করেছি এই টাকাটা নিয়ে তুই একবার ঘুরে আয় সোনারপুর। ' -' আজ যাবনা বাবা। একা যেতে ইচ্ছে করেনা , কাল বিশ্বরূপ ও সৌম্যকে নিয়ে যাব।' - ' আচ্ছা তাই যাস যদি ওরা যায়। তবে আরো কটা টাকা নে।' বাবলা সৌম্য ও বিশ্বরূপকে ফোনে সন্ধে সাতটার সময় পার্কে আসতে বলল। বললো অনেক কথা আছে।  যথারীতি সন্ধে সাতটায় পার্কে সবার দেখা হলো। কিছুক্ষণ সাধারন কথাবার্তা চলার পর অটোমেটিক হালখাতার সন্ধের ঘটনার কথাটা উঠলো। এবার আর কোন বিরক্তি বা রাগের কথাতো উঠলেই না কোন দোষারোপ না। সবাই খানিক মজা আর হেসে লুটোপুটি খেলো। এর মধ্যে সৌম্য হঠাৎ বলে উঠলো, - ' আচ্ছা বাবলাদা তুমি হঠাৎ আমাদের পার্কে ডেকে পাঠালে কেনো, কি ব্যাপার?' - ' কেন, আমি তোদের ডাকতে পা...

কবিতা ।। ঘাস ।। সেখ নাসিবুল আলি

  ঘাস  সেখ নাসিবুল আলি                       জষ্টির রবি রশ্মিতে দিনে-দিনে       ভীষণ ক্লান্ত সে আজ  একটু শাদা শীতল  জল চায় !         নইলে জ্বলে যাচ্ছে,               তার প্রতিটি লতা পাতা যেন ওর বেড়ে গেছে,   - চিন্তা ! তাই, সংকোচে জানাই সুমধুর শব্দ বিন্যাসে বর্ষার জলদকে।      সে যেন তাকে দ্যায় দু ফোঁটা শাদা শীতল জল তাহলে সে আবার  সবুজে সবুজে  সেজে ওঠবে । জলদ' দের দু ফোঁটা জলের  শব্দ        গভীর গহবরে  জন্ম দেব                এক একটি সন্তান -                ক্লান্ত পৃথিবীর বুকে ।  ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

বিজয়ন্ত সরকারের গল্প

// রাস্তার ছেলে মন্টু // গতরাতে যখন অঝোর ধারা... স্বস্তির গন্ধ দালানের মালিকদের উরুভাঁজে-কার্নিশে তখন ভেজা শরীরে বছর নয়ের মন্টু আশ্রয় নিয়েছিল একটা জীর্ণ একচালায়। যার নীচে দাঁড়িয়ে শরীরটা অন্তত একটু কম ভেজে ।  বৃষ্টিস্নাত রাতে এই একটাই সমস্যা মন্টুর । সকালে মবিন মিঞাঁকে দেখেই- - আরে চাচা, গতরাতে যা বৃষ্টি, তোমার এই একচালার নীচেই তো ছিলাম । - কী কইতাসস্ ! এই চালায় যত ফুটা, দিনে বারিষ আইসলে মুই বুঝবার পারিনা জুতা সিলাইয়ের জিনিস রাকপো কই আর মুইবা খাড়াবো কই ! - যাই বল চাচা, ভগবান আমার জন্যই তোমাকে পাঠিয়েছে । তা না হলে খদ্দের তো তেমন আসেনা, তবু ওই কটা পুরানা জুতা-কালি-সুতা নিয়ে বসে থাকো।  - হা হা হা (প্রাণখোলা হাসি) সহী বাত্ বেটা...সহী বাত্ । 'যাই ওদিকে হয়তো চা ফুটছে, পরে এসে নিউজ শোনাব তোমাকে' মন্টু বলতে বলতে ঝটপট্ বেরিয়ে যায়।  দাস টিফিন সেন্টারে কাজ করে মন্টু । সারদিন খেটে নাম মাত্র টাকা পায় আর কখনও কখনও পায় এক বেলার টিফিন । অথচ কথায়, চাল-চলনে, ফুরফুরে-উড়ে বেড়ায় বেশ । (ব্যাগ হাতে এপাড়ার গন্যিমান্যি গগন বাবুর আগমন) - আরে ও মবিন...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতা ।। বসন্তের কোকিল তুমি ।। বিচিত্র কুমার

বসন্তের কোকিল তুমি   বিচিত্র কুমার                      (০১) তোমার দু-আঁখির গহীন অরণ্যে একটা স্বপ্নের বহমান নদী রয়েছে, তারই রেশ ধরে আমি হেঁটে চলি অজানা বসন্তের পথে নীর উদ্দেশ্যে। সে চলার কোন শেষ সীমা নেই তাই আমার বিষণ্ণ একতারা সন্ন্যাস খুঁজে ফিরে , কবে তুমি বুঝবে অনুশ্রী মনের পর্দা খুলে একুশ বসন্ত তোমার রঙ ছিটিয়ে যাচ্ছে অচিনপুরে। এদিকে আমার দেহের প্রতিটি শিরা ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছে তোমার ভালোবাসার একটু উষ্ণতা পাবার জন্যে, শুধু অনুভবে তাণ্ডব উচ্ছাসিত হচ্ছে--- যেদিকে তাকাই --- ফুলে ফুলে ভ্রমর গুনগুনিয়ে উড়ে উড়ে পরে বসন্তের কোকিল গান গায় নব বসন্তে, তোমার দুই চোখে আমার একই ছায়া রয়ে যায় উতলা ভালোবাসার সীমান্তে।                 (০২)        এক রক্তাক্ত বসন্তের স্মৃতি কোন এক উতলা বসন্তের সকালে পুষ্পবনে ফুটেছিল একটি টকটকে লাল গোলাপ, তার সাথে হয়েছিলো দেখা প্রথম ফাগুনে হয়েছিল দুজনার এ জীবনের আলাপ।  তারপর প্র...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৮তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩৩ এপ্রিল ২০২৬

  শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শুভ বাংলা নববর্ষের হার্দিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।  সকলের মঙ্গল হোক। পারস্পরিক সৌহার্দ্যে নন্দিত হোক জীবন। বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক লেখাগুচ্ছ এই সংখ্যায় রইল। অন্যান্য লেখা পরে প্রকাশিত হবে। —নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত।   সূচিপত্র পহেলা বৈশাখ : অদ্বিতীয় বাঙালির সর্বজনীন উৎসব ।। অলোক আচার্য বোশেখের ঘুড়ি ।। শাহ মতিন টিপু পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ হালখাতা — বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। তুষার ভট্টাচার্য হালখাতা ।। চন্দ্রমা মুখার্জী নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত দুই আকাশ, এক নববর্ষ ।। রাজদীপ মজুমদার আমার সন্ন্যাস ।। অংশুদেব পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি ।। সারাবান তহুরা মৌমিতা বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত স্মৃতির পাতায় পয়লা ।। দেবশ্রী চক্রবর...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৯তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ মে ২০২৬

লেখা-আহবান-বিজ্ঞপ্তি   আগামী মাসে প্রকাশিত হবে নবপ্রভাত ওয়েব ম্যাগাজিনের ১০০তম সংখ্যা ।   কোনো বিশেষ বিষয় থাকছে না। শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোনও বাঁধন নেই।     বিভাগ-১: প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার, বিভাগ-২: সব ধরনের গল্প, বিভাগ-৩: ভ্রমণকাহিনি-মুক্তগদ্য-রম্যরচনা, বিভাগ-৪: কবিতাগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি)-ছড়াগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি) পাঠাতে পারেন।   নির্বাচিত লেখাগুলি (সর্বোচ্চ ৯৯টা) প্রকাশিত হবে এবং প্রতি বিভাগ থেকে একটি করে সেরা লেখার লেখককে মানপত্র ও নবপ্রভাত প্রকাশনীর বই উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হবে। সম্ভব হলে সংখ্যাটির মুদ্রিত সংস্করণও হতে পারে। সুতরাং মানসম্মত ভালো লেখা পাঠান।   e-mail: nabapravatblog@gmail.com   পাঠানোর শেষদিন : 12/06/2026 পত্রিকা প্রকাশ : ১লা আষাঢ় ১৪৩৩ ( 15/06/2026) সূচিপত্র দেবাশিস সাহার গুচ্ছকবিতা ভবরোগবৈদ্যম ।। শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার ছড়াকারের পরিচয়-সঙ্কট ।। জাহাঙ্গীর আলম জাহান Gen Z-এর প্রভাব : সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।। শিবশিস  মুখার্জী আধুনিক সমাজ ও সক্রেটিস: প্রশ্নের ভেতর দিয়ে মানুষের যাত...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৮তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩৩ এপ্রিল ২০২৬

  শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শুভ বাংলা নববর্ষের হার্দিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।  সকলের মঙ্গল হোক। পারস্পরিক সৌহার্দ্যে নন্দিত হোক জীবন। বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক লেখাগুচ্ছ এই সংখ্যায় রইল। অন্যান্য লেখা পরে প্রকাশিত হবে। —নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত।   সূচিপত্র পহেলা বৈশাখ : অদ্বিতীয় বাঙালির সর্বজনীন উৎসব ।। অলোক আচার্য বোশেখের ঘুড়ি ।। শাহ মতিন টিপু পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ হালখাতা — বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। তুষার ভট্টাচার্য হালখাতা ।। চন্দ্রমা মুখার্জী নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত দুই আকাশ, এক নববর্ষ ।। রাজদীপ মজুমদার আমার সন্ন্যাস ।। অংশুদেব পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি ।। সারাবান তহুরা মৌমিতা বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত স্মৃতির পাতায় পয়লা ।। দেবশ্রী চক্রবর...

যুদ্ধের দামামা ।। সুবিনয় হালদার

যুদ্ধের দামামা সুবিনয় হালদার যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে সাইরেনের শব্দ শুনতে কি পাচ্ছো ? লাল বাতি নীল বাতি ছোটাছুটি করছে , সুস্থ অসুস্থ নয় তো বা অন্য কিছু যাচ্ছে ফিসফাস চুপচাপ কানাঘুষো কত কথা হচ্ছে ; যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । ঢং ঢং আওয়াজে- রাত জাগে মানুষে- (২) চারিদিকে স্তব্ধ ঘরে ঘরে নিঃশব্দ ভেসে আসে কোলাহল- কারা করে চিৎকার- ? ধুমধাম গর্জন মনে হয় কম্পন আলোর রোশনাই সব হলো পুড়ে ছাই ; তাই শুনি বলতে বারুদে লাগাও তবে সলতে ভনিতা অনেক এবার হয়েছে লাশের পাহাড় দেখি জমেছে যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । শুধু দেখি হায়- ভয়ের চাপে সরে যায় জয় কে ধরবে হাল- কে-বা দেবে চাল- ? মাঝি বুঝি নাইরে ; কল্কির কেল্লা শুরু হলো হল্লা কোথা যাবে জনগণ এ-যে বুঝি মহারণ অনেক হয়েছে দ্বন্দ্ব সোজা করো মেরুদন্ড । নাই তবে নিস্তার হও সবে সোচ্চার চাপ দাও দন্ডে ভর সাথে ভার তবে সরবে বসে বসে সবে মিলে সময় গুনছে ; তাঁর নাম করছে তাঁর বাণী পড়ছে ! যুদ্ধের দামামা ওই- দেখো- বেজেছে- । ___________________ সুবিনয় হালদার পিতা - ঈশ্বর প্রদীপ হালদার গ্রাম - দৌলতপুর পোস্ট - দিঘীরপাড় বাজার থানা - ফলতা জেলা - দক্ষিণ ২৪ পরগ...

ছোটগল্প ।। মনোকষ্টে বাবলা ।। দীপক পাল

মনোকষ্টে বাবলা দীপক পাল পয়লা বৈশাখে হালখাতা করতে গিয়ে যা বেহাল অবস্থায় পরেছিল তিন মক্কেল তারপরে বাড়ীতে মা বাবার যা বকুনি জুটেছে তা আর বলার নয়। তিন মক্কেলও ঘর থেকে বেরোয়নি। তৃতীয় দিন সকালে বাবলার বাবা বাবলাকে বলে, - ' জানিস আজ সকালে দিদি ফোন করেছিলো আমরা কেউ গিয়ে একবারও দেখা সাক্ষাত করি না কোন খোঁজ খবর করিনা আমরা কেমন আছি। তাই আমি ঠিক করেছি এই টাকাটা নিয়ে তুই একবার ঘুরে আয় সোনারপুর। ' -' আজ যাবনা বাবা। একা যেতে ইচ্ছে করেনা , কাল বিশ্বরূপ ও সৌম্যকে নিয়ে যাব।' - ' আচ্ছা তাই যাস যদি ওরা যায়। তবে আরো কটা টাকা নে।' বাবলা সৌম্য ও বিশ্বরূপকে ফোনে সন্ধে সাতটার সময় পার্কে আসতে বলল। বললো অনেক কথা আছে।  যথারীতি সন্ধে সাতটায় পার্কে সবার দেখা হলো। কিছুক্ষণ সাধারন কথাবার্তা চলার পর অটোমেটিক হালখাতার সন্ধের ঘটনার কথাটা উঠলো। এবার আর কোন বিরক্তি বা রাগের কথাতো উঠলেই না কোন দোষারোপ না। সবাই খানিক মজা আর হেসে লুটোপুটি খেলো। এর মধ্যে সৌম্য হঠাৎ বলে উঠলো, - ' আচ্ছা বাবলাদা তুমি হঠাৎ আমাদের পার্কে ডেকে পাঠালে কেনো, কি ব্যাপার?' - ' কেন, আমি তোদের ডাকতে পা...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি

বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক তপন মাইতি বাংলা নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ শুধু একটি দিন নয়; এটি বাঙালির সামষ্টিক স্মৃতি, কৃষিনির্ভর সভ্যতার চিহ্ন, অর্থনৈতিক বিন্যাসের সূচনা এবং সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক। সময়কে মানুষ ক্যালেন্ডারে বন্দি করলেও, নববর্ষ আসলে মানসিক পুনর্জন্মের এক সামাজিক অনুষঙ্গ। বছরের প্রথম দিনকে কেন্দ্র করে বাঙালি নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার সংকল্প করে। পুরোনো হিসাব বন্ধ করে নতুন খাতা খোলা—এই ধারণা বাঙালি জীবনদর্শনের গভীরে প্রোথিত। নববর্ষ মানে শুধুই উৎসব নয়; এটি স্মৃতি, শ্রম, আশা ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের একটি সামাজিক চুক্তি। বাংলা নববর্ষ তাই একদিকে কৃষিজীবনের ঋতুচক্রের সাথে যুক্ত, অন্যদিকে নাগরিক সংস্কৃতির আধুনিক উৎসবে রূপান্তরিত এক ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা। বাংলা সনের উৎপত্তি নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও সাধারণভাবে মনে করা হয় মুঘল সম্রাট আকবর রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থে সৌরভিত্তিক বাংলা সাল চালু করেন। কৃষিভিত্তিক সমাজে ফসল কাটার সময় অনুযায়ী কর আদায় প্রয়োজন ছিল।হিজরি চান্দ্র সন কৃষির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।ফলে সৌরবর্ষভিত্তিক বাংলা সনের প্রবর...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...