Skip to main content

প্রিয় লেখক : তিলোত্তমা মজুমদার ।। সুদীপ পাঠক



 

তিলোত্তমার কথাসাহিত্য : অবদমিত মানবসত্ত্বার বিস্ফোরণ

সুদীপ পাঠক  



র্তমান সময়ে বাংলা সাহিত্যে এই প্রজন্মের লেখকদের মধ্যে তিলোত্তমা মজুমদার একজন উল্লেখযোগ্য ও অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী । নতুন ধারার গল্প রচনার ক্ষেত্রে তাঁর কলম এক উজ্জ্বল আবিষ্কার । 
তাঁর জন্ম ১৯৬৬ সালে উত্তরবঙ্গে । কালকিনি চা বাগানের ইউনিয়ন একাডেমি থেকে স্কুলের পড়াশোনার পাঠ সাঙ্গ করে চলে আসেন কলকাতায় । ১৯৮৫ সালে স্কটিশ চার্চ কলেজে শুরু হয় ছাত্রাবস্থার দ্বিতীয় পর্ব স্নাতক স্তরের পাঠক্রমের মধ্য দিয়ে । লেখালিখির সূচনা ১৯৯৩ সালে । পরিবারের সদস্যরা অনেকেই সাহিত্যানুরাগী । বিশেষ ভাবে অনুপ্রেরণা জুগিয়ে এসেছেন তাঁর দাদা । 
পেশাগত পরিচয় : পুস্তক সম্পাদক । পূর্ব ভারতের সর্বাধিক জনপ্রিয় ও বৃহৎ প্রকাশনা সংস্থা আনন্দ পাবলিশার্সে এই কাজে যুক্ত আছেন । সঙ্গীত ও ভ্রমণকে ভালোবেসে চলেছে জীবনযাপন । 
ইতিমধ্যেই পেয়েছেন একাধিক পুরস্কার । উল্লেখ্য : ' বসুধারা ' উপন্যাসের জন্য আনন্দ পুরস্কার এবং ' একতারা ' উপন্যাসের জন্য ডেটল - আনন্দ বাজার পত্রিকা শ্রেষ্ঠ শারদ অর্ঘ্য ইত্যাদি । তালিকায় রয়েছে ভাগলপুর শরৎস্মৃতি পুরস্কার ও শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায় স্মৃতি পুরস্কার । 

২০১২ সালের এপ্রিলে আনন্দ পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত হয়েছে পঞ্চাশটি গল্পের সংকলন যা তিনি উৎসর্গ করেছেন যথাক্রমে : জননী , দুইকাকি , ছোটমামি ও শাশুড়িমাকে । মধ্যচল্লিশ অতিক্রম করে স্মরণ করতে ভোলেননি সেই সব নারীদের যাঁদের কাছে হয়তো তিনি আজীবন কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ , কিম্বা যাঁদের প্রভাব তাঁর জীবনে সুদূর প্রসারী । গল্প সংকলনটিতে তিলোত্তমা এই রকম অসংখ্য অনাম্নি অঙ্গনার জীবন কথা সূচীশিল্পীর দক্ষতায় বুনন করেছেন । এ এক অলৌক সমাপতন বৈকি ! 

আখ্যান কাহিনীর কেন্দ্রীয় ও পার্শ্ব  চরিত্রের সন্ধানে লেখক মূলত মধ্য ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার ও সমাজকে বেছে নিয়েছেন । তবে পুরোপুরি উচ্চবিত্ত চরিত্রদের স্পর্শ না করে এড়িয়ে গেছেন তাও নয়। কখনো সখনো ব্যতিক্রমী হয়ে সমাজের ওপরতলার মানুষদের সুখের অসুখের আলেখ্য লিপিবদ্ধ হয়েছে তাঁর কলমে । তবে সর্ব ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলি সাধারণ (কমন) তা হলো : অবদমন , অবমাননা , নিপীড়ন , নিষ্পেষণ , বিকৃত যৌনবাসনা , যৌন ও মানসিক নির্যাতন , পারিবারিক হিংসা ও কলহ এবং এই সব কিছু থেকে উদ্ভুত ক্ষোভ , বিকার , প্রতিহিংসাপরায়নতা ইত্যাদি । যার ফলে অনেক সময় চরিত্রগুলির ভয়ঙ্কর ও বিভৎস পরিণতি ঘটে । তবে শুধুমাত্র নারী নয় ক্ষেত্র বিশেষে পুরুষের জীবনের মর্মন্তুদ , করুণ ও দুঃসহ যন্ত্রণাময় ছবি আঁকতে কার্পণ্য করেননি তিনি । একজন নির্মহ সমাজবিজ্ঞানীর অন্তরদৃষ্টি নিয়ে লেখক পরিস্থিতির স্বীকার  মানুষের অসহায়তা ব্যবচ্ছেদ করে পাঠকের সামনে তুলে ধরেছেন । আলোচ্য নিবন্ধে উপরোক্ত সংকলন থেকে দুইটি গল্প বেছে নিয়ে লিঙ্গ চেতনা ও লিঙ্গ বৈষম্যের নিরিখে তুল্যমূল্য বিচারে বিশ্লেষণ করে দেখা যেতে পারে ।   

গল্প : এক 

ননদ বৌদির রান্নাঘর 

মিনতি ও ককলি দুই স্বামী পরিত্যক্তা , স্বামী বিচ্ছিন্না নারী , যাদের পারস্পরিক সম্পর্ক শুধুমাত্র ননদ-ভাজের নয় , সাপে নেউলেও বটে । ভোরের আলো ফোটা থেকে শুরু করে রাত্রে শুতে যাওয়ার আগে পর্যন্ত এদের ঝগড়ার চোটে উঠোনে কাক-চিল বসা দায় । কাকলির স্বামী বিজয় দাস কাজ খোঁজার নাম করে বম্বে গিয়ে নিরুদ্দেশ হয়েছে আর মিনতির স্বামী বলরাম অন্যত্র সংসার পেতেছে । পাড়ার উঠতি মস্তান খোকন , যে মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে আর বেশিদূর এগোয়নি । সঠিক সময়ে দল বদল করার দূরদর্শিতা দেখিয়ে নেতাদের বিশেষ আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে । ফলে তার গ্রীল কারখানার ব্যবসা ফুলে ফেঁপে উঠেছে এবং সে এলাকায় গ্রীল খোকন নামে সমধিক পরিচিতি লাভ করেছে । সেই কারখানারই পিছনের দেওয়ালে এক চিলতে ঘর আর উঠন নিয়ে দুই মহিলার বসত । খোকনের পরামর্শে ও বদান্যতায় কাকলি তার গলার একফালি সরু সোনার হার পুঁজি হিসেবে তুলে দেয় তার হাতে ও শুরু করে হোম ডেলিভারীর ব্যবসা । মিনতি বাজার করে আনে , কাকলি রান্না করে এবং কেরিয়ারে ভরে দেয় । মিনতি পুনরায় সেই খাবার পৌঁছে দেয় বাড়ী বাড়ী । এই ভাবেই দিনগতি পাপক্ষয় চিলতে থাকে তাদের । নেহাৎ প্রয়োজনের তাগিদে একত্রে বসবাস , নইলে একে অপরের চক্ষুশূল । পাড়ার মোড়ে ফুটপাতের ওপর অচল ঠেলাগাড়িতে অভয় নাথের চায়ের দোকান । মিনতি দিনের অধিকাংশ সময়ই সেখানে আড্ডা জমায় । তাই  নিয়ে কাকলি যথেচ্ছ কটূক্তি করতে কসুর করে না । মিনতি অবশ্য সে সব গায়ে মাখে না । উল্টে সেও অশ্রাব্য গালিগালাজের বন্যা বইয়ে দেয় । পাড়ায় থাকেন অকৃতদ্বার বিমলেন্দুবাবু যিনি পেটরোগা মানুষ । কাকলি তাঁর জন্য যত্ন করে স্পেশাল রান্না করে । মিনতির মনে সন্দেহ দেখা দেয় , তবে কি কাকলি ঐ লোকটার প্রতি অনুরক্ত ? আজ সেই বিমলেন্দুর কাছ থেকেই মিনতি জানতে পারে বোম্বাইতে বম্ব ব্লাস্ট হয়েছে , প্রচুর মানুষ মারা গেছে । সেই হতাহতের তালিকায় নাম রয়েছে বিজয় দাস অর্থাৎ তার দাদার । মিনতি আঁতকে ওঠে , কি সর্বনাশ ! পরক্ষণেই সে সিদ্ধান্ত নেয় এই দুঃসংবাদ সে সম্পূর্ণ গোপন রেখে দেবে তার বৌদির কাছে । 
স্বামী পরিত্যক্তা মিনতি নিজের চেহারার কারণে বরাবর হিনমন্যতায় ভোগে । তার স্বাগতক্তির ধরন এই রকম : 
" আমি সোদোর বনের গাঁয়ের মেয়ে । তা সেখানে কে কবে ফিটফর্সা দেখেছে শুনি ? তা বাদে বাকি সব কিছুই তো আমার মেয়েমানুষের মতন । " 
অর্থাৎ শরীর , সরাসরি শরীর কেন্দ্রীক চিন্তাভাবনা প্রভাবিত করে সমাজের অন্তেবাসী এই অনগ্রসর শ্রেণীর নারীর মস্তিষ্ককে । সে যখন ঐ ভয়ঙ্কর সংবাদের মুখোমুখি হয় তার বোধ অন্য পথে পা বাড়ায় ।
" দাদা আবার বিয়ে করেছিল ! ওই জন্যি ঘরে আসত নাকো । কেন ? বউদির কী নেই ? আর পাঁচটা মেয়েমানুষের থেকে কম কীসে ? দাঁত ও উঁচু নয় । দাদা মরেচে । আগেই কি মরেনি ? বউদিকে বলব নি । যদি অন্য কোনও ভাবে জানে ? জানুক ! দেকা যাবে ! বলবনি ! " 

বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা ঘন হয়ে আসে । রাতের রান্নার জোগাড় নিয়ে মিনতি এখনো ফেরেনি । কিকলি বিরক্তি চেপে রেখে প্রদীপ জ্বালায় , শাঁখ বজায় , গলবস্ত্র হয়ে প্রণাম করে । এমন সময় শ্যামল নামের যুবক এসে হাজির হয় এবং ভগ্নদূতের মতন খবর দেয় মিনতির স্বামী বলরাম গতকাল রাত্রে মারা গেছে । কাকলি পত্রপাঠ শ্যামলকে বিদায় করে এবং তৎক্ষণাৎ মিনতির কাছে এই সংবাদ গোপন রাখার সিদ্ধান্ত নেয় মনে মনে । সে ভাবতে লাগলো 
" বেধবা ! ও ধরা দশটা সোয়ামি মরলেও কেউ বেধবা হয় না তো মিনু । ও জন্মবেধবা । স্বামী নেয় না , ও - ও নোয়া শাঁখা খুলে ফেলেচে । বেশ করেচে । ওকে বলবই না । ব্যস্ত করে লাভ কী ? যদি পরে জানতে পারে ? দেকা যাবে তখন । " 
তার ভাবনায় আরো যুক্ত হয় 
" অভয় নাথের সঙ্গে মিনুর ভাব আচে । আচে তো আচে । মেয়েমানুষ হয়ে জন্মেছে । অন্তত শরীলের জন্যও তো একটা বেটাছেলে লাগে । " 

বেশ কিছুটা সময় পার করে মিনতি মুরগীর মাংস নিয়ে ঘরে ঢুকতেই দেখে মালতীর মুখ গম্ভীর হয়ে আছে । সে চিন্তান্বিত হয়ে পড়ে " বউদির মুখটা কালো কেনো ? আমার দিকে তাকাচ্চে না । কেউ কিচু বলল ? না । শুনলে তো কাঁদত । এখনও শাঁকা সিঁদুর পরে ! পরুক । যে মরে চে সে কাকলির স্বামী নয় । আচ্ছা স্বামী ছাড়া তো দিব্যি ভাল থাকা ! এই সাত আট বছর মন্দ কী গেল ! ও বিমলেন্দু বাবুর জন্য একনও রোজ কেমন যত্ন করে খাবার নিয়ে যায় । ভালবাসে বোধহয় । মানুষটা ভালই তো ! চালচলন ভাল । " 

অর্থাৎ এই অশিক্ষিতা প্রান্তিক দুই নারীর অন্তর্লীন মনোজগতের গতিপ্রকৃতি অনুসন্ধান করলে কিছু চমকপ্রদ তথ্য সামনে উঠে আসে যা কিনা শহুরে শিক্ষিত মননশীলতার ভীতকে কাঁপিয়ে দেয় ও চরম বিস্ময়ের অভিঘাত সৃষ্টি করে । প্রথমতঃ একটা ক্রাইসিস বা সংকট দুইজনকে শত্রুতা দূরে সরিয়ে রেখে সংবেদনশীল , সহানুভূতিশীল ও সমব্যথী হয়ে ওঠার শিক্ষা দেয় । একে অপরের পরিপূরক ও বন্ধুর জায়গাটি গ্রহণ করতে ইচ্ছুক তারা । এবং এই সব কিছু হয় যেনো নিজেদের অজান্তে । 
দ্বিতীয়তঃ নোয়া , শাঁখা , সিঁদুর এই সব ধব্য চিহ্ন তাদের কাছে নেহাৎ দেখনদারি ছাড়া আর কিছুই নয় সেটা উপলব্ধি করে । সমস্ত সামাজিক ও লৌকিকতার বন্ধন বা শৃঙ্খল এক লহমায় হাস্যকর হয়ে যায় । এতকাল তারা আক্ষরিক অর্থে অথবা মনে মনে যা বয়ে বেড়াচ্ছে তা যে কতোখানি ঠুনকো , মূল্যহীন ও অর্থহীন তা প্রমাণ হতে খুব বেশি সময় লাগে না । 
তৃতীয়তঃ নারী হলো ভোগ্যপণ্য , পুরুষ ইচ্ছেমতো তার শরীর ভোগ করতে পারে । কখনো বিবাহ নামক সামাজিক প্রতিষ্ঠানের আড়ালে সুবিধা জনক অবস্থানে থেকে । আবার কখনো সরাসরি পয়সার বিনিময় ক্রয় করে । চিরাচরিত এই ধ্যানধারণাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিজস্ব নিয়মে জীবন গড়ে নেয় কাকলি ও মিনতি । শারীরিক ও মানসিক চাহিদা পূরণ করতে ইচ্ছেমত পুরুষসঙ্গ তারাও করতে পারে পছন্দের পুরুষকে নিয়ে । তাদের কাছে পুরুষ শেষ পর্যন্ত স্পার্ম ব্যাংক ছাড়া আর কিছুই নয় । চতুর্থতঃ প্রাত্যহিক জীবনসংগ্রাম ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা পুরুষের উপস্থিতির গুরুত্ব ক্রমশ হ্রাস করে দেয় । লিঙ্গ বৈষম্যের শিকার নির্যাতিতা মেয়ে দুটি ধীরে ধীরে অকুতভয় হয়ে ওঠে । সেই সাহস তারা সঞ্চয় করে নিজের ভিতর থেকে ।  

অধিক রাত্রে খেতে বসে ননদ ভাজে । পাবদা , কাতলা , চিকেন সস্নেহে ভাগাভাগি করে খায় । মিনুর আব্দার রক্ষার্থে কাকলি সাইন বোর্ড টাঙাবার প্রস্তাব মেনে নেয় । তাদের জয়েন্ট ভেঞ্চারের নাম হবে : ননদ বৌদির রান্নাঘর । সেই নামটি আবার মিনুর প্রিয় মানুষ অভয়নাথের দেওয়া । কাকলির তাতেও কোন আপত্তি নেই । লেখক পরিসমাপ্তির দিকে এগিয়েছেন এই ভাবে 
" কাকলি মিনতিকে একহাতে জড়ায় । মিনতি কাছে সরে আসে । আদুরে গলায় বলে ... । " 
তারপর 
" ঘুমে কথা জড়িয়ে এল । সাইন বোর্ডে মাথা রেখে নিবিড় ঘুম । ঘরে মশলা অনাজপাতি গ্যাস ও মেয়েলি বাস , তার সঙ্গে , যে জুঁই ফুল ফুটবে উঠোনে তার গন্ধ জড়ানো । " 
পারস্পরিক বিশ্বাস , আস্থা , নির্ভরতা ও আগামীদিনের স্বপ্নে বিভোর এক নিটোল ছবি পরিস্ফুট হয় । 


গল্প : দুই

তবলিয়া

কাহিনীর প্রটাগনিস্ট মণি । পোষাকি নাম মণিময় ঘোষাল বয়েস পয়ত্রিশ বছর । পেশায় তবলা বাদক । গঞ্জশহর দেশবন্ধু নগরের স্বনাম ধন্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তি উকিল উমেশ ঘোষালের একমাত্র পুত্র । যথারীতি বাবা চেয়েছিলেন ছেলে ডাক্তার , ইঞ্জনিয়ার , উকিল কিম্বা উচ্চ পদস্থ সরকারী কর্মকর্তা হবে । কিন্তু মনির মা ঘোষাল গিন্নি গান বাজনা ভালো বাসতেন । তিনিই শিশু বয়সে মণির হাতে তবলা ধরিয়ে দেন । সেই থেকে মণি ধাঁই ধপাধপ তবলায় চাঁটি মেরে চলেছে । তার রাগ অভিমান আনন্দ খুশী সমস্ত অনুভূতির প্রকাশ ঘটে একমাত্র তবলার মাধ্যমে । সে নিজের উদ্যোগে উস্তাদ আল্লারাখা খাঁ সাহেবের ছবি সংগ্রহ করে নিজের ঘরে টাঙিয়ে রেখেছে । ছেলেকে তবলা শেখানোর অপরাধে মণির বাবা উমেশবাবু নিজের স্ত্রীকে দু'বেলা শত মুখে গালি পাড়তেন । তবে মণির মাকে বেশীদিন সে সব সহ্য করতে হয়নি । মণির যখন সতেরো বছর বয়েস তখন তিনি পরলোক গমন করেন । ছেলের মতিগতি বুঝে উকিলবাবু উপলব্ধি করেন তাঁকে অধিক অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করতে হবে । না হলে ভবিষ্যতে সন্তানের কপালে অশেষ দুর্গতি লেখা আছে । তিনি তাই করেন । ব্যাঙ্কে ভালো পয়সাকড়ি রেখে দশ বছর আগে স্বর্গে গেছেন । 

মা ও বাবার মৃত্যুর মাঝে সময়ের বড় ব্যবধান আছে । কালক্রমে সে গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট করে বটে কিন্তু কোথাও চাকরির চেষ্টা করেনি । তাই বলে সে বাউন্ডুলে কিম্বা নেশাখোর হয়ে যায়নি । পৈতৃক সম্পত্তি ভোগ ও বাপের জমানো টাকায় ফুর্তি করে দিন কাটানোর কথা সে ভাবে না । সে তবলা বাজানোকেই রোজগারে সাধন করে নিয়েছে । সঙ্গীতচর্চা করে যে সব মেয়েরা তাদের বাড়ীতে গিয়ে সঙ্গত করে এবং শহরের গানের স্কুলে বাজায় । 

লেখক এক চমকপ্রদ ঘটনার উল্লেখ করেছেন । 
" একবার তো রীতিমতো হৈচৈ পড়ে গেল । শহরের নাম করা ক্লাব 
'জাগরণী'র বার্ষিক জলসা । মান্না দে এসেছেন গাইতে । রাত্রে হুলুস্থুল । শিল্পীর সঙ্গতদার হঠাৎ অসুস্থ । মঞ্চে উঠে বাজাবার অবস্থা নেই তাঁর । শহরে কি আর তবলচি নেই ? 
ছেলেরা মণিকে ধরল । মণি একগাল হেসে বলল , 
'এ তো আমার পরম সৌভাগ্য ।' 
ছেলেরা বলল 'তোমার ভয় করছে না ?' 
' মোটেও না ।' মনে মনে উস্তাদ আল্লারাখার ছবি স্মরণ করে উঠে পড়ল মঞ্চে ! জান লড়িয়ে দিল । অনুষ্ঠানের শেষে মান্না দে মহাশয়কে প্রণাম করলে তিনি মণিকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন । পরের দিন সেই ছবি শহরের নিজস্ব ট্যাবলয়েড 
'নির্ভীক' এর প্রথম পাতায় বেরোলো । মণি তার এক খানা ভালো প্রিন্ট সংগ্রহ করে বাঁধিয়ে রাখলো ঘরের দেওয়ালে । 
এই ঘটনার পর মণির ছাত্র সংখ্যা বেড়েছে । 'জাগরণী'র বার্ষিক অনুষ্ঠানে তবলা লহরা শোনাবার একটি সুযোগ সে পেয়ে থাকে । সব মিলিয়ে তার যা রোজগার , হেসেখেলে চলে যায় । খরচই বা কী ? পরে সুতির পাজামা আর খদ্দরের পাঞ্জাবি । পায়ে সাধারণ চটি । মাঝারি গড়ন । কালো গায়ের রং । উল্টে আঁচড়ানো চুল । নাক চোখ ভালোই । একেবারে গড়পড়তা বঙ্গ যুবা । " 

মোটের ওপর এই হল মণিময় ঘোষালের পরিচয় । কিন্তু বিয়ের বাজারে তার তেমন দর নেই । কারণ এলিজিবল ব্যাচেলর বলতে যা বোঝায় মণি তো আর ঠিক তা নয় । ভালো মানুষ আর ভালো পাত্র এই দুই কি এক জিনিস হলো ? শহরগঞ্জে তবলচির ভাব মূর্তি তেমন উজ্জ্বল নয় । লোকে মনে করে কেবল অকম্মার ধাড়িরাই তবলা বাজিয়ে থাকে । তবুও এতো কিছুর পরেও তার জন্য বিয়ের সম্বন্ধ এলো । সে নিজের সম্পর্কে যতই উদাসীন হোক না কেনো তার ভদ্র সংযত স্বভাব যা কিনা দুর্বলতার নামান্তর মাত্র সে সম্পর্কে প্রতিবেশীরা যথেষ্ঠ ওয়াকিবহাল তার প্রমাণ পাওয়া গেলো । পাড়াতুত পিসি খেটুর মা যখন মণির কাছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এলো তখন সে বলে ভনিতা না করে সরাসরি বলতে কার হয়ে ঘটকালি করা হচ্ছে ? খেটুর মা হলো বরের ঘরের পিসি আর কনের ঘরের মাসি । জানা যায় পাত্রী হলো তারক চক্রবর্তীর মেয়ে রূপালি । এবার সেই পাত্রী সম্পর্কে কিছু জরুরী তথ্য জেনে নেওয়া যাক । বাজারের পাশে তারক চক্রবর্তীর চায়ের দোকান । কায়ক্লেশে সংসার চলে । গামলা গামলা চা বানিয়ে চেহারা শুকিয়ে গেছে । তা সত্বেও বাড়তি রোজগারের আশায় পুরুত বামুনের কাজও করতে হয় । তবে সে সব বড়সড় কিছু নয় । গৃহস্থ বাড়ীতে ছোটখাটো পূজা অর্চনা । তাঁর স্ত্রী দীপালীর মতে "নেহাত পৈতৃক ভিটেখান ছিল । নইলে পেটে গামছা বেঁধে থাকতে হতো গো ।" এঁদেরই একমাত্র সন্তান রূপালি । তিনবারের চেষ্টাতেও উচ্চমাধ্যমিকের গণ্ডি টপকাতে পারেনি । স্কুলের পরীক্ষাতেও আগে একাধিকবার হোঁচট খেয়েছে । ফলে এখন তার বয়েস তেইশ বছর । যদিও তার মা সেটা উনিশের ঘরে আটকে রাখতে মরিয়া চেষ্টা করেন । গুণের মধ্যে  রূপালি রূপবতী কন্যা । এই কথাটা সে নিজে বুঝেছে অতি অল্প বয়েসেই । বারো বছর বয়েস থেকে আজ পর্যন্ত সে বহু জনের সঙ্গে প্রেম করেছে । এখন তার একাধিক ছেলে বন্ধু রয়েছে । যিনি সম্বন্ধ করেছেন সেই খেটুর মায়ের কথায় "এই যে গেল শীতে ফাংশন হল , ঊষা থুপথুপ এল গাইতে ... দেখি রুপুলি গাদাগুচ্ছের ছেলেপুলের সঙ্গে বসে টুইটুই সিটি মারছে । এক সময় দেখি , কোমর দুলিয়ে নাচতেও লাগলো ।" এ থেকে রূপালির স্বভাব , রুচি বোধবুদ্ধি সম্পর্কে একটা আন্দাজ পাওয়া যায় । কিন্তু যখন বিয়ের কথা উঠলো তখন সে প্রথমে বেঁকে বসলো । কারণ হিন্দি সিনেমা দেখে তার মনে স্বপ্ন জেগেছিল তার বর হবে ম্যাচো হিরো সঞ্জয় দত্তের মতন । সে জায়গায় কিনা সাদামাটা নিঃশত্রু সদাহাস্যময় তবলচি মণি ঘোষাল ! ছিঃ । সে প্রবল আপত্তি তুলে ঘাড় গোঁজ করে বসে রইল । কিন্তু তারক চক্রবর্তী হাতে চাঁদ পেল । সারা গঞ্জে সন্ধান করে মণিময় সম্পর্কে কোনো নিন্দেমন্দর কথা শোনা যায় না । কচি কচি মেয়েদের সঙ্গে তবলা বজায় । কিন্তু কেউ কখনো বলেনি মণি তাদের দিকে কু নজরে দেখেছে । কত তরুণী মণির সঙ্গতে গান গেয়ে বিয়ের তরী পার করে দিলো । সব চাইতে বড় কথা মণির কোনো দাবিদাবা নেই । অন্য পাত্রদের যা কিনা আকাশ ছোঁয়া । দীপালি বোঝালেন "বাপে প্রচুর টাকা রেখে গেছে । অত বড় বাড়ীর একমাত্র অধিকারী । আমার মতো টেনেটুনে সংসার চালাতে হবে না । " 
অগত্যা রূপালি কনের সাজে সজ্জিত হলো । কিন্তু তার সব রাগ গিয়ে পড়লো মণির ওপর । কারণ মণি অসন্মত হলে তার বাবা অন্যত্র বিয়ের ব্যবস্থা করতো নিশ্চিত । মণি সেই পথ বন্ধ করে দিলো । লেখক বলেছেন "শুভ দৃষ্টির সময় মণি হাসি - হাসি মুখ করে পরম প্রেমিকের চোখে তাকিয়েই রইল রূপালির দিকে , রূপালি একবারও সে চোখে চোখ রাখলো না । ... ফুলশয্যার রাতে রূপালির বাঁ হাতের অনামিকায় যখন আংটি পরাচ্ছে মণি , তার গলা শুকিয়ে কাঠ , বুক কাঁপছে , সে কোনক্রমে বলল , রূ রূপালি , দেখো তো আ আংটিটা পছন্দ ? 
রূপালি মুখের সামনে তুড়ি বাজিয়ে লম্বা হাই তুলে বলল , " আদিখ্যেতা করো না তো ! শুতে দাও । আজ আবার ওসব করতে টরতে চেয়ো না । বড্ড ঘুম পাচ্ছে । 
মণি কাঠ হয়ে শুয়ে রইল সারা রাত । ভাল ঘুমোতে পারলো না । পাছে ঘুমের ঘোরে রূপালির গায়ে হাত লেগে যায় । পাছে সে ভেবে বসে , মণি ঘুমের ছলে সুযোগ নিচ্ছে ! ছি ছি ! সে শুয়ে শুয়ে রূপালির চন্দন পরা তাজা মিঠে মুখ খানি ভাবে । ভাবতে ভাবতে তার বুক টনটন করে ! মায়ের কথা মনে হয় । মা থাকলে কত খুশি হত ! " 

অর্থাৎ একটা বিষয় পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে যে দাম্পত্য জীবনের প্রথম দিন থেকে রূপালি তার স্বামীর আশাতীত নম্র ভদ্র সরল স্বভাবের সুযোগ নিয়ে যে রুক্ষ ব্যবহার শুরু করে তা এক প্রকার মানসিক নির্যাতনের নামান্তর । রূপালির ইচ্ছে ছিল উটি কিম্বা কুলুমানালিতে গিয়ে হানিমুন করে । কিন্তু মণি তাকে নিয়ে গেলো বেথুয়াডহরি । সঙ্গে তবলা , উদ্দেশ্য নির্জনে সাধনা করা ।  রূপালির কাছে পুরো ব্যাপারটা ন্যাকামো ছাড়া আর কিছুই নয় । রাতে মণি আদর করে গায়ে হাত বুলিয়ে দিলে সে খেঁকিয়ে ওঠে 
" যাও তো ! হাত নয় তো ! পোড়া কাঠ ! 
মধু চন্দ্রিমায় এক দিনও তারা মিলিত হয়নি । মণি রাগ করেনি । ভেবেছে , আহা ছেলেমানুষ ! ওর তো শখ থাকবেই ভাল ভাল জায়গা দেখবার ! " স্বামীকে যৌণ উপবাসী করে রাখার মধ্যে এক ধরনের মর্বিড সুখ অনুভব করতে থাকে সে । বাড়ী ফিরে মণির মনোযোগ আকর্ষণ করতে নতুন পন্থা অবলম্বন করে । কোনো প্রকারে বেগার ঠেলায় সংসারের কাজ সারে ও মুখ গোমড়া করে থাকে । মণি অধৈর্য হয়ে উঠে কারণ জানতে চায় । সে এই সুযোগটাই খুঁজছিল । ইনিয়ে বিনিয়ে বলে যে সাড়ম্বরে নিজের জন্মদিন পালন করতে চায় । সমস্ত বন্ধুদের নিমন্ত্রণ করতে চায় । মণি এক কথায় রাজি হয়ে যায় । রূপালি আরো এক ধাপ লাভের পসরা সাজিয়ে তুলল । দশ হাজার টাকার বেশী মূল্যের সোনা ও মুক্তোর দানার হার চেয়ে নিল । কিন্তু মা ও পাড়ার মাসি খেটুর মাকে বলল মণি নিজে থেকে দেইনি সে অনেক জোর করে আদায় করেছে । সে যাই হোক সন্ধ্যা বেলায় মহা সমারোহে জন্মদিনের পার্টি শুরু হল । অন্যান্য  আমন্ত্রিতদের সঙ্গে কমলেশ ও বাবুয়াও উপস্থিত ছিল । মণির বাবা বেঁচে থাকতে যারা এই বাড়ীতে পা রাখার সাহস করতো না তারাই এবার মাথায় চড়ে বসলো । মণি নিজের অজান্তে বংশ কৌলীন্য খুইয়ে বসলো । এর পর থেকে  রূপালির বন্ধুরা প্রায়শই বাড়ীতে আসতে লাগলো । বিশেষতঃ মণির অনুপস্থিতিতে কমলেশ ও বাবুয়া । মণি শিশুর ন্যায় সরল তাই হঠাৎ কোনো দিন দুপুরে বাড়ী ফিরে স্ত্রীকে আলুথালু অবস্থায় দেখে কিম্বা নিজের শয়নকক্ষে নিজের বিছানায় পরপুরুষকে দেখেও তার মনে কোনো সন্দেহ জাগেনি । সে ভেবেছিল তার স্ত্রী নিঃসঙ্গতা দূর করতে বুঝি বন্ধুর সঙ্গে গল্প করছে । তবে খেটুর মায়ের অভিজ্ঞ চোখে ধরা পড়লো সব । কথা কানে হেঁটে পৌঁছলো রূপালির মায়ের কাছে । তিনি জামাইকে ডেকে বললেন 
"বাবা স্ত্রীর কোল খালি রেখো না । এবার আমাদের নাতি নাতনী আসুক ।" রাত্রে স্ত্রীকে কাছে টেনে নিয়ে সেই প্রস্তাব দিতে সে ছিটকে দূরে সরে গিয়ে বলল " বিয়ের বছর ঘুরতে না ঘুরতেই আমাকে ফাঁসানোর মতলব না ?
মণি অবাক গলায় বলল , তুমি মা হতে চাও না ? 
বোকা বোকা কথা বোলো না । মা হতে সব মেয়েই চায় । তার আগে জীবনটা একটু ভোগ করবো না ? এখুনি আমায় কাঁথা কাচতে হবে ?" মণি কয়েক বার বৌকে কাছে টানার চেষ্টা করেছিল । উত্তর এলো এই রকম "পোড়া কাঠের আঙ্গুল দিয়ে  টেনো না । আমার লাগে । নিজে বুড়ো বয়সে বিয়ে করে আমার কচি শরীরটা ধামসাচ্ছ , তাতে শখ মিটছে না , আবার এক্ষুনি বাচ্চা চাই !" 
এর থেকে চরম অবমাননা ও লাঞ্ছনা একজন মানুষের জীবনে আর কি হতে পারে ? তবলিয়ার বৈবাহিক সম্পর্কের আরো কিছু অনভিপ্রেত দিক উদঘাটিত হতে বাকী ছিল । ইদানিং রূপালির বন্ধুদের আর আসতে দেখা যায় না । বেশী আসতো বাবুয়া আর কমলেশ , তারাও আসে না ! কিন্তু কেনো ? লেখকের কাছ থেকে আমরা জানতে পারছি "বিবাহের আগে প্রেমিকদের চুমু-টুমু , স্তনপীড়ন সে উপভোগ করেছে । বিবাহের পরে পূর্ণ যৌণ জীবনের আস্বাদে পাগল সে বাবুয়াকে নিচ্ছিল , কমলেশকেও । দু'জনকেই সে বলত আচ্ছা স্বামী ছাড়া আর একজনকে ভালোবাসা কি পাপ ? আমি তো তোমাকে ভালোবাসি । দু জনেই সেটা বিশ্বাস করেছিল । কিন্তু একদিন বাবুয়াকে দেখে ফেলল কমলেশ , কমলেশকে আর একদিন দেখে ফেলল বাবুয়া । এতো কাল তারা ছিল এক আড্ডার  বান্ধব । এবার পরস্পর প্রতিদ্বন্দ্বী হল ।" নিজের ছলনাময়ী চরিত্রের দিকটা স্বামীর কাছে আড়াল করতে বিশেষ চেষ্টা করতে হয় নি । কিন্তু বিবাহ বহির্ভূত শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত দুই পুরুষের কাছে সে সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে গেল । কোনো কৌশল কাজে লাগে না । দুই প্রেমিক তুমুল লড়াই করে ক্লান্ত হয়ে এই সিদ্ধান্তে এলো যে মেয়েরা হলো সাপের জাত । অভিমানে আহত হয়ে তারা আসা বন্ধ করলো । রূপালির মুখে ম্লান ছায়া , তাই দেখে মণির বুক ফেটে যায় । প্রশ্ন করে জানতে পারে বন্ধুরা একে অপরকে হিংসা করে তাই আসে না । স্ত্রীর দুঃখে কাতর মণি রাস্তায় বেরিয়ে তার পুরুষ বন্ধুদের খোঁজ করতে লাগলো । বাবুয়াকে না পেয়ে কমলেশকে পাকড়াও করে নিয়ে আসে । রূপালির হাতে তাকে সমর্পণ করে তবলার সাধনায় বসে ঘরের দরজা বন্ধ করে । 

লেখক যে ভাবে কাহিনীর পরিসমাপ্তি ঘটিয়েছেন তা সরাসরি তাঁর কাছ থেকেই জেনে নেওয়া যাক। " রূপালি কমলেশের হাত টেনে শোবার ঘরে এল । মুখের কাছে মুখ এনে বলল 'এতো দিন না এসে থাকতে পারলে ?' মণির তবলা বাজানোর শব্দ আসছে । কমলেশ বলল , 
'ও ঘরে মণি দা ! হঠাৎ যদি এসে পড়ে ? 
রূপালি এক ধাক্কায় কমলেশকে বিছানায় বসিয়ে দিল । দু'হাতে তাকে জড়িয়ে বুকে মাথা চেপে নিয়ে বলতে লাগলো , 'ও এখন আসবেই না । বদ্ধ পাগল । তবলা ছাড়া কিছু জানে নাকি ? বলে , ওসব করার সময় নাকি বিশেষ বিশেষ তালের ছন্দ পায় । হি হি হি !' 
ধকধক করে উঠল কমলেশের বুক ।তার মনে হল , যে শব্দ আসছে তা তবলা বাদনের নয় । কোনোও প্রেমিক পুরুষের বেদনাময় হৃদয়ধ্বনি ! কান্না ! এ কান্না সবার থেকে আলাদা ! 
সে ঠেলে রূপালিকে সরিয়ে দিল । দাঁতে দাঁত চেপে ভাঙ্গা গলায় বলল , 'ছিঃ ছিঃ রূপালি ! আমাকে আর পাপের ভাগী কোরো না । " 

স্বৈরিনী নারী নিজের রূপ যৌবন ও যৌণ আকর্ষণের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করে বহুগামিতায় লিপ্ত হয়ে শরীরী সুখ অনুভব করে । মণির তুলনায় রূপালি সব দিক থেকেই অধঃস্তন ও অসমমানের । দুজনের মধ্যে মিলের চাইতে অমিল বেশী । মানুষ হিসাবে মণি উত্তম ও রূপালি অধম তা অনস্বীকার্য । যার যতটুকু প্রাপ্য তার চাইতে বেশী পেলে সে তার মূল্য বোঝে না , বরং অমর্যাদা করে । অন্যদিকে সর্বগুণান্বিত হয়েও হিনমন্যতা ও ভীরু স্বভাবের কারণে মানুষ আজীবন অন্তরদাহে পুড়ে ছাই হয়ে যায় । এই কাহিনী তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত । পুরুষ কিভাবে লিঙ্গ বৈষম্যের শিকার হবে ? তাও কি সম্ভব ! আবহমান কালের জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসে থাকা ধারণাকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয় । 

তিলোত্তমার লেখনী কখনই শৌখিন ও পোষাকি নারীবাদের গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ থাকে না । তিনি প্রথম থেকেই নিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী , তাঁর সৃষ্ট চরিত্র গুলিই এর সাক্ষ্য দেয় । সমাজের নিগড়ে আটকে পড়া শৃঙ্খলিত মানুষ , যাদের অধিকাংশই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কিম্বা আর্থ সামাজিক ও পারিবারিক স্তরে পিছিয়ে থাকা মানুষ যারা কখনো সুবিচার পায়নি তাদের জন্য তাঁর কলম বারংবার সোচ্চার হয়েছে । সেই সঙ্গে মানব হৃদের অন্তর্লীন জগতের গুঢ় রহস্যের সন্ধান করেছেন লেখক । সেখানে জমাট বাঁধা অন্ধকারের মতন যন্ত্রণা ও দুঃখবোধকে উপলব্ধি এবং বিশ্লেষণ করে এক ভিন্নতর চেতনার স্তর স্পর্শ করতে সক্ষম হয়েছেন । 


বিবলিওগ্রাফি : 

গ্রন্থ : পঞ্চাশটি গল্প 
লেখক : তিলোত্তমা মজুমদার 
প্রকাশক : আনন্দ পাবলিশার্স 
প্রথম সংস্করণ : ২০১২ 

ননদ - বউদির রান্নাঘর 
রচনাকাল : ডিসেম্বর ২০০৮ 
প্রকাশ : আনন্দ বাজার পত্রিকা রবিবাসরীয় , ২৮ ডিসেম্বর ২০০৮ ।

তবলিয়া 
রচনাকাল : সেপ্টেম্বর ২০১০
প্রকাশ : শারদীয়া আনন্দউৎসব .কম , ২০১০ 


===========================
 


SUDIP  PATHAK

Swapno Neer Apartment , 
3rd floor , flat no: 3 , 
321 , Purba Sinthee Road , 
Madhugarh , DumDum ,
Kolkata - 700030 . 

Phone & what's app number :
9874919948



Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

কবিতাগুচ্ছ ।। “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

কবিতাগুচ্ছ: “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে…  আবদুল্লাহ আল আদীব তোমাকে ভালবাসি বলেই… বন্ধুবরেষু “বাংলাবিদ”, আমার কোমল প্রাণ মৌমাছি, অতি নরম-স্নিগ্ধ রোদে হেসে ওঠা মুক্তোদানা শিশির- দুঃখ করো না। তোমাকে ভালবাসি বলেই আজ এই দূরত্ব— যেন আমার কোন কিছু তোমার ক্ষতি না করতে পারে! তোমাকে ভুলিনি— তুমি আমার অন্তরের ইচ্ছের অন্তঃপুরে পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে বসে আছো, এ যেন সভ্যতার এক ধ্বংসাবশেষ। প্রতিটি নিঃশ্বাসে তোমার নাম প্রকম্পিত হয়, যেন ধারালো ছুরি বুক চিরে রক্ত ঝরায়। ভুলতে চেয়েছি— কিন্তু স্মৃতিগুলো আমার রক্তে জমাট বেঁধে আছে, যেন পাথরখচিত প্রাচীন লিপি। তুমি হয়ে গেছো আমার নীরব কান্না, প্রতিটি লিখতে না পারা কবিতা আমার ভাঙা আত্মার লুকানো আর্তনাদ। তোমার স্পর্শ নেই, নেই আমাদের সম্পর্কের কোন নাম— তবু তুমি আছো অদৃশ্য, অমোঘ, যেন প্রতিটি ক্ষতচিহ্নে চিরন্তন বসবাস করা এক নিঃশব্দ মৃত্যু। ক্ষত-নিবদ্ধ বাঁশি… প্রিয় “বাংলাবিদ” আমার, কি এক আশ্চর্য সমর্পণ তন্ময়তা, মোহময় আকর্ষণ, বকুলের বিহ্বল ঘ্রাণ তোমার সত্তায়! তোমার বিস্তীর্ণ গালিচা থেকে বিদীর্ণ হয়ে আজ আমি বিচ্ছেদের নিঃ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

যেখানে শিকড় রয়ে গেছে ।। কাবেরী মিত্র

যেখানে  শিকড় রয়ে গেছে কাবেরী মিত্র কিছু দরজা শুধু কাঠের হয় না, স্মৃতির ও হয় একবার খুললেই বহু বছরের চাপা পড়ে থাকা জীবন আবার ভীড় করে সামনে এসে দাঁড়ায়  "যেখানে শিকড় রয়ে গেছে"   প্রায় পঁচিশ বছর পর নীলা ফিরে এলো তার ছেড়ে যাওয়া শিকড়ের কাছে। বাইরের ভারী দরজাটা দু'হাত দিয়ে ঠেলে খুলতেই ক্যাঁচ করে এক বিকট শব্দ তুলে খুলে গেল। নীলা ধীরে ধীরে ভিতরে প্রবেশ করল। কত বছর পর! অথচ মনে হলো, সময় যেন এই বাড়ির উঠোনে এসে থমকে দাঁড়িয়ে আছে। আজও একইভাবে দাঁড়িয়ে আছে উঠোনের একধারে নিজে থেকে বেড়ে ওঠা সেই শিউলি গাছটা। শরৎ এলেই যার ফুলের গন্ধে চারদিক ভরে উঠত। সেই গন্ধই যেন জানিয়ে দিত—মা দুর্গা আসছেন। ভোরবেলা ফুল তোলা নিয়ে নীলা আর ওর বোনের মধ্যে রোজ ঝগড়া বাঁধত। কেউই এত সকালে ঘুম থেকে উঠে ফুল তুলতে রাজি হতো না। অথচ ঠাম্মির হুকুম—দুই বোনকেই ফুল তুলতে হবে। দেখতে দেখতে মহালয়ার দিন এসে যেত। ভোরবেলায় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ শুরু হতেই সারা বাড়ি যেন এক মঙ্গলময় আবহে ভরে উঠত। সেই দিন থেকেই শুরু হয়ে যেত মা, কাকিমা আর জেঠিমাদের ব্যস্ততা। পুজোয় আসা অতিথিদের জন্য নানারকম মিষ্টি তৈরির ধুম পড়ে ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০১তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩৩ জুলাই ২০২৬

: ঘোষণা : এই সংখ্যার নির্বাচিত কিছু লেখা অপ্রকাশিত রয়ে গেল। সেগুলি ১০২তম সংখ্যায় প্রকাশিত হবে।  সংখ্যাটি প্রকাশিত হবে আগামী ১৯ আগস্ট ২০২৬ বুধবার রাতে। দেখবেন এই সাইটে:  https://www.nabapravat.com/ আগ্রহীরা প্রবন্ধ-নিবন্ধ, প্রতিবেদন-ফিচার, মুক্তগদ্য, স্মৃতিকথা, ভ্রমণকাহিনি পাঠাতে পারেন। (গল্প, কবিতা, ছড়া এই সংখ্যার জন্য পাঠাবেন না।)   একসঙ্গে মেলবডিতে লিখে বা পেস্ট করে পাঠাবেন।  একই লেখা দুটি মেল আইডিতেই ( nabapravat.online@blogger.com এবং nabapravatblog@gmail.com)  পাঠাতে হবে কথাটা স্মরণে রাখবেন।      সাবজেক্ট লাইনে লেখার শিরোনাম ও আপনার নাম লিখবেন।  প্রয়োজনে কথা বলতে পারেন এই নম্বরে : ৯৪৩৩৩৯৩৫৫৬ (নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত) ............................. সূচিপত্র প্রেমের অনন্ত অনুরণন : ক্রিস্টোফার মার্লো ও কাজী নজরুল ইসলাম ।। আহমেদ বেলাল ২৯ জুলাই : বিদ্যাসাগর—একটি যুগের বিবেক, একটি আলোর নাম ।। উৎপল সরকার যাত্রা এবং ফাত্রা লোক ।। অরবিন্দ পুরকাইত দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভারতীয় সভ্য...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

ভুতের গল্প : ভুতেরাও ভদ্র হয় ।। দীপক পাল

ভুতেরাও ভদ্র হয়  দীপক পাল  কোন এক রহস্য পত্রিকার জন্য একটা ভুতের গল্প লেখার তাগিদে রাত এগারোটা বাজার পরে শোওয়ার ঘরের লাইট নিভিয়ে আমার লেখার ঘরে ঢুকে জানালার সামনের টেবিলে গিয়ে চেয়ারটা টেনে বসলাম। ঘরে লাইট জ্বললে আমার স্ত্রীর চোখে ঘুম আসে না। অন্য দিকে ভাবলে ভুতের গল্প লিখতে গেলে একটু বেশী রাত ও একদম নির্জন পরিবেশ দরকার। হাতে কাগজ কলম নিয়ে জানালার বাইরের আলো আঁধারিতে চোখ মেলে তাকালাম। পথের আলোর জন্য এই আলো আঁধারির সৃষ্টি যদিও এই অমাবস্যার রাতে সেই আলো বড়ো অপর্যাপ্ত। একটু ভেবে আমার গল্প লেখা শুরু হলো। সারাদিন কাজের ফাঁকে মনে মনে গল্পটা মোটামুটি ফেঁদে রেখেছিলাম। এখন সেটাই গুছিয়ে লেখার পালা। সেটাই করে চলেছি একটানা। হঠাৎ একটা গলাখাঁকারির আওয়াজ এলো কানে। ভাবলাম পাশের বাড়ী থেকে বুঝি আসছে। তাই পাত্তা না দিয়ে লিখে যাচ্ছি। কিন্তু দ্বিতীয় বার গলা খাঁকারির আওয়াজ শুনে জানালার বাইরে তাকালাম। দেখি জানালার ওপাশে একটা আবছা ছায়ামূর্তি যার চোখজোড়া অল্প অল্প জ্বলছে। কিন্তু মুখে অল্প হাসি হাসি ভাব। এক মনে ভুতের গল্প লেখি যাওয়ার ফলে আমি যেন ভুতের রাজ্যে বিচরণ করছিলাম তাই স্বচক্ষে স...

ছয় দিনের ব্যবধান ।। ইদ্রিস মণ্ডল

ছয় দিনের ব্যবধান   ইদ্রিস মণ্ডল ভোরের আলো তখনও পুরোপুরি ফোটেনি। শিউলি গাছের নিচে সারা রাত ঝরে পড়া ফুলে সাদা হয়ে আছে উঠোন। কুয়াশার পাতলা চাদর মুড়ে শহরের পুরোনো পাড়াটা যেন আরও নীরব, আরও আপন হয়ে উঠেছে। দূরের মসজিদ থেকে ফজরের আজান ভেসে এলে একতলা ছোট্ট বাড়িটির একটি ঘরে আলো জ্বলে ওঠে। এ বাড়িতে এটাই নিয়ম। আজানের আগেই ঘুম ভাঙে কাশেম সাহেবের। বয়স সত্তর ছুঁইছুঁই, তবু জীবনযাপনের ছন্দে কোনো আলস্য নেই। তিনি ধীরে ধীরে বিছানা ছেড়ে উঠে বসেন, পাশে ঘুমিয়ে থাকা স্ত্রী মিরা বেগমের দিকে একবার তাকান। ঘুমের ভেতরেও মিরা বেগমের মুখে অদ্ভুত এক প্রশান্তি লেগে থাকে। এত বছর একসঙ্গে থাকার পর মানুষটিকে আর নতুন করে দেখার কিছু নেই, তবু প্রতিদিন ভোরে তাঁর মনে হয়—এই মানুষটিই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ওজু সেরে নামাজ পড়ে তিনি বারান্দায় এসে বসেন। শীতের বাতাসে তুলসীপাতার গন্ধ মিশে আছে। একটু পরেই মিরা বেগম দু'কাপ ধোঁয়া ওঠা চা নিয়ে এসে পাশে বসেন। — "চায়ে চিনি কম দিয়েছি। ডাক্তার তো বারবার নিষেধ করেছেন।" কাশেম সাহেব কাপ হাতে নিয়ে হেসে বললেন, — "ডাক্তার যতটা নিষেধ করেন, তুমি তার চে...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

বছরের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

মাসের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

তিনটি কবিতা ।। পদ্মাবতী কুন্ডু

তিনটি কবিতা ।। পদ্মাবতী কুন্ডু  কবিতা  কবিতা ভালবাসি জন্মাবধি । কবিতা বেসেছি  ভালো সারাটি জীবন । ভেবেছিলাম জীবনটা হবে কবিতাময়, কিন্তু কঠিন গদ্যময় এখন আমার জীবন।  আমার জীবনটা কাঁটাময় ঝোপঝাড় , আঘাতে আঘাতে  দেহ থেকে রক্ত ঝরে । তবু কবিতাকেই ভালবাসি আমি , চাই ফুটাতে ফুল কাঁটাময় সংসারে । ওগো কবিতার দেবী,আমাপ্রাতি প্রসন্ন হও। ফুটাও ফুল আমার কাঁটাময় দেহ 'পরে-- যে কয়দিন বাঁচি, যেন কবিতার সঙ্গেই  বাঁচি, কবিতা ছাড়া কোন বন্ধু নেই, নিঠুর এ সংসারে। সুখে  কবিতা, দু:খে কবিতা, কবিতা থাক আমার মরণেরও পরে। যদি একজনও পড়ে আমার কবিতা, ধন্য জীবন  মানি  এ কঠিন  সংসারে। এসেছে  আষাঢ়  এসেছে আষাঢ় । ঝরছে অমিয়  ধারা  ঝর ঝর ঝর। মাটির উত্তপ্ত হৃদয়  শীতল  হলো বৃষ্টির মায়ায়। চলছে চাতকের আকণ্ঠ জলপান। গাছে গাছে পাখিদের গান। গুরু গুরু মেঘের গর্জন, সাথে বিজলী মেয়ের নাচন। বাদলের ধারা ঝরছে অবিরত, কদম, কেয়া বৃষ্টিতে অবনত। আনচান করে ওঠে মন।...

আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প্রবাল দাশগুপ্ত স্মরণে ✍️ শিবাশিস মুখার্জি

অধ্যাপক প্রবাল দাশগুপ্তকে স্মরণে ✍️ শিবাশিস মুখার্জি ভাষাবিজ্ঞানের জগৎ আজ নিঃসন্দেহে আরও দরিদ্র হয়ে পড়ল। অধ্যাপক প্রবাল দাশগুপ্তের প্রয়াণ কেবল একজন খ্যাতনামা ভাষাবিদের মৃত্যু নয়; এটি এমন এক শিক্ষকের বিদায়, যিনি ভাষা, সমাজ ও মানবিক যোগাযোগকে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছিলেন। তাঁর চলে যাওয়ায় আমরা হারালাম এমন একজন মানুষকে, যিনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ছাত্রদের শুধু ভাষাবিজ্ঞান নয়, চিন্তা করতে, প্রশ্ন করতে এবং মানবিক হতে শিখিয়েছেন। কলকাতায় জন্ম নেওয়া প্রবাল দাশগুপ্ত ভাষাকে শুধুমাত্র ব্যাকরণ ও বাক্যগঠনের বিষয় হিসেবে দেখেননি। তাঁর কাছে ভাষা ছিল সমাজ, সংস্কৃতি, পরিচয়, ইতিহাস ও ক্ষমতার জটিল আন্তঃসম্পর্কের এক জীবন্ত প্রতিফলন। বাংলা ভাষাবিজ্ঞান, সমাজভাষাবিজ্ঞান, ভাষানীতি ও ভাষাদর্শন নিয়ে তাঁর গবেষণা নতুন চিন্তার দুয়ার খুলে দিয়েছিল অসংখ্য ছাত্র, গবেষক ও ভাষাপ্রেমীর সামনে। তাঁর প্রয়াণ আমার কাছে কেবল একাডেমিক ক্ষতি নয়, গভীর ব্যক্তিগত বেদনাও। ডেকান কলেজ, পুনেতে অধ্যাপনা করার সময় আমি তাঁর ছাত্র হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করি। সেই সময় প্রায়ই তাঁর কোয়ার্টারে যাওয়ার স...

একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশব্দ ভাঙনের গল্প ।। উৎপল সরকার

  একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন: অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশব্দ ভাঙনের গল্প  উৎপল সরকার মানুষের মৃত্যু কখনও কখনও শুধু একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি থাকে না; সেটি সমাজের আয়নায় ভেসে ওঠা এক ভয়ংকর প্রতিচ্ছবিও হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষত, কোনো শিল্পীর মৃত্যু হলে সেই প্রশ্ন আরও গভীর হয়। কারণ শিল্পীরা সাধারণ মানুষের মতো শুধু জীবন যাপন করেন না, তাঁরা অনুভব করেন বহু গুণ বেশি। তাঁরা হাসির আড়ালে কান্না লুকোন, আলোর নিচে দাঁড়িয়ে অন্ধকার বহন করেন। বাংলা চলচ্চিত্রের পরিচিত পরিচালক অনিক দত্ত— যিনি তাঁর ব্যতিক্রমী রসবোধ, সমাজ-রাজনীতির সূক্ষ্ম ব্যঙ্গ এবং বাঙালির সাংস্কৃতিক স্মৃতিকে চলচ্চিত্রে জীবন্ত করে তোলার জন্য পরিচিত ছিলেন— তাঁর মৃত্যু নিয়ে সাম্প্রতিক খবর বহু মানুষকে নাড়া দিয়েছে। যদি সত্যিই তিনি গভীর একাকীত্ব ও মানসিক যন্ত্রণার কাছে পরাজিত হয়ে আত্মহননের পথ বেছে নিয়ে থাকেন, তবে সেটি শুধু একজন পরিচালকের মৃত্যু নয়; এটি আমাদের সময়ের মানসিক নিঃসঙ্গতার এক নির্মম দলিল। অনিক দত্তের চলচ্চিত্রে বারবার ফিরে এসেছে হারিয়ে যাওয়া সময়, স্মৃতির ভাঙাচোরা বাড়ি, সমাজের ভেতরের নীরব ক্ষয় এবং মানুষের অদৃশ্য একাকীত্ব। “ভূতের ভবিষ...