Skip to main content

Posts

গুচ্ছ কবিতা || নীল ডায়েরি

নীল ডায়েরির গুচ্ছকবিতা    চন্দ্রপলাশের গোপনপত্র তোমার পদধ্বনি এলেই পলাশগাছের ডালে জ্বলে ওঠে রক্তচাঁদের শিখা। হৃদয়বাগানের প্রতিটি শিরায় তুমি লিখে দাও স্বপ্নলিপির সোনালি আঁচড়। বৃষ্টিধ্বনি ছুঁয়ে যায় তোমার নীরবতার বারান্দা, যেখানে আমার অশ্রু জমে আছে কাচের শিশিতে। তোমার ছোঁয়া মানেই ভাঙা ঘড়ির কাঁটা আবার বেজে ওঠে সময়ের সুরে। আমার বুকের ভেতর এক অদৃশ্য নদী বয়, যার তীরে তীরে কেবল তোমার নামের নুড়ি। তুমি আসো—আর ভোরের কণ্ঠে শালিকেরা গেয়ে ওঠে গোপনপত্রের গান। এ শহরের অজানা সব রাস্তা আমাকে নিয়ে যায় তোমার দরজার সামনে। যেখানে দরজার কপাট খুললেই আকাশ হেলে পড়ে আমার কাঁধে। গোধূলিবিন্দুর আশ্রয় গোধূলির লালিমায় তোমার ছায়া মিশে যায় ধানের শিষের স্বপ্নে। হাওয়াগুলো কানে কানে বলে— তুমি আমার হারানো মন্ত্রফুল। দিগন্তের প্রান্তে পাখিদের উড়ান যেন তোমার হাসির খসড়া আকাশে লেখা। আমার প্রতিটি শ্বাসে লুকানো থাকে তোমার অজানা ছোঁয়ার তৃষ্ণা। বৃষ্টির সঙ্গীতে ভিজে যায় গলিপথ, যেখানে প্রথম তোমার হাত ধরেছিলাম। সেই মুহূর্ত যেন সময়ের তালাবদ্ধ কুঠুরি, যেখানে আমি আজও বন্দী। তুমি দূরে গেলে শহর হয়ে ...

শব্দ ।। সনৎকুমার নস্কর

শব্দ সনৎকুমার নস্কর  কিছু কিছু শব্দ থাকে সুইচের মতো।   হাত দিলেই দপ্ করে জ্বলে ওঠে ব্যঞ্জনার আলো।  তখন দেখে নিই অন্তর-বাহির                  গহন আঁধারে ঢাকা পথ   শব্দ সে পথের সঙ্গী হয়৷     উপনিষদের কবি শব্দকে বলেন 'শব্দব্রহ্ম',  যখন সে দিগন্তবিস্তারী ---                    কথাটার মানে খুঁজে পাই সেসময়   গর্ভের গভীরে উচ্চারিত ধ্বনি জাগিয়ে তোলে                            আমূল  আর্তনাদ৷   শব্দেই কি শব্দের শেষ?   তারও কি নেই আত্মার মতো                       জীবনের অন্তহীন পথ?   এক হৃদয় থেকে আর এক হৃদয়ে                     সে তো করে ক্লান্তিহীন পরিক্রমা  আমাদের বাসনা-বিশ্বে সে তোলে ঝড়  আবেগমায়া দেয় ছড়িয়ে বাক্ স্পন্দের পর  অবশ্য...

স্বাধীনতার কবিতা ।। অনিন্দ্য পাল

  স্বাধীনতা  অনিন্দ্য পাল  এক.     স্বাধীনতা  এনার বয়স এক এক দেশে এক এক রকম  ভারতে মাত্র ছিয়াত্তর কি সাতাত্তর  পৃথিবীর বয়স যদি নাও ধরি  মানুষের বয়সের তুলনায় ইনি নিতান্তই  শিশু  এখনো প্রাথমিক শিক্ষা সম্পূর্ণ হয়নি  ভাষা শিক্ষাও হয় নি এখনো পুরোপুরি  তবে ইতিমধ্যেই ইনি যেটা খুব ভালো শিখেছেন  সেটাকে ফুটপাতের ভাষায় বলে বাজার  এই দেশে এখন বাজার হয়েছে দেবতা  তার লাল চোখে ভয় পায় রাজা এবং প্রজা  কী বললেন?  রাজা নেই?  প্রজাও নেই?  কে বলে?   দিব্বি আছে রাজা  প্রজারাও আছে বেশ  অলিতে গলিতে মাঠে ঘাটে নগরে বন্দরে  কাগজে টিভিতে আছে কালো চুল বা পক্ককেশ  রাজারা আছেন সভায়, ভবনে এবং চেয়ারে  রাজাদের নাম লেখা থাকে অনেক উঁচুতে  যত্নে এবং কেয়ারে  মঞ্চ আলো করে এসে বসেন সম্রাট  কত প্রজা আছে তাঁর সীমানায় গুনে নেন রাজপাট  তবে বলতে পারো মুকুটের দিন শেষ  বলতে পারো প্রজাদের গলাটা একটু উঁচু এখন  জিরাফের মত না হলেও পৌঁছে যাচ্ছে  কুর্সির হাঁটুর কাছে,...

দুটি কবিতা ।। শোভন মণ্ডল

দুটি কবিতা ।। শোভন মণ্ডল শীতঘুম   সাপের গর্ত কোথায় আছে ? কোথায় মাথা গুঁজে শীতঘুমে যায় সরীসৃপ ? জানো এই সব ? শরীর শীতল হওয়ার আগে এসব জানা দরকার চামড়া খুলে খুলে পড়ার আগে জেনে নিতে হবে সেই সব সুলুকসন্ধান   তারপর সেই সব গর্তে আশ্রয় নিক মানুষ   শীতঘুমে যাক   সমগ্র সভ্যতা       এইটুকু একটা রোমহর্ষক সোহাগের পর আমরা ধুয়ে ফেলছি থুতু আর দাগের আলপনা চুলের ভাঁজগুলো বিছিয়ে নিয়েছি আগের মতো তারপর ক্রমশ ফ্যাকাসে হয়ে যাবে এই সব দৃশ্য বাড়ি ফিরে যে - যার মতো বাজারের থলে নিয়ে বেরব অথবা অঙ্ক শেখাতে বসব মেয়েকে  ============ Sovan Mondal  Kunjamoni Apt. Policepara , Panchpota  Garia Kol-152

স্বাধীনতা আন্দোলনে রাসবিহারী বসু অবদান ।। শ্যামল হুদাতী

স্বাধীনতা আন্দোলনে রাসবিহারী বসু অবদান  শ্যামল হুদাতী  রাসবিহারী বসু ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি (আজাদ হিন্দ ফৌজ নামেও পরিচিত) গঠন করেন। জাপানে সোমা নামে এক পরিবার তাকে আশ্রয় দেয়। ওই পরিবারেরই তোশিকা সোমাকে তিনি বিবাহ করেন। রাসবিহারী বসুকে জাপান সরকার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান 'সেকেন্ড অর্ডার অব দি মেরিট অব দি রাইজিং সান' খেতাবে ভূষিত করে।  পূর্ব্ব এশিয়ায় ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন সংগঠনে প্রথম অবস্থায় তিনিই এ আন্দোলন পরিচালনা করেছিলেন।  পাঞ্জাবে  স্বাধীনতা বিপ্লবের প্রথম নেতৃত্ব দেন দেরাদুন বনবিভাগের হেডক্লার্ক রাসবিহারী বসু । ১৯১৪ সালের ২৭শে ডিসেম্বব লর্ড হার্ডিংজ্ যখন দিল্লী নগরীতে শোভাযাত্রা করে প্রবেশ করছিলেন তখন তাঁহারই নেতৃত্বে যে বোমা মারা হয়েছিল তাতে বড়লাট ও তাঁহার পত্নী আহত হন এবং কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছিল । লেডী হার্ডিংজ্ বোমার শব্দে আঘাত পান এবং পরে মারা যান।  ১৯১৪ সালে কলিকাতা রাজাবাজার বোমার আখড়া আবিষ্কারের ফলে সেখানকার কাগজপত্রে সরকার জানতে পারলেন যে, দিল্লীর এই ঘটনা রাসবিহারী ও তাঁহার দলবলেরই কীর্ত্তি। ১৯১৪ সালে সরকার এই সব নথিপত্র ...

নারী অধিকার ও আজকের প্রবাসন । রণেশ রায়

নারী অধিকার ও আজকের প্রবাসন  রণেশ রায় কোনও দেশের অর্থনৈতিক সামাজিক অবস্থা, সে দেশের উন্নতি নির্ভর করে ব্যাপক মানুষের সুস্থ সবল জীবন যাপনের জন্য খাদ্য বস্ত্র শিক্ষা স্বাস্থ্য বাসস্থানের মত অপরিহার্য বিষয়গুলি পাওয়ার ওপর। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এইগুলো পাওয়ার সুযোগ কতটা যথেষ্ট ও পরিব্যপ্ত হচ্ছে তার ওপর নির্ভর করে দেশে কতটা প্রকৃত উন্নতি ঘটছে। এই মাপকাঠিতে ভারত ও ভারতের অঙ্গ রাজ্যগুলো উন্নত নয় বরং পশ্চাদপদ সন্দেহ নেই। উন্নতি যতটুকু ঘটছে তা মুষ্টিমেয় ধনীকে আরও ধনী করছে আর গরিবদের তুলনামূলক অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে কারন আয় বৈষম্য বেড়ে চলেছে। তাই ওপরের কোন মাপকাঠিতে ভারত উন্নত, সে তরতর করে এগিয়ে চলেছে বলা চলে না। এশিয়া আফ্রিকার দুর্বলতম দেশগুলোর মধ্যে ভারত একটা সন্দেহ নেই সরকারী প্রচার যাই হোক না। সরকারী তরফে জাতীয় আয়ের মাপকাঠিতে উন্নয়নকে বিচার করার একটা প্রবণতা আছে। খাদ্য শিক্ষা স্বাস্থ্য আর তার সঙ্গে বন্টনের বিষয়গুলো তেমন গুরুত্ব পায় না। ফলে অনুন্নয়নের ভয়াভয়তার বিষয়টা প্রতিফলিত হয় না সরকারী প্রচারে। আয় বৃদ্ধির সঙ্গে দাম বৃদ্ধির বিষয়টা গভীরে বিবেচিত হয় না। ফলে দেশের প্রকৃতি আর্থসামাজিক অবস্থাটা ...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

মতামত/লেখা এখানে জমা দিন

Name

Email *

Message *

সাম্প্রতিক বাছাই

বছরের বাছাই

মাসের বাছাই