Skip to main content

রীনা তালুকদারের প্রবন্ধ ও কবিতাগুচ্ছ



নব প্রভাতে প্রাণের উৎসবে বাঙালীর প্রাপ্তি





বাংলা নববর্ষ পুরনোকে ঝেড়ে মুছে পরিস্কার করে নতুন দিগন্তে— পা পাড়ানোর দিন। বাংলা নববর্ষ সকল বাঙালীর প্রাণের মেলার দিন। এই দিনে আমাদের সকল বাধা-বন্ধন মুক্ত করার দিন। সব গ¬ানি ভুলে যাওয়ার দিন। মুঘল সম্রাট আকবর ১৫৫৬ সালে ঐতিহাসিক পানি পথের দ্বিতীয় যুদ্ধে বৈরাম খান কর্তৃক হিমু পরাজিত হওয়ার পর মসনদে নিজের অভিষেক ঘোষণা করেন। (যদিও এ বিষয় নিয়ে ভিন্ন মত আছে তবুও বাঙ্গালীরা একরকম মেনেই নিয়েছে) এটিকে স্মরণীয় করে রাখতেই আকবর বাংলা সন প্রবর্তন এবং বাংলা নববর্ষের প্রচলন করেছিলেন। সেই থেকে বাঙালীর জীবনে এই বাংলা সন এবং পহেলা বৈশাখ পথ চলতে চলতে এক ঐতিহ্যে রূপ নেয়। কালের বিবর্তনে আজ বাঙালী মাত্রই জাতি-ধর্ম- বর্ণ নির্বিশেষে সকলের জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে। আর এ ঐতিহ্যের ধারা বাহিকতায় সব গ¬ানি ভুলে আমরাও আমাদের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা ভাগাভাগি করে নিতে চাই সকলের সাথে। শোধরাতে চাই পুরনো যত ঋণ। গ্রীস্ম-বর্ষা-শরৎ-হেমন্ত-শীত-বসন্ত এ ছয়টি ঋতু দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশে যেভাবে প্রকৃতির সাথে তাল মিলিয়ে গান গেয়ে ওঠে তা বিশ্বের আর অন্য কোনো জায়গায় এভাবে ফুটে ওঠেনা। আবার বিশ্বের অনেক দেশেই ছয়টি ঋতু নেই। কোথাও ৩টি কোথাও ৪টি ঋতু হিসাব করা হয়। এরই সাথে বাঙালিদের ভাষার ঐতিহ্য একুশ, ১০ জানুয়ারি, ৭-১৭-২৫-২৬ মার্চ, ১৫-২১ আগস্ট, ১৬ ডিসেম্বর অন্যদের চেয়ে একটু বেশী মাত্রায় যোগ হয়েছে। যার কারণে বাঙালির সাহিত্য -সংস্কৃতির ইতিহাসও দীর্ঘ। বৈশাখ-বর্ষা -শ্রাবণ -বসন্ত -হেমন্ত -একুশ - স্বাধীনতা -বিজয় -বঙ্গবন্ধু -আগস্টকে নিয়ে বাংলায় যতো সাহিত্য রচনা হয়েছে তা আর কোনো ঐতিহ্য ও মানুষকে নিয়ে কোনো ভাষায় হয়নি।

১৫৭৬ খ্রীস্টাব্দে বাংলাদেশ মোঘল সাম্রাজ্যের শাসনভুক্ত হয় (সুবা বাঙ্গালা)।  হিজরী সনকে ফসলী সন হিসাবের চালু করার মাধ্যমে বর্তমান বাংলা সন বা বঙ্গাব্দের জন্ম হয়। সম্রাট আকবরের নির্দেশনামায় জারি হয় ৯৯৯ হিজরী, ৮ রবিউল আউয়াল হিসাবে ১০ মার্চ ১৫৮৫ খ্রীষ্টাব্দ হিসাবে হিজরী ৯৬৩ চান্দ্র সনকে ৯৬৩ বাংলা সৌরসনে রূপান্তর করার মধ্য দিয়ে। মূলত: এ ধরণের পদক্ষেপ। ঐতিহাসিক মতে ১০ মার্চে আমীর ফতেহ উল্লাহ সিরাজী উদ্ভাবিত বাংলা সন সংক্রান্ত ফরমান জারি করা হয়। অনেকেই এটাকে ১১ মার্চ বলেছেন। অন্য মতামতে দেখা যায় ১৫৮০ সালে সকল বিরোধী শক্তিকে পরাস্ত করে আকবর অত্যন্ত জাক জমকপূর্ণভাবে ‘জশনে নওরোজ’ বা নববর্ষ অনুষ্ঠান পালন করেন। বাংলায় ১২ মাসের নাম নক্ষত্রমন্ডল ও চন্দ্রের আবর্তন ও অবস্থানের উপর নির্ভর করে গৃহীত হয়েছে। জ্যোর্তিবিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ প্রাচীন সূর্য সিদ্ধান্ত বই থেকে। বৈশাখ- বিশাখা নক্ষত্রের নাম, জৈষ্ঠ্য -জ্যৈষ্ঠা  নক্ষত্রের, আষাঢ় উত্তর ও পূর্ব আষাঢ়া নক্ষত্রের, শ্রাবণ- শ্রবণা নক্ষত্রের, ভাদ্র-উত্তর ও পূর্ব ভাদ্রপদ নক্ষত্রের, আশ্বিন-অশ্বিনী নক্ষত্রের, কার্তিক- কৃত্তিকা নক্ষত্রের, অগ্রহায়ণ- আগ্রৈহণী, মৃগশিরা নক্ষত্রের, পৌষ-পুষ্যা নক্ষত্রের, মাঘ- মঘা নক্ষত্রের, চৈত্র-চিত্রা নক্ষত্রের নাম অনুসারে সাকা জাতির রাজত্বের সময় প্রচলিত শাকাব্দ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে যেমন: বিশাখা থেকে বৈশাখ, জাইষ্ঠা থেকে জৈষ্ঠ, আষাঢ়া থেকে আষাঢ়, শ্রাবণা থেকে শ্রাবণ, ভাদ্রপাদ্য থেকে ভাদ্র, আশ্বিনী থেকে আশ্বিন, কৃতিকা থেকে কার্তিক, পুস্যা থেকে পৌষ, আগ্রৈহণী থেকে আগ্রহায়ন, মাঘা থেকে মাঘ, ফাল্গুনী থেকে ফাল্গুন, চিত্রা থেকে চৈত্র। প্রথমদিকে মাস এর নাম ছিল: ফারওয়ারদিন, খোরদাদ, তীর, মুরদাদ, শাহরিয়ার, আবান, আযার, দে, বাহমান ইত্যাদি। আনুষ্ঠানিক ভাবে বাংলাদেশে ১৯৬৪ সালে ছায়ানটের উদ্যোগে বাংলা নববর্ষ পালন তার পর ১৯৬৭ সালে রমনার অশ্বথের পাদদেশে পালন। অশ্বত্থ, বট, বিল্ব, আমলকি, ও অশোক এই পঞ্চবৃক্ষের নামে হচ্ছে পঞ্চবটি। আর শ্রুতি মধুরতার জন্য অশ্বত্থের পরিবর্তে বটমূল গ্রহণ করা হয়। বটগাছ সবার চেনা জানা। সেই বটবৃক্ষের নামানুসারে বটমূল। যেহেতু বট গাছে বিশাল গোড়ালি বা মূলের নীচে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয় সেজন্য বটমূল নামকরণ।

এ দিনটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নামে পৃথক পৃথক তারিখে পালন করা হয়। পহেলা জানুয়ারী ইউরোপ, আমেরিকায় ‘নিউ ইয়ার্স ডে’ হিসাবে, ইরানীরা ঋতুভিত্তিক ‘নওরোজ’ উৎসব, তিব্বতীরা ‘লোগসর’, থাই এবং ভিয়েতনামে ‘তাত’ হিসাবে আমাদের মত শ্রীলংকা নববর্ষ ১৩ এপ্রিল, কম্পুচিয়া ১২ এপ্রিল এবং চির বসন্তের দেশ সিঙ্গাপুর জানুযারী মাসে নববর্ষকে ‘সিয়াম সিং’ নামে উদ্যাপন করে থাকে। এ দিকে জাপানীরা নববর্ষ পালন করে গৃহ শীর্ষে প্রদ্বীপ জালিয়ে যাতে করে ভাগ্যদেবী সেই গৃহে বা বৃে অবস্থান করেন। আর আমরা এপ্রিলের ১৪ তারিখ উদ্যাপন করি বাংলা নববর্ষ। বাংলাদেশে বসবাসরত বিভিন্নুদ্র নৃ-গোষ্ঠির পাহাড়ী ও সমতলে সব মিলিয়ে প্রায় ৪৭ ধরনের আদিবাসীর বসবাস। তাদের সাথে বাঙালী জীবন ধারা অনেকটাই ভিন্ন ধরনের। তারা বৈইসুক, সাংগ্রাই ও বিজু নামে ‘বৈসাবী’ উৎসব পালন করে ৩/ ৪ দিন ধরে।  আর বৈশাখের প্রথম দিন নববর্ষ। চাকমা ও তংচঙ্গারা চৈত্রের শেষ দিনে চৈত্র সংক্রাšি—র বিজু উৎসব পালন করে। এই উৎসবে  নদীতে জলদেবীর উদ্দেশ্যে ফুল দিয়ে আদিবাসী তরুণীরা মঙ্গল কামনা, নাচ, গান ও পানাহার করেন। মণিপুরীরা অন্যতম নববর্ষ উৎসব হলো ‘চৈরাউবা কুম্মৈ’। মণিপুরীদের নিজ¯^ একটি বর্ষগণনারীতিও এর মধ্যে অন্যতম। তারা ‘মলিয়াকুম’ নামের চান্দ্র বর্ষের হিসেবে এটি পালন করে থাকে। ২০১৪ সালে তাদের এটি ৩৪১২তম বর্ষ। নববর্ষের এই দিনে মণিপুরী নানা ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান ও ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া ও সংস্কৃতির আচার অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নববর্ষবরণ উদযাপিত হয়। মণিপুরী যুবক-যুবতীদের অংশ গ্রহণে বনদেবতার পূজো, ঐতিহ্যবাহী, কড়ি খেলা, ‘কাং খেলা’, ও লোকনৃত্য চোংবী’ অনুষ্ঠিত হয়। তারা এই অনুষ্ঠানে ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও উপকরণ নিয়ে আনন্দ শোভাযাত্রা, জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং মঙ্গল প্রদ্বীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে বর্ষবরণ উৎসব শুরু করে। বিশেষ করে বাংলাদেশে এটি মৌলভী বাজারের সীমাš—বর্তী কমলগঞ্জ উপজেলার ৭নং আদমপুর ইউনিয়নের তেতইগাঁও গ্রামে ঘটা করে উদযাপিত হয় তাদের এই ‘চৈরাউবা কুম্মৈ’ নববর্ষ উৎসব ।
বাঙালীরা এদিনে খাবার তালিকায় রাখেন দেশীয় ঐতিহ্যবাহী খাবার পান্তা ভাত, পিঁয়াজ সাথে ইলিশ ভাঁজা ও পোড়া মরিচ। এছাড়া হালখাতা, বলীখেলা ও গরুর লড়াইর আয়োজন করে কোথাও কোথাও। যাহোক এর সাথে আমাদের লোকজ ঐতিহ্য নিয়ে আমাদের দেশীয় শিল্পজ মেলা আয়োজিত হয়। ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকা সহ সারা দেশেই এ মেলা এবং নববর্ষের অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়। ব্যবসায়ীরা এ সময়ে সারা বছরের লেনদেনের হিসাব মেলাতে থাকেন। খোলেন হালখাতা। তাদের এ সময়টা বড় সুখের সময়। বাকী অর্থ পাওয়ার একটা নিশ্চিত সময়।

বাংলা নববর্ষ বাঙ্গালীর ঐতিহ্যের সোপান এবং আত্ম-আদি-অনাদিকালের উৎসব হিসাবে সবাইকে সুন্দর আগামী গড়ার আহবান  জানানোর সময়। তাই প্রাণে প্রাণে দোলা দেয় :

আজ এ নব প্রভাতে
প্রাণের উৎসবে
কোলাহল করি-
ভেঙ্গে ফেলি সব আগল
হই একাকার প্রাণের মিলনে
মুছে ফেলি অন্ধ আবরণ।

যা ছিলো পুরনো সে
থাক পিছে পড়ে
মুক্ত করি সব বন্ধন।

যা ছিলো মনে
চোখের কোণে কষ্ট কঠিনের জল
ধুয়ে মুছে দেই শ্যাওলা যতো
ভালোবাসি তবে এ বৈশাখেই
যুক্ত করে নেই সব বন্ধন।  (নব প্রভাত, রীনা তালুকদার)

এ ধরনের একটা অনুভূতি মনের মধ্যে থাকে। এ বিষয়ে ছোট বেলার একটা অনুভূতি সব সময় এ বৈশাখ এলে মনে পড়ে। বাড়ীর সবাই একটা কথা বলতো ‘‘ আশ্বিনে রাধি কার্তিকে খাই” আরেকটি ছিলো ‘‘এ বছর রাধি ঐ বছর খাই” । অর্থাৎ চৈত্রের শেষ দিনে রান্না করে বৈশাখের প্রথম দিনে খাওয়া। আর এই রান্নাটি ছিল পাঁচমিশালী পাঁচন রান্না। অনেক রকম ডাল, সবজি, কাঁচা কাঠাল ও বনকচু ইত্যাদির মিশ্রণে একটি খাবারের পদ। আবার কেউ কেউ শুধু মাত্র কাঁচা কাঠালের ইঁছড় রান্না করত। এটা করত চৈত্রের শেষ দিন শেষ বেলায় আর খাওয়া হতো পরদিন সকালে আটা দিয়ে বানানো রুটির সাথে। আর গাছের কাঁচা আমের ভর্তা। এগুলো ছিলো বিশেষ খাবার। এর সাথে ঘরদোর পরিস্কার পরিছন্নও চলত। ঘরের সমস্ত কাঁথা বালিশ, কাপড় ছোপড় এ ওসিলায় পরিস্কার হয়ে যেত। আশে পাশের সবাই এ বিষয়টি খুব উপভোগ করতাম। এর সাথে আরেকটি বিষয় ছিলো এ সময়ে বিশেষ করে বৈশাখের প্রথম দিন উপলে বাবার বাড়ী থেকে মেয়ের শ্বশ্বর বাড়ী কাঁঠাল, তরমুজ, বাংগি, ফুটি, খই, চিড়া, মুড়ি, নারিকেল আর কেউ কেউ সাথে ইলিশ মাছ সহ এসব পাঠান এক তরফাভাবে। এ নিয়মটির কোনো আদি ইতিহাস জানা যায়নি। তবুও এখনো এটি আছে। তবে যে জিনিসটি চোখে পড়তনা সেটি হলো পান্তা-ইলিশ-পোড়া মরিচ কিংবা কাঁচা মরিচ, কাঁচা পিয়াজ, শুটকির ভর্তা খাওয়া। কারণ গ্রাম হচ্ছে সারা বছরের পান্তা ভাতের কাঙালদের। তাদের মুখে সারা বছর খেতে খেতে এদিনে আর কোন বিশেষ আর্কষণ অর্জন করেনি। কারণ নিত্য যাদের পান্তা খেতে হয় তাদের কাছে এর আলাদা ¯^াদ কি? তবে ¯^চ্ছল পরিবারে ঐ পাঁচন / ইঁছড় ছাড়াও ভাল মুখরোচক খাবারও করা হতো। সময় পরিক্রমে কেবল এই পান্তা ভাতের সংস্কৃতি শহর কেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে। এটা একরকম ফ্যাশনও বটে। যারা কোনদিনও পান্তা ছুঁয়ে দেখেন না তারা অল্পদামের এ খাবারটি বেশ ছড়া দামে অনেকেই পরিবার, বন্ধু বান্ধব সহ রাস্তা ঘাটে, রমনা বটমূলে, মেলা প্রাঙ্গনে বিশেষ আকাংক্সখা নিয়ে ভিড় জমিয়ে সু¯^াদু মনে করে বেশ আগ্রহ ভরে খেতে দেখা যায়। বছরের একদিন অন্তত: ঐ কাঙালদের দলে নাম লেখানোর চেষ্টা করেন। একটা কথা গ্রামে বেশ প্রচলিত ‘‘বছরের প্রথম দিন ভাল খেলে সারা বছরই ভাল খাবে” এটা অনেকটা শবেবরাতেও অনেকেই সারা বছর ভাল খাবারের আশায় এ সংস্কৃতি আবিস্কার করেছেন। এতে করে দেখা যায় একবার বাংলা বছর আর আরবি বছরকে প্রাধান্য দিয়ে এসব সংস্কৃতি হাত, পা  ছড়িয়েছে। এই বৈশাখের প্রথম দিনের পান্তা ভাত খাওয়া কাঙালগণ কতটা কাঙালী বাঙালি হয়ে উঠেন জানিনা। আবার কখনও কখনও এ দিন গুলোতে নিত্য পান্তা ভাত খাওয়া কাঙালরা যদি এই একদিনের বৈরাগীদের কাছে পান্তা ভাত চায় সেদিন সেটাও তারা পায়না তখন। আর সারা বছর তো বাদই। তাহলে ঐ সারা বছর ভালো খাওয়ার মত একদিনের বৈরাগীরা যেমন সারা বছর পাš—া খাননা আবার সারাবছর জুড়ে ঐ পান্তা ভাতও ঐ কাঙালদের দিতে চায়না। তাহলে এ পান্তা ভাতের মূলত অর্থ কি? যদি এই একদিনের সন্ন্যাসীরা এই দিনের অনুভূতি কিছুটা মনে রাখতেন তাহলে বড় ভাল হতো ঐ সারা বছরের কাঙালদের কপালে। প্রবাসী সাইফুল¬াহ মাহমুদ দুলাল, কবি ফারুক মাহমুদ, শহিদুল হক খান, কবি মাহবুব হাসান, মুনশী আবদুল মান্নান ও রোজী ফেরদৌস, প্রয়াত সাংবাদিক বোরহান আহমেদ-দের সেই ১৯৮৩ সালের আড্ডাস্থলের আবিস্কার সেই পান্তা ইলিশ গরীবের ভাগেতো জোটেইনা মধ্যবিত্তেরও ত্রাহি ত্রাহি দশা আর ধনীরাও এখন হিসাব করে খেতে হয়। কারণ একটাই, ভাত না হয় কম দামের চাল আছে কিন্তু সেই রূপালী ইলিশ ? সেতো দামের বিষয়ে ধরা ছোঁয়ার বাইরে চলে যায়। আর চালের দামটাও এখন আর কম দামে সীমাবদ্ধ নেই।  তবে ২০১৭ সাল থেকে সরকারী উচু পর্যায় থেকে ঘোষণা দিয়ে বৈশাখের প্রথম দিনে এই ইলিশ মাছ খাওয়া বাদ দিয়েছে। তবে বাধ্যবাধকতা দেয়নি। কিন্তু নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। যেহেতু এইদিনে ইলিশ খাওয়াকে কেন্দ্র করে ইলিশের দরদামের ক্ষেত্রে ধনী গরীবের বিরাট বৈষম্য তৈরী হয়। তাই এটাকে স্স্কংৃতির অংশে যেনো পরিণত না করা হয়। এই উদ্যোগ কিছুটা কাজে লেগেছে। আর বর্তমান সময়ে ইলিশ মাছ নির্দিষ্ট মওসুমে ধরা বন্ধ থাকায় ফলন ভাল সারা বছরই পাওয়া যাচ্ছে তুলনামূলক কম দামে। 

আরেকটি বিশেষ দিক গ্রামীন জীবনে হতো সেটি হলো আমাদের বাড়ী থেকে ১ মাইল দূরে গ্রামের বেশ ভেতরে মনসা বাজার নামে একটি জায়গায় মেলা বসত এ বৈশাখের প্রথম দিন থেকে। অনেক সময় এটি একদিন আগে ও পরে ২/৩ দিন অবধি চলত। এই মনসা বাজারের (লীপুর জেলার রামগঞ্জ থানাধীন) একটি আদি ইতিহাস আছে। যদিও সব ইতিহাস জানতে পারিনি। বলা হয় ফণী মনসা বা সাপের দেবীর নামে এইখানে একটি মন্দির গড়ে উঠেছে। এবং নিয়মিত ফণী মনসার নামে পূঁজা অর্চনা করা হয়। এর সাথে লদের ঝি’র মঠ, বটগাছ, দীঘি রয়েছে। আবার লদের ঝি’র মঠের ও একটা ইতিহাস আছে। রাজা লদ নাকি বহু আগে (কতদিন আগে তা জানা যায়নি) তাঁর মেয়ের ইচ্ছা পূরণার্থে রামগঞ্জের সাত জায়গায় সাতটি মঠ নির্মাণ করেছিলেন। এই সাতটি মঠের পাশে বটগাছ এবং একটা করে দীঘি খনন করে দিয়েছেন। তার একটা মঠ এখানেও পড়েছে। আর মনসার মন্দিরের পাশে মনসার বাজারও আছে। এখানেই প্রতিবছর বৈশাখে মেলা বসে। এই মেলায় নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস সহ খাবার দাবার এবং মৃৎশিল্পের বানানো খেলনা, বিভিন্ন ধরনের ফল, মূল, লটারী খেলা, বায়োস্কোপ টিনের ভিতর এক চোখ দিয়ে দেখা যেতো। আবার ফণী মনসার মন্দিরের পুরোহিতের পুঁজো এবং প্রসাদ এসব ছিলো লোভনীয়। এসব কিছুর লোভেই বাড়ী হতে চুরি করে বের হতাম চাচাত, জেঠাতো ভাইবোন মিলে ৮/১০ জন। চুরি করে বের হওয়ার কারণ হলো পথে একদল লোক থাকত যারা মেলার লোকদের ধরে তাদের টাকা পয়সা ও জিনিস পত্র কেড়ে নিত। এজন্য বাড়ী থেকে এসব মেলায় আসতে দেয়া হতো না। তার চেয়েও একটা অভিনব বাক্য বলতঃ এই রকম যে, ঐটা হিন্দুদের ‘‘পরব” ঐখানে মুসলমানদের যাওয়া নিষেধ। আবার আঞ্চলিক ভাষায় ‘‘পরব’’ কে ‘‘গলিয়া”ও বলে। কিন্তু তারপরও কচি মন এসব তোয়াক্কা না করেই চুরি করে যাওয়ার মত দুঃসাহসের কাজটি করতাম। পরবর্তীতে যখন একটু বুঝতে শিখেছি। তখন একবার শুনলাম এই পথের মধ্যের গুন্ডার দল মেলার লোক হিন্দু হলে পিঠাত। আর একবার মেলায় যাওয়ার পথে হিন্দু মেয়েদের লাঞ্ছনার ঘটনাও শুনেছি। আবার মেলা প্রাঙ্গনে কয়েকবার গোলাগুলিও হয়েছে। তারপর মেলায় পুলিশ পাহারা বসিয়েছিলো। কিন্তু বহুমুখী এবং এত লম্বা রা¯—ায় পুলিশ কোথায় দিবে। আর এইসব গুন্ডারা মুসলমান বুঝলে টাকা পয়সা, জিনিস পত্র কেড়ে নিত। আর কিছু করতনা। পরবর্তীতে এরা কারা আর বুঝতে অসুবিধা হয়নি যে ৭১ -এ পরাজিত ঐ বান্দরের দল। এই বান্দরদের দোসররা বহু হিন্দুকে ঐ এলাকা থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। তাদের ঘর বাড়ি, সম্পত্তি দখল করেছে ৭১’ -এ। বিখ্যাত রমেশ কবিরাজের বিশাল ওষুধি গাছের বাগান এখন বেশীর ভাগই মুসলমানদের সম্পত্তি।  কিভাবে জানিনা। যে কবিরাজ নিজের ওষুধের বাগানের এই গাছ গুলো বিদেশ থেকেও এনে এখানে জড়ো করতেন এই এলাকার মানুষের চিকিৎসার জন্য। সে সম্পত্তি আজ অন্যের। দারিকানাথ -এর সামান্য জায়গাই এখন আর অবশিষ্ট আছে। আর সব দখলে গেছে। আর সেই রমেশ বা দারিকানাথ নেই শুধু ঐতিহ্য আঁকড়ে আছে তাঁদের উত্তরসূরীরা বহু কষ্টে। ৭১’ -এ  কিছু মুসলমান হিন্দুদের এই জায়গা গুলো যেনো দখল না হয় এবং তাদের বাড়ী ঘর যেনো না পোড়ায় এই জন্য পাহারাও দিয়েছিলো। কিন্তু তারপরেও বাড়ী ঘর পোড়ানো হয়েছে এবং দখলতো হয়েছেই।

যাহোক ঐ শয়তানের দোসরদের হাতে আমাদের দুষ্ট দল কখনও পড়েনি। এ দলের সদস্যরা অনেক গুলো রান্তা জানত বা চিনতো। সামনে থেকে আসা মেলার লোকদের কাছে জিজ্ঞাসা করে পরিস্থিতি বুঝে এগিয়ে যেত। অবশ্য আজকে গ্রামীণ জনগণও সচেতন হয়েছে ঐ অন্ধ ধারনা থেকে। এবং হুশিয়ারও হয়েছে অনেক। এখনো সেই ফণীমনসা দেবীর মেলা বসে আগের মতই। হয়ত এই মেলাটিই ধরে রাখতে পেরেছে মেলা প্রিয় লোক গুলো । কিন্তু সেই বিশাল ওষুধের উদ্যান নেই আর কবিরাজ রমেশের, নেই রমেশ নিজেও। আমাদের এ সংস্কৃতি বিচিত্র রকমের কত কিছুই হারিয়ে ফেলি আমরা আমাদের অন্ধত্ব দিয়ে। আবার অনেক প্রাপ্তিও থাকে আশার-আলো হয়ে। এই আমাদের হারানো এবং প্রাপ্তির ঐতিহ্যই বাঙালীর ঐতিহ্য। এই একটি সময় অন্তত: আমরা না হিন্দু, না মুসলমান, না খ্রীষ্টান, না বৌদ্ধ,  জাতি-উপজাতি নেই; সবাই মিলে এই একটি উৎসবকেই ঐতিহ্যের ধর্মহীন নিস্কলুষ সংস্কৃতিতে আমাদের জাতি সত্তাকে ধারণ করতে পেরেছি। এই আমাদের শান্তনা। এই একটি মাত্র উৎসবই আমাদের নারী-পুরুষ হিন্দু-মুসলমান-খ্রীস্টান-বৌদ্ধ ধর্মীয় গোড়ামি বা বলয় ছাড়া আমাদের ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করে রেখেছে। আর এ থেকে আমাদের সারা বছরের প্রাপ্তি যদি কোন নারী-পুরুষ বৈষম্য এবং পরিবার-সমাজ-রাষ্ট্রকে ধর্মীয় অন্ধত্ব ও বেড়াজাল থেকে মুক্তি আনেতো এটাই আমাদের ঐতিহ্যগত প্রাপ্তি।
------------------০০০০-----------------

                                                             কবিতাগুচ্ছ

ধূসর বৈশাখ



এই বৈশাখে খাবো না
ইলিশ মাছ ভাজা
রুই কাতলা চিতল মৃগেল
সরপুঁটি তাজা
চৈত্র সংক্রান্তিতে খাও
মিষ্টি তিল খাজা

বাজাওরে বাজাও
তবলা বাঁশি ঢোল
ভুলা কী যায় কখনো
মায়ের মধুর বোল
বৈশাখের কাঁঠাল ইছড়
সাথে কৈ’র ঝোল

বৈশাখ এলে কাঁচা আম
কাসুন্দি মজা
মেলার হাট মুড়ি মুড়কি
গুড় মন্ডা গজা
পুতুল নাচে বাউল গানে
বাড়ীর পথ সোজা

স্মৃতির নীল কাঁচে ভাসে
আগেকার বৈশাখ
মনের ঢোল নিত্য বাজে
শামুক শামুক শাঁখ
ছোট বেলার বৈশাখী
ধূসর দিনের বাক্ ।



বৈশাখেরই দূত



নীল আকাশের ঈশাণ কোণে
কালো মেঘের ভিড়
ভেঙ্গে চুরে আসছে যেনো
ঘূর্ণির চাক্ হির হির

বৈশাখের এই ঝড়ো হাওয়া
বইছে চারিদিক
আম কাঁঠালের কচি শিশু
পাচ্ছে ভয় অধিক

পাতা ঝরা দিন ফুরিয়ে
বৈশাখ অবশেষে
আর্বজনা উড়িয়ে নিলো
সঙ্গে কায়ক্লেশে

কালবৈশাখী দৈত্য যেনো
হাতি এক অদ্ভূত
কাঁচা আমের মিঠে দিনে
বৈশাখেরই দূত।



বৈশাখের দিনে



কথাইতো বোশেখের ঝড় আনে
প্রাণে যে সুর খেলা করে
সেখানে মোহগ্রস্ত আদরমাখা পঙক্তি
আমার প্রকৃতিতে এখনো চৈত্রের খর আক্রমণ নেই
কেবলই বোশেখ বোশেখ ঝড়ো হাওয়ার উল্লাস
তোমার সোহাগী বাক্যের অসম বাণ
শিলবর্ষণ আলো আঁধারির ঘোরে মনপ্রাণ
ভালোবাসার চাদরে মোড়া চারপাশ
একদিকে আকাশের বিপুল বেদনার কলস উপুড়
অন্যদিকে তুমুল ভালোবাসার ঝড় ঝাপটা
তোমার তান্ডবে মুছে যায় গ্লানি যত
রাত্রি ঘনিয়ে এলে বুঝি কাল বৈশাখীর শক্তিরথ
ভাসিয়ে নিয়ে চলে আমাকেও
লক্ষ
èীপেঁচা মেঘের ডমরু ডাকে চোখ খোলে না
দূরে বাদ্য বাজনা শাঁখ সাথে বাউলের উদাস কণ্ঠ
কোনো এক কালে আমাদের পূর্ব পিতা ও প্রপিতামহোদের
কালের উচ্ছাস ছিল ঐতিহ্যের বৈশাখ জুড়ে এই লোকালয়ে
সে সময় পৃহিনীরা ঘরবাড়ি পরিচ্ছন্নতায় ব্যস্ত হতো
আর শিশুদের বলতো পরব না গেলে
আম খেয়ো না পেটের পীড়া হবে
দুপুরের কাঁঠালের ইছড় রান্নার পদে বনকচু, বহুরূপী ডালে
মজার চেয়ে বৈশাখী আমেজই বেশী থাকতো
দিন যত যায় বৈশাখ পোশাক বদলে আসে
ছোটবেলার বৈশাখ পরিপক্ক এখন বয়েসী আয়েশে
আমাদের কথার মধ্যে বৈশাখ খেলে যায় কালবৈশাখের দৌড়ে
বৈশাখের প্রথম দিনের থই থই প্রহর
শহর নগর গঞ্জে গঞ্জে বৈশাখী পালের হাওয়া
মাথায় গাজরার মালা, সাদা শাড়ী লাল পাড়
উল্টোটাও দেখা যায়; আর ওদিকে লাল পাঞ্জাবী পাজামা
ভিড় ঠেলে রমনার মেলায় প্রবেশের সাহস নেই কতদিন!

শাহবাগ মোড়ে রাস্তার কার্নিশে বসে দেখি
তারুণ্যের বৈশাখী উচ্ছাসী দিন
নতুনের সাথে পুরানের হৃদয় মিতালী
মৈত্রীর বন্ধনে প্রাণে প্রাণে আনন্দের ঢেউ
এসব দেখে দেখে ভাবি ওদের মধ্যেই
আমরা বিবর্তন হয়ে যাচ্ছি
বয়েসী চোখের কাঁচে তরুণ ডারউইনের ছবি

গ্রামের নুন আনতে পানতা ফুরানো গৃহস্থ
বৈশাখের দিনেও মাঠে যায় চাষবাসে
সবজি বাগানের সতেজ সবজি তোলে
আমগাছের চৈতালী ফল নিয়ে হাঁটে যায়
বৈশাকের প্রথম দিনে বিক্রি হয় ভালো
সামর্থবানের ঠিক ঠাক হয় যেনো বৈশাখী উৎসব
রাত্রি করে বাড়ী ফিরে রোজকার চেহারায়
পা পা করে হেঁটে হেঁটে জীবনের হিসেব মিলায়
ছোট ছেলেটা আসবার সময় বলেছিল :
ছোট একটা আম কাটার ছাকু আইনো বাবা
গাছের আমগুলো বেশ বড় হইছে
গাছে ওঠে কাইট্টা খামু
ভাবনা,
  আম নেই ছাকু কিনে কি হবে
আম গেছে চলে অন্য হাতে
বউ বলেছিলো: তাড়া তাড়ি বাড়ী ফিরতে
আজ বছরের প্রথম দিন কি-না
আগে ফিরতে পারলে বছরের বাকী দিন
আর দেরী করে ফিরতে হবে না
বউয়ের অপেক্ষার কুপি হাতে
দুয়ারের চৌকাঠ হেলানে বসে থাকা ভাল লাগে না
সারাদিন খাটাখাটুনির পুষ্টিহীন শরীর
তারপর গঞ্জের দিনে রাত্রিতে অপেক্ষার চোখ;
ন,া হলো না আগে ফেরা

ফসল বেছে রাত গেলো বেড়ে অন্যদিনের অভ্যাসে
এই সব নিত্য দিনের চিত্র
বৈশাখ যায় বৈশাখ আসে
অভ্যস্থ
  জীবনের জোড়াতাড়ি

পানতা ফুরানোদের জীবন চিত্রের সাথে
বিভিন্ন বয়সের ডারউইন বৈশাখের উৎসবে
পরিবেশ ভেদে জাগ্রত থাকে মানুষের দুয়ারে।



নোট: পরব বা গলিয়া আঞ্চলিক ভাষার এ দুটি শব্দের অর্থ বৈশাখী
  গ্রাম্য উৎসবকে বুঝাতো। 

বোশেখে ঝড়ের বুলেট



কচি কচি মুকুলের আত্মচিন্তন
বেঁচে থাকার লড়াই ক্রমাগত
পরিপক্ক বয়স পাওয়া সৌভাগ্য
যুদ্ধকালীন শিশুর যেমন বাঁচার আশা
বোশেখের ঝড়ের বুলেট থেকে
গুচ্ছ মুকুলের বাঁচাটাইতো
স্বাধীনতার আন্দোলন
চিরন্তন প্রকৃতির
স্বাভাবিক চিত্রকলা
দুর্দান্ত বোশেখে কাল বৈশাখী ঝড়
না হলে বোশেখের জন্ম
স্বার্থকতা থাকে না
আম মুকুলের জন্ম যুদ্ধ আয়োজন
ঝড়ের তান্ডবে বোটার সাথে শক্ত গিঁটে
লেগে থাকার মরণপণ চুক্তি
তা না হলে থাকে না জরায়ুর বন্ধন
বোশেখের বুলেটে ছিঁড়ে যায় কচি ডাবের মাতৃমায়া
সেই সাথে জাম-জামরুল, কৎবেল-কাঁঠাল মুচি
পাগলা ঝড়ে ভরা ফসল বিরাণ ভূমি
বোশেখের বুলেটে কত বন্ধন টুটে
আরো কত লাগে জোড়ায় জোড়া
চৈত্রের আমূল খরা শেষে
সবুজ প্রকৃতির বসন্ত ফিরে ফিরে আসে
লোকালয়ের সুখ দুঃখ গাঁথা জীবনে।

=========০০০০০===============



রীনা তালুকদার
কবি ও প্রাবন্ধিক

ঠিকানা: এ-১ ও এ-২, বাণিজ্যবিতান সুপারমার্কেট, 
ইস্টকর্ণার, ২য়তলা, নীলক্ষেত, ঢাকা-১২০৫, বাংলাদেশ।



Comments

  1. ভালো তথ্য সমৃদ্ধ

    ReplyDelete
  2. নিবন্ধের প্রথম অংশ কাজে লাগার, দ্বিতীয় অংশ ভালো লাগার। কবিতা-অংশ ভালো লেগেছে তবে তৃতীয়টি আরও সুগঠিত হওয়া দরকার ছিল। বানানে ভুল ও সামঞ্জস‍্যহীনতার দিকে বিশেষ ভাবে নজর দিতে হবে।

    ReplyDelete

Post a Comment

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

তিনটি কবিতা ।। জহির খান

 তিনটি কবিতা ।। জহির খান বালু নদীর কথা কি সব কথা তোমার সাথে কতকাল আগে পাড়ে ওপাড়ে অসংখ্য পরিবার পরিকল্পনা... জলে সুরে সুখ শরীর দোলে ভেসে আসে এক ছবি নদীর নাও ভালোবাসায় পাশে ছিলো শালবন                         খুব নীরবে নিভৃতে তখন স্পর্শ তোমার বহু শ্রমিকের ঘাম ঝরানো সুখ ট্রেনের বগি গুলোও চেয়ে থাকতো এক অপলক দৃষ্টি  নিয়ে   তোমার দিকেই... আর এভাবেই চলে মাঝি-মল্লাদের পারাপার                                                       প্রতিদিন তবু কত-শত প্রেমিক ঠায় নেয় তোমার বুকে ভালোবাসায় ডুবন্ত সেই ভুল বুঝেছি আজ অতঃপর যৌবনে খুঁজে পাওয়া বালু জলে প্রেম-প্রণয় তোমাকে কেটে টুকরো টুকরো করে নেয়     ...

Amazon Great Indian Festival 2026

  Explore Deals and Offers : Click Here Explore Deals and Offers : Click Here.

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

জুজুবুড়ির কেরামতি ।। গোবিন্দ মোদক

জুজুবুড়ির কেরামতি  গোবিন্দ মোদক জীবনপুরের জামতলাতে থাকতো জুজুবুড়ি সকাল-সন্ধ্যা দুই আঙুলে বাজাতে সে তুড়ি। তুড়ি মেরে জুজুবুড়ি বলতো – “সবই ভুল যতোই হিসেব করে মাপো ফাঁক সেই একচুল!” মানলে ভালো, না মানলেও দেবো যে সুড়সুড়ি  ঘাবড়ে গিয়ে ফেলবে খেয়ে চিটাগুড় আর মুড়ি! খাওয়ার শেষে এসেই যাবে জব্বর এক ঘুম কানের কাছে কাকতাড়ুয়ার তাক দুমাদুম দুম! জুজুবুড়ি কাকতাড়ুয়ার বউয়ের ঘরের মাসি পকেটেতে জমিয়ে রাখে একশো রকম হাসি।  হাহা - হিহি - হোহো - হেঁহেঁ – সুরেলা, বেসুরো  হাসার সময় নাকেতে দেয় নস্যি-নেশার গুঁড়ো! হ্যাঁচ্চো! হ্যাঁচ্চো! হাঁচি হাঁচে মাসি জুজুবুড়ি ন্যাড়া ছাতে ওড়াতে যায় শতরঞ্জি ঘুড়ি! লাটাই ধরে যেই না দেয় বেমক্কা এক টান জুজুবুড়ির হাত দু'খানা ভেঙেই খানখান! চেঁচায় তখন জুজুবুড়ি ইনিয়ে বিনিয়ে কাঁদে সূর্য তাকে আদর করে নিয়ে যে যায় চাঁদে! চাঁদে গিয়ে জুজুবুড়ি চরকা কাটে জোরে  ইচিং বিচিং গান গেয়ে যায় সারাটা রাত ধরে! ___________________________ গোবিন্দ মোদক। রা...

মা তোমাকে ।। জারিন তাসনিম

মা , তোমাকে আর ধরতে পারছি না ...   জারিন   তাসনিম তোমাকে আর ধরতে পারছি না ... তোমার হাতটা , পা - টা ধরতে পারছি না । তোমার মুখটা ছুঁয়ে বলতে পারছি না — “ মা , আমরা আছি । ” শুধু তোমার কবরের মাটির ওপর হাত রেখে বসে আছি । মনে হচ্ছে , এই মাটির ঠিক নিচেই তো আমাদের মা ... আমাদের সেই মানুষটা , যাকে এতদিন ধরে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আমরা প্রতিটি মুহূর্ত লড়েছি । মা , তুমি কি বুঝতে পারছো , আমরা তোমার পাশেই আছি ? তুমি কি আমাদের কান্না অনুভব করতে পারছো ? তুমি কি জানো , আমরা তোমাকে ছেড়ে যেতে পারছি না ? আল্লাহ মানুষকে এত মায়া দিয়ে কেন পৃথিবীতে পাঠান , মা ? কেন এত ভালোবাসা দেন , যদি একদিন সেই মানুষটাকেই এভাবে মাটির নিচে রেখে আসতে হয় ? এই কষ্টটা যে কতটা কলিজা ছিঁড়ে দেয় , মা — আমি কোনোদিন ভাবিনি । তোমার জন্য আমরা এখন আর কিছু করতে পারছি না । শুধু দোয়া করতে পারছি । হে আল্লাহ , আমাদের মায়ের কবরের আজাব সহজ করে দিন । তাঁর কবরকে নূরে ভরে দিন , প্রশস্ত করে দিন । তাঁর স...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

কবিতা ।। স্রষ্টা ।। বৈশাখী রায়

  স্রষ্টা   বৈশাখী রায় তাদের খুঁজছি, খুঁজেই চলেছি... মস্তিষ্কের গভীর-গোপন কোণগুলিতে। তবুও প্রকাশ্যে আসেনি তারা, শব্দের ভিড় নামেনি হাতে। চাহিদার প্রাচুর্য! সংখ্যা বাড়ছে খুব... আমি স্রষ্টা, রচনাই আমার আরাধনা, সৃষ্টি সাধনা জলাঞ্জলি যাক! জবরদস্তি প্রতিযোগিতায় নামা। মনের ভাব প্রকাশ পায় না, তবুও লেখার স্বাধীনতা।  অর্থ মিলুক ছাই না মিলুক , কঠিন তবু শব্দ খোঁজা।  কলমে তারা ধরা না দিলে, মস্তিষ্ক শব্দ ধার করে । অনুভূতিরা আপন হয় না, অন্যের অনুভবে অট্টালিকা গড়া। উফ! শব্দ মেলানো কঠিন কাজ, মন এবার শব্দের ছক বাধে। ব্যস্ততা, সময়সীমা, প্রতিযোগিতার জটাজালে, স্বতঃস্ফূর্ততা হাঁপিয়ে ওঠে...।।               ___________       নাম-বৈশাখী রায়  ঠিকানা- ঠাকুরনগর (বণিক পারা) ডাক-ঠাকুরনগর  থানা-গাইঘাটা  পিন-৭৪৩২৮৭

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,